জাতীয় সম্পদ লুণ্ঠনে আওয়ামী লীগের পথেই বিএনপি: আনু মুহাম্মদ

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০২ আগস্ট ২০২৬, ২২: ৩২
‘শিক্ষার্থী-শ্রমিক-জনতার দ্রোহযাত্রা’ শেষে সমাবেশে কথা বলেন আনু মুহাম্মদ। সংগৃহীত ছবি

শেখ হাসিনার সরকার জাতীয় সম্পদ লুণ্ঠনে মার্কিন কোম্পানির সঙ্গে বোঝাপড়া করছিল। বর্তমান সরকারের মধ্যেও একই চিন্তাধারা দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থনীতিবিদ ও লেখক আনু মুহাম্মদ।

রোববার (২ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে দ্রোহযাত্রায় এ কথা বলেন তিনি। জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার, মার্কিন বাণিজ্য চুক্তিসহ জাতীয় স্বার্থবিরোধী সকল চুক্তি বাতিল এবং জাতিগত, ধর্মীয় ও লিঙ্গীয় নিপীড়ন বন্ধের ৬ দফা দাবিতে এই দ্রোহযাত্রা হয়।

আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘শেখ হাসিনা সরকার জাতীয় সম্পদ লুণ্ঠনের জন্য মার্কিন কোম্পানির সঙ্গে যে বোঝাপড়া করছিল, বর্তমান সরকারের মধ্যেও একই চিন্তাধারা দেখতে পাচ্ছি। অভ্যুত্থানের পর বৈষম্যবাদী শক্তির সঙ্গে সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন ও ধর্মীয় ফ্যাসিবাদের ভয়ংকর অন্ধকার জগৎ তৈরি হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার এর পৃষ্ঠপোষকতা করেছে এবং বর্তমান সরকারও একই ধারায় তা অব্যাহত রেখেছে।’

তিনি আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থানে সর্বজনের শক্তির প্রকাশ ঘটেছে। অভ্যুত্থান স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমাজের প্রত্যাশিত পরিবর্তন আনতে পারে না। এর জন্য সর্বজনের উন্নয়ন দর্শন প্রতিষ্ঠা করা এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় শক্তিগুলোকে সংগঠিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সেই মতাদর্শ সমাজে ছড়িয়ে দেওয়ার কাজও শক্তিশালী রাখতে হয়। প্রত্যাশিত পরিবর্তন আনতে সাংস্কৃতিক, সৃজনশীল, বুদ্ধিবৃত্তিক, রাজনৈতিক, শ্রেণির প্রশ্ন ও নারীর প্রশ্ন নিয়ে কাজের ধারাবাহিকতা আরও সংগঠিত করার তাগিদ দেন তিনি।

সমাবেশে আনু মুহাম্মদ প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘আপনারা কি শুনেছেন, গণঅভ্যুত্থানের পরে সাম্রাজ্যবাদের সঙ্গে দেশের সর্বনাশকর চুক্তি করা হবে, নারীর চলাচলে বাধা দেওয়া হবে। আপনারা কি শুনেছেন ভয়ের সংস্কৃতি চালু হবে, ধর্মীয় ও জাতিগত বৈষম্য বাড়তে থাকবে এবং নতুন স্বৈরশাসন ও ফ্যাসিবাদের আবহাওয়া তৈরি হবে?’

আনু মুহাম্মদ বলেন, শ্রমিক, নারী, আদিবাসী, শ্রমজীবী মানুষের শক্তি ঐক্যবদ্ধ হলে কতদূর অর্জন করা সম্ভব তা ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ, ৯০-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে দেখা গেছে।

তিনি আহ্বান জানান, যত দিন পর্যন্ত গণতান্ত্রিক বৈষম্যহীন বাংলাদেশের যাত্রা একটি যথাযথ জায়গায় না পৌঁছাবে, তত দিন পর্যন্ত জনগণের সেই শক্তিকে সংগঠিত ও বিকশিত করে দ্রোহযাত্রা অব্যাহত রাখতে হবে।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে দ্রোহযাত্রা শুরু হয়ে শহীদ মিনারে এসে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। সমাবেশে শহীদ পরিবারের সদস্য, নারী, আদিবাসী, সাংস্কৃতিক কর্মী, শ্রমিক ও শিক্ষার্থীরা বক্তব্য দেন।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত