তিস্তার পানি বিপৎসীমার নিচে, লালমনিরহাটে ভোগান্তি কমেনি

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
লালমনিরহাট, নীলফামারী

নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। সংগৃহীত ছবি

নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি কমতে শুরু করলেও লালমনিরহাটের চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে। উজান থেকে আসা ঢলে লালমনিরহাটে অন্তত ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানায়, আজ সোমবার (২৯ জুন) বিকেল ৩টায় ডালিয়া ব্যারাজ পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। এর আগে গতকাল রবিবার রাতে উজানের ঢলে পানি বিপৎসীমার ১১ থেকে ১২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল। সোমবার সকাল ৬টায় পানি বিপৎসীমা বরাবর থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা কমতে থাকে।

নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে পানি কমলেও এর প্রভাবে ভাটিতে থাকা লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ, আদিতমারী ও সদর উপজেলার নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলগুলোতে এখনো পানির টান কমেনি। এতে জেলার পাঁচটি উপজেলার অন্তত ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তলিয়ে গেছে গ্রামীণ কাঁচা-পাকা সড়কসহ বাদাম ও সবজির খেত। ঘরবাড়িতে পানি ওঠায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে এবং চরাঞ্চলের বহু পরিবারে রান্নাবান্না বন্ধ রয়েছে।

লালমনিরহাটে পানিবন্দি একটি পরিবার। স্ট্রিম ছবি
লালমনিরহাটে পানিবন্দি একটি পরিবার। স্ট্রিম ছবি

লালমনিরহাট সদর উপজেলার কালমাটি এলাকার মরজিনা বেগম বলেন, ‘গেল রাত থেকে বাড়িতে পানি ওঠায় রান্নার কোনো উপায় নেই। তাই স্কুলঘরের বারান্দায় ছাগল ও মুরগি রেখেছি এবং বারান্দার একপাশে চুলা দিয়ে রান্নার কাজ করছি।’ হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী চরের বাসিন্দা ফজলুল হক বলেন, ‘রাতের অন্ধকারে হঠাৎ ঘরে পানি ঢুকে গেছে। বিছানার কাছাকাছি পানি আসায় এবং চুলা ভিজে যাওয়ায় রান্নাবান্না বন্ধ আছে।’

আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা এলাকার কৃষক সোলেমান মিয়া জানান, নদীতে পানি আসায় চরের সব বাদাম ও সবজিখেত তলিয়ে গেছে। যাতায়াতের সড়কটিও এখন পানির নিচে। নদীপাড়ের বাসিন্দাদের দাবি, নদী খনন ও স্থায়ী সমাধান ছাড়া এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তির কোনো পথ নেই।

লালমনিরহাটের চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে। স্ট্রিম ছবি
লালমনিরহাটের চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে। স্ট্রিম ছবি

এদিকে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ১৫টি গ্রাম থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খান জানান, সোমবার পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় তাঁর ইউনিয়নের প্লাবিত এলাকাগুলো থেকে পানি নেমে গেছে। স্বল্প সময়ে পানি নেমে যাওয়ায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাটই খুলে রাখা হয়েছে।

লালমনিরহাট পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার রায় জানান, উজানে ভারী বৃষ্টির কারণে পানি ওঠানামা করছে। ভাঙন রোধে ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে ‘জিও ব্যাগ’ ফেলা হচ্ছে।

লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মুহ. রাশেদুল হক প্রধান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুর্গতদের জন্য ২২০ মেট্রিক টন চাল ও ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। দ্রুত ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার সব প্রস্তুতি রয়েছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেছেন।

Ad 300x250

সম্পর্কিত