সৌদির সঙ্গে মিল রেখে রাজধানীর পান্থপথে ঈদের জামাত

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

ঈদের নামাজ আদায় করেন একদল মুসল্লি। ছবি স্ট্রিম

সৌদির সঙ্গে মিল রেখে একদিন আগেই রাজধানীর পান্থপথে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন একদল মুসল্লি।

আজ শুক্রবার (২০ মার্চ) রাজধানীর পান্থপথে সামারাই কনভেনশন হলে তিনটি জামাতে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেন প্রায় হাজার খানেক মানুষ। ‘মুসলিম উম্মাহ বাংলাদেশ’র ব্যানারে ঈদের জামাতগুলো অনুষ্ঠিত হয়।

মুসলিম উম্মাহ বাংলাদেশ জানিয়েছে, পান্থপথ ছাড়াও রাজধানীর খিলগাঁও, উত্তরা ও মিরপুরে তাদের সংগঠনের সদস্যরা ঈদের নামাজ আদায় করেছেন। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে সৌদির সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপিত হয়েছে।

পান্থপথে নামাজ পড়তে আসা মুসল্লিরা জানিয়েছেন, কুরআন-সুন্নাহ, জ্যোতির্বিজ্ঞান ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে উলামা-মাশায়েখসহ ওআইসি’র সর্বোচ্চ ফিকহ একাডেমি আইআইএফএ গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুসারে বিশ্বব্যাপী অভিন্ন হিজরি তারিখ ও বারে অন্যান্য মুসলিম দেশের মতো তাঁরাও বাংলাদেশে ঈদ পালন করছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সামারাই কনভেনশন হলে ঈদের নামাজের আয়োজন করা হয়। নারী ও পুরুষদের জন্য নামাজের পৃথক ব্যবস্থা করা হয়। নামাজে শিশুরা অংশ নেয়। ঈদের নামাজ শেষে তাঁরা কোলাকুলি করেন, ভাব বিনিময় করেন। শিশুরা মেতে উঠে হাসি-খেলা-আনন্দে।

ঈদের জামাতে অংশ নেওয়া এইচ এম কামরুজ্জামান স্ট্রিমকে বলেন, ‘আমরা ফ্যামিলির সবাই মিলে ঈদের জামাতে আসছি। ঈদের আগে আমরা ফিতরা দিয়েছি, আত্মীয়-স্বজনদের জামাকাপড় দেওয়া হয়ে গেছে। যাকাত কমপ্লিট করছি রোজার মধ্যে। আর আজ ঈদের দিনে আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি যাব, তাদের আপ্যায়ন করব। বাচ্চাদের সালামি দেব।’

আমির হামজা নামে আরেক মুসল্লি বলেন, ‘খুবই আনন্দঘন পরিবেশে এখানে ঈদের জামাত হয়েছে। আমরা নারী সদস্যসহ পরিবারের সবাইকে নিয়ে এখানে এসেছি।’

ঈদের দিন কীভাবে কাটান জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ঈদের দিন প্রথমত এখানে এসে ঈদের সালাত আদায় করি। এরপর খাওয়া-দাওয়া করি। আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে বা শিশুদের নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরাঘুরি করি।’

একদিন আগে ঈদ করা প্রসঙ্গে মুসলিম উম্মাহ বাংলাদেশের সভাপতি মুফতি সাইয়্যেদ আবদুছ ছালাম স্ট্রিমকে বলেন, ‘চন্দ্র, সূর্য, পৃথিবী, গ্রহ, নক্ষত্র সবগুলো সম্পর্কে জানা যায়। যেমন আমরা সূর্যের হিসাব গ্রহণ করেছি। সূর্য এখন আমরা দেখি না কিন্তু ইফতার করি, সেহরি করি। উচিত ছিল সূর্য দেখা। কিন্তু আমরা ঘড়ি-ক্যালেন্ডারে নিয়ে আসছি। তো সূর্যের হিসাবটা যদি নিয়ে আসি, চাঁদের হিসাবটাও আমাদের ঘড়ির মধ্যে ক্যালেন্ডারের মধ্যে নিয়ে আসতে পারি।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের ভূখণ্ডের মধ্যে চাঁদ—এটা কুরআন-হাদিসের কোথাও নাই। ভূখণ্ডের মধ্যে চাঁদ দেখতে হবে বিষয়টি এমন না। চাঁদ যেহেতু একটাই, পৃথিবীর যে কোনো জায়গায় দেখা গেলেই হবে। ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকা, কানাডা, সৌদি আরব— সব জায়গায় আজকে ঈদ। চাঁদ যেহেতু দেখা গেছে, আজ সমগ্র পৃথিবীব্যাপী ঈদ হবে। আগামীকাল ঈদের দিন না। আজকে ঈদের দিন। আজকে যারা সিয়াম রাখছে, তারা ভুল করছে। তাদের একটা সিয়াম পরে কাজা করে নেওয়া উচিত।’

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত