বার কাউন্সিল পরীক্ষার প্রথম রিভিউ বাতিল অবৈধ: হাইকোর্ট

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১০ জুন ২০২৬, ২৩: ০৫
আইনজীবীর পোশাক। সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আইনজীবী অন্তর্ভুক্তির লিখিত পরীক্ষার প্রথম রিভিউয়ের ফল বাতিলকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে প্রথম রিভিউয়ে উত্তীর্ণদের মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে বার কাউন্সিলকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১০ জুন) বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই বিষয়ে করা রিটে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে রায় দেন। রিটকারীদের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বদরুদ্দোজা বাদল, ফয়সাল মাহমুদ ফয়েজী ও এম আশরাফুল ইসলাম।

পরে বদরুদ্দোজা বাদল সাংবাদিকদের বলেন, বার কাউন্সিলের এনরোলমেন্ট কমিটি তিন নম্বর গ্রেস দিয়ে রিটকারীসহ আরও অনেককে পাস করিয়েছিল। কিন্তু পাসের পর দ্বিতীয় রিভিউয়ের নামে কারও দরখাস্ত ছাড়াই স্ব উদ্যোগে ওই ফল বাতিল করে ফেল করানো হয়। এটি কোনো আইনে বা বিধিতে নেই। হাইকোর্ট বার কাউন্সিলের ওই সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন।

তিনি বলেন, আমি আশা করব বার কাউন্সিল বিষয়টিকে আর দীর্ঘায়িত না করে বা আপিল বিভাগে না গিয়ে, মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) তারিখ দিয়ে তাদের আইনি পেশায় আসার সুযোগ দেবে।

আইনজীবী ফয়সাল মাহমুদ ফয়েজী বলেন, আদালত অভিমত দিয়েছেন– যখন কোনো কর্তৃপক্ষকে অবাধ ক্ষমতা দেওয়া হয়, তখন যুক্তিসঙ্গতভাবে নেওয়া সিদ্ধান্ত বাইরের কোনো চাপে বাতিল করা যায় না। পিটিশনার ৬৪০ জনসহ মোট ১ হাজার ৯১৪ জন রিভিউতে পাস করেছিলেন, তারা কেউ খাতা পুনঃপরীক্ষণ চাননি। যারা চাননি, তাদের খাতা নতুন করে পাঠিয়ে ফেল করানোটা অযৌক্তিক।

রায়ের নির্দেশনার বিষয়ে তিনি বলেন, আদালত প্রথম ফলাফলকে আইনি ও পরেরটিকে বেআইনি ঘোষণা করেছেন। প্রথম রিভিউতে পাস করেছিলেন– এমন ১ হাজার ৯১৪ জনকে একটি যুক্তিসঙ্গত সময়ের মধ্যে ভাইভায় বসার সুযোগ দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গত বছরের ২৮ জুন বার কাউন্সিলের এনরোলমেন্ট লিখিত পরীক্ষা এবং ২৫ অক্টোবর ফল প্রকাশিত হয়, যেখানে ৭ হাজার ৯১৭ জন উত্তীর্ণ হন। পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া ৭ হাজার ৫৫৮ জন (প্রায় ৮২ শতাংশ) প্রার্থী খাতা পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করেন।

আবেদনের মাত্রাতিরিক্ত সংখ্যা বিবেচনা করে বার কাউন্সিলের এনরোলমেন্ট কমিটি ৪৭ নম্বর পাওয়া প্রার্থীদের ৩ নম্বর ‘গ্রেস’ দিয়ে ৫০ পাস মার্ক ধরে গত ১৮ নভেম্বর রিভিউয়ের ফল প্রকাশ করে। কিন্তু প্রথম রিভিউয়ের পর অকৃতকার্যরা পুনরায় খাতা মূল্যায়নের দাবি জানালে ২৪ নভেম্বর বার কাউন্সিল জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে ১৮ নভেম্বরের রিভিউ ফল বাতিলের কথা জানায়। একইসঙ্গে প্রতিটি উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নেয়। পরে দ্বিতীয় রিভিউ শেষে নতুন করে ফল ঘোষণা করে উত্তীর্ণদের মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়।

বার কাউন্সিলের প্রথম রিভিউ ফল বাতিলের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে ৬৩২ পরীক্ষার্থী হাইকোর্টে রিট করেন, যার চূড়ান্ত শুনানি শেষে আদালত এই রায় দিলেন।

সম্পর্কিত