ফেনীতে যুবলীগ নেতার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার, ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বে হত্যার অভিযোগ

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
ফেনী

ফেনীতে নিহত নিষিদ্ধ যুবলীগ নেতা পারভেজ। সংগৃহীত ছবি

ফেনীর ছাগলনাইয়ায় নিজ বাড়ির সামনে থেকে জোবায়ের হোসেন পারভেজ নামে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত যুবলীগ নেতার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উপজেলার ঘোপাল ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নুর আহাম্মদ মাস্টারবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। শনিবার (২৭ জুন) সকালে বাড়ির সামনে তার হাত ও গালা কাটা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয়রা।

পারভেজ ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক। ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে ছাত্রহত্যা মামলায় কয়েক মাস আগে জামিনে বেরিয়ে বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। তার বাবা আবু তাহের জানান, শুক্রবার রাত ১টার দিকে সর্বশেষ তিনি ছেলেকে দেখেছেন।

নিহতের ভাই শীতল অভিযোগ করেন, একই গ্রামের সাদেক মিয়ার ছেলে শাহাদাত হোসেন ও মামুনুর রশিদ মামুনের সঙ্গে দোকানসংক্রান্ত বিরোধের জেরে সম্প্রতি পারভেজের ঝগড়া ও হাতাহাতি হয়েছিল। ওই বিরোধের জেরেই তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি দাবি করেন।

পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা জানায়, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের আগে পারভেজের সহযোগী হিসেবে এলাকায় বালুর ব্যবসা করতেন দুই ভাই শাহাদাত ও মামুন। এছাড়া পারভেজের বাড়ির সামনে তার একটি দোকানও দেখভাল করতেন তারা। সেই সময় তারা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও কোনো পদ-পদবি ছিল না। তবে অভ্যুত্থানের পর দুই ভাইকে ব্যবসায় অংশীদার করেন পারভেজ।

এদিকে অভ্যুত্থানের পর বেশ কয়েকটি মামলায় কারগারে যান পারভেজ ও মামুন। এ সময় আদালতে দুজনের নানা ধরনের ব্যয় একাই বহন করেন পারভেজ। তাদের মধ্যে মামুন আগে জেল থেকে বেরিয়ে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের সঙ্গে সখ্য করে ব্যবসা শুরু করেন। ১৫ মাস পর জেল থেকে মুক্তিপান পারভেজ।

এদিকে মুক্তির পর দুই ভাইয়ের কাছে ব্যবসায়িক পাওনা ও দোকান দেখভালে টাকা চান পারভেজ। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। এসব নিয়ে শুক্রবার (২৬ জুন) সন্ধ্যার দিকে বাড়ির সামনে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে মামুনের মাথায় টর্চ লাইট দিয়ে আঘাত করেন পারভেজ। তবে রাতেই বিষয়টি সুরাহা করে দেয় তার পরিবার।

ইউনিয়ন জামায়াতের নেতা সামছুউদ্দিন ইলিয়াস জানান, ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব-বিরোধের কারণে এমন হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে শাহাদাত হোসেন ও মামুনুর রশিদের মোবাইল ফোন নাম্বারে কল দিয়ে বন্ধ পাওয়া যায়। তারা এলাকায় নেই বলেও জানা গেছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ছাগলনাইয়া থানার ওসি আবু তাহের জানান, নিহত পারভেজ এবং অভিযুক্ত দুই ভাই মামুন ও শাহাদাতের বিরুদ্ধে থানায় কয়েকটি মামলা রয়েছে। কিছুদিন আগেও তারা একসঙ্গে জেলে ছিলেন। তবে জেল থেকে বেরিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল বলে জানিয়েছে নিহতের পরিবার ও প্রতিবেশীরা।

ওসি জানান, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন ও নিহতের স্বজনদের অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন আছে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত