সিপিডির সেমিনারে বক্তারা

পাকিস্তানের সৌরবিপ্লব থেকে বাংলাদেশের শেখার আছে

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৩ জুন ২০২৬, ১৬: ৫২
‘সোলার রেভোল্যুশন ইন পাকিস্তান ইন দ্য আইস অব কান্ট্রি’স লিডিং সিইও: লেসনস ফর বাংলাদেশ ফ্রম ন্যাশনাল বাজেট পার্সপেক্টিভ’ শীর্ষক সেমিনার। সংগৃহীত ছবি

পাকিস্তানের সৌরবিদ্যুৎ বিপ্লবের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের সংস্কারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাজধানীর সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ‘সোলার রেভোল্যুশন ইন পাকিস্তান ইন দ্য আইস অব কান্ট্রি’স লিডিং সিইও: লেসনস ফর বাংলাদেশ ফ্রম ন্যাশনাল বাজেট পার্সপেক্টিভ’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পাকিস্তানের রিনিউয়েবলস ফার্স্টের স্পেশাল ইনিশিয়েটিভস মোহাম্মদ বাসিত ঘৌরি। তিনি বলেন, পাকিস্তানে সৌরবিদ্যুতের উত্থান সরকারি মেগা প্রকল্পের ফল নয়, বরং সাধারণ মানুষের উদ্যোগে গড়ে ওঠা ‘বটম-আপ’ বা প্রান্তিক পর্যায়ের বিপ্লব।

বাসিত ঘৌরি আরও বলেন, ‘সরকার বড় লক্ষ্য নির্ধারণ করেনি; মানুষ নিজের প্রয়োজনেই বাড়ি, শিল্পকারখানা ও কৃষিখাতে সোলার স্থাপন করেছে। বিদ্যুতের দাম বিকল্পের সন্ধানে বাধ্য করেছে।’

তিনি জানান, গত কয়েক বছরে পাকিস্তান প্রায় ৫০ গিগাওয়াট সোলার প্যানেল আমদানি করেছে, যার প্রায় ৯৮ শতাংশই বিকেন্দ্রীভূত বা রুফটপ সোলার।

আইএমএফের সংস্কার কর্মসূচির আওতায় তিন বছরে দেশটিতে বিদ্যুতের দাম প্রায় তিনগুণ বেড়ে যাওয়ায় মানুষ সৌরবিদ্যুতের দিকে ঝুঁকেছে। একই সময়ে চীনে অতিরিক্ত উৎপাদনের কারণে প্যানেলের দাম প্রতি ওয়াট ৩২ সেন্ট থেকে ১৬ সেন্টে নেমে আসে। এছাড়া সোলার প্যানেলের ওপর শূন্য শুল্ক এবং আকর্ষণীয় নেট মিটারিং সুবিধা চালুর কারণে প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ হয়। এর ৯৫ শতাংশই সাধারণ মানুষের নিজস্ব তহবিল এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থার অবদান মাত্র ৫ শতাংশ।

বাসিত ঘৌরি জানান, এই সৌরবিপ্লব পাকিস্তানকে প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারের তেল ও গ্যাস আমদানি ব্যয় সাশ্রয় করতে সাহায্য করেছে। তবে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুতের চাহিদা কমে যাওয়ায় অনেক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র উৎপাদনহীন হয়ে পড়েছে এবং ক্যাপাসিটি পেমেন্ট নিয়ে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।

চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেন, পাকিস্তানের গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর বড় অংশ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করছে, যা বাংলাদেশের জন্য শিক্ষণীয়। তিনি বলেন, ‘সাধারণ মানুষকে জ্বালানি রূপান্তরের অংশীদার করতে হবে। শুধু সরকারের উদ্যোগ দিয়ে নয়, জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমেও এই খাতে পরিবর্তন সম্ভব।’

সিপিডির রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট আতিকুজ্জামান সাজিদ বলেন, বাংলাদেশের প্রথম পর্যায়ের সোলার হোম সিস্টেম (এসএইচএস) কর্মসূচি বিশ্বের অন্যতম সফল উদ্যোগ ছিল। তবে জাতীয় গ্রিড সম্প্রসারণে এই মডেল জনপ্রিয়তা হারায়। বর্তমানে বাংলাদেশের সৌরখাতের সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হচ্ছে গ্রিড-সংযুক্ত রুফটপ সোলার।

তিনি জানান, দেশে বর্তমানে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ রুফটপ সোলার ইনস্টলেশনে ২০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। তবে অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা, উচ্চ শুল্ক এবং দীর্ঘ অনুমোদন প্রক্রিয়া বাংলাদেশের সৌরখাতের প্রসারে বাধা।

ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের (ইডকল) প্রতিনিধি আসিফ শাহরিয়ার জানান, আগামী পাঁচ বছরে ৫ হাজার মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য জ্বালানি জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার। ভবিষ্যতে ৩ থেকে ৫ কিলোওয়াটের গৃহস্থালি রুফটপ সোলারেও অর্থায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

বাংলাদেশ সোলার অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসআরইএ) সভাপতি মোস্তফা মাহমুদ সোলার প্যানেল আমদানিতে সবার জন্য ১ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণের দাবি জানান।

এমসিসিআইয়ের সভাপতি কামরান টি রহমান নেট মিটারিং নীতির আরও সহজীকরণ এবং করপোরেট পাওয়ার পারচেজ অ্যাগ্রিমেন্ট (পিপিএ) চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। জমির সংকট মোকাবিলায় চা বাগানের ১০ শতাংশ জমি সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহারের প্রস্তাব দেন তিনি।

সাস্টেইনেবল অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (স্রেডা) চেয়ারম্যান ড. আশরাফুল আলম জানান, সবার জন্য ১ শতাংশ ‘ফ্ল্যাট রেট’ শুল্ক নির্ধারণের প্রস্তাব স্রেডা ইতোমধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) পাঠিয়েছে। এছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলপত্রও শিগগিরই প্রকাশ করবে সরকার।

অ্যাস্ট্রোএনার্জির প্রতিনিধি মোহাম্মদ হাসিব বাংলাদেশের আমদানিকারকদের জন্য চীন থেকে ১৮০ দিনের ঋণপত্র (এলসি) সুবিধার প্রস্তাব দেন।

সমাপনী বক্তব্যে সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিষয়ে সরকারের কৌশলপত্র চূড়ান্তের আগে বেসরকারি খাত ও সুশীল সমাজের মতামত নেওয়ার আহ্বান জানান।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত