ঢাকা স্ট্রিমে প্রতিবেদন, সোনাদিয়া দ্বীপের স্থাপনা উচ্ছেদ

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৯ মে ২০২৬, ২০: ৫২
সোনা‌দিয়া দ্বীপ দখ‌লে ‘সর্বদলীয়’ থাবা, উধাও কা‌ছিম-লাল কাঁকড়া। স্ট্রিম গ্রাফিক

কক্সবাজারের সোনাদিয়া দ্বীপে অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। শনিবার (৯ মে) সকালে মহেশখালী উপজেলার সহকারী কমিশনারের (ভূমি) নেতৃত্বে এই অভিযানে বনবিভাগ, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও পুলিশ সদস্যরা অংশ নেন।

গত ১০ এপ্রিল ঢাকা স্ট্রিমের বাংলা ও ইংরেজি সংস্করণে ‘সোনা‌দিয়া দ্বীপ দখ‌লে ‘সর্বদলীয়’ থাবা, উধাও কা‌ছিম-লাল কাঁকড়া’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর টনক নড়ে প্রশাসনের। শনিবার দ্বীপের ম্যানগ্রোভ প্যারাবন ও ঝাউবনের ভেতর গড়ে ওঠা অবৈধ কটেজ ও স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।

মহেশখালীর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু জাফর মজুমদার বলেন, সরকারি খাসজমি পুনরুদ্ধার ও পরিবেশ সংরক্ষণে এই অভিযান চালানো হয়েছে। প্রথম ধাপে ছোট-বড় ও মাঝারি আকারের ২০-২৫টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।

অভিযান সংশ্লিষ্টরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে কোনো ধরনের লিজ বা বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই পরিবেশ–সংবেদনশীল এই দ্বীপে কটেজ ব্যবসা চলছিল। এতে একদিকে বন বিভাগের প্যারাবন ও প্রাকৃতিক ঝাউবন ধ্বংস হচ্ছিল, অন্যদিকে জীববৈচিত্র্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ছিল।

স্ট্রিমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ছাড়াও বিএনপি, জামায়াতে ইসলাম এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) স্থানীয় নেতারা দ্বীপের ঝাউবন কেটে এবং বন বিভাগের খাসজমি দখল করে অসংখ্য কটেজ ও রিসোর্ট নির্মাণ করেছেন।

শনিবারের অভিযানে এসব কটেজের পাশাপাশি বাঁশ–কাঠ ও টিনশেডের তৈরি স্থাপনাগুলো ভেঙে ফেলা হয়। পর্যটকদের জন্য তৈরি কিছু অস্থায়ী কটেজের বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। প্রথম ধাপের উচ্ছেদ শেষে তালিকাভুক্ত সব অবৈধ কটেজ, চিংড়ি ও কাঁকড়ার ঘের এবং বন দখলকারী স্থাপনা পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ করা হবে। পাশাপাশি জমি কিনে স্থানীয় দালালের মাধ্যমে কাঠামো গড়ে যাঁরা ব্যবসা করছেন, তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অভিযান সংশ্লিষ্টরা।

পরিবেশবাদীদের মতে, সোনাদিয়া দ্বীপকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশগত এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এখানে ম্যানগ্রোভ বন, উপকূলীয় বনভূমি, সামুদ্রিক কচ্ছপের ডিম পাড়ার স্থান, বিভিন্ন পরিযায়ী পাখি ও বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির আশ্রয়স্থল রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ চিংড়িঘের, কাঁকড়া–চাষ ও কটেজ নির্মাণের কারণে দ্বীপটি হুমকির মুখে রয়েছে।

সম্পর্কিত