কামরুল হাসান

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আচরণবিধি কার্যকরে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠছে। নির্বাচনী প্রচারে কাগজের পোস্টার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও হ্যান্ডবিল, ফেস্টুন, ব্যানার ও বিলবোর্ডে ছেয়ে গেছে জনপদ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রচারে ধর্মীয় অনুভূতির ব্যবহার। এসব অনিয়ম প্রকাশ্যে ঘটলেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যাচ্ছে না। ফলে ইসির নির্লিপ্ততা নিয়ে সমালোচনা বাড়ছে।
পোস্টার নিষিদ্ধ হওয়ার পর ব্যানারই এখন নির্বাচনী প্রচার প্রধান মাধ্যম। তবে অভিযোগ উঠেছে, ব্যানারের ক্ষেত্রেও আচরণবিধি মানা হচ্ছে না। পিভিসি ব্যানার, রঙিন ব্যানার ও অনিয়ন্ত্রিত বিলবোর্ড ব্যবহারের পরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এ অবস্থায় প্রার্থী ও পর্যবেক্ষকরা ইসির বিরুদ্ধে ‘নীরব দর্শক’ হয়ে থাকার অভিযোগ তুলছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব ঘটনায় সংবাদ প্রকাশের পরেই কেবল ইসির টনক নড়ে। গত ২৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনের নির্বাচন পরিচালনা-২ অধিশাখার উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন সই করা এক চিঠিতে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সব রিটার্নিং কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। সেখানে বলা হয়, সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা-২০২৫ এর বিধি-৭(ক) অনুযায়ী, নির্বাচনী প্রচারে কোনো ধরনের পোস্টার ব্যবহার করা যাবে না।
প্রচারের যত পন্থা, অভিযোগের বহর তত
পরিবেশ সুরক্ষা ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণের যুক্তিতে নির্বাচনে পোস্টার ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর ফলে ব্যানার, বিলবোর্ড, ফেস্টুন ও হ্যান্ডবিল হয়ে উঠেছে প্রচারের প্রধান মাধ্যম। প্রচারের নির্ধারিত সময় শুরু হওয়ার পরপরই আচরণবিধি লঙ্ঘনের নানা অভিযোগ সামনে আসতে থাকে।
বিধি অনুযায়ী, ব্যানার ও ফেস্টুন সাদা-কালো রঙের হওয়ার কথা থাকলেও মাঠে রঙিন ব্যানার ও বিলবোর্ডের ছড়াছড়ি দেখা যাচ্ছে। এছাড়া পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পিভিসি ব্যানার নিষিদ্ধ হলেও তা প্রকাশ্যেই ব্যবহার হচ্ছে।

সরেজমিনে রাজধানীর মিরপুর-১, আগারগাঁও, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট ও মোহাম্মদপুর এলাকায় দেখা গেছে ব্যাপক অনিয়ম। দেয়াল, বিদ্যুতের খুঁটি, চায়ের দোকান, ফুটপাত এমনকি মেট্রোরেলের পিলারেও প্রতীক বরাদ্দের আগেই প্রার্থীদের ছবি ও স্লোগানসংবলিত পোস্টার ও ব্যানার সাঁটানো রয়েছে। গত কয়েক দিনে ঝুলন্ত ব্যানার ও ফেস্টুনের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। আচরণবিধিতে সরকারি স্থাপনা ও বিদ্যুতের খুঁটি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বাস্তবে এসব স্থাপনাই এখন প্রচারের প্রধান ভরকেন্দ্র।
ঢাকা-১৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রচারের প্রথম পাঁচ দিনে একাধিকবার নির্বাচন কমিশনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ জানানো হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর প্রতিকার পাওয়া যায়নি। তাঁর মতে, অভিযোগ জানিয়ে ফল না পাওয়ায় অনেকে নিজের মতো করেই প্রচার চালানোর চেষ্টা করছেন। এটি পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। অন্যদিকে ঢাকা-১৪ আসনের জামায়াত প্রার্থী মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান বলেন, কে কীভাবে আচরণবিধি ভঙ্গ করছে তা দেখার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। তিনি জানান, বড় ধরনের লঙ্ঘন হলে তিনি অভিযোগ করবেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেননি।
আচরণবিধি কী বলছে
রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫-এর ৭ ধারায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কোনো ধরনের পোস্টার ব্যবহার করা যাবে না। পলিথিন, প্লাস্টিক বা পিভিসির মতো অপচনশীল উপাদানে তৈরি ব্যানার, ফেস্টুন ও হ্যান্ডবিলও নিষিদ্ধ। ব্যানার ও ফেস্টুন হতে হবে সাদা-কালো রঙের এবং নির্দিষ্ট আয়তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে হবে।
বিধি অনুযায়ী, ব্যানার আয়তনে অনধিক ১০ ফুট × ৪ ফুট হতে হবে। লিফলেট বা হ্যান্ডবিল অনধিক A4 সাইজের (৮.২৭ ইঞ্চি × ১১.৬৯ ইঞ্চি) এবং ফেস্টুন অনধিক ১৮ ইঞ্চি × ২৪ ইঞ্চি হতে হবে। এছাড়া এসব প্রচারসামগ্রীতে প্রতীক ও নিজের ছবি ব্যতীত অন্য কোনো ব্যক্তির ছবি বা প্রতীক ছাপানো যাবে না।
এদিকে ধারা ১৪-তে বলা হয়েছে, যেকোনো ধরনের বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে। তবে বিলবোর্ডে প্রচারণার অংশের আয়তন অনধিক ১৬ ফুট × ৯ ফুট হতে হবে। কোনো প্রার্থী একটি নির্বাচনী এলাকায় সর্বোচ্চ ২০টি বিলবোর্ড ব্যবহার করতে পারবেন। যদি কোনো এলাকায় ইউনিয়ন বা ওয়ার্ডের সংখ্যা ২০-এর বেশি হয়, তবে সেই সংখ্যার সমান বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে। বিলবোর্ড স্থাপনের মাধ্যমে কোনোক্রমেই জনসাধারণের বা যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করা যাবে না। পরিবেশের ক্ষতি বা নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে এমনভাবে বিলবোর্ড স্থাপন করা নিষিদ্ধ।
১৫ ধারায় উসকানিমূলক বক্তব্য, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, ব্যক্তিগত কুৎসা রটনা এবং ধর্মীয় উপাসনালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রচারণা চালানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নির্বাচনী প্রচারকালে অশালীন, আক্রমণাত্মক বা ব্যক্তিগত চরিত্র হনন করে বক্তব্য দেওয়া যাবে না। কোনো ধরনের তিক্ত, উসকানিমূলক, মানহানিকর কিংবা লিঙ্গ, সাম্প্রদায়িকতা বা ধর্মানুভূতিতে আঘাত লাগে এমন কোনো বক্তব্য প্রদান করা যাবে না।

ব্যানার-বিলবোর্ড নিয়ে ইসির ব্যাখ্যা
নির্বাচন কমিশনের উপসচিব (নির্বাচনী সহায়তা ও সরবরাহ) হুমায়ুন কবিরের কাছে বিলবোর্ড ও ব্যানার নিয়ে বিভ্রান্তি প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হয়। তিনি বলেন, প্রথমে বুঝতে হবে আচরণবিধিতে কী আছে। হুমায়ুন কবির বলেন, এই বিধিমালাটি ‘নেগেটিভ মাইন্ড’ থেকে বুঝতে হবে। কারণ এখানে বলা হয়েছে কী করতে পারবেন না। অর্থাৎ বুঝে নিতে হবে কী কী করতে পারবেন। যেমন ব্যানার, লিফলেট বা ফেস্টুন সাদা-কালো রঙের হবে। কিন্তু বিলবোর্ডের ধারায় এই কথা উল্লেখ নেই। অর্থাৎ বিলবোর্ড রঙিন হতেই পারে। তবে তা নির্দিষ্ট আকার ও উপাদান মেনে হতে হবে।
তিনি বলেন, আইন প্রয়োগের আগে বুঝতে হবে কার বিপরীতে আইন ব্যবহার করতে হবে। এখানে ‘অনধিক’ শব্দটি গুরুত্বপূর্ণ। যদি কোনো ব্যানারের আকার ১০ ফুট × ৪ ফুটের বেশি হয়, তবে সেটি বিলবোর্ড হিসেবে গণ্য হবে। যেমন একটি ব্যানারের দৈর্ঘ্য ৮ ফুট কিন্তু প্রস্থ ৫ ফুট হলে তা বিলবোর্ড হিসেবে গণ্য হবে। কারণ ব্যানার বা বিলবোর্ডের সর্বোচ্চ মাপ নির্ধারিত সীমার বেশি হতে পারবে না।
গত বৃহস্পতিবার ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ ব্রিফিংয়ে বলেন, ব্যানার ও বিলবোর্ড আলাদা করা হবে কেবল আয়তন অনুযায়ী। বিষয়টি অযথা জটিল করার সুযোগ নেই।

ধর্মের ব্যবহার: উদ্বেগের নতুন মাত্রা
এবারের নির্বাচনে পোস্টারের পাশাপাশি ধর্মীয় অনুভূতির ব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) মনে করছে, দীর্ঘদিন গণতান্ত্রিক পরিবেশ সংকুচিত থাকায় ধর্মভিত্তিক রাজনীতির প্রভাব বেড়েছে। ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষেত্রে এই প্রবণতা আরও স্পষ্ট। জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে ‘জান্নাতের টিকিট’ বা নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দেওয়াকে ‘ঈমানি দায়িত্ব’ হিসেবে প্রচার করার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এর পাল্টা হিসেবে ধর্মের অপব্যবহার নিয়ে বিএনপিও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
গত ২৬ জানুয়ারি গুলশানে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, ধর্মীয় বিশ্বাস ও আবেগকে পুঁজি করে ভোটারদের প্রভাবিত করার প্রবণতা শুধু অনৈতিক নয়, এটি সরাসরি আইনবিরোধী। তিনি জানান, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ৭৭(১)(ঘ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ধর্মের অপব্যবহার করে ভোট চাওয়া ‘অসৎ প্রভাব বিস্তারে’র শামিল। তবে কিছু ক্ষেত্রে বিএনপির স্থানীয় কর্মীদের বিরুদ্ধেও ধর্ম ব্যবহারের অভিযোগ উঠছে।
এদিকে, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটারদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ এবং আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। তাদের মতে, ধর্মীয় ভাষার অপব্যবহার অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্রকুমার নাথ বলেন, বিগত পাঁচ দশকের অব্যাহত নির্যাতন ও বৈষম্যের কারণে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এখন অনগ্রসর জনগোষ্ঠীতে পরিণত হয়েছে। এই অবস্থায় তাঁদের মধ্যে ভোট দিতে নিরুৎসাহ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর দায় সরকার, প্রশাসন, ইসি ও রাজনৈতিক দলগুলোকেই নিতে হবে।
নির্বাচন বিশ্লেষক ড. আব্দুল আলীম বলেন, বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনো সন্তোষজনক নয়। এতে সংখ্যালঘুদের অংশগ্রহণ কমতে পারে। দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে ভোটারদের আস্থা ফেরানো কঠিন হবে।
ইসির দাবি ও বাস্তবতা
নির্বাচন কমিশনের পরিচালক (জনসংযোগ) রুহুল আমিন মল্লিক বলেন, আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে কমিশন কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তিনি বলেন, যখনই আমাদের নজরে আচরণবিধি ভঙ্গের ঘটনা আসে, তখন রিটার্নিং কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেন। সব ঘটনা আমাদের নজরে আসে না, তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ইসির তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশের ২৯টি আসনের ১৭৬টি নির্বাচনী এলাকায় ১৯২টি আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। এর বিপরীতে ১১৯টি মামলার মাধ্যমে ১২ লাখ ২৪ হাজার ৩০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এসব লঙ্ঘনের মধ্যে রয়েছে মাইকের অপব্যবহার, যানবাহনে পোস্টার সাঁটানো, অবৈধ তোরণ নির্মাণ এবং ব্যানারে অন্য ব্যক্তির ছবি ব্যবহার।
ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে আখতার আহমেদ বলেন, কমিশন সকলের নিরাপত্তা বিধানে কাজ করছে। সবাই যেন ভয়ভীতিহীনভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন, সেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বৃহস্পতিবারের সংবাদ সম্মেলনটি আমাদের নজরে এখনো আসেনি। তবে ধর্মকে ব্যবহার করে প্রচারণা চললে প্রতিটি আসনে আমাদের নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি রয়েছে। সেখানে অভিযোগ জানানো হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেন্দ্রীয়ভাবেও আমরা বিষয়টি দেখছি।
নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, এবার প্রথমবারের মতো ব্যানারভিত্তিক প্রচার চালু হওয়ায় কিছু ক্ষেত্রে সামান্য ছাড় দেওয়া হচ্ছে। তবে আমরা একেবারেই নীরব নই। পরিস্থিতি অনুযায়ী জরিমানা ও মামলা করা হচ্ছে। তিনি জানান, প্রতিটি আসনে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও বিচারিক কমিটি সক্রিয় রয়েছে। প্রতিদিনই মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হচ্ছে এবং গড়ে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০টি মামলা রুজু হচ্ছে। অর্থাৎ বিধি কার্যকরের কার্যক্রম জোরেশোরেই চলছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আচরণবিধি কার্যকরে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠছে। নির্বাচনী প্রচারে কাগজের পোস্টার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও হ্যান্ডবিল, ফেস্টুন, ব্যানার ও বিলবোর্ডে ছেয়ে গেছে জনপদ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রচারে ধর্মীয় অনুভূতির ব্যবহার। এসব অনিয়ম প্রকাশ্যে ঘটলেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যাচ্ছে না। ফলে ইসির নির্লিপ্ততা নিয়ে সমালোচনা বাড়ছে।
পোস্টার নিষিদ্ধ হওয়ার পর ব্যানারই এখন নির্বাচনী প্রচার প্রধান মাধ্যম। তবে অভিযোগ উঠেছে, ব্যানারের ক্ষেত্রেও আচরণবিধি মানা হচ্ছে না। পিভিসি ব্যানার, রঙিন ব্যানার ও অনিয়ন্ত্রিত বিলবোর্ড ব্যবহারের পরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এ অবস্থায় প্রার্থী ও পর্যবেক্ষকরা ইসির বিরুদ্ধে ‘নীরব দর্শক’ হয়ে থাকার অভিযোগ তুলছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব ঘটনায় সংবাদ প্রকাশের পরেই কেবল ইসির টনক নড়ে। গত ২৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনের নির্বাচন পরিচালনা-২ অধিশাখার উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন সই করা এক চিঠিতে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সব রিটার্নিং কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। সেখানে বলা হয়, সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা-২০২৫ এর বিধি-৭(ক) অনুযায়ী, নির্বাচনী প্রচারে কোনো ধরনের পোস্টার ব্যবহার করা যাবে না।
প্রচারের যত পন্থা, অভিযোগের বহর তত
পরিবেশ সুরক্ষা ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণের যুক্তিতে নির্বাচনে পোস্টার ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর ফলে ব্যানার, বিলবোর্ড, ফেস্টুন ও হ্যান্ডবিল হয়ে উঠেছে প্রচারের প্রধান মাধ্যম। প্রচারের নির্ধারিত সময় শুরু হওয়ার পরপরই আচরণবিধি লঙ্ঘনের নানা অভিযোগ সামনে আসতে থাকে।
বিধি অনুযায়ী, ব্যানার ও ফেস্টুন সাদা-কালো রঙের হওয়ার কথা থাকলেও মাঠে রঙিন ব্যানার ও বিলবোর্ডের ছড়াছড়ি দেখা যাচ্ছে। এছাড়া পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পিভিসি ব্যানার নিষিদ্ধ হলেও তা প্রকাশ্যেই ব্যবহার হচ্ছে।

