রগ কাটার নির্দেশ দিয়ে গকসু এজিএসের স্ট্যাটাস ঘিরে বিতর্ক

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
সাভার (ঢাকা)

গণ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের এজিএস সামিউল হাসান শোভন। সংগৃহীত ছবি

সম্প্রতি ক্যাম্পাসগুলো ছাত্রদল ও ছাত্র শিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের প্রেক্ষাপটে সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের নেতা সামিউল হাসান শোভনের দেওয়া এক ফেসবুক স্ট্যাটাস ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। স্ট্যাটাসে তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ‘রগ কেটে ইতিহাস তৈরির’ কথা বলেন।

সামিউল হাসান শোভন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (গকসু) নির্বাচিত সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস)। গত বছর নির্বাচনে শিবিরের সমর্থিত প্যানেল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নির্বাচিত হন তিনি। গতকাল মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় দেওয়া ওই পোস্টটি তিনি নিজেই দিয়েছেন ও এটি তাঁর ব্যক্তিগত মতামত বলে স্ট্রিমকে জানিয়েছেন। বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরেও স্ট্যাটাসটি তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেখা গেছে।

স্ট্যাটাসে জাতীয় সংসদে বিএনপির সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী এবং ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্রদলের সঙ্গে ছাত্র শিবিরের সম্পর্ককে ‘কুসুম কুসুম প্রেম’ ও ‘জাস্ট একটা ফাজলামি’ বলে সমালোচনা করেন এজিএস শোভন। ছাত্রদলের হাতে ধারাবাহিক নির্যাতিত হওয়ার দাবি করেন ছাত্র শিবিরের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি লেখেন, ’৯০-এর দশকে শিবিরের ওপর পায়ের রগ কাটার মিথ্যা অপবাদ আছে, সন্ত্রাস রুখে দিতে প্রয়োজনে দু-একটা রগ কেটে ইতিহাস তৈরি করুন।’ এজন্য আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখানোর সমালোচনা করেন তিনি।

গকসু নেতা শোভনের স্ট্যাটাসের সমালোচনা করেছেন গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। গকসুর ক্যান্টিন সম্পাদক মনোয়ার হোসেন অন্তর ফেসবুকে ‘ছাত্রদলের রগ কাটার জন্য প্রয়োজনীয় প্রসিডিউর’ শিরোনামে একটি ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট দেন। এতে অস্ত্রোপচারের বিভিন্ন ধাপ উল্লেখ করে বিদ্রুপাত্মক মন্তব্য করা হয়।

আইন বিভাগের শিক্ষার্থী প্রিন্স সম্রাট মুস্তাকিম তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লেখেন, ‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে একজন ছাত্র সংসদের এজিএসের এমন বক্তব্য দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। একজন ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে এ ধরনের হুমকিমূলক বক্তব্য সাধারণ শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিকভাবে নেবেন না।’

এদিকে ফেসবুক স্ট্যাটাসের বিষয়ে জানতে চাইলে গকসু নেতা সামিউল ইসলাম শোভন বলেন, ‘এটি ভিন্ন একটি প্রসঙ্গে লেখা ব্যক্তিগত পোস্ট। বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি, যার সঙ্গে পোস্টটির সম্পর্ক রয়েছে। জাতীয় সংসদ ও বিভিন্ন ক্যাম্পাসের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গেই এটি লেখা হয়েছে।’ একে গণ বিশ্ববিদ্যালয় বা ছাত্র সংসদের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে দেখার সুযোগ নেই বলে তিনি জানান।

গকসু এজিএস শোভনের স্ট্যাটাট সম্পর্কে ভিপি ইয়াসিন আল মৃদুল দেওয়ান বলেন, ছাত্র সংসদের কারও ব্যক্তিগত বক্তব্যের দায়ভার সংসদ নেবে না। তিনি বলেন, ‘দায়িত্বশীল অবস্থানে থাকলে তার প্রতিফলন কথাবার্তাতেও থাকা উচিত। ব্যক্তিগত অনুভূতির চেয়ে দায়িত্ববোধকে প্রাধান্য দেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।’

গণ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি মো. নির্জন অভিযোগ করেন, শিবির সহিংসতার হুমকি দিয়ে সন্ত্রাসী রাজনীতি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। এ ধরনের রাজনীতির বিরুদ্ধে ছাত্রদলের অবস্থান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।

গকসু এজিএস সামিউল হাসান শোভন (বামে) ছাত্রশিবিরের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ। সংগৃহীত ছবি
গকসু এজিএস সামিউল হাসান শোভন (বামে) ছাত্রশিবিরের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ। সংগৃহীত ছবি

এজিএসের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ

এদিকে গকসুর গঠনতন্ত্রের ১ নম্বর ধারায় একে একটি অরাজনৈতিক ছাত্র সংসদ বলে ঘোষণা করা হয়েছে। এর একটি ধারায় ছাত্র সংসদের নেতা কোনো রাজনৈতিক সংগঠনে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেলে তার সদস্যপদ বাতিলের কথা বলা হয়েছে। আরেকটি ধারায় দলীয় রাজনীতিতে জড়িত কেউ গকসুর যে কোনো পদে নির্বাচনের অযোগ্য বলে ঘোষণা করা হয়েছে।

তবে সাত বছর পর অনুষ্ঠিত গকসু নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিবিরের কেন্দ্রীয় নেতারা জিএস, এজিএসসহ চারজনকে নিজেদের প্যানেলের উল্লেখ করে অভিনন্দন জানান। পরে স্থানীয় জামায়াত-শিবিরের নেতারাও তাদের শুভেচ্ছা জানান।

এছাড়া, গত কয়েক মাসে শিবিরের বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে গকসু এজিএস সামিউল ইসলাম শোভনের উপস্থিত থাকার ছবি ও তথ্য ফেসবুকে প্রচার হয়েছে। এছাড়া ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে সংগঠনের ফটো কার্ড যুক্ত করে প্রোফাইল ছবি দেন এই নেতা। তবে বরাবরই রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন তিনি।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত