বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি, তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল পেছাল ৯৫ বার

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১৮ মে ২০২৬, ১৫: ২৯
বাংলাদেশ ব্যাংক। ছবি: সংগৃহীত

এক দশক আগে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে রিজার্ভ চুরির চাঞ্চল্যকর মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ৯৫ বারের মতো পিছিয়েছে। নতুন করে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২ জুলাই দিন ধার্য করেছেন আদালত।

প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রুকনুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম জশিতা ইসলামের আদালতে সোমবার (১৮ মে) মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) প্রতিবেদন দাখিল করতে ব্যর্থ হওয়ায় তা আবারও পিছিয়ে যায়।

২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি জালিয়াতি করে সুইফট কোডের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়। দেশের ভেতরের কোনো একটি চক্রের সহায়তায় স্থানান্তরিত এসব টাকা ফিলিপাইনে পাঠানো হয়েছিল বলে ধারণা করেন সংশ্লিষ্টরা।

ঘটনার পর ওই বছরের ১৫ মার্চ রাজধানীর মতিঝিল থানায় অর্থপাচার প্রতিরোধ আইনে মামলা করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং বিভাগের তৎকালীন যুগ্ম পরিচালক জুবায়ের বিন হুদা। মামলায় সরাসরি কাউকে আসামি করা হয়নি। শুরু থেকেই মামলাটি তদন্ত করছে সিআইডি। কিন্তু দফায় দফায় সময় নিয়েও দীর্ঘ এক দশকে তারা তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি।

অধরা ৬ কোটি ৬৪ লাখ ডলার

বাংলাদেশ ব্যাংকের খোয়া যাওয়া ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার ফিলিপাইনের স্থানীয় মুদ্রা পেসোর আকারে দেশটির তিনটি ক্যাসিনোতে চলে যায়। এরমধ্যে একটি ক্যাসিনোর মালিকের কাছ থেকে দেড় কোটি ডলার উদ্ধার করে ফিলিপাইন সরকার বাংলাদেশ সরকারকে বুঝিয়ে দিয়েছিল। তবে বাকি ৬ কোটি ৬৪ লাখ ডলার এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

রিজার্ভ চুরির তিন বছর পর ২০১৯ সালে খোয়া যাওয়া অর্থ উদ্ধারের আশায় নিউইয়র্কের ম্যানহাটন সাদার্ন ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে একটি মামলা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই মামলা খারিজে আবেদন করে ফিলিপিন্সের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশন (আরসিবিসি)।

পরে পর্যাপ্ত এখতিয়ার না থাকার কারণ দেখিয়ে ২০২২ সালের এপ্রিলে নিউ ইয়র্কের আদালত আরসিবিসির বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের করা মামলাটি খারিজ করে দেয়। এরপর বাংলাদেশ বাংকের পক্ষ থেকে নিউইয়র্কের এখতিয়ারভুক্ত আদালতে নতুন করে মামলা করা হয় বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে সে সময় জানানো হয়েছিল।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত