স্ট্রিম প্রতিবেদক

দেশব্যাপী বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শেষ হওয়ার দুই মাস পরও হাম পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এখনো প্রতিদিন গড়ে এক হাজারের বেশি শিশু হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হচ্ছে এবং প্রতিদিন তিনজনেরও বেশি শিশুর মৃত্যু হচ্ছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির দুর্বলতা, দীর্ঘদিনের প্রতিরোধক্ষমতার ঘাটতি এবং বিশেষ টিকাদান কর্মসূচিতে কাঙ্ক্ষিত সংখ্যক শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করতে না পারাই এই পরিস্থিতির প্রধান কারণ।
দেশে গত মার্চের শুরুতে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে ৫ এপ্রিল থেকে ২০ মে পর্যন্ত ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের জন্য হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই কর্মসূচির আওতায় ১ কোটি ৮৪ লাখ ৭৬ হাজার ৩২৪ জন শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ৯৫ শতাংশের বেশি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগনিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. হালিমুর রশিদ বলেন, ‘আমাদের ক্যাম্পেইন শেষ হয়েছে এবং সে অনুযায়ী রোগী ও মৃতের সংখ্যাও কমে আসছে। তবে পরিস্থিতি কবে নাগাদ পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলা যাচ্ছে না।’
এখনো যেহেতু মৃত্যু কমছে না, নতুন কোনো পরিকল্পনা আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আপাতত কোনো পরিকল্পনা নেই।’
চার মাসে ৮০০-এর বেশি শিশুর মৃত্যু
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত চার মাসে হাম ও হামের উপসর্গে ৮০৩ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গে মারা গেছে ৭০৮ জন এবং পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে মারা গেছে ৯৫ জন শিশু।
একই সময়ে আক্রান্তের সংখ্যাও উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। গত বুধবার (২২ জুলাই) পর্যন্ত ঢাকা বিভাগে হাম রোগীর সংখ্যা ৬৩ হাজার ৪০২ জন, যা দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ। সবচেয়ে কম আক্রান্ত হয়েছে রংপুর বিভাগে, যেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ২ হাজার ৫০০ জন।
মৃত্যুর সংখ্যাতেও শীর্ষে রয়েছে ঢাকা বিভাগ। গত চার মাসে হাম ও হামের উপসর্গে এই বিভাগে ৩৬৬ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বিপরীতে রংপুর বিভাগে মারা গেছে ৯ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য আরও বলছে, গত বুধবার (২২ জুলাই) পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার ৩৫২ শিশুর। এ সময় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার ৭৮ শিশু। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ৯৯ হাজার ২৯৪ শিশু বাড়ি ফিরেছে। আর গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত ১৪ হাজার ৮৪১ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।
প্রতিদিন হাজারের বেশি আক্রান্ত
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, শুরুতে এপ্রিল মাসের ৩০ দিনে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছিল ৩৭ হাজার ৯৮০ জন, অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ২৬৬ জন। সেই মাসে মোট মৃত্যু ছিল ১৮১ জন, অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ছয়জনের বেশি শিশু মারা যায়।
অন্যদিকে ২০ জুন থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত শেষ এক মাসের হিসেবে দেখা যায়, হামে আক্রান্ত হয়েছে ৩০ হাজার ৪১০ জন, অর্থাৎ এখনো প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ১৩ জন আক্রান্ত হচ্ছে। একই সময়ে মৃত্যু হয়েছে ১১৬ জনের, যা প্রতিদিন গড়ে তিনজনেরও বেশি। বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শেষ হলেও আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার প্রত্যাশিত মাত্রায় কমেনি।
প্রতিরোধক্ষমতার চরম ঘাটতি তৈরি হয়েছিল
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগনিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদ হামের বর্তমান অবস্থা নিয়ে কথা বলেন। তিনি জানান, টিকাদান কর্মসূচি শেষ হলেও দেশের শিশুদের মধ্যে এখনো প্রয়োজনীয় প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হয়নি।
তিনি বলেন, ‘হামের বিরুদ্ধে প্রতিরোধক্ষমতায় চরম ঘাটতি তৈরি হয়েছিল। একদিকে হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান ক্যাম্পেইন দীর্ঘদিন হয়নি, অন্যদিকে নিয়মিত সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) কার্যক্রমেও কভারেজ কমে যায়। এই দুই কারণে দেশের শিশুদের মধ্যে বড় ধরনের ইমিউনিটি গ্যাপ তৈরি হয়েছিল।’
তিনি বলেন, মহামারি শুরু হওয়ার পর যে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি পরিচালিত হয়েছে, সেটিও বাস্তবে প্রয়োজনীয় ৯৫ শতাংশ কভারেজের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারেনি। যেসব শিশু টিকার আওতায় আসেনি, তারাই এখন বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। টিকাদান কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে না পারার কারণেই এখনো প্রতিদিন হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত হচ্ছে এবং মৃত্যুও অব্যাহত রয়েছে। এই মহামারি আমরা যেভাবে মোকাবিলা করার কথা ছিল, সেভাবে করতে পারিনি।
এখন যা করা উচিত
বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে জরুরি কাজ হিসেবে আক্রান্ত এলাকার ভিত্তিতে লক্ষ্যভিত্তিক টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনার পরামর্শ দেন ডা. বে-নজির আহমেদ।
তিনি বলেন, ‘যেসব এলাকা থেকে আক্রান্ত শিশু আসছে, সেগুলো চিহ্নিত করে সেখানে বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম চালানো উচিত ছিল। কিন্তু ক্যাম্পেইন শেষ হওয়ার পর সরকার হাম নিয়ে কার্যত আর কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নিচ্ছে না। ফলে প্রতিদিন হাজারের বেশি রোগী আক্রান্ত হলেও বিষয়টি প্রয়োজনীয় গুরুত্ব পাচ্ছে না। তবে নির্দিষ্ট এলাকা চিহ্নিত করে নতুন করে সেসব এলাকায় টিকা কর্মসূচি চালু করতে হবে।’
হাম নিয়ন্ত্রণে আক্রান্তদের জন্য এখন আইসোলেশন কতটা কার্যকর হতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এটি বাস্তবসম্মত নয়।
বে-নজির বলেন, ‘যদি কোনো নির্দিষ্ট ছোট এলাকায় রোগটি সীমাবদ্ধ থাকত, তাহলে আইসোলেশন কার্যকর হতে পারত। কিন্তু এখন যেহেতু সারা দেশ থেকেই রোগী আসছে, তাই এত বড় পরিসরে আইসোলেশন বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। ফলে এই পরিস্থিতিতে আইসোলেশন কার্যকর সমাধান নয়।’
এটি নিঃসন্দেহে মহামারি
সরকারি হিসাব অনুযায়ী কয়েক মাসে কয়েক শ শিশুর মৃত্যুর পর বর্তমান পরিস্থিতিকে মহামারি বলা যায় কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে ডা. বে-নজির আহমেদ বলেন, ‘অবশ্যই। এতে কোনো সন্দেহ নেই। গত পাঁচ বছরের গড়ের তুলনায় রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি হলে সেটিকে মহামারি বলা হয়। বর্তমান পরিস্থিতি সেই সীমা অনেক আগেই অতিক্রম করেছে। ’
শুধু শিশু নয়, সম্প্রতি প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যেও হাম আক্রান্তের ঘটনা বাড়ছে বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা।
প্রাপ্তবয়স্কদের হামে আক্রান্ত হওয়ার প্রসঙ্গ নিয়ে ডা. বে-নজির আহমেদ বলেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। হামের ভাইরাস যদি কোনো এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে সংক্রমণ ঘটাতে থাকে, তাহলে যাদের শরীরে এ রোগের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত প্রতিরোধক্ষমতা নেই, তারা যেকোনো বয়সেই আক্রান্ত হতে পারেন।

দেশব্যাপী বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শেষ হওয়ার দুই মাস পরও হাম পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এখনো প্রতিদিন গড়ে এক হাজারের বেশি শিশু হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হচ্ছে এবং প্রতিদিন তিনজনেরও বেশি শিশুর মৃত্যু হচ্ছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির দুর্বলতা, দীর্ঘদিনের প্রতিরোধক্ষমতার ঘাটতি এবং বিশেষ টিকাদান কর্মসূচিতে কাঙ্ক্ষিত সংখ্যক শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করতে না পারাই এই পরিস্থিতির প্রধান কারণ।
দেশে গত মার্চের শুরুতে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে ৫ এপ্রিল থেকে ২০ মে পর্যন্ত ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের জন্য হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই কর্মসূচির আওতায় ১ কোটি ৮৪ লাখ ৭৬ হাজার ৩২৪ জন শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ৯৫ শতাংশের বেশি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগনিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. হালিমুর রশিদ বলেন, ‘আমাদের ক্যাম্পেইন শেষ হয়েছে এবং সে অনুযায়ী রোগী ও মৃতের সংখ্যাও কমে আসছে। তবে পরিস্থিতি কবে নাগাদ পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলা যাচ্ছে না।’
এখনো যেহেতু মৃত্যু কমছে না, নতুন কোনো পরিকল্পনা আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আপাতত কোনো পরিকল্পনা নেই।’
চার মাসে ৮০০-এর বেশি শিশুর মৃত্যু
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত চার মাসে হাম ও হামের উপসর্গে ৮০৩ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গে মারা গেছে ৭০৮ জন এবং পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে মারা গেছে ৯৫ জন শিশু।
একই সময়ে আক্রান্তের সংখ্যাও উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। গত বুধবার (২২ জুলাই) পর্যন্ত ঢাকা বিভাগে হাম রোগীর সংখ্যা ৬৩ হাজার ৪০২ জন, যা দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ। সবচেয়ে কম আক্রান্ত হয়েছে রংপুর বিভাগে, যেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ২ হাজার ৫০০ জন।
মৃত্যুর সংখ্যাতেও শীর্ষে রয়েছে ঢাকা বিভাগ। গত চার মাসে হাম ও হামের উপসর্গে এই বিভাগে ৩৬৬ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বিপরীতে রংপুর বিভাগে মারা গেছে ৯ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য আরও বলছে, গত বুধবার (২২ জুলাই) পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার ৩৫২ শিশুর। এ সময় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার ৭৮ শিশু। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ৯৯ হাজার ২৯৪ শিশু বাড়ি ফিরেছে। আর গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত ১৪ হাজার ৮৪১ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।
প্রতিদিন হাজারের বেশি আক্রান্ত
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, শুরুতে এপ্রিল মাসের ৩০ দিনে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছিল ৩৭ হাজার ৯৮০ জন, অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ২৬৬ জন। সেই মাসে মোট মৃত্যু ছিল ১৮১ জন, অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ছয়জনের বেশি শিশু মারা যায়।
অন্যদিকে ২০ জুন থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত শেষ এক মাসের হিসেবে দেখা যায়, হামে আক্রান্ত হয়েছে ৩০ হাজার ৪১০ জন, অর্থাৎ এখনো প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ১৩ জন আক্রান্ত হচ্ছে। একই সময়ে মৃত্যু হয়েছে ১১৬ জনের, যা প্রতিদিন গড়ে তিনজনেরও বেশি। বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শেষ হলেও আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার প্রত্যাশিত মাত্রায় কমেনি।
প্রতিরোধক্ষমতার চরম ঘাটতি তৈরি হয়েছিল
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগনিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদ হামের বর্তমান অবস্থা নিয়ে কথা বলেন। তিনি জানান, টিকাদান কর্মসূচি শেষ হলেও দেশের শিশুদের মধ্যে এখনো প্রয়োজনীয় প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হয়নি।
তিনি বলেন, ‘হামের বিরুদ্ধে প্রতিরোধক্ষমতায় চরম ঘাটতি তৈরি হয়েছিল। একদিকে হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান ক্যাম্পেইন দীর্ঘদিন হয়নি, অন্যদিকে নিয়মিত সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) কার্যক্রমেও কভারেজ কমে যায়। এই দুই কারণে দেশের শিশুদের মধ্যে বড় ধরনের ইমিউনিটি গ্যাপ তৈরি হয়েছিল।’
তিনি বলেন, মহামারি শুরু হওয়ার পর যে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি পরিচালিত হয়েছে, সেটিও বাস্তবে প্রয়োজনীয় ৯৫ শতাংশ কভারেজের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারেনি। যেসব শিশু টিকার আওতায় আসেনি, তারাই এখন বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। টিকাদান কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে না পারার কারণেই এখনো প্রতিদিন হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত হচ্ছে এবং মৃত্যুও অব্যাহত রয়েছে। এই মহামারি আমরা যেভাবে মোকাবিলা করার কথা ছিল, সেভাবে করতে পারিনি।
এখন যা করা উচিত
বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে জরুরি কাজ হিসেবে আক্রান্ত এলাকার ভিত্তিতে লক্ষ্যভিত্তিক টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনার পরামর্শ দেন ডা. বে-নজির আহমেদ।
তিনি বলেন, ‘যেসব এলাকা থেকে আক্রান্ত শিশু আসছে, সেগুলো চিহ্নিত করে সেখানে বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম চালানো উচিত ছিল। কিন্তু ক্যাম্পেইন শেষ হওয়ার পর সরকার হাম নিয়ে কার্যত আর কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নিচ্ছে না। ফলে প্রতিদিন হাজারের বেশি রোগী আক্রান্ত হলেও বিষয়টি প্রয়োজনীয় গুরুত্ব পাচ্ছে না। তবে নির্দিষ্ট এলাকা চিহ্নিত করে নতুন করে সেসব এলাকায় টিকা কর্মসূচি চালু করতে হবে।’
হাম নিয়ন্ত্রণে আক্রান্তদের জন্য এখন আইসোলেশন কতটা কার্যকর হতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এটি বাস্তবসম্মত নয়।
বে-নজির বলেন, ‘যদি কোনো নির্দিষ্ট ছোট এলাকায় রোগটি সীমাবদ্ধ থাকত, তাহলে আইসোলেশন কার্যকর হতে পারত। কিন্তু এখন যেহেতু সারা দেশ থেকেই রোগী আসছে, তাই এত বড় পরিসরে আইসোলেশন বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। ফলে এই পরিস্থিতিতে আইসোলেশন কার্যকর সমাধান নয়।’
এটি নিঃসন্দেহে মহামারি
সরকারি হিসাব অনুযায়ী কয়েক মাসে কয়েক শ শিশুর মৃত্যুর পর বর্তমান পরিস্থিতিকে মহামারি বলা যায় কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে ডা. বে-নজির আহমেদ বলেন, ‘অবশ্যই। এতে কোনো সন্দেহ নেই। গত পাঁচ বছরের গড়ের তুলনায় রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি হলে সেটিকে মহামারি বলা হয়। বর্তমান পরিস্থিতি সেই সীমা অনেক আগেই অতিক্রম করেছে। ’
শুধু শিশু নয়, সম্প্রতি প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যেও হাম আক্রান্তের ঘটনা বাড়ছে বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা।
প্রাপ্তবয়স্কদের হামে আক্রান্ত হওয়ার প্রসঙ্গ নিয়ে ডা. বে-নজির আহমেদ বলেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। হামের ভাইরাস যদি কোনো এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে সংক্রমণ ঘটাতে থাকে, তাহলে যাদের শরীরে এ রোগের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত প্রতিরোধক্ষমতা নেই, তারা যেকোনো বয়সেই আক্রান্ত হতে পারেন।
.png)

রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেল ৪টার দিকে ‘ব্যক্তিগত কারণ’ দেখিয়ে তিনি স্পিকারের কাছে পদত্যাগ জমা দেন বলে বঙ্গভবন সূত্র জানিয়েছে।
১১ মিনিট আগে
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