জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

যুবদল নেতার ‘গরু চুরির’ কথা ফেসবুকে লেখায় সবজি ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
কলাপাড়া (পটুয়াখালী)

প্রকাশ : ০৩ মার্চ ২০২৬, ২১: ৪৭
ছেলে ও মেয়ের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের শিকার মো. ইদ্রিস। ছবি: সংগৃহীত

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মো. ইদ্রিস (৪৫) নামের ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে যুবদল নেতা জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। গত বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় নীলগঞ্জ ইউনিয়নের পাখিমারা বাজারে যুবদলের কার্যালয়ে তাঁকে মারধর করা হয়। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) মারা যান ইদ্রিস।

ইদ্রিস উপজেলার দক্ষিণ দৌলতপুর গ্রামের মৃত ইউসুফ খানের ছেলে। স্ত্রী আমেনা খাতুন, এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে তাঁর।

নিহতের স্বজন ও পুলিশ জানায়, ইদ্রিস ঢাকায় সবজি বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ঘিরে তিনি নীলগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ও ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে গরু চুরিসহ তাঁর অপকর্ম নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেন। এতে জহিরুল ক্ষিপ্ত হন। সম্প্রতি বাড়িতে আসেন ইদ্রিস।

২৬ ফেব্রুয়ারি পাখিমারা বাজারে গেলে তাঁকে ইউনিয়ন যুবদলের কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে জহিরুল ও তাঁর সহযোগীরা ব্যাপক মারধর করেন।

খবর পেয়ে স্বজনরা উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জের ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়ে বাড়িতে আনেন। পরে সোমবার রাত ১০টার দিকে ফের অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে মঙ্গলবার ইদ্রিসের মৃত্যু হয়।

ইদ্রিসের ভগ্নপতি শহীদুল গাজী সাংবাদিকদের বলেন, ইদ্রিস জহিরুলকে উদ্দেশ্য করে ফেসবুকে লিখেছিলেন– রাতে গরু করেন করেন। আর দিনে খিঁচুরি পাক করে খান মেম্বার। এতে ক্ষিপ্ত হন জহিরুল। ইদ্রিস বাড়ি আসার পর স্থানীয় কালাম ডাক্তারকে ধরলে তিনি অফিসে এসে মীমাংসার কথা বলেন।

তিনি বলেন, কালাম ডাক্তারের কথামতো ইদ্রিস অফিসে গেলে জহিরুল মেম্বার তাঁকে বলেন– পেছনে যা হইছে, তা নিয়ে কোনো কথা হবে না। এ সময় ইদ্রিস বলেন– আমি আপনার বিরুদ্ধে গরু চুরির কথা লিখি নাই। তখনই মেম্বার তাঁকে থাপ্পড় মারেন। এরপর মেম্বারের লোকজন ইদ্রিসকে পিটিয়ে জখম করে।

নিহতের ছেলে পারভেজ আহমেদ বলেন, ‘আমার আব্বু ফোন করে জহির মেম্বারের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি বলেছেন– এসব আমি লিখি নাই। পরে জহির মেম্বার তাঁকে বলেছেন– তুই যে কদিন ঢাকা থাকবি, ভালো থাকবি। এলাকায় এলে তোঁকে মেরে ফেলব। আব্বু নিজে আমাকে একথা বলেছেন। আব্বুর হাতে একটু সমস্যা। সেটির চিকিৎসা করানোর জন্য এলাকায় এলে তাঁকে জহির মেম্বাররা মারছেন। আমি আব্বুকে হত্যার বিচার চাই।’

অভিযোগ অস্বীকার করে যুবদল নেতা জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘ইদ্রিস আমার কাছে মাফ চাইতে এসেছিলেন। আমি কিংবা আমার সহযোগীদের কেউ তাঁকে মারধর করেনি।’

কলাপাড়া থানার ওসি রবিউল ইসলাম জানান, লাশ ময়নাতদন্তের পর স্বজনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন।

সম্পর্কিত