মৃত শাবককে তিন দিন পাহারা হাতি দম্পতির

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
বান্দরবান

শাবকের মরদেহের পাশে পাহারা দিচ্ছে হাতি দম্পতি। ছবি: সংগৃহীত

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে ডোবায় পড়ে থাকা মৃত শাবকের মরদেহের পাশে টানা তিন দিন পাহারা দিয়েছে একটি হাতি দম্পতি। গত মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া এই হৃদয়বিদারক ঘটনার অবসান হয়েছে বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে বন বিভাগ শাবকটির মরদেহ উদ্ধারের মধ্য দিয়ে।

ঘটনাটি ঘটেছে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী বটতলা মুসলিমপাড়া এলাকায়। স্থানীয়রা জানান, গত মঙ্গলবার টিলার পাদদেশে একটি ঘোলা পানির ডোবায় হাতির শাবকটির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। এ সময় মা হাতিটি ডোবার পানিতে আংশিক ডুবে শাবকের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল এবং কিছুটা দূরে পাহারায় ছিল একটি পুরুষ হাতি।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, খাবারের জন্য হাতি দুটি সামান্য সময়ের জন্য বনের ভেতরে গেলেও দ্রুতই আবার শাবকের কাছে ফিরে আসত। এভাবে টানা তিন দিন তারা মরদেহটি আগলে রাখে। এই এলাকা প্রশাসনিকভাবে বান্দরবানের অন্তর্গত হলেও বনাঞ্চল কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের রাজারকুল রেঞ্জের অধীনে।

নাইক্ষ্যংছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. তানভীর চৌধুরী জানান, খবর পেয়ে বন বিভাগের দল ঘটনাস্থলে গেলেও হাতি দম্পতির পাহারার কারণে মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছিল না। তিনি বলেন, ‘বৃহস্পতিবার দুপুরে পরিস্থিতি অনুকূলে এলে আমরা শাবকের মরদেহ উদ্ধার করি। ময়নাতদন্ত শেষে যথাযথ নিয়মে দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।’

লামা বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ও হাতি দুটির অবস্থানের কারণে উদ্ধার অভিযানে কিছুটা ঝুঁকি ছিল। তিনি আরও জানান, শাবকের বয়স আনুমানিক ছয় থেকে সাত মাস। ধারণা করা হচ্ছে, হাতির চলাচলের করিডর দিয়ে যাওয়ার সময় টিলা থেকে পড়ে ডোবায় আটকে শাবকের মৃত্যু হয়েছে।

এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘বন বিভাগের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি। বন্যপ্রাণীর এই গভীর আবেগ ও পারিবারিক বন্ধন সত্যিই এক বিরল ও স্পর্শকাতর দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’

সম্পর্কিত