সরেজমিনে রাজধানীর মিরপুর-১, আগারগাঁও, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট ও মোহাম্মদপুর এলাকায় দেখা গেছে ব্যাপক অনিয়ম। দেয়াল, বিদ্যুতের খুঁটি, চায়ের দোকান, ফুটপাত এমনকি মেট্রোরেলের পিলারেও প্রতীক বরাদ্দের আগেই প্রার্থীদের ছবি ও স্লোগানসংবলিত পোস্টার ও ব্যানার সাঁটানো রয়েছে। গত কয়েক দিনে ঝুলন্ত ব্যানার ও ফেস্টুনের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। আচরণবিধিতে সরকারি স্থাপনা ও বিদ্যুতের খুঁটি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বাস্তবে এসব স্থাপনাই এখন প্রচারের প্রধান ভরকেন্দ্র।
ঢাকা-১৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রচারের প্রথম পাঁচ দিনে একাধিকবার নির্বাচন কমিশনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ জানানো হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর প্রতিকার পাওয়া যায়নি। তাঁর মতে, অভিযোগ জানিয়ে ফল না পাওয়ায় অনেকে নিজের মতো করেই প্রচার চালানোর চেষ্টা করছেন। এটি পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। অন্যদিকে ঢাকা-১৪ আসনের জামায়াত প্রার্থী মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান বলেন, কে কীভাবে আচরণবিধি ভঙ্গ করছে তা দেখার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। তিনি জানান, বড় ধরনের লঙ্ঘন হলে তিনি অভিযোগ করবেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেননি।
আচরণবিধি কী বলছে
রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫-এর ৭ ধারায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কোনো ধরনের পোস্টার ব্যবহার করা যাবে না। পলিথিন, প্লাস্টিক বা পিভিসির মতো অপচনশীল উপাদানে তৈরি ব্যানার, ফেস্টুন ও হ্যান্ডবিলও নিষিদ্ধ। ব্যানার ও ফেস্টুন হতে হবে সাদা-কালো রঙের এবং নির্দিষ্ট আয়তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে হবে।
বিধি অনুযায়ী, ব্যানার আয়তনে অনধিক ১০ ফুট × ৪ ফুট হতে হবে। লিফলেট বা হ্যান্ডবিল অনধিক A4 সাইজের (৮.২৭ ইঞ্চি × ১১.৬৯ ইঞ্চি) এবং ফেস্টুন অনধিক ১৮ ইঞ্চি × ২৪ ইঞ্চি হতে হবে। এছাড়া এসব প্রচারসামগ্রীতে প্রতীক ও নিজের ছবি ব্যতীত অন্য কোনো ব্যক্তির ছবি বা প্রতীক ছাপানো যাবে না।
এদিকে ধারা ১৪-তে বলা হয়েছে, যেকোনো ধরনের বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে। তবে বিলবোর্ডে প্রচারণার অংশের আয়তন অনধিক ১৬ ফুট × ৯ ফুট হতে হবে। কোনো প্রার্থী একটি নির্বাচনী এলাকায় সর্বোচ্চ ২০টি বিলবোর্ড ব্যবহার করতে পারবেন। যদি কোনো এলাকায় ইউনিয়ন বা ওয়ার্ডের সংখ্যা ২০-এর বেশি হয়, তবে সেই সংখ্যার সমান বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে। বিলবোর্ড স্থাপনের মাধ্যমে কোনোক্রমেই জনসাধারণের বা যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করা যাবে না। পরিবেশের ক্ষতি বা নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে এমনভাবে বিলবোর্ড স্থাপন করা নিষিদ্ধ।
১৫ ধারায় উসকানিমূলক বক্তব্য, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, ব্যক্তিগত কুৎসা রটনা এবং ধর্মীয় উপাসনালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রচারণা চালানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নির্বাচনী প্রচারকালে অশালীন, আক্রমণাত্মক বা ব্যক্তিগত চরিত্র হনন করে বক্তব্য দেওয়া যাবে না। কোনো ধরনের তিক্ত, উসকানিমূলক, মানহানিকর কিংবা লিঙ্গ, সাম্প্রদায়িকতা বা ধর্মানুভূতিতে আঘাত লাগে এমন কোনো বক্তব্য প্রদান করা যাবে না।

ব্যানার-বিলবোর্ড নিয়ে ইসির ব্যাখ্যা
