লেখা:

আগামী পাঁচ বছরে ৫০ কোটি গাছ লাগানোর রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি সত্যিই সাহসী, সময়োপযোগী এবং প্রশংসার যোগ্য। এই ঘোষণা প্রমাণ করে যে, পরিবেশ এখন আমাদের জাতীয় আলোচনার মূল বিষয় হয়ে উঠেছে। জলবায়ু পরিবর্তন, জীববৈচিত্র্য হারানো, বন উজাড় এবং নগরায়ণের এই সময়ে এত বড় পরিসরে গাছ লাগানোর উদ্যোগ একটি জোরালো বার্তা দেয়। তবে এখানে একটি প্রশ্ন থেকেই যায়—এই বিশাল লক্ষ্য বাস্তবে অর্জন করা কতটা সম্ভব? আর অর্জন করা গেলেও তা কতটা টেকসই হবে?
একটু হিসাব করলেই বোঝা যায় এই লক্ষ্যটা কত বড়। পাঁচ বছরে দিন থাকে মোট ১ হাজার ৮২৫টি। এই সময়ে ৫০ কোটি গাছ লাগাতে হলে প্রতিদিন প্রায় ২ লাখ ৭৪ হাজার চারা রোপণ করতে হবে। ঘণ্টার হিসাবে তা দাঁড়ায় প্রায় ১১ হাজার ৪০০টিতে! টানা পাঁচ বছর ধরে এই অবিশ্বাস্য গতি ধরে রাখতে হবে। এটি কেবল এক দিনের বা এক মৌসুমের কোনো সাধারণ কর্মসূচি নয়; বরং এটি প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনার জন্য একটি বিশাল বড় চ্যালেঞ্জ।
আমাদের দেশে গাছ লাগানোর ইতিহাস নতুন কিছু নয়। গত কয়েক দশকে সামাজিক বনায়ন, উপকূলীয় সবুজ বেষ্টনী এবং সড়ক-রেলপথের পাশে গাছ লাগানোর অনেক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। সরকারি কাগজপত্রে লাখ লাখ চারা লাগানোর কথা বলা হলেও, মাঠপর্যায়ের চিত্রটা একটু ভিন্ন। দেখা যায়, প্রথম দুই-তিন বছরের মধ্যেই অনেক চারা মারা যায়। সঠিক পরিচর্যার অভাব, গবাদিপশুর উপদ্রব, আগুন, জমি দখল, ভুল জাতের গাছ নির্বাচন এবং পানি না দেওয়ার কারণে গাছ লাগানোর হিসাব অনেক সময় কেবল কাগজ-কলমেই থেকে যায়। ফলে, গাছ লাগানো হলেও বাস্তবে আর বন গড়ে ওঠে না।
আমরা অনেক সময় ‘গাছ লাগানো’ আর ‘বন তৈরি করা’কে একই বিষয় মনে করি। কিন্তু শুধু অনেকগুলো গাছ থাকা মানেই বন নয়। একটি বন হলো নানা প্রাণ ও প্রকৃতির এক জীবন্ত আবাসস্থল। সেখানে বড় গাছ, ঝোপঝাড়, ঘাস, পাখি, বন্যপ্রাণী, পোকামাকড় ও অণুজীব—সবকিছু মিলে পরিবেশের একটি ভারসাম্য তৈরি করে। একটি প্রাকৃতিক বন মাটির উর্বরতা বাড়ায়, পানি ধরে রাখে, আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণ করে এবং জীববৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখে। কিন্তু আমরা যদি কেবল তাড়াতাড়ি বাড়ে এমন এক-দুই জাতের গাছ সারিবদ্ধভাবে লাগাই, তবে তা বড়জোর 'বাগান' হতে পারে, কোনোভাবেই 'প্রাকৃতিক বন' নয়। ঠিক এই জায়গাতেই আমাদের দেশীয় জাতের গাছের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি।
বাংলাদেশের পাহাড়, সমতল, উপকূল, হাওর বা চর—প্রতিটি অঞ্চলেরই নিজস্ব প্রকৃতি ও গাছপালা রয়েছে। দেশীয় জাতের গাছগুলো শত শত বছর ধরে আমাদের মাটি ও আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছে। একটি দেশি গাছ শুধু কাঠ বা ছায়াই দেয় না; এটি স্থানীয় পাখির বাসা, পোকামাকড়ের খাবার এবং মাটির অণুজীবের আশ্রয়স্থল হিসেবেও কাজ করে।
