র‍্যাবের গুলিতে পা হারানো লিমন: ক্ষতিপূরণ প্রদান ও দায়ীদের খুঁজতে রুল

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৯: ০৮
র‍্যাবের গুলিতে পা হারানো লিমন এখন গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের শিক্ষক। সংগৃহীত ছবি

র‍্যাবের গুলিতে পা হারানো লিমন হোসেনকে কেন ২ কোটি ৬০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে দায়ী র‍্যাব কর্মকর্তাদের খুঁজে বের করার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা-ও জানতে চেয়েছেন।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।

আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার সারা হোসেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী কাজী জাহেদ ইকবাল, আবদুল্লাহ আল নোমান ও ব্যারিস্টার প্রিয়া আহসান চৌধুরী।

আইনি যুক্তিতর্ক শেষে আদেশের পর আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, এই রুলটি বিচারিক সক্রিয়তার একটি শক্তিশালী দৃষ্টান্ত। সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদে বর্ণিত জীবনের অধিকার এবং আইসিসিপিআরের অধীনে জীবন ও মর্যাদার অধিকার রক্ষায় রাষ্ট্রের যে ইতিবাচক দায় (পজিটিভ অবলিগেশন) রয়েছে, তা এই আদেশে প্রতিফলিত হয়েছে।

আবদুল্লাহ আল মামুন উল্লেখ করেন, লিমন হোসেনের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ বিষয়টি কেবল সহানুভূতির নয়, বরং এটি একটি সাংবিধানিক ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকারগত বাধ্যবাধকতা।

ব্যারিস্টার প্রিয়া আহসান চৌধুরী বলেন, ন্যায়বিচার ১৫ বছরের পুরোনো একটি ক্ষত সারাতে শুরু করেছে। কোনো আদেশ বা ক্ষতিপূরণই হারানো একটি অঙ্গ ফিরিয়ে দিতে পারে না; তবে এই ক্ষতি এবং লিমন হোসেন যে ভয়াবহ অবিচারের মুখোমুখি হয়েছেন, তার আইনি স্বীকৃতিই জবাবদিহিতার সূচনা।

অপর আইনজীবী কাজী জাহেদ ইকবাল মন্তব্য করেন, দীর্ঘ অপেক্ষার পর একটি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং রাষ্ট্র সেটি উপলব্ধি করতে সক্ষম হবে বলে আশা করা যায়।

২০১১ সালের ২৩ মার্চ বিকেলে ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার জমাদ্দারহাটে র‍্যাবের একটি অভিযানের সময় লিমন হোসেন গুলিবিদ্ধ হন। সে সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১৬ বছর এবং তিনি উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষার্থী ছিলেন। র‍্যাব সদস্যদের গুলিতে আহত হওয়ার কয়েক দিন পর ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে তাঁর বাম পা কেটে ফেলতে হয়।

শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ও ট্রমা সত্ত্বেও লিমন দমে যাননি। তিনি পড়াশোনা চালিয়ে যান এবং সাভারের গণবিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন। বর্তমানে তিনি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। এই দীর্ঘ সময় পর তিনি ক্ষতিপূরণ ও ন্যায়বিচারের প্রার্থনায় হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলে আদালত এই রুল জারি করেন।

সম্পর্কিত