leadT1ad

ইডিসিএল এমডির বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা, ফেঁসে যাচ্ছেন আরও ৬ শীর্ষ কর্মকর্তা

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০: ৩২
দুদক অফিস। ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডের (ইডিসিএল) শীর্ষ প্রশাসনিক পদে থাকা বর্তমান ও সাবেক দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে পদক্ষেপ নিচ্ছে করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

টেন্ডার জালিয়াতি ও অর্থপাচারের মতো গুরুতর অভিযোগে বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) বিদেশ যাত্রায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। অন্যদিকে, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের আর্থিক ক্ষতিসাধনের দায়ে সাবেক এমডিসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলার অনুমোদন দিয়েছে কমিশন।

মঙ্গলবার দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা তানজির আহমেদ কমিশনের এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সাবেক এমডিসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

কমিশনের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, প্রতিষ্ঠানটির সাবেক এমডি অধ্যাপক ডা. এহসানুল কবির পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন না নিয়ে সম্পূর্ণ অবৈধ ও অনিয়মতান্ত্রিক ভাবে ৫ কর্মকর্তাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেন। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোম্পানির ৩৬ লাখ ১৪ হাজার ৯৪৩ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।

এই ঘটনায় দণ্ডবিধি আইন এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

কমিশন এই অভিযোগে সাবেক এমডি ডা. এহসানুল কবির ছাড়াও আরও পাঁচজন সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাকে আসামি করে মামলার অনুমোদন দিয়েছে। অনুমোদিত মামলার অন্য আসামিরা হলেন সাবেক অর্থ পরিচালক (সিসি) ও কোম্পানি সচিব মুহাম্মদ খুরশিদ আলম, সাবেক মহাব্যবস্থাপক (প্রকিউরমেন্ট) সৈয়দ জহির উদ্দিন জামাল, সাবেক উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্রকিউরমেন্ট) মো. শওকত আলী, সাবেক উপ-মহাব্যবস্থাপক (ভান্ডার) এ কাইয়ূম খান এবং সাবেক ব্যবস্থাপক (উৎপাদন) বিকাশ কুমার সরকার।

বর্তমান এমডির বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট ও অর্থপাচারের অনুসন্ধান

এ দিকে দুদক সূত্রে জানা যায়, ইডিসিএলের বর্তমান এমডি এম. সামাদ মৃধার (মার্কিন নাগরিক) বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট করে লোপাট এবং হরমোনাল ওষুধের কাঁচামাল ডেসোগেস্টরেল ইউএসপি ক্রয়ের আড়ালে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, তিনি মার্ক অ্যালারাইজ ইন্টারন্যাশনাল ও রিলায়েন্স ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল নামের প্রতিষ্ঠানের আড়ালে সাজানো টেন্ডার ও মিথ্যা প্রতিযোগিতার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছেন।

এই অভিযোগের গভীরতা বিবেচনায় কমিশন তাঁর বিরুদ্ধে অনুসন্ধান টিম গঠন করেছে এবং তদন্তের স্বার্থে তিনি যাতে দেশত্যাগ করতে না পারেন, সে জন্য আদালতের মাধ্যমে বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

ঘটনার সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে দুদকের সহকারী পরিচালক জনাব নুরুল ইসলামকে দলনেতা এবং উপসহকারী পরিচালক জনাব এ. এম তাহেরকে টিমের সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত