জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও অযৌক্তিক মূল্যস্ফীতি নয়: পাটমন্ত্রী

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৬: ১০
নারায়ণগঞ্জে মেলা উদ্বোধন শেষে কথা বলেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। স্ট্রিম ছবি

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি কেন্দ্র করে বাজারে অযৌক্তিক পণ্যের মূল্যস্ফীতির সুযোগ না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে নারায়ণগঞ্জে শহিদ জিয়া হল প্রাঙ্গণে বহুমুখী পাটপণ্য মেলার উদ্বোধন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। তিনি বলেছেন, ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পণ্যের পরিবহন ব্যয়ে যতটা দেখানো হচ্ছে, বাস্তবে তা এত বেশি নয়।

বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী বলেন, ১০ হাজার কেজি পণ্য নিয়ে একটি ট্রাক ঢাকা-চট্টগ্রাম যেতে ডিজেল লাগে প্রায় ৩০ লিটার। ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধিতে অতিরিক্ত ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ৪৫০ টাকা। সেই হিসাবে প্রতি কেজি পণ্যে বাড়তি ব্যয় ৪০ থেকে ৪৫ পয়সার বেশি নয়। ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধিকে অজুহাত করে কেউ যদি পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ায়, তাহলে সেটি বাস্তবসম্মত নয়।

রপ্তানি খাতের মন্দাভাব প্রসঙ্গে মন্ত্রী খন্দকার মুক্তাদির বলেন, রপ্তানিতে এই মন্দাভাব গতকাল তৈরি হয়নি। এই বৈশ্বিক মন্দাভাবটি তৈরি হয়েছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের শুরু থেকে। উপসাগরীয় যুদ্ধের (গালফ ওয়ার) কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ বন্ধ হওয়ায় দুই মাস আগে পেট্রোলিয়াম পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। কম ফুয়েল-ইনটেনসিভ ইন্ডাস্ট্রিগুলোর দিক থেকে থমকে না যাওয়ার আহ্বান জানান মন্ত্রী।

নারায়ণগঞ্জে শহিদ জিয়া হল প্রাঙ্গণে মেলার উদ্বোধন করেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। স্ট্রিম ছবি
নারায়ণগঞ্জে শহিদ জিয়া হল প্রাঙ্গণে মেলার উদ্বোধন করেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। স্ট্রিম ছবি

গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে জানিয়েছেন বস্ত্রমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় বিদ্যুতের পর ব্যক্তিখাতের শিল্প-কলকারখানাগুলো চালু রাখার জন্য সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এই খাতের চাহিদা মেটাতে গ্যাস সরবরাহের পরিমাণ দু-চার বছর আগের মতোই আছে। গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য এফএসআরইউ বৃদ্ধি করা দরকার। এজন্য বেশি এলএনজি আমদানির লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার।

পাটমন্ত্রী খন্দকার মুক্তাদির বলেন, এক সময়ে প্রধান রপ্তানি পণ্য পাটের বীজ এখনো অন্য দেশ থেকে আসে। দেশে প্রতিবছর ৪ থেকে ৫ হাজার মেট্রিক টন পাটবীজ প্রয়োজন হয়। স্বল্পতম সময়ে পাটবীজে বাংলাদেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বিতভাবে একটি ক্র্যাশ প্রোগ্রাম নিয়েছে পাট মন্ত্রণালয়। সেই সঙ্গে সরকারি অফিসগুলোতে পাটের তৈরি পর্দা ও অন্যান্য সামগ্রী বেশি ব্যবহারের জন্য মন্ত্রীপরিষদ থেকে একটি সার্কুলার জারি হয়েছে।

সম্পর্কিত