ছাত্রত্ব শেষেও হলে থাকার সুযোগ জাকসু নেতাদের, বিতর্ক

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু)

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) ও হল সংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত হলে থাকার অনুমতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে প্রশাসন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত অধ্যাদেশের ৫ ধারার ‘ট’ বিধি অনুযায়ী, স্নাতকোত্তর পরীক্ষা শেষ হওয়ার সাত কর্মদিবসের মধ্যে শিক্ষার্থীদের সকল পাওনা মিটিয়ে আবাসন হল ত্যাগ করতে হয়।

তবে বুধবার (২৯ জুলাই) ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. এ বি এম আজিজুর রহমানের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জাকসু ও হল সংসদের বিভিন্ন পদে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা তাঁদের পদের মেয়াদ থাকা পর্যন্ত হলে অবস্থান করতে পারবেন। প্রশাসনিক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার নিশ্চিত করেছেন।

বিদ্যমান অধ্যাদেশের সঙ্গে এই নতুন নির্দেশনার বৈপরীত্য থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে এবং খোদ জাকসু নেতারাই প্রশাসনিক এই আদেশের বিরোধিতা করছেন।

অভিযোগ উঠেছে জাকসুর বর্তমান সহসভাপতি (ভিপি) আব্দুর রশিদ জিতুকে বিশেষ সুবিধা দিতেই প্রশাসন এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাকসুর এক নেতা স্ট্রিমকে বলেন, ভিপি আব্দুর রশিদ জিতুর জন্যই প্রশাসন এ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে, যাতে ছাত্রত্ব শেষ হলেও তিনি হলে থাকতে পারেন এবং তা নিয়ে প্রশ্ন না ওঠে।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে জাকসু ভিপি আব্দুর রশিদ জিতুকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় ছাত্র ইউনিয়নের জাবি সংসদের সভাপতি অদ্রি অংকুর বলেন, জাকসু নেতাদের পদের মেয়াদ পর্যন্ত হলে থাকার অনুমোদন বিশ্ববিদ্যালয় শৃঙ্খলা আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং নৈতিকভাবে এটি শিক্ষার্থীবান্ধব নয়।

জাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মাজহারুল ইসলাম বলেন, জাকসু নেতৃত্বের সঙ্গে কোনো আলোচনা বা গঠনতন্ত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্য না রেখে হঠাৎ করে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত দুঃখজনক। এর ফলে হলে অবৈধ অবস্থানকে বৈধতা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে এবং দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

জাকসুর সমাজসেবা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন সম্পাদক আহসান লাবিব জানান, জাকসুর পক্ষ থেকে এমন কোনো দাবি করা হয়নি। এই আদেশ কার্যকর হলে ছাত্রত্ব শেষ হওয়া অন্যদের ক্ষেত্রেও হলে থাকার নজির তৈরি হবে এবং হলের আবাসন সংকট আরও তীব্র হবে।

এ ছাড়া শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ হল সংসদের সমাজসেবা সম্পাদক মনোয়ার হুসাইন ফেসবুকে লিখেছেন, নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীকে বাড়তি সুবিধা দেওয়ার এই ঘোষণা সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

এসব সমালোচনার জবাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহম্মদ নজরুল ইসলাম জানান, এটি কোনো একজন ব্যক্তিকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নয়। তিনি ব্যাখ্যা দেন, জাকসুর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচিত প্রতিনিধিরা এক বছরের জন্য দায়িত্ব পালন করেন। নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁদের নিয়মিত ছাত্রত্ব শেষ হলেও হলে না থাকলে দায়িত্ব পালন করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে।

তিনি বলেন, বর্তমানে তাঁদের মেয়াদের আর মাত্র দুই থেকে তিন মাস বাকি রয়েছে। তাই সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিনিধির দায়িত্ব পালনের স্বার্থেই প্রশাসনিক সভায় মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত তাঁদের হলে থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত