leadT1ad

দীঘিনালায় আলোচনায় এক বীর মুক্তিযোদ্ধার অভিযোগ

সরকারি দপ্তরে গেলে কর্মকর্তারা মুক্তিযোদ্ধাদের দিকে তাকিয়েও দেখেন না

প্রকাশ : ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ২০: ৩৪
দীঘিনালায় শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবসের আলোচনায় বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সেলিম উদ্দিন। স্ট্রিম ছবি

খাগড়াছড়ির সরকারি দপ্তরগুলোতে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ সম্মান দেওয়া হচ্ছে না উল্লেখ করে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সেলিম উদ্দিন বলেছেন, ‘সরকারি কোনো দপ্তরে গেলে অনেক সময় মুক্তিযোদ্ধাদের কথা শোনার মতো আগ্রহ দেখা যায় না। তাঁরা (কর্মকর্তারা) আমাদের দিকে মুখ তুলে তাকিয়েও দেখেন না— কে এসেছেন, কী প্রয়োজনে এসেছেন, তা জানতে চান না। এমন আচরণে আমরা চরমভাবে অপমানিত বোধ করি।’

শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় এক আলোচনা সভায় মুক্তিযুদ্ধকালীন স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে এসব কথা বলেন মো. সেলিম উদ্দিন। আজ রোববার (১৪ ডিসেম্বর) উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভার আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন।

সেলিম উদ্দিন প্রশ্ন করে বলেন, ‘এর জন্যই কি আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম? এর জন্য কি একটি স্বাধীন মানচিত্র ও লাল–সবুজের পতাকা আপনাদের হাতে তুলে দিয়েছিলাম?’ বলে তিনি দুঃখ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা সেলিম উদ্দিন বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত লাল–সবুজের পতাকা ও স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্র সংরক্ষণ ও মর্যাদা রক্ষার দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়, বরং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের বয়স হয়েছে। আমরা হয়তো আর বেশি দিন বেঁচে থাকব না। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে আমরা শুধু সম্মান নিয়েই পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে চাই।’

বীর মুক্তিযোদ্ধার পর আলোচনা সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিল পারভেজ বলেন, ‘সরকারি বা বেসরকারি কোনো দপ্তরে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানহানীকর কোনো আচরণ মেনে নেওয়া হবে না। বীর মুক্তিযোদ্ধারা জাতির গর্ব। তাঁদের প্রতি যথাযথ সম্মান নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও প্রশাসনের নৈতিক দায়িত্ব।’

ইউএনও আরও বলেন, ‘শুধু বীর মুক্তিযোদ্ধারাই নন, দেশের সব নাগরিক সরকারি দপ্তরে সেবা নিতে এসে যেন কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন— সেদিকে সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে।’

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত