ভারতের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট বরাদ্দে বাংলাদেশের জন্য ঋণ ও অনুদান অর্ধেকে নেমে এসেছে। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) লোকসভায় ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন এই বাজেট উপস্থাপন করেন।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত অর্থবছরে বাংলাদেশের জন্য ভারত সরকার বাজেটে ১২০ কোটি রুপি বরাদ্দ রেখেছিল। এবার তা কমিয়ে মাত্র ৬০ কোটি রুপির প্রস্তাব করা হয়েছে।
২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে কূটনৈতিক টানাপড়েন চলছে। এমন অবস্থায় ভারতের গণমাধ্যমে অনুদান কমাকে ঢাকার পররাষ্ট্রনীতি পাকিস্তানের দিকে ঝুঁকে পড়াকে কারণ উল্লেখ করছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয়ে হামলার ঘটনা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
বর্তমানে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে সক্রিয়। সম্প্রতি দুদেশের মধ্যে কূটনৈতিক ও অফিশিয়াল পাসপোর্টে ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সরাসরি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল ও ১৪ বছর পর ঢাকা-করাচি সরাসরি ফ্লাইট চালুর মতো ঘটনাগুলো বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের শীতলতাকে আরও স্পষ্ট করেছে। ভারত সরকার মনে করছে, বাংলাদেশের এই নীতি পরিবর্তন দুই দেশের সম্পর্কের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে, ভারতের বৈদেশিক সাহায্যের বৃহত্তম অংশ বরাবরের মতোই পাচ্ছে ভুটান। দেশটিকে ২ হাজার ২৮৯ কোটি রুপি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা গত বছর ছিল ২ হাজার ১৫০ কোটি। তবে কৌশলগত কারণে ইরানের চাবাহার বন্দর প্রকল্পের জন্য এবার কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। মূলত ওয়াশিংটন ইরানের ওপর নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় এবং আগামী ২৬ এপ্রিল ভারতের জন্য দেওয়া বিশেষ ছাড়ের মেয়াদ শেষ হতে চলায় ভারত এই পথে হেঁটেছে।
নরেন্দ্র মোদির সরকারের তৃতীয় মেয়াদের তৃতীয় বাজেটে নির্মলা সীতারামন উৎপাদন বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর বিশেষ নজর দিয়েছেন। ১ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া নতুন অর্থবছরে মূলধনী ব্যয় ৯ শতাংশ বাড়িয়ে ১২ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন রুপি (১৩৩ বিলিয়ন ডলার) করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। রেলওয়ে, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও স্বাস্থ্য খাতের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ভারতের এবারের বাজেটে। ভারতের জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ দশমিক ৮ থেকে ৭ দশমিক ২ শতাংশ এবং এতে ঘাটতি জিডিপির ৪ দশমিক ৩ শতাংশে রাখার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
নতুন অর্থবছরে ভারত বিদেশি রাষ্ট্রের অনুদান ও ঋণ হিসেবে মোট ৮ হাজার ৭৯২ কোটি রুপি দেওয়ার প্রস্তাব করেছে, যা ২০২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে প্রস্তাবিত ১২ হাজার ১০৭ কোটি রুপির তুলনায় ২৭ শতাংশ কম। নতুন অর্থবছরের এই মোট সহায়তার মধ্যে ৬ হাজার ৯৯৭ কোটি রুপি আসবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এবং অতিরিক্ত ১ হাজার ৭৯৪ কোটি রুপি দেবে অর্থ মন্ত্রণালয়।