২৪ ঘণ্টা কেটে গেলেও বেরোবিতে সংঘাতের আশঙ্কা কমেনি

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
বেরোবি প্রতিনিধি

প্রকাশ : ০৪ আগস্ট ২০২৬, ২২: ০৩
সংগৃহীত ছবি

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ২৪ ঘণ্টা পার হলেও ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ও সংঘাতের আশঙ্কা কমেনি। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকে লাঠিসোঁটা হাতে অবস্থান নেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

বিকেল থেকে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা প্রধান ফটকে জড়ো হয়ে অবস্থান নিয়ে ছাত্রশিবিরবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় ‘রাজাকার’ সংবলিত একটি প্রতিকৃতিতে তাদের জুতো নিক্ষেপ করতে দেখা যায়। তবে একই স্থানে বিকেল ৫টায় মহানগর ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ মিছিল করার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে তাদের কোনো উপস্থিতি দেখা যায়নি।

এর আগে সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে ‘জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে একটি ব্যানারকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে অন্তত ২৫ জন আহত হন। সেই ঘটনার জের ধরে মঙ্গলবার উভয় সংগঠনের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নতুন করে সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ক্যাম্পাসে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারির জন্য পুলিশ প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছে। পাশাপাশি বহিরাগতদের প্রবেশ এবং যানবাহন চলাচলের ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

এ বিষয়ে বেরোবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি রাফায়েল ইসলাম ইয়ামিন বলেন, ‘আমরা শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে অবস্থান নিয়েছি। শিবির যদি কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে তবে তাদের প্রতিহত করা হবে। আর তারা যদি সংযত থাকে, তবে আমরাও সংযত থাকব। তারা জুলাইয়ের স্মৃতি ধারণ করলে আমরা তাদের সাধুবাদ জানাব এবং সবসময় একসঙ্গে থাকতে চাই।’

হাতের দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, সেগুলো আগের দিন শিবিরের ফেলে যাওয়া অস্ত্র ও লাঠি।

অন্যদিকে বেরোবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি রাকিব অভিযোগ করে বলেন, ‘আজকে ছাত্রদলের কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা ছিল না, ছিল বহিরাগত লোকজন। আমরা বহিরাগতদের সঙ্গে কোনো ঝামেলায় যাব না। তারা বাইরে থেকে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এসেছে এবং অনেকে ক্যাম্পাসের ভেতরে ঢুকে পড়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে বিশ্বাসী। হামলায় আমাদের ছয়জন আহত হয়েছে, এর জবাব আমরা প্রশাসনের কাছ থেকে নেব।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত