বাংলাদেশ আর কখনোই তাঁবেদারি রাষ্ট্র হবে না: প্রধানমন্ত্রী

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০২৬, ১২: ৩২
জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ আর কখনোই তাঁবেদারি রাষ্ট্রে পরিণত হবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের দিনটি বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে আরেকটি যুগান্তকারী মাইলফলক। দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে হাজার হাজার মানুষ গুম ও অপহরণের শিকার হয়েছিলেন। বছরের পর বছর ঘর ছাড়া হয়েছিলেন। শুধু জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানেই শহীদ হয়েছেন হাজারো ছাত্র-জনতা, নারী ও শিশু। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৩০ হাজার মানুষ।’

তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থান ঠেকাতে ফ্যাসিস্ট চক্র হেলিকপ্টার থেকেও গুলি করে গণতান্ত্রিককামী জনগণকে হত্যা করেছিল। পরাজিত, পতিত, বিতাড়িত ফ্যাসিস্টদের এমন নৃশংসতা সভ্য জগতে বিরল।’

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর নিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘এই জাদুঘর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে তাদের পূর্বসূরিদের সাহসী ইতিহাস যেমন তুলে ধরবে, অপরদিকে তাদের সামনে উন্মোচিত হবে বিতাড়িত ফ্যাসিস্টদের মুখ। আমাদের জনগণের সংগ্রাম, আত্মত্যাগ, বেদনা, সাহস ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে জাতীয় স্মৃতিতে স্থায়ীভাবে ধারণ করার এক ঐতিহাসিক উদ্যোগ এই জাদুঘর।’

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, ‘এই জাদুঘর শুধু ২০২৪ সালের নৃশংস ঘটনার স্মারক হবে না। এই জাদুঘর বাংলাদেশের মানুষের সামগ্রিক গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্পর্ক তুলে ধরবে। শুধু জুলাই গণঅভ্যুত্থানই নয়, এখানে বাংলাদেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন সংগ্রামের ইতিহাসও সংরক্ষিত থাকা জরুরি।’

জুলাই অভ্যুত্থানের মহানায়ক বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ আশা করে এই জাদুঘর কোনো একটি দল, গোষ্ঠী বা ব্যক্তির একক রাজনৈতিক ভাষ্য প্রতিষ্ঠার স্থান হবে না। কারণ, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান কোনো একক ব্যক্তি, গোষ্ঠী কিংবা দলের নয়। এই অভ্যুত্থানের মহানায়ক বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি প্রায়শই একটি কথা বলি– ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের, আর ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ছিল দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার। জনগণ যেমন মুক্তিযোদ্ধাদেরকে ভোলেনি, একইভাবে ২০২৪ সালে দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা রক্ষায় শহীদদেরকেও জনগণ কখনোই ভুলবে না।

তাঁর সরকার শহীদদের কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু করেছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ পুনর্গঠনের লক্ষ্যে ৩১ দফা নির্বাচনী ইশতেহারের পাশাপাশি জুলাই সনদ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে গণভোটের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে গঠিত সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি কাজ শুরু করেছে। দেশ পুনর্গঠনের মাধ্যমে একটি স্বনির্ভর, সমৃদ্ধ, নিরাপদ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আমরা শহীদদের কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়তে চাই।’

কেউ কেউ অহেতুক ইস্যু তৈরি করে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা করছে অভিযোগ তুলে সরকারপ্রধান বলেন, ‘এসব পরিস্থিতি তৈরি করে তারা নিজেদের অজান্তেই পতিত পলাতক স্বৈরাচারের পুনরুত্থানের পথ সুগম করছে কিনা, সেটি মনে হয় ভেবে দেখা প্রয়োজন আমাদের। এই বাংলাদেশ আর কখনোই তাঁবেদারি রাষ্ট্রে পরিণত হবে না।’

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত