গাবতলী হাটে পশুর মেলা, দেখা নেই ক্রেতার

প্রকাশ : ২৪ মে ২০২৬, ১৮: ৩৩
হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের আনাগোনা বাড়লেও এখনো বেচাকেনা জমেনি। স্ট্রিম ছবি

ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীর গাবতলী পশুর হাটে প্রচুর গরু এলেও বেচাকেনা জমেনি। পাইকার ও খামারিরা তিন-চার দিন আনায় হাট ছোট-বড় গরুতে ভরে গেছে।

রোববার (২৪ মে) সরেজমিনে দেখা গেছে, হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের আনাগোনা বাড়লেও এখনো বেচাকেনা জমেনি। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, রোববার রাতের পর সরকারি ছুটি শুরু হলে বেচাকেনায় গতি আসবে।

কুষ্টিয়ার পোড়াদহ থেকে ২৭টি গরু নিয়ে আসা পাইকার মোহাম্মদ শরিফুল স্ট্রিমকে বলেন, ‘দুই দিন আগে হাটে এসেছি। তবে এখনো একটিও বিক্রি হয়নি। অফিস-আদালত বন্ধ হলে বিক্রি শুরু হবে।’ দুই দিন আগে কেন এলেন- প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘গরমে সারা রাত ট্রাকে দাঁড়িয়ে থাকায় গরুর বিশ্রাম প্রয়োজন। তাই আগেই চলে এসেছি।’

সরেজমিনে দেখা যায়, গত কয়েক দিন ধরে ঢাকায় তীব্র গরম আবহাওয়া। এই গরমে গরুর যেন হিটস্ট্রোক না হয়, তাই আলাদা সামিয়ানা ও ফ্যানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা থেকে ৪৬টি গরু নিয়ে আসা ডাবলু মিয়া দীর্ঘ ২৭ বছরের হাটের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, ‘ঈদের দুই দিন আগে থেকে বেচাকেনা শুরু হয়। বেশি বিক্রি হয় ঈদের আগের দিন। ঢাকায় মানুষের গরু রাখার জায়গা নেই বলে শেষ মুহূর্তেই কেনে।’

হাটে সামিয়ানা ও ফ্যানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্ট্রিম ছবি
হাটে সামিয়ানা ও ফ্যানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্ট্রিম ছবি

বড় গরুর বাজার এখনো না জমলেও স্বল্প পরিসরে ছোট গরুর বেচাকেনা শুরু হয়েছে। মানিকগঞ্জের রুবেল মিয়া জানান, তাঁর চারটি ছোট গরুর মধ্যে দুটি বিক্রি হয়েছে। ছোট গরুতেই ক্রেতার বেশি আগ্রহ।

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ার ইনতাব আলী জানান, তাঁর ছয়টি ছোট গরুর একটি বিক্রি হয়েছে। তিনি বলেন, ‘অনেকে ভাবে শেষ সময়ে ছোট গরুর দাম বাড়ে। তাই আগেভাগেই কেনে।’

এদিকে, গরুর অতিরিক্ত দাম নিয়ে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা গেছে। তাঁরা বলছেন, গরুর দাম প্রত্যেক বছরই বাড়ে। তবে এবার একটু বেশি মনে হচ্ছে।

মিরপুরের আজিজুল হক বলেন, ‘অনেক বেশি দাম চাচ্ছে। বাজার জমে উঠলে দাম কিছুটা কমতে পারে।’ মোহাম্মদপুর থেকে আসা নাইম কবীর জানান, আজ গরু কিনতে নয়, বরং দেখতে এসেছেন। দাম বেশি হওয়ায় আরও দু-এক দিন দেখে কিনবেন।

সম্পর্কিত