জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

জ্বালানি তেল নিতে হঠাৎ পাবনার পাম্পগুলোতে উপচে পড়া ভিড়

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
পাবনা

প্রকাশ : ০৬ মার্চ ২০২৬, ১৪: ২৯
বৃহস্পতিবার হঠাৎ করেই তেল পাম্পগুলোতে মোটরসাইকেল চালকদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। স্ট্রিম ছবি।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি তেল সংকটের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে পাবনায়। এতে গত বৃহস্পতিবার হঠাৎ করেই তেল পাম্পগুলোতে মোটরসাইকেল চালকদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। এ সময় অধিকাংশ বাইকার প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত তেল নিতে শুরু করায় নির্ধারিত সময়ের আগেই তেল সংকটে অনেক পাম্প বন্ধ করে দিয়েছেন মালিকরা। তবে তেল ফুরিয়ে যাচ্ছে এমন খবর ছড়িয়ে পড়লেও আপাতত তেমন কোনো সংকট নেই বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, ইরান ও ইসরায়েল-আমেরিকার মধ্যকার গত কয়েক দিনের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে তেল নিয়ে এক ধরনের দুশ্চিন্তা কাজ করছে। এই ভাবনা থেকেই বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বাইকাররা বেশি পরিমাণে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করতে থাকেন। বিশেষ করে দুপুরের পর বিকেল ও সন্ধ্যা নামতেই পাবনা শহরের মেরিল বাইপাস এলাকার ইয়াকুব ফিলিং স্টেশন, অনন্ত বাজার এলাকার মেসার্স হাইওয়ে ফিলিং স্টেশন, রাধানগরের এসএম ফরিদ ফিলিং স্টেশন ও কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকা-সহ অধিকাংশ পাম্পে বাইকারদের ভিড় বাড়তে থাকে।

এ সময় বাইকাররা স্বাভাবিক চাহিদার কয়েক গুণ বেশি তেল নিতে চাইলে পাম্পগুলোতে দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। পরবর্তীতে মজুদে টান পড়ার আশঙ্কায় ২০০ থেকে ৫০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া বন্ধ করে দেন পাম্প মালিকরা। এর ফলেও কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তেল ফুরিয়ে গেছে জানিয়ে দু-একটি বড় পাম্প ছাড়া অধিকাংশ পাম্পই বন্ধ করে দেওয়া হয়। সবশেষ ওই দু-একটি পাম্প রাত ১০টা পর্যন্ত তেল দিতে পারলেও মজুত ফুরিয়ে যাওয়ায় পরবর্তীতে আর তেল দিতে পারেনি। এতে তেল না পেয়ে ফিরে গেছেন অনেকে।

রাধানগরের এসএম ফরিদ ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলে তেল নিতে আসা সাইমন ও রনি বলেন, “হঠাৎ শুনলাম কাল থেকে তেল নাও পাওয়া যেতে পারে। তাই তাড়াহুড়ো করে বাইক নিয়ে আসলাম। সাধারণ সময়ে সাধারণত ট্যাংক ফুল লোড না দিলেও পরে পাওয়া যাবে না—এই আশঙ্কায় আজ ফুল লোড দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ২০০ থেকে ৫০০ টাকার বেশি দিচ্ছে না।”

মেরিল বাইপাস এলাকার ইয়াকুব ফিলিং স্টেশনে তেল নেওয়া সিয়াম মাহমুদ জানান, তিনি দেখলেন শহরের ছোট ছোট পাম্পগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পরে ওই পাম্পে গিয়ে ১ হাজার ৪০০ টাকার তেল নিয়েছেন। সেখানে প্রায় এক থেকে দেড় শ গাড়ির সিরিয়াল ছিল। তাঁর আগে অন্তত ৬০-৭০টি বাইক ছিল। পরবর্তীতে তেল পাওয়া যাবে না—এই ভয়েই সবাই এত ভিড় করেছে।

তেল না পেয়ে ফিরে আসা হাবিব-সহ কয়েকজন বলেন, “আমরা মোটরসাইকেল জরুরি কাজে ব্যবহার করি, ঘোরাফেরার জন্য নয়। নিয়ম করে প্রয়োজনমতো তেল ভরি। আজ তেল তুলতে এসে দেখি আজকের মতো তেল শেষ। অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে এই অবস্থা হয়েছে।”

অনন্ত বাজার এলাকার মেসার্স হাইওয়ে ফিলিং স্টেশনের কর্মচারী ইসরাফিল বলেন, “আজ হঠাৎ ব্যাপক ভিড়। আমরা সবশেষ রাত ১০টা পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা করে দিয়েছি। অতিরিক্ত চাপের কারণে এরপর আজকের মতো তেল ফুরিয়ে গেছে। কাল ভোরে আবার তেল আসার কথা রয়েছে।”

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব আবুল হোসেন রেয়ন বলেন, “সরকারের কাছে মাত্র ১৪ দিনের তেল মজুদ রয়েছে—এমন একটি গুজব ছড়িয়ে পড়ার কারণে মানুষ আতঙ্কিত হয়ে প্রয়োজন ছাড়াও অতিরিক্ত তেল নিচ্ছে। এর ফলে অনেক পাম্পে আপাতত তেল শেষ হয়েছে। তবে এটি তেমন কোনো সংকট নয়, পর্যাপ্ত তেল রয়েছে। কাল থেকে আবার স্বাভাবিকভাবে তেল মিলবে। তবে খোলা বাজারিদের কাছে তেল বিক্রি একদম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

সম্পর্কিত