অন্যদিকে, বিদেশি ও দ্রুত বর্ধনশীল অনেক গাছ দেশি গাছপালার ক্ষতি করে, মাটির গুণ নষ্ট করে এবং জীববৈচিত্র্য কমিয়ে দেয়। তাড়াতাড়ি ফল পাওয়ার আশায় বিদেশি গাছের ওপর বেশি নির্ভর করলে তা দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। তাই, ৫০ কোটি গাছ লাগানোর এই উদ্যোগে দেশি গাছকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব না দিলে পরিবেশের খুব একটা লাভ হবে না।
আরেকটি বড় প্রশ্ন হলো—এত বিশাল সংখ্যক গাছ লাগানোর জন্য জমি পাওয়া যাবে কোথায়? আমাদের দেশের বাস্তবতায় অনেক বনভূমি এখন দখল হয়ে যাচ্ছে বা অন্য কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। সংরক্ষিত এলাকাগুলো যদি নিরাপদ না থাকে এবং যেখানে গাছ লাগানো হবে সেই জমি যদি আইনিভাবে সুরক্ষিত না হয়, তবে নতুন গাছগুলোও বাঁচানো যাবে না। তাই নতুন গাছ লাগানোর পাশাপাশি পুরোনো প্রাকৃতিক বনগুলো রক্ষা করাও সমান জরুরি, না হলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না। একটি পুরোনো ও পূর্ণবয়স্ক বন হারানোর মানে হলো, কয়েক দশকের পরিবেশ রক্ষার চেষ্টাকে ধ্বংস করে দেওয়া।
এছাড়া, একটি চারা লাগানো যতটা সহজ, সেটিকে বাঁচিয়ে রাখা তার চেয়েও অনেক বেশি কঠিন। বিশেষ করে প্রথম তিন বছর চারার নিয়মিত যত্ন নেওয়া, আগাছা পরিষ্কার করা, গবাদিপশুর হাত থেকে বাঁচানো এবং ঠিকমতো পানি দেওয়া সবচেয়ে বেশি জরুরি। ৫০ কোটি গাছ লাগানোর অর্থ শুধু চারা মাটিতে পুঁতে দেওয়া নয়, বরং ৫০ কোটি গাছকে বড় করে তোলার দায়িত্ব নেওয়া। এতগুলো গাছের পরিচর্যার জন্য আমাদের যথেষ্ট লোকবল, বাজেট এবং সঠিক পরিকল্পনা আছে কি না, তা খুব ভালোভাবে ভেবে দেখতে হবে।
সারা বিশ্বের অভিজ্ঞতা বলে, বন পাহারায় ও ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় মানুষদের যুক্ত করা গেলে গাছ বেঁচে থাকার হার সবচেয়ে বেশি হয়। স্থানীয় মানুষ যখন বুঝতে পারেন যে এই গাছের ফল, কাঠ বা ঔষধি গুণ তাদের উপকারে আসবে অথবা এখান থেকে তাদের আয়ের সুযোগ তৈরি হবে, তখন তারা নিজেরাই আগ্রহ নিয়ে গাছ রক্ষা করেন। স্থানীয় মানুষদের কেবল দর্শক বানিয়ে রাখলে এই ধরনের কাজে দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য পাওয়া কঠিন।
এর পাশাপাশি কার্বন কমানোর বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে। গবেষণায় দেখা গেছে, একটি পূর্ণবয়স্ক গাছ বছরে গড়ে ২০ থেকে ২৫ কেজি কার্বন ডাই-অক্সাইড টেনে নিতে পারে। ৫০ কোটি গাছ বড় হলে তা অবশ্যই বিপুল পরিমাণ কার্বন কমাবে। তবে শিল্প-কারখানা, বিদ্যুৎ ও যানবাহন থেকে যে হারে দূষণ বাড়ছে, তাতে শুধু গাছ লাগানোই জলবায়ু পরিবর্তনের একমাত্র সমাধান নয়; এটি সমাধানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ মাত্র।
কীভাবে এই উদ্যোগকে ঐতিহাসিক করা যায়?
এই উদ্যোগটি সত্যিকার অর্থে সফল ও ঐতিহাসিক হতে পারে, যদি আমরা কয়েকটি বিষয়ের ওপর জোর দিই। প্রথমত, প্রতিটি অঞ্চলের মাটি ও পরিবেশ অনুযায়ী দেশীয় জাতের গাছ নির্বাচন করতে হবে। দ্বিতীয়ত, কতগুলো গাছ লাগানো হলো তার চেয়ে কতগুলো গাছ বেঁচে থাকল (যেমন অন্তত ৭০ শতাংশ), সেটিকে সাফল্যের মাপকাঠি ধরা। তৃতীয়ত, নতুন বন তৈরির পাশাপাশি আগের প্রাকৃতিক বনগুলো রক্ষায় সমান গুরুত্ব দেওয়া।
চতুর্থত, গাছ লাগানো ও পরিচর্যার কাজ তদারকির জন্য একটি অত্যন্ত স্বচ্ছ ব্যবস্থা চালু করা। সর্বশেষ, পুরো প্রক্রিয়ায় স্থানীয় মানুষকে সরাসরি যুক্ত করা।
আমাদের মনে রাখতে হবে, ৫০ কোটি গাছ লাগানোর প্রতিশ্রুতি একটি জোরালো রাজনৈতিক ঘোষণা, যা আমাদের দারুণভাবে উৎসাহ দেয়। কিন্তু আমাদের লক্ষ্য শুধু 'সংখ্যা' পূরণ করা হওয়া উচিত নয়। আমাদের আসল লক্ষ্য হওয়া উচিত টেকসই, দেশি গাছপালায় ভরা এবং জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ একটি সত্যিকারের বন গড়ে তোলা। সঠিক পরিকল্পনা ও ব্যবস্থা থাকলে প্রতিদিন ২ লাখ ৭৪ হাজার বা প্রতি মিনিটে ১৯০টি গাছ লাগানো মোটেও অসম্ভব নয়।
তবে ৫০ কোটি গাছ তখনই টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে, যখন আমরা শুধু হিসাব না কষে সত্যিকারের বন তৈরির দিকে বেশি মনোযোগ দেব। বড় সংখ্যা শুধু সাময়িক উত্তেজনা ছড়ায়, কিন্তু একটি জীবন্ত ও প্রাকৃতিক বন আমাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করে।

আগামী পাঁচ বছরে ৫০ কোটি গাছ লাগানোর রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি সত্যিই সাহসী, সময়োপযোগী এবং প্রশংসার যোগ্য। এই ঘোষণা প্রমাণ করে যে, পরিবেশ এখন আমাদের জাতীয় আলোচনার মূল বিষয় হয়ে উঠেছে। জলবায়ু পরিবর্তন, জীববৈচিত্র্য হারানো, বন উজাড় এবং নগরায়ণের এই সময়ে এত বড় পরিসরে গাছ লাগানোর উদ্যোগ একটি জোরালো বার্তা দেয়। তবে এখানে একটি প্রশ্ন থেকেই যায়—এই বিশাল লক্ষ্য বাস্তবে অর্জন করা কতটা সম্ভব? আর অর্জন করা গেলেও তা কতটা টেকসই হবে?
একটু হিসাব করলেই বোঝা যায় এই লক্ষ্যটা কত বড়। পাঁচ বছরে দিন থাকে মোট ১ হাজার ৮২৫টি। এই সময়ে ৫০ কোটি গাছ লাগাতে হলে প্রতিদিন প্রায় ২ লাখ ৭৪ হাজার চারা রোপণ করতে হবে। ঘণ্টার হিসাবে তা দাঁড়ায় প্রায় ১১ হাজার ৪০০টিতে! টানা পাঁচ বছর ধরে এই অবিশ্বাস্য গতি ধরে রাখতে হবে। এটি কেবল এক দিনের বা এক মৌসুমের কোনো সাধারণ কর্মসূচি নয়; বরং এটি প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনার জন্য একটি বিশাল বড় চ্যালেঞ্জ।
আমাদের দেশে গাছ লাগানোর ইতিহাস নতুন কিছু নয়। গত কয়েক দশকে সামাজিক বনায়ন, উপকূলীয় সবুজ বেষ্টনী এবং সড়ক-রেলপথের পাশে গাছ লাগানোর অনেক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। সরকারি কাগজপত্রে লাখ লাখ চারা লাগানোর কথা বলা হলেও, মাঠপর্যায়ের চিত্রটা একটু ভিন্ন। দেখা যায়, প্রথম দুই-তিন বছরের মধ্যেই অনেক চারা মারা যায়। সঠিক পরিচর্যার অভাব, গবাদিপশুর উপদ্রব, আগুন, জমি দখল, ভুল জাতের গাছ নির্বাচন এবং পানি না দেওয়ার কারণে গাছ লাগানোর হিসাব অনেক সময় কেবল কাগজ-কলমেই থেকে যায়। ফলে, গাছ লাগানো হলেও বাস্তবে আর বন গড়ে ওঠে না।
আমরা অনেক সময় ‘গাছ লাগানো’ আর ‘বন তৈরি করা’কে একই বিষয় মনে করি। কিন্তু শুধু অনেকগুলো গাছ থাকা মানেই বন নয়। একটি বন হলো নানা প্রাণ ও প্রকৃতির এক জীবন্ত আবাসস্থল। সেখানে বড় গাছ, ঝোপঝাড়, ঘাস, পাখি, বন্যপ্রাণী, পোকামাকড় ও অণুজীব—সবকিছু মিলে পরিবেশের একটি ভারসাম্য তৈরি করে। একটি প্রাকৃতিক বন মাটির উর্বরতা বাড়ায়, পানি ধরে রাখে, আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণ করে এবং জীববৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখে। কিন্তু আমরা যদি কেবল তাড়াতাড়ি বাড়ে এমন এক-দুই জাতের গাছ সারিবদ্ধভাবে লাগাই, তবে তা বড়জোর 'বাগান' হতে পারে, কোনোভাবেই 'প্রাকৃতিক বন' নয়। ঠিক এই জায়গাতেই আমাদের দেশীয় জাতের গাছের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি।
বাংলাদেশের পাহাড়, সমতল, উপকূল, হাওর বা চর—প্রতিটি অঞ্চলেরই নিজস্ব প্রকৃতি ও গাছপালা রয়েছে। দেশীয় জাতের গাছগুলো শত শত বছর ধরে আমাদের মাটি ও আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছে। একটি দেশি গাছ শুধু কাঠ বা ছায়াই দেয় না; এটি স্থানীয় পাখির বাসা, পোকামাকড়ের খাবার এবং মাটির অণুজীবের আশ্রয়স্থল হিসেবেও কাজ করে।
