ভাগ্নের ডাকে সালিসে গিয়ে ছুরিকাঘাতে নিহত স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক নেতা বিলাল হোসেন। সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর মৌচাক এলাকায় ভাগ্নের ডাকে একটি বিরোধের সালিস করতে গিয়ে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন তালুকদার (৪৫) নামে স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক এক নেতা।

সোমবার (৮ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রমনা থানার মৌচাক আনারকলি মার্কেটের সামনের গলিতে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত বিল্লাল রমনা থানার ১৯ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক। পরবর্তীতে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। মালিবাগের বাগানবাড়ী এলাকার ৫১২ নম্বর বাসার মৃত ইউসুফ তালুকদারের ছেলে বিল্লাল পেশায় ইট-বালুর ব্যবসায়ী ছিলেন।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনার বিবরণ দিয়ে বিল্লালের ভাগ্নে মো. মোবারক হোসেন আকাশ বলেন, সন্ধ্যার দিকে আনারকলি মার্কেটের সামনে তাকে প্রথমে কয়েকজন মিলে মারধর করে। ঘটনাটি সমাধানের জন্য মোবারক তার মামা বিল্লাল হোসেনকে সেখানে ডেকে আনেন। পরে সাড়ে ৭টার দিকে বিষয়টি নিয়ে সেখানে একটি সালিস বৈঠক বসে। কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সালিসের মধ্যেই আবারও মারামারি শুরু হয়।

মোবারক অভিযোগ করেন, রাত প্রায় ৮টার দিকে রমনা থানা যুবদল নেতা লুৎফুরের নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি দল বিল্লালের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা তার বুকের ডান পাশে ছুরিকাঘাত করে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে রাত সাড়ে ৯টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক হোসেন বলেন, বিল্লালের লাশ জরুরি বিভাগ থেকে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। তার বুকে গভীর ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে মালিবাগে সোহাগ পরিবহনের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের একটি মামলায় বিল্লাল গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। এরপরই তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। রমনা থানা যুবদলের সভাপতি দিদারুল আলম বাবুর সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব ছিল।

জানতে চাইলে রমনা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মাজহারুল স্ট্রিমকে বলেন, আনারকলি সুপার মার্কেট ও ব্যবসাকেন্দ্রিক দ্বন্দ্বের জেরে পরিচিতজনেরাই তাকে হত্যা করেছে বলে তদন্তে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। সন্দেহভাজনদের ইতিমধ্যে শনাক্ত করা গেছে এবং তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

রমনা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাদেক হোসেন জানান, পুলিশ ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা করা হয়নি।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত