স্থানীয় নির্বাচন আটকা ৪ কারণে, ডিসেম্বরে করার চিন্তা

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১২ এপ্রিল ২০২৬, ২২: ১৯
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক বাতিল হয়েছে। ফলে রাজনৈতিক দলের নেতারা স্বতন্ত্র প্রতীকে নির্বাচন করবেন। ছবি: সংগৃহীত

স্থানীয় সরকার পর্যায়ে নির্বাচনের আলোচনা হলেও এখনই হচ্ছে না। সরকার আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরে এই নির্বাচন করার পরিকল্পনা করছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চার কারণে সহসা হচ্ছে না স্থানীয় সরকার নির্বাচন। এর মধ্যে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা এবং ঋতুজনিত দুটি কারণ রয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে বিএনপি। এরপর স্থানীয় সরকারের সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদে দলীয় প্রশাসক বসায় সরকার। এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে সমালোচনা শুরু হলে বিএনপিতে স্থানীয় সরকার কাঠামোয় নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের তোড়জোড় শুরু হয়। কিন্তু এখন তা থমকে গেছে।

বিএনপির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের ভাষ্য, আগামী ২১ এপ্রিল থেকে সারা দেশে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। এই পরীক্ষা শেষ না হতেই জুন-জুলাইয়ে হবে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা। ফলে এই দুই সময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন সম্ভব নয়। এর বাইরে জুন-জুলাইয়ে তীব্র গরম এবং আগস্ট-সেপ্টেম্বরে বর্ষা মৌসুমে দেশে নির্বাচন আয়োজনের নজির নেই। সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরের মধ্যে উপজেলা ও পৌরসভা নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।

সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রথম ধাপে উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন আয়োজন করা হবে। এরপর দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনে নির্বাচন করবে। আর সর্বশেষ ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার।

বিএনপির নেতারা বলছেন, গরম ও বর্ষায় ভোটাররা ভোট দিতে তেমন উৎসাহ বোধ করেন না। এপ্রিল থেকে জুলাই পর্যন্ত এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা থাকায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়েছে। পরীক্ষার পরই রয়েছে বর্ষাকাল। এসব বিবেচনায় শীতকে উপযুক্ত ধরা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ বলেন, আমরা সব সময় নির্বাচনমুখী রাজনৈতিক দল। স্থানীয় সরকার নির্বাচন দ্রুত করার পক্ষে। তবে আমরা আমরা ‘হাসিনা মার্কা’ ভোটারবিহীন নির্বাচনের পক্ষে নই। আমরা চাই স্থানীয় সরকারে নিরপেক্ষ ভোট হোক। এজন্য দলীয় প্রতীক বাতিল করে সংসদে বিল পাস হয়েছে।

তিনি বলেন, নানা বাস্তবতায় সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। আশা করছি, বছরের শেষনাগাদ স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করা হবে। কারণ তার আগে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা এবং বর্ষা মৌসুম থাকায় নির্বাচন করা কঠিন।

সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভায় প্রশাসক নিয়োগ না দিয়ে দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করা হবে। বর্তমানে যেসব স্থানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন, সেখানে দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করা হবে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই ভবিষ্যতে এসব প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নেবেন।

এরপর গত ৯ এপ্রিল জাতীয় সংসদে ‘স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) সংশোধন বিল-২০২৬’ পাস হয়েছে। এ বিলের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক বাতিল করা হয়েছে। ফলে রাজনৈতিক দলের নেতারা স্বতন্ত্র প্রতীকে নির্বাচন করবেন।

এ ব্যাপারে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বলেন, দলীয় প্রতীক না থাকায় একাধিক প্রার্থী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এজন্য আমরা তৃণমূল নেতাদের বলছি– সবাই প্রার্থী হলে নিজেদের অবস্থানই দুর্বল হবে। আর এর সুযোগ নেবে প্রতিপক্ষ। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে কেউ প্রার্থী হলে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে শীর্ষ পর্যায় থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে।

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পতন হয় শেখ হাসিনার সরকারের। এরপর নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠন হয় অন্তর্বর্তী সরকার। এই সরকার বিশেষ পরিস্থিতিতে চারটি অধ্যাদেশ জারি করে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনে।

গণঅভ্যুত্থান পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের টিকিটে বিজয়ী জনপ্রতিনিধিদের বড় অংশ আত্মগোপনে চলে গেলে ১২টি সিটি করপোরেশন, ৩৩০ পৌরসভা, ৬১ জেলা পরিষদ ও ৪৯৫টি উপজেলা পরিষদ ভেঙে দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। সেখানে প্রশাসকের মাধ্যমে কার্যক্রম অব্যাহত রাখে। যদিও ইউনিয়ন পরিষদের কাঠামো বহাল রাখা হয়। তবে যেখানে চেয়ারম্যান অনুপস্থিত, সেখানে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়।

অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপি সরকার গঠনের কয়েকদিনের মধ্যেই ১২ সিটি করপোরেশন ও ৫৪টি জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দেয়। তবে উপজেলা ও পৌরসভায় এখনো কোনো প্রশাসক দেওয়া হয়নি।

সম্পর্কিত