স্ট্রিম সংবাদদাতা

দেশের অন্যতম শীর্ষ পেঁয়াজ উৎপাদনকারী জেলা পাবনায় সংরক্ষণ করা পেঁয়াজে অসময়ে পচন দেখা দিয়েছে। সনাতন পদ্ধতির চাতালের পাশাপাশি কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তৈরি আধুনিক সংরক্ষণাগারে রেখেও ঠেকানো যাচ্ছে না পচন। এতে চলতি বছর রেকর্ড ফলনের পরেও লোকসানের শঙ্কায় পড়েছেন কৃষক।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য জেলায় এ পর্যন্ত কৃষকদের মধ্যে পাঁচ হাজার ৩৩০টি এয়ার ফ্লো মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। পেঁয়াজ উত্তোলনের পর জেলার বিভিন্ন স্থানে বসানো এসব সংরক্ষণাগারে প্রায় ৬ লাখ ৪০ হাজার টন পেঁয়াজ মজুত করা হয়েছিল। এখনও ২ লাখ ৭১ হাজার ৫৫ টন পেঁয়াজ এসব সংরক্ষণাগারে মজুত রয়েছে।
সংরক্ষণ করা দেশি ও হাইব্রিড জাতের প্রায় ২৫ শতাংশ পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে গেছে বলে দাবি করছেন কৃষকরা। সাধারণত কার্তিক-অগ্রহায়ণ মাসে সংরক্ষিত পেঁয়াজে পচন অথবা অঙ্কুরোদ্গম দেখা গেলেও এবার আষাঢ় মাসেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় পেঁয়াজ বিক্রি নিয়েও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চাষিরা।
সাঁথিয়া উপজেলার বনগ্রামের পেঁয়াজ চাষি মনোয়ার পারভেজ মানিক স্ট্রিমকে বলেন, ‘পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে মিলে প্রায় ৪০০ মণ দেশি পেঁয়াজ সরকারি আধুনিক সংরক্ষণাগারে রেখেছিলাম। নিয়ম মেনে সংরক্ষণ করলেও পচন ঠেকানো যায়নি। ছত্রাক ও ভাইরাসের সংক্রমণে পেঁয়াজ পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, আবার অনেক পেঁয়াজে অঙ্কুর গজিয়ে যাচ্ছে।’
একই উপজেলার নারিয়াগদাই গ্রামের কৃষক আফসার আলী বলেন, ‘রাজশাহী থেকে বীজ এনে দুই বিঘা জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করেছি। প্রত্যাশার চেয়ে প্রায় ১৬০ মণ বেশি পেঁয়াজ পেয়েছি। এর মধ্যে ১০০ মণ পেঁয়াজ মজুত করেছিলাম। কিন্তু পচন ধরায় বাম্পার ফলনের পরেও প্রায় ৮০ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে।’
সংরক্ষণের সংকটের পাশাপাশি বাজারেও কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না কৃষকরা। পাবনা সদর উপজেলার হাজির হাটে পেঁয়াজ বিক্রি করতে আসা গৃহস্থ আব্দুল করিম বলেন, ‘কিছুদিন বাজার ভালো ছিল। এখন দাম পড়ে গেছে। সবচেয়ে ভালো মানের পেঁয়াজও প্রতি মণ ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পচা পেঁয়াজ কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হওয়ায় লোকসান আরও বাড়ছে।’
কৃষি বিভাগ বলছে, অসময়ের এ পচনের পেছনে অতিরিক্ত হাইব্রিড জাতের পেঁয়াজ চাষ, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট দায়ী। বেশি ফলনের আশায় অনেক কৃষক স্বল্পমেয়াদি হাইব্রিড জাতের পেঁয়াজ চাষ করেছেন। এসব জাতের পেঁয়াজ দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষণের উপযোগী নয় বলে অসময়ে পচন ধরছে।
এ ছাড়া রোপণ ও উত্তোলনের সময় অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত, বাতাসে বেশি আর্দ্রতা এবং উচ্চ তাপমাত্রার কারণে পেঁয়াজে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি। ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে আধুনিক সংরক্ষণাগারের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। এর পাশাপাশি অনেক কৃষক গাদাগাদি করে পেঁয়াজ সংরক্ষণ করায়ও পচনের মাত্রা বেড়েছে।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য এ পর্যন্ত কৃষকদের মধ্যে পাঁচ হাজার ৩৩০টি এয়ার ফ্লো মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে গত বছর দুই হাজার ৩৩০টি এবং চলতি বছর আরও তিন হাজারটি বিতরণ করা হয়েছে। তবে এসব যন্ত্রের সুবিধা পাচ্ছেন মাত্র পাঁচ থেকে ছয় হাজার কৃষক। ফলে জেলার অধিকাংশ চাষি এখনও আধুনিক সংরক্ষণ প্রযুক্তির বাইরেই রয়েছেন।
পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম প্রামাণিক স্ট্রিমকে বলেন, ‘চলতি মৌসুমে জেলার ৫৪ হাজার ৩৩৫ হেক্টর জমিতে ৮ লাখ ৪৫ হাজার ৪৭৩ টন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রেকর্ড প্রায় ৯ লাখ ৯৫ হাজার টন পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়েছে। তবে চারা রোপণ, পেঁয়াজ লাগানো ও বিশেষ করে উত্তোলনের সময় কয়েক দিনের বৃষ্টিসহ প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে পেঁয়াজের প্রাথমিক কিছু ক্ষতি হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বেশি ফলনের আশায় স্বল্পমেয়াদি হাইব্রিড জাতের চাষ, ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে হিমাগারের কার্যক্ষমতা ব্যাহত হওয়া এবং অনেক কৃষক গাদাগাদি করে পেঁয়াজ সংরক্ষণ করায় পচনের মাত্রা বেড়েছে। তবে ফলনের তুলনায় কৃষকের লোকসান হবে না বলেই আমরা আশাবাদী।’ সংরক্ষণাগারে এখনো যে পরিমাণ পেঁয়াজ মজুত রয়েছে, তাতে বাজারে সংকটের শঙ্কা নেই বলে দাবি করেন তিনি।

দেশের অন্যতম শীর্ষ পেঁয়াজ উৎপাদনকারী জেলা পাবনায় সংরক্ষণ করা পেঁয়াজে অসময়ে পচন দেখা দিয়েছে। সনাতন পদ্ধতির চাতালের পাশাপাশি কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তৈরি আধুনিক সংরক্ষণাগারে রেখেও ঠেকানো যাচ্ছে না পচন। এতে চলতি বছর রেকর্ড ফলনের পরেও লোকসানের শঙ্কায় পড়েছেন কৃষক।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য জেলায় এ পর্যন্ত কৃষকদের মধ্যে পাঁচ হাজার ৩৩০টি এয়ার ফ্লো মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। পেঁয়াজ উত্তোলনের পর জেলার বিভিন্ন স্থানে বসানো এসব সংরক্ষণাগারে প্রায় ৬ লাখ ৪০ হাজার টন পেঁয়াজ মজুত করা হয়েছিল। এখনও ২ লাখ ৭১ হাজার ৫৫ টন পেঁয়াজ এসব সংরক্ষণাগারে মজুত রয়েছে।
সংরক্ষণ করা দেশি ও হাইব্রিড জাতের প্রায় ২৫ শতাংশ পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে গেছে বলে দাবি করছেন কৃষকরা। সাধারণত কার্তিক-অগ্রহায়ণ মাসে সংরক্ষিত পেঁয়াজে পচন অথবা অঙ্কুরোদ্গম দেখা গেলেও এবার আষাঢ় মাসেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় পেঁয়াজ বিক্রি নিয়েও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চাষিরা।
সাঁথিয়া উপজেলার বনগ্রামের পেঁয়াজ চাষি মনোয়ার পারভেজ মানিক স্ট্রিমকে বলেন, ‘পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে মিলে প্রায় ৪০০ মণ দেশি পেঁয়াজ সরকারি আধুনিক সংরক্ষণাগারে রেখেছিলাম। নিয়ম মেনে সংরক্ষণ করলেও পচন ঠেকানো যায়নি। ছত্রাক ও ভাইরাসের সংক্রমণে পেঁয়াজ পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, আবার অনেক পেঁয়াজে অঙ্কুর গজিয়ে যাচ্ছে।’
একই উপজেলার নারিয়াগদাই গ্রামের কৃষক আফসার আলী বলেন, ‘রাজশাহী থেকে বীজ এনে দুই বিঘা জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করেছি। প্রত্যাশার চেয়ে প্রায় ১৬০ মণ বেশি পেঁয়াজ পেয়েছি। এর মধ্যে ১০০ মণ পেঁয়াজ মজুত করেছিলাম। কিন্তু পচন ধরায় বাম্পার ফলনের পরেও প্রায় ৮০ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে।’
সংরক্ষণের সংকটের পাশাপাশি বাজারেও কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না কৃষকরা। পাবনা সদর উপজেলার হাজির হাটে পেঁয়াজ বিক্রি করতে আসা গৃহস্থ আব্দুল করিম বলেন, ‘কিছুদিন বাজার ভালো ছিল। এখন দাম পড়ে গেছে। সবচেয়ে ভালো মানের পেঁয়াজও প্রতি মণ ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পচা পেঁয়াজ কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হওয়ায় লোকসান আরও বাড়ছে।’
কৃষি বিভাগ বলছে, অসময়ের এ পচনের পেছনে অতিরিক্ত হাইব্রিড জাতের পেঁয়াজ চাষ, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট দায়ী। বেশি ফলনের আশায় অনেক কৃষক স্বল্পমেয়াদি হাইব্রিড জাতের পেঁয়াজ চাষ করেছেন। এসব জাতের পেঁয়াজ দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষণের উপযোগী নয় বলে অসময়ে পচন ধরছে।
এ ছাড়া রোপণ ও উত্তোলনের সময় অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত, বাতাসে বেশি আর্দ্রতা এবং উচ্চ তাপমাত্রার কারণে পেঁয়াজে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি। ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে আধুনিক সংরক্ষণাগারের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। এর পাশাপাশি অনেক কৃষক গাদাগাদি করে পেঁয়াজ সংরক্ষণ করায়ও পচনের মাত্রা বেড়েছে।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য এ পর্যন্ত কৃষকদের মধ্যে পাঁচ হাজার ৩৩০টি এয়ার ফ্লো মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে গত বছর দুই হাজার ৩৩০টি এবং চলতি বছর আরও তিন হাজারটি বিতরণ করা হয়েছে। তবে এসব যন্ত্রের সুবিধা পাচ্ছেন মাত্র পাঁচ থেকে ছয় হাজার কৃষক। ফলে জেলার অধিকাংশ চাষি এখনও আধুনিক সংরক্ষণ প্রযুক্তির বাইরেই রয়েছেন।
পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম প্রামাণিক স্ট্রিমকে বলেন, ‘চলতি মৌসুমে জেলার ৫৪ হাজার ৩৩৫ হেক্টর জমিতে ৮ লাখ ৪৫ হাজার ৪৭৩ টন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রেকর্ড প্রায় ৯ লাখ ৯৫ হাজার টন পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়েছে। তবে চারা রোপণ, পেঁয়াজ লাগানো ও বিশেষ করে উত্তোলনের সময় কয়েক দিনের বৃষ্টিসহ প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে পেঁয়াজের প্রাথমিক কিছু ক্ষতি হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বেশি ফলনের আশায় স্বল্পমেয়াদি হাইব্রিড জাতের চাষ, ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে হিমাগারের কার্যক্ষমতা ব্যাহত হওয়া এবং অনেক কৃষক গাদাগাদি করে পেঁয়াজ সংরক্ষণ করায় পচনের মাত্রা বেড়েছে। তবে ফলনের তুলনায় কৃষকের লোকসান হবে না বলেই আমরা আশাবাদী।’ সংরক্ষণাগারে এখনো যে পরিমাণ পেঁয়াজ মজুত রয়েছে, তাতে বাজারে সংকটের শঙ্কা নেই বলে দাবি করেন তিনি।
.png)

বাংলাদেশে দুই, তিন বা চারটি নয় বরং একটিই বিরোধী দল রয়েছে। সেটি জামায়াত ইসলামী। মঙ্গলবার (৪ জুলাই) বিকেলে লক্ষ্মীপুরে জুলাই সমাবেশের সভাপতির বক্তব্যে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এসব কথা বলেছেন।
২১ মিনিট আগে
বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ক্যাম্পাসে থমথমে ভাব বিরাজ করছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা উদ্বেগ ও উত্তেজনার মধ্য দিয়ে সময় কাটাচ্ছেন।
২৭ মিনিট আগে
রাজধানীর ঢাকা কলেজে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের কয়েকজনের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
১ ঘণ্টা আগে
আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে কৃষকের পূর্ণাঙ্গ তালিকা নির্ভুল ও স্বচ্ছভাবে প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি ও কিউআর কোডসংবলিত 'কৃষক কার্ড' চালুর মাধ্যমে কৃষকের অধিকার ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করার কথা বলেন তিনি।
২ ঘণ্টা আগে