রাবিতে বৈশাখ বরণের আমেজ

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ২২: ০৯
নতুন বছরকে বরণ করে নিতে উৎসবের রঙে রঙিন হয়ে উঠেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। স্ট্রিম ছবি

নতুন বছরকে বরণ করে নিতে উৎসবের রঙে রঙিন হয়ে উঠেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাস। বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ২০টিরও বেশি বিভাগে চলছে নানা আয়োজন ও শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।

ক্যাম্পাসজুড়ে ইতিমধ্যে দেখা গেছে আলপনা, রঙিন ব্যানার-ফেস্টুন টানানো, মঙ্গল শোভাযাত্রার বিভিন্ন উপকরণ তৈরি এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মহড়ার ব্যস্ততা। শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ বিভাগের আয়োজনে অংশ নিয়ে বৈশাখকে বরণ করে নিতে দিনরাত পরিশ্রম করছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা জানান, প্রতিবছরের মতো এবারও তারা বর্ণিল মঙ্গল শোভাযাত্রার জন্য মুখোশ, পুতুল ও বিভিন্ন প্রতীকী উপকরণ তৈরি করছেন। এসবের মাধ্যমে বাঙালির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা তুলে ধরা হবে। তাদের বিশেষ আকর্ষণ রয়েছে এবার ‘ইলিশ মাছ’ এবং জ্বালানি সংকটকে কেন্দ্র করে ‘ঘোড়ার গাড়ি’।

অন্যদিকে চারুকলা অনুষদের আয়োজনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে গত বছরের ন্যায় এবারও বড় পরিসরে আয়োজন করছে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ।

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীরা জানান, গত বছরের মতো এবারও তারা ভিন্নধর্মী ও আকর্ষণীয় আয়োজনের পরিকল্পনা করেছেন। এর অংশ হিসেবে থাকছে বর্ণিল মঙ্গল শোভাযাত্রা, যেখানে বিভিন্ন প্রতীকী মোটিফের মাধ্যমে তুলে ধরা হবে গ্রামবাংলার ঐতিহ্য, সোনালি শৈশব এবং সমসাময়িক বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট। শোভাযাত্রায় ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ ও ‘নেতানিয়াহু’র প্রতীকী উপস্থাপনাও রাখা হয়েছে। এছাড়াও দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা, নিজস্ব থিমে সাজানো স্টল, ঐতিহ্যবাহী খাবার বিশেষ করে পান্তা-মাছের আয়োজন এবং গ্রামবাংলার নানা ধরনের খেলাধুলা আয়োজন করা হবে।

শোভাযাত্রার জন্য প্রস্তুত করা মুখোশ। স্ট্রিম ছবি
শোভাযাত্রার জন্য প্রস্তুত করা মুখোশ। স্ট্রিম ছবি

চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থী উম্মে হুমাইরা বলেন, ‘সারা বছর ক্লাস-পরীক্ষার চাপে থাকলেও এই সময়টাতে আমরা সবাই এক হয়ে যাই। আমাদের কাছে পহেলা বৈশাখ শুধু একটি উৎসব নয়, এটি আমাদের সংস্কৃতি ও পরিচয়ের প্রতীক। আমরা চেষ্টা করছি এমন কিছু উপস্থাপন করতে, যা আমাদের ঐতিহ্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে তুলে ধরবে। আমরা চাই, ক্যাম্পাসে একটি আনন্দমুখর ও নিরাপদ পরিবেশ তৈরি হোক।’

চারুকলা অনুষদের আরেক শিক্ষার্থী তাসনিয়া মৌমি বলেন, ‘পহেলা বৈশাখ মানেই নতুন শুরু। পুরনো দুঃখ-কষ্ট ভুলে নতুন স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা পাই এই দিনে। তাই আমরা সবাই খুব আন্তরিকভাবে এই আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছি। মঙ্গল শোভাযাত্রার মাধ্যমে আমরা যে বার্তা দিই, তা শুধু আনন্দ নয়, বরং একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রতীক।’

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী নাদিয়া হক মিথী বলেন, ‘গতবছরের ন্যায় এবারও আমাদের আয়োজন সবচেয়ে সেরা হবে এটা আমি নিশ্চিত। মঙ্গল শোভাযাত্রায় আমরা এমন কিছু প্রতীক তুলে ধরছি, যা একদিকে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যকে প্রতিনিধিত্ব করবে, অন্যদিকে সমসাময়িক বৈশ্বিক বাস্তবতাকেও ইঙ্গিত করবে। আমাদের লক্ষ্য শুধু আনন্দ উদযাপন নয়, বরং একটি বার্তাও পৌঁছে দেওয়া।’

চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র বিভাগের প্রভাষক মো. রায়হান আহম্মেদ বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও শিক্ষকদের সহযোগিতায় আয়োজন প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইতিমধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এবারের উপকরণগুলোর মধ্যে রয়েছে জাতীয় মাছ ইলিশ, টমটম ঘোড়ার গাড়ি এবং বাংলা নববর্ষের প্রবর্তক সম্রাট আকবরের প্রতিকৃতি।’

নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও নানা উদ্যোগ নিয়েছে। প্রক্টর ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘করোনাকালের বিরতির পর এবার আবার পুরোনো ধারায় জনপরিসরে নববর্ষ উদযাপন হচ্ছে। সে কারণে ট্রাফিক ব্যবস্থা, মোবাইল টহলসহ প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।’

নববর্ষ উদযাপনকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনও নানা আয়োজন হাতে নিয়েছে। ইসলামি ছাত্রশিবির আয়োজন করছে ‘বৈশাখ-ই আকবর’, আর ছাত্রদলের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠিত হবে ‘বৈশাখী সাক্ষাৎ’। এ ছাড়াও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) আয়োজন করছে ‘মেঠো খেলা’ ও ‘লোকসুরে নববর্ষ’ শীর্ষক অনুষ্ঠান।

সম্পর্কিত