শরীয়তপুরে রান্নাঘরে মজুত ককটেল বিস্ফোরণে আহত সেই গৃহবধূর মৃত্যু

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
শরীয়তপুর

প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯: ১১
শরীয়তপুরের জাজিরার একটি বাড়িতে ককটেল বিস্ফোরণে রান্নাঘরের টিনের চালা উড়ে যায়। স্ট্রিম ছবি
শরীয়তপুরের জাজিরার একটি বাড়িতে ককটেল বিস্ফোরণে রান্নাঘরের টিনের চালা উড়ে যায়। স্ট্রিম ছবি

শরীয়তপুরের জাজিরায় একটি রান্নাঘরে বিপুল পরিমাণ ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় আহত গৃহবধূ রোকেয়া বেগম (৪০) দুই সপ্তাহ চিকিৎসাধীন থাকার পর মারা গেছেন। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে ঢাকার বনশ্রী এলাকার বেসরকারি চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠান ফরাজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

এর আগে ৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে উপজেলার সেনেরচর ইউনিয়নের চরধুপুরিয়া চরকান্দি এলাকায় ফারুক ছৈয়ালের বাড়িতে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। নিহত গৃহবধূ রোকেয়া বেগম তার স্ত্রী। স্থানীয় বিরোধের জেরে বাড়ির রান্নাঘরে ওই ককটেল মজুত রাখা হয়েছিল বলে ধারণা করে পুলিশ।

এর আগে এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হয়ে মারা যান ৭০ বছরের মান্নান সরদার। এ ঘটনায় একটি মামলা চলমান রয়েছে। এবার নিহত গৃহবধূর স্বামী ফারুক ছৈয়াল এলাকায় বিএনপি নেতা রেজাউল শিকদারের সমর্থক ছিলেন বলে জানা গেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৫ সেপ্টেম্বর (শনিবার) দুপুরে পরিবারের জন্য রান্না করতে যান গৃহবধূ রোকেয়া বেগম। এ সময় রান্নাঘরে আগে থেকেই মজুত রাখা বিপুল পরিমাণ ককটেল একসঙ্গে বিস্ফোরিত হয়। বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে আশপাশের বাড়ি। বিস্ফোরণের তীব্রতায় রান্নাঘরের টিনের চালা উড়ে গিয়ে পাশের বাঁশ বাগানে পড়ে। ক্ষতিগ্রস্ত হয় পাশের সামাদ ছৈয়াল ও হাকিম ছৈয়ালের দুটি বসতঘর। এতে গুরুতর আহত রোকেয়া বেগমকে উদ্ধার করে জাজিরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান পরিবারের সদস্যরা। তবে অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করেন চিকিৎসক। এরপর থেকে তিনি রাজধানীর বনশ্রীর বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।

স্থানীয় লোকজন জানান, উপজেলার মুলনা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল শিকদার ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য তমিজ খাঁর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছে। এর সূত্র ধরে ১০ আগস্ট সন্ধ্যায় চরকান্দি এলাকায় দুই পক্ষের সমর্থকদের সংঘর্ষে শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এতে একজনের হাত কবজি উড়ে যাওয়ার পাশাপাশি অন্তত ১০ জন আহত হন।

গৃহবধূর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে ফরাজী হাসপাতাল লিমিটেডের হিসাব ব্যবস্থাপক হিমেল আহম্মেদ বলেন, রোকেয়া বেগম নামের ওই নারী আমাদের হাসপাতালের চিকিৎসাধীন ছিল। শনিবার সকালে ১০টার দিকে তিনি মারা যান। হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার পর স্বজনরা মরদেহ নিয়ে গেছেন।

গৃহবধূর মৃত্যুর খবর শুনেছেন জানিয়ে জাজিরা থানার ওসি সালেহ্ আহম্মেদ বলেন, গৃহবধূর মৃত্যুর ব্যাপারে অফিশিয়ালি কোনো কাগজপত্র হাতে পাইনি। বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় সেই সময় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল। তবে কেউ মামলা বা লিখিত অভিযোগ করেনি।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত