জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

রংপুর

‘কৃষকের ফির ঈদ আছে বাহে’

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
রংপুর

প্রকাশ : ২০ মার্চ ২০২৬, ১৫: ১১
রংপুরের একটি মাঠে আলু তোলার পর বস্তায় ভরছেন কৃষক। তবে জানেন না দাম কত পাবেন। স্ট্রিম ছবি

দেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর আগামীকাল শনিবার। দেশজুড়ে চলছে উৎসবের প্রস্তুতি। তবে উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ জনপদে কৃষকের ঘরে নেই আনন্দের ছোঁয়া। কারণ, যেই আলু বিক্রির টাকায় তাদের ঘরে আসার কথা ঈদের পোশাক, উৎসবের খাবার সেই ফসলের দামই যে নেই বাজারে।

রংপুরের তারাগঞ্জের পোদ্দারপাড়ার মাঠে আলু খেতে দাঁড়িয়ে থাকা কৃষক তারাজুল ইসলামের হতাশা কণ্ঠে বলেন, ‘কৃষকের ফির ঈদ আছে বাহে? আমরা বেতন-বোনাস পাই না। কষ্ট করে ফসল ফলাই, আর শেষে লোকসান খাই। ধার করে আলু লাগাইছি, এখন সেই টাকা শোধ কেমনে করম-এই চিন্তায় আছি।’

রংপুরের বেশিরভাগ কৃষকের অবস্থায় তারাজুলের মতো। তারা জানান, রংপুর কৃষি অঞ্চল। কয়েক বছর ধরে ঈদের আগে আলু ও তামাক বিক্রির টাকাই থাকে এখানকার মানুষের প্রধান ভরসা। এই অর্থেই চলে ঈদের কেনাকাটা, পাশাপাশি বোরো মৌসুমের প্রস্তুতি। কিন্তু এবার চিত্র ভিন্ন। উৎপাদন খরচ কেজিপ্রতি ১৫-১৬ টাকা হলেও বাজারে আলু বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৯-১০ টাকায়; তাও ক্রেতা মিলছে না।

এরই মধ্যে নতুন করে আঘাত হেনেছে বৃষ্টি। গত ১১ থেকে ১৩ মার্চের বৃষ্টিতে ১ হাজার ৭৩২ হেক্টর জমির আলু, ভুট্টা, গম ও শাকসবজি খেত ডুবে যায়। আবার শুরু হয়েছে বৃষ্টি। এতে আলু ও সবজি পচে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

কৃষি বিভাগের তথ্যানুযায়ী, রংপুরে প্রায় ২৩ লাখ ৪২ হাজার পরিবার সরাসরি কৃষির ওপর নির্ভরশীল। এ কারণে ফসলের দাম না পেলে বা ক্ষতি হলে এই অঞ্চলের মানুষের দুঃখ-দুর্দশার সীমা থাকে না। উৎসব দূরে থাকে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহ করাও কঠিন হয়ে পড়ে অনেকের জন্য।

জেলার প্রামানিকপাড়া গ্রামের কৃষক আনারুল হক নির্ভরশীল তার দুই একর জমির ফসলের উপর। তিনি বলেন, ‘গত আলুতে লস খাছি। এবারও লাভের আশা করি আলু লাগাছি। ভাবছিলাম আলু বেচে পরিবারে জন্য ঈদের কেনাকাটা করব। কিন্তু আলুর দাম নাই। এবার ঈদ মাটি, বোরো লাগাব কী দিয়া দুশ্চিন্তায় আছি।’

হাড়িয়ারকুঠি গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলামের আক্ষেপ, ‘আগে পাইকার বাড়িত এসে আলু-তামাক কিনি নিয়া যাইত, আগাম টাকাও দিত। এবার কাউরে খুঁজে পাওয়া যায় না। টাকার অভাবে মেয়ের বাড়িতে কিছু দিতে পারলাম না। এই কষ্টটা বেশি।’

একই হতাশা শোনা যায় কাচনা গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর আলমের কণ্ঠেও। তিনি বলেন, ‘একদিকে দাম নাই, আরেকদিকে পানিতে আলু নষ্ট। কৃষকের জন্য ঈদে সরকারে কোনো বিশেষ সুবিধাও নাই। কোনো উপহার নাই। কিন্তু দেশটাক হামার মতো কৃষকেরাই বাঁচে রাখছে। কৃষকের বাঁচার কোনো পথ নাই।’

রংপুরে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম জানান, ফসল সংরক্ষণ ও বাজার ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে পারলে কৃষক ন্যায্যমূল্য পাবে। এই দিকে দৃষ্টি দেওয়াটা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, এবার বৃষ্টিতে কিছু ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা নেই। কিছু খেত আক্রান্ত হলে আলু পঁচার মতো পরিস্থিতি হয়নি।

সম্পর্কিত