নির্বাচন কমিশনের উপসচিব (নির্বাচনী সহায়তা ও সরবরাহ) হুমায়ুন কবিরের কাছে বিলবোর্ড ও ব্যানার নিয়ে বিভ্রান্তি প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হয়। তিনি বলেন, প্রথমে বুঝতে হবে আচরণবিধিতে কী আছে। হুমায়ুন কবির বলেন, এই বিধিমালাটি ‘নেগেটিভ মাইন্ড’ থেকে বুঝতে হবে। কারণ এখানে বলা হয়েছে কী করতে পারবেন না। অর্থাৎ বুঝে নিতে হবে কী কী করতে পারবেন। যেমন ব্যানার, লিফলেট বা ফেস্টুন সাদা-কালো রঙের হবে। কিন্তু বিলবোর্ডের ধারায় এই কথা উল্লেখ নেই। অর্থাৎ বিলবোর্ড রঙিন হতেই পারে। তবে তা নির্দিষ্ট আকার ও উপাদান মেনে হতে হবে।
তিনি বলেন, আইন প্রয়োগের আগে বুঝতে হবে কার বিপরীতে আইন ব্যবহার করতে হবে। এখানে ‘অনধিক’ শব্দটি গুরুত্বপূর্ণ। যদি কোনো ব্যানারের আকার ১০ ফুট × ৪ ফুটের বেশি হয়, তবে সেটি বিলবোর্ড হিসেবে গণ্য হবে। যেমন একটি ব্যানারের দৈর্ঘ্য ৮ ফুট কিন্তু প্রস্থ ৫ ফুট হলে তা বিলবোর্ড হিসেবে গণ্য হবে। কারণ ব্যানার বা বিলবোর্ডের সর্বোচ্চ মাপ নির্ধারিত সীমার বেশি হতে পারবে না।
গত বৃহস্পতিবার ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ ব্রিফিংয়ে বলেন, ব্যানার ও বিলবোর্ড আলাদা করা হবে কেবল আয়তন অনুযায়ী। বিষয়টি অযথা জটিল করার সুযোগ নেই।

ধর্মের ব্যবহার: উদ্বেগের নতুন মাত্রা
এবারের নির্বাচনে পোস্টারের পাশাপাশি ধর্মীয় অনুভূতির ব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) মনে করছে, দীর্ঘদিন গণতান্ত্রিক পরিবেশ সংকুচিত থাকায় ধর্মভিত্তিক রাজনীতির প্রভাব বেড়েছে। ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষেত্রে এই প্রবণতা আরও স্পষ্ট। জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে ‘জান্নাতের টিকিট’ বা নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দেওয়াকে ‘ঈমানি দায়িত্ব’ হিসেবে প্রচার করার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এর পাল্টা হিসেবে ধর্মের অপব্যবহার নিয়ে বিএনপিও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
গত ২৬ জানুয়ারি গুলশানে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, ধর্মীয় বিশ্বাস ও আবেগকে পুঁজি করে ভোটারদের প্রভাবিত করার প্রবণতা শুধু অনৈতিক নয়, এটি সরাসরি আইনবিরোধী। তিনি জানান, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ৭৭(১)(ঘ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ধর্মের অপব্যবহার করে ভোট চাওয়া ‘অসৎ প্রভাব বিস্তারে’র শামিল। তবে কিছু ক্ষেত্রে বিএনপির স্থানীয় কর্মীদের বিরুদ্ধেও ধর্ম ব্যবহারের অভিযোগ উঠছে।
এদিকে, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটারদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ এবং আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। তাদের মতে, ধর্মীয় ভাষার অপব্যবহার অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্রকুমার নাথ বলেন, বিগত পাঁচ দশকের অব্যাহত নির্যাতন ও বৈষম্যের কারণে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এখন অনগ্রসর জনগোষ্ঠীতে পরিণত হয়েছে। এই অবস্থায় তাঁদের মধ্যে ভোট দিতে নিরুৎসাহ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর দায় সরকার, প্রশাসন, ইসি ও রাজনৈতিক দলগুলোকেই নিতে হবে।
নির্বাচন বিশ্লেষক ড. আব্দুল আলীম বলেন, বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনো সন্তোষজনক নয়। এতে সংখ্যালঘুদের অংশগ্রহণ কমতে পারে। দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে ভোটারদের আস্থা ফেরানো কঠিন হবে।
