সৌরবিদ্যুতে কর ছাড়েই হবে না, প্রয়োজন বিস্তৃত সংস্কার

লেখা:
লেখা:
থমসন রয়টার্স ফাউন্ডেশন

কাপ্তাইয়ে দেশের প্রথম অন-গ্রিড সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র। স্ট্রিম ছবি

বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন এবং দেশের অভ্যন্তরীণ ঘাটতির কারণে বিদ্যুৎসংকটের সৃষ্টি হয়েছে। এর মোকাবিলায় সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে কর–ছাড় ও বিভিন্ন প্রণোদনা চালু করেছে বাংলাদেশ।

গত ১ জুলাই জাতীয় বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। বাজেটে সৌরবিদ্যুতের যন্ত্রপাতি আমদানিতে শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। উৎপাদক ও সরবরাহকারীদের আয়কর অব্যাহতি দেওয়ায় ব্যবহারকারীরা বিশেষ সুবিধা পাবে। আগামী পাঁচ বছর তারা বিদ্যুৎ বিলে ৫ শতাংশ রিবেট পাবে। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুতের ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।

বর্তমানে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় অর্ধেকই আমদানিকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। ফেব্রুয়ারিতে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের হামলার পর হরমুজ প্রণালিতে বিঘ্ন সৃষ্টি হলে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সরবরাহকারী কাতারএনার্জি চলতি বছরে গ্যাস সরবরাহ অর্ধেকে নামিয়ে আনে।

বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, এর ফলে গ্রামীণ এলাকায় টানা ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিভ্রাট হয়েছে। শিল্প উৎপাদন ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ কমেছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের মতে, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে চলতি বছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৫ শতাংশ কমতে পারে।

পরিবেশবিষয়ক সংগঠন ক্লিনের মতে, নতুন প্রণোদনায় ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের ব্যয় ৩০ থেকে ৩৭ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে।

তবে সমালোচকদের মতে, এই উদ্যোগে শিল্পখাত অগ্রাধিকার পেলেও দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ গ্রামীণ জনগোষ্ঠী উপেক্ষিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্টাল লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, কর সংস্কার আশাব্যঞ্জক হলেও এর সুফল গ্রামীণ ভোক্তাদের কাছেও পৌঁছাতে হবে।

আইইইএফএর বিশ্লেষক শফিকুল আলম বলেন, গ্রামীণ সৌরবিদ্যুতের স্পষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এর জন্য এমন নতুন বাস্তবায়ন মডেল প্রয়োজন, যা একাধিক পরিবারকে একসঙ্গে যুক্ত করবে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা মাত্র ৫ শতাংশ। যার মধ্যে সৌরবিদ্যুতের সক্ষমতা ১ হাজার ৫১৫ মেগাওয়াট। ২০৩০ সালের লক্ষ্য অর্জনে প্রতি বছর প্রায় ৭৬০ মেগাওয়াট নতুন সক্ষমতা যুক্ত করতে হবে, যা সাম্প্রতিক গড়ের তিন গুণের বেশি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অর্থায়নও বড় বাধা। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ১৭১ দশমিক ৯৩ বিলিয়ন টাকা বরাদ্দের মাত্র ২ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানির জন্য রাখা হয়েছে। এ কারণে স্বল্পসুদে ঋণ, পৃথক নবায়নযোগ্য জ্বালানি তহবিল এবং গ্রামীণ সৌর প্রকল্পে নতুন বাস্তবায়ন মডেলের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

সূত্র: গাল্ফ নিউজ

Ad 300x250

সম্পর্কিত