অভিবাসন নিয়ে প্রতারণা বন্ধ না করলে কঠিন পরিণতি: নুর

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রকাশ : ৩১ জুলাই ২০২৬, ০০: ১১
ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। সংগৃহীত ছবি

অভিবাসন নিয়ে প্রতারণা বন্ধ না করলে কঠিন পরিণতি অপেক্ষা করছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড প্রটেকশন (ওইপি) প্ল্যাটফর্মের কমপ্লেইন্ট ম্যানেজমেন্ট মডিউল উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

এ সময় তিনি বলেন, ‘যারা অভিবাসন নিয়ে প্রতারণার চক্র হিসেবে কাজ করছেন, তারা ভালো হয়ে যান। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সবাই নজরদারি করছে। এখন আর রেহাই পাওয়ার সুযোগ নেই। এখনো যদি এসব বন্ধ না করেন, তাহলে আপনাদের জন্য কঠিন পরিণতি অপেক্ষা করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিদিন গড়ে ৪০ থেকে ৫০টি অভিযোগ আসে। অধিকাংশ অভিযোগই বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের পরিবার কিংবা চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে আসে। অনেককে যে কাজের কথা বলে বিদেশে পাঠানো হয়, সেখানে গিয়ে তারা সেই কাজ পান না। কেউ নির্যাতনের শিকার হন, কেউ জিম্মি হয়ে মুক্তিপণ দিতে বাধ্য হন, আবার কেউ প্রতারণার শিকার হন।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিনিয়ত মালয়েশিয়া, ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে পাঠানোর নামে চটকদার বিজ্ঞাপন দেওয়া হচ্ছে। অথচ অনেক ক্ষেত্রেই মন্ত্রণালয়ের কোনো অনুমোদন নেই। ৩০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও মুহূর্তেই লাখো মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। তাই এসব ভুয়া প্রচারণাকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। বিএমইটির ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার ক্ষমতা রয়েছে। তাই ভুয়া বিজ্ঞাপন ও প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।’

মালয়েশিয়ায় কম খরচে কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সরকার মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন শ্রমবাজারে স্বচ্ছ ও কম খরচে কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ নিচ্ছে। কিন্তু সিদ্ধান্ত হওয়ার আগেই কিছু অসাধু চক্র পাসপোর্ট জমা, মেডিকেল সিরিয়াল এবং টাকা নেওয়ার নামে প্রতারণা শুরু করে দিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশে প্রায় তিন হাজার রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স থাকলেও এতগুলোর প্রয়োজন আছে কি না, সেটিও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। অনেক এজেন্সি লাইসেন্সের শর্তই পূরণ করতে পারে না, আবার কেউ কেউ সিন্ডিকেট করে শ্রমিকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে। অভিবাসন শুধু রেমিট্যান্স আয়ের বিষয় নয়; এটি দেশের মর্যাদা ও ভাবমূর্তির সঙ্গেও জড়িত। তাই বৈধ, নিরাপদ ও নৈতিক অভিবাসন নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। প্রতারণা ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হবে।’

Ad 300x250

সম্পর্কিত