অন্যদিকে, বিদেশি ও দ্রুত বর্ধনশীল অনেক গাছ দেশি গাছপালার ক্ষতি করে, মাটির গুণ নষ্ট করে এবং জীববৈচিত্র্য কমিয়ে দেয়। তাড়াতাড়ি ফল পাওয়ার আশায় বিদেশি গাছের ওপর বেশি নির্ভর করলে তা দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। তাই, ৫০ কোটি গাছ লাগানোর এই উদ্যোগে দেশি গাছকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব না দিলে পরিবেশের খুব একটা লাভ হবে না।
আরেকটি বড় প্রশ্ন হলো—এত বিশাল সংখ্যক গাছ লাগানোর জন্য জমি পাওয়া যাবে কোথায়? আমাদের দেশের বাস্তবতায় অনেক বনভূমি এখন দখল হয়ে যাচ্ছে বা অন্য কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। সংরক্ষিত এলাকাগুলো যদি নিরাপদ না থাকে এবং যেখানে গাছ লাগানো হবে সেই জমি যদি আইনিভাবে সুরক্ষিত না হয়, তবে নতুন গাছগুলোও বাঁচানো যাবে না। তাই নতুন গাছ লাগানোর পাশাপাশি পুরোনো প্রাকৃতিক বনগুলো রক্ষা করাও সমান জরুরি, না হলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না। একটি পুরোনো ও পূর্ণবয়স্ক বন হারানোর মানে হলো, কয়েক দশকের পরিবেশ রক্ষার চেষ্টাকে ধ্বংস করে দেওয়া।
এছাড়া, একটি চারা লাগানো যতটা সহজ, সেটিকে বাঁচিয়ে রাখা তার চেয়েও অনেক বেশি কঠিন। বিশেষ করে প্রথম তিন বছর চারার নিয়মিত যত্ন নেওয়া, আগাছা পরিষ্কার করা, গবাদিপশুর হাত থেকে বাঁচানো এবং ঠিকমতো পানি দেওয়া সবচেয়ে বেশি জরুরি। ৫০ কোটি গাছ লাগানোর অর্থ শুধু চারা মাটিতে পুঁতে দেওয়া নয়, বরং ৫০ কোটি গাছকে বড় করে তোলার দায়িত্ব নেওয়া। এতগুলো গাছের পরিচর্যার জন্য আমাদের যথেষ্ট লোকবল, বাজেট এবং সঠিক পরিকল্পনা আছে কি না, তা খুব ভালোভাবে ভেবে দেখতে হবে।
সারা বিশ্বের অভিজ্ঞতা বলে, বন পাহারায় ও ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় মানুষদের যুক্ত করা গেলে গাছ বেঁচে থাকার হার সবচেয়ে বেশি হয়। স্থানীয় মানুষ যখন বুঝতে পারেন যে এই গাছের ফল, কাঠ বা ঔষধি গুণ তাদের উপকারে আসবে অথবা এখান থেকে তাদের আয়ের সুযোগ তৈরি হবে, তখন তারা নিজেরাই আগ্রহ নিয়ে গাছ রক্ষা করেন। স্থানীয় মানুষদের কেবল দর্শক বানিয়ে রাখলে এই ধরনের কাজে দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য পাওয়া কঠিন।
এর পাশাপাশি কার্বন কমানোর বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে। গবেষণায় দেখা গেছে, একটি পূর্ণবয়স্ক গাছ বছরে গড়ে ২০ থেকে ২৫ কেজি কার্বন ডাই-অক্সাইড টেনে নিতে পারে। ৫০ কোটি গাছ বড় হলে তা অবশ্যই বিপুল পরিমাণ কার্বন কমাবে। তবে শিল্প-কারখানা, বিদ্যুৎ ও যানবাহন থেকে যে হারে দূষণ বাড়ছে, তাতে শুধু গাছ লাগানোই জলবায়ু পরিবর্তনের একমাত্র সমাধান নয়; এটি সমাধানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ মাত্র।
কীভাবে এই উদ্যোগকে ঐতিহাসিক করা যায়?
এই উদ্যোগটি সত্যিকার অর্থে সফল ও ঐতিহাসিক হতে পারে, যদি আমরা কয়েকটি বিষয়ের ওপর জোর দিই। প্রথমত, প্রতিটি অঞ্চলের মাটি ও পরিবেশ অনুযায়ী দেশীয় জাতের গাছ নির্বাচন করতে হবে। দ্বিতীয়ত, কতগুলো গাছ লাগানো হলো তার চেয়ে কতগুলো গাছ বেঁচে থাকল (যেমন অন্তত ৭০ শতাংশ), সেটিকে সাফল্যের মাপকাঠি ধরা। তৃতীয়ত, নতুন বন তৈরির পাশাপাশি আগের প্রাকৃতিক বনগুলো রক্ষায় সমান গুরুত্ব দেওয়া।
চতুর্থত, গাছ লাগানো ও পরিচর্যার কাজ তদারকির জন্য একটি অত্যন্ত স্বচ্ছ ব্যবস্থা চালু করা। সর্বশেষ, পুরো প্রক্রিয়ায় স্থানীয় মানুষকে সরাসরি যুক্ত করা।
আমাদের মনে রাখতে হবে, ৫০ কোটি গাছ লাগানোর প্রতিশ্রুতি একটি জোরালো রাজনৈতিক ঘোষণা, যা আমাদের দারুণভাবে উৎসাহ দেয়। কিন্তু আমাদের লক্ষ্য শুধু 'সংখ্যা' পূরণ করা হওয়া উচিত নয়। আমাদের আসল লক্ষ্য হওয়া উচিত টেকসই, দেশি গাছপালায় ভরা এবং জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ একটি সত্যিকারের বন গড়ে তোলা। সঠিক পরিকল্পনা ও ব্যবস্থা থাকলে প্রতিদিন ২ লাখ ৭৪ হাজার বা প্রতি মিনিটে ১৯০টি গাছ লাগানো মোটেও অসম্ভব নয়।
তবে ৫০ কোটি গাছ তখনই টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে, যখন আমরা শুধু হিসাব না কষে সত্যিকারের বন তৈরির দিকে বেশি মনোযোগ দেব। বড় সংখ্যা শুধু সাময়িক উত্তেজনা ছড়ায়, কিন্তু একটি জীবন্ত ও প্রাকৃতিক বন আমাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করে।
.png)

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আবারও আলোচনায় বসেছে বাংলাদেশ। আগের ঋণ কর্মসূচির বেশ কয়েকটি শর্ত পূরণ না হওয়ায় সেটি প্রত্যাশামতো এগোয়নি। এবার আইএমএফের মূল জোর দুটি বিষয়ে—এক. রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি; দুই. সরকারের পরিচালন ব্যয় কমিয়ে আর্থিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা।
৪ ঘণ্টা আগে
জুলাই পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন কিছু আচরণ ও ঘটনার অভিযোগ সামনে এসেছে, যা জনমানুষের প্রত্যাশার সম্পুর্ণ বিপরীত। কোথাও ব্যক্তিগত সুবিধা অর্জনের প্রবণতা, কোথাও সরকারি সুযোগ-সুবিধার অপব্যবহার, কোথাও জনসম্পদের প্রতি অযত্ন কিংবা অপচয়ের অভিযোগ জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
৫ ঘণ্টা আগে
রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনাকর বক্তব্য প্রদানে অনেককেই উৎসাহী দেখা যায়। কেউ অভ্যাসবশত, আবার কেউ দৃষ্টি আকর্ষণ করতে এমনটা করে থাকেন। কারো কারো হয়তো থাকে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টির উদ্দেশ্য। শান্তিপ্রিয় মানুষ এসব এড়াতেই পছন্দ করেন।
২০ ঘণ্টা আগে
জনস্বাস্থ্যের জন্য অন্যতম বড় এক আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘মাইক্রোপ্লাস্টিক’। আমরা প্রতিদিন যে খাবার খাচ্ছি, যে পানি পান করছি, এমনকি সকালে ঘুম থেকে উঠে যে টুথপেস্ট দিয়ে দাঁত মাজছি—সবখানেই ওত পেতে আছে এই নীরব ঘাতক।
২৯ জুলাই ২০২৬