
উঠোনে বসে খবির উদ্দিন (৪৭)। পেছনে আধাপাকা ঘর। পাশের টিন-কাঠের আরেকটি ঘরের টিনও জীর্ণ। প্রবাসে যাওয়ার আগে ভেবেছিলেন, ঘর দুটি নতুন করে গড়বেন। কিন্তু পাঁচ মাসের মধ্যেই দেশে ফিরতে হয়েছে খবিরকে। তাঁর চোখমুখে চিন্তার ছাপ।
দেশে ফিরে কেমন কাটছে— প্রশ্নে আনমনা হয়ে যান। দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে খবির বলেন, ‘একটু সুখের আশায় দুবাই গিয়েছিলাম। ইরান যুদ্ধের কারণে দেশে ফিরতে হয়েছে খালি হাতে। কী করব কিছুই বুঝতে পারছি না।’
ঢাকার দোহারের লক্ষীপ্রসাদ এলাকার একলাস উদ্দিনের ছেলে খবির উদ্দিন। দেশে তিন-চারটি গরু পালে জীবিকা নির্বাহ করতেন। পরিবারের সুখের আশায় গরুগুলো বিক্রি করে গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতে যান। সেখানে আবুধাবিতে ড্রাইডক ওয়ার্ল্ড দুবাইয়ে (ডিডব্লিউডি) চাকরি নেন। ঠিকঠাক কাজও করেছিলেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এই যুদ্ধের দামামা লাগে উপসাগরীয় অন্যান্য দেশের মতো আমিরাতে। কিছুদিন বাদেই চাকরি হারিয়ে দেশে ফিরে আসেন খবির। এখন পুঁজি হারানোর কারণে নতুন করে গরু কিনতে পারছেন না।
খবির উদ্দিন বলেন, ‘যুদ্ধ শুরু হলে আতঙ্কে দিন কাটতে থাকে। শুরুর দিকে ভয়াবহতা কম থাকায় আমরা কাজকর্ম করতে পেরেছি। কিন্তু যখন তীব্রতা বেড়ে যায়, কোম্পানি আমাদের মোবাইল ফোনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগাম সতর্কবার্তা সাইরেন সেট করে দেয়। ফোনে সাইরেন বাজলে কাজ ছেড়ে নিরাপত্তার জন্য শেল্টারে আশ্রয় নিতাম। আবার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ফিরতাম।’

কর্মস্থল থেকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের আওয়াজ পেতেন খবির উদ্দিনসহ অন্যরা। রাতের মাত্রা বেড়ে যেত। কোনো কোনো রাতে বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে যেত, সারাক্ষণ আতঙ্কে থাকতে হতো তাদের। খবিরের ভাষ্যে, এরই মধ্যে কোম্পানির পক্ষ থেকে জানতে পারি, যুদ্ধের প্রভাবে আমাদের দেশে পাঠিয়ে দেবে। তখন মনে হয়েছিল, যেন মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল। যুদ্ধের কারণে ফ্লাইট বন্ধ থাকার কারণে কিছুটা বিলম্ব হয় দেশে আসতে। অবশেষে বাধ্যতামূলক পাঁচ মাস পরে ছুটিতে ৫ মার্চ দেশে এসেছি।
এক মাস ধরে বসে খবির উদ্দিন। এক ছেলে ও এক মেয়ে। ছেলে জয়পাড়া কলেজের একাদশ শ্রেণি পড়ুয়া। মেয়ে পড়ে সেন্ট ইউফ্রেজীস বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজের নবম শ্রেণিতে। প্রতি মাসে সন্তানদের লেখাপড়া বাবদ ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা দিতে হচ্ছে। এছাড়া প্রতি মাসের সংসার খরচ ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। এই ব্যয় মেটানো অনেকটাই কঠিন হয়েছে পড়েছে বলে জানান খবির।
দেশে ফেরত পাঠানোর আগে কোম্পানির পক্ষ থেকে খবির উদ্দিনসহ অন্যদের জানিয়েছিল, যুদ্ধ পরিস্থিতি ভালো হলে আবার ফেরত নেবে। তিনি বলেন, ‘আমার দুই বছরের ভিসা আছে ঠিকই। কিন্তু যুদ্ধ কী থামবে, না থামলে আমাদের ভবিষ্যৎ কী?’
খবির উদ্দিনের স্ত্রী বলেন, ‘আমাদের তো কোনো রকম করে চলে যেত। দেশে আবার যে কিছু একটা করবে, সেই পুঁজিও নেই। আমরা অনেক সমস্যার মধ্যে রয়েছি।’
প্রতিবেশী মোশারফ হোসেন জানান, কয়েক মাস আগে খবির উদ্দিন ওয়েল্ডিংয়ের কাজ নিয়ে বিদেশে যান। কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তাঁকে কোম্পানি দেশে পাঠিয়ে দিয়েছে। পরিবার নিয়ে এখন দুঃসময় পার করছে।
দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাঈদুল ইসলাম বলেন, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিককর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে প্রবাসফেরতদের আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ে আবেদন করলে তা পেতে পারেন খবির উদ্দিন। স্থানীয় প্রশাসনও সাধ্যমতো এ ধরনের মানুষকে সহযোগিতা করছে।
.png)

মিটার নেই, বিদ্যুৎ সংযোগও নেই। তবুও ৬৯২ টাকা বিদ্যুৎ বিলের কাগজ পেয়েছেন জামালপুরের মাদারগঞ্জের পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক শ্রী নিমাই চন্দ্র সরকার। তার অভিযোগ, মিটার খুলে নেয়ার পর নতুন কোনো মিটার সংযোগ না দেয়া হলেও বিল আসায় বিস্মিত তিনি।
১ ঘণ্টা আগে-2aeb91-256x144.webp)
রংপুরের কয়েকটি উপজেলায় চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ মিলছে অর্ধেক। এতে সবচেয়ে বড় ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগীরা। বিদ্যুৎ না থাকায় হাসপাতালের ফ্যান বন্ধ। চলছে না এক্স-রে, ইসিজি, নেবুলাইজারসহ গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র। কোথাও আবার জরুরি বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় মুঠোফোনের আলোয় রোগী দেখতে হচ্ছে চিকিৎসক-নার্সদের।
১ ঘণ্টা আগে
ঢাকার অদূরে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩ সেপ্টেম্বর ডেঙ্গু রোগী ছিলেন ৪৫। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় এখানে ভর্তি হন ১৬ জন। সবমিলে ওই সপ্তাহে ভর্তির সংখ্যা ৮৭ জন। গত ১৮ আগস্ট ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যুও হয়। অথচ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যে চলতি বছর হাসপাতালটিতে ডেঙ্গু রোগী ভর্তিই হয়েছেন একজন।
৩ ঘণ্টা আগে
তরুণ উদ্যোক্তাদের এগিয়ে যাওয়ার পথে প্রধান তিন বাধা হিসেবে দক্ষতার ঘাটতি, ঋণপ্রাপ্তির কঠিন শর্ত ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কথা বলেছেন যশোরের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা। একই সঙ্গে স্থানীয় অর্থনীতির চাহিদার সঙ্গে জাতীয় প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সামঞ্জস্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।
৩ ঘণ্টা আগে