ইসির দাবি ও বাস্তবতা
নির্বাচন কমিশনের পরিচালক (জনসংযোগ) রুহুল আমিন মল্লিক বলেন, আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে কমিশন কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তিনি বলেন, যখনই আমাদের নজরে আচরণবিধি ভঙ্গের ঘটনা আসে, তখন রিটার্নিং কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেন। সব ঘটনা আমাদের নজরে আসে না, তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ইসির তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশের ২৯টি আসনের ১৭৬টি নির্বাচনী এলাকায় ১৯২টি আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। এর বিপরীতে ১১৯টি মামলার মাধ্যমে ১২ লাখ ২৪ হাজার ৩০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এসব লঙ্ঘনের মধ্যে রয়েছে মাইকের অপব্যবহার, যানবাহনে পোস্টার সাঁটানো, অবৈধ তোরণ নির্মাণ এবং ব্যানারে অন্য ব্যক্তির ছবি ব্যবহার।
ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে আখতার আহমেদ বলেন, কমিশন সকলের নিরাপত্তা বিধানে কাজ করছে। সবাই যেন ভয়ভীতিহীনভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন, সেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বৃহস্পতিবারের সংবাদ সম্মেলনটি আমাদের নজরে এখনো আসেনি। তবে ধর্মকে ব্যবহার করে প্রচারণা চললে প্রতিটি আসনে আমাদের নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি রয়েছে। সেখানে অভিযোগ জানানো হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেন্দ্রীয়ভাবেও আমরা বিষয়টি দেখছি।
নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, এবার প্রথমবারের মতো ব্যানারভিত্তিক প্রচার চালু হওয়ায় কিছু ক্ষেত্রে সামান্য ছাড় দেওয়া হচ্ছে। তবে আমরা একেবারেই নীরব নই। পরিস্থিতি অনুযায়ী জরিমানা ও মামলা করা হচ্ছে। তিনি জানান, প্রতিটি আসনে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও বিচারিক কমিটি সক্রিয় রয়েছে। প্রতিদিনই মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হচ্ছে এবং গড়ে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০টি মামলা রুজু হচ্ছে। অর্থাৎ বিধি কার্যকরের কার্যক্রম জোরেশোরেই চলছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত না করার আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, সংসদ নির্বাচনের মতো জটিল ও স্পর্শকাতর রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় ছাত্রদের যুক্ত করা সমীচীন হবে না।
২৮ মিনিট আগে
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মাওলানা মামুনুল হকের সমর্থনে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে নির্বাচনী মিছিল করেছেন নারীরা। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বেলা ২টার দিকে লালমাটিয়া থেকে মিছিল শুরু হয়ে মোহাম্মদপুরের আল্লাহ করিম এবং শিয়া মসজিদ মোড় ঘুরে পুনরায় লালমাটিয়া যায়।
১ ঘণ্টা আগে
পবিত্র কোরআনের বিধান অনুযায়ী পুরুষরাই নারীদের ‘পরিচালক’—এই নীতির কথা উল্লেখ করে দলের শীর্ষ পদে নারী আমির হওয়ার সুযোগ না থাকার বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগ। জামায়াত নেত্রীদের মতে, দলের শীর্ষ পদে যাওয়াটা তাদের কাছে ‘মুখ্য’ বিষয় নয়।
১ ঘণ্টা আগে
নিজের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে যারা নারীদের বিরুদ্ধে অপমানজনক কথা লিখেছে, তাদেরকে ডাকাত ও কাপুরুষ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
৪ ঘণ্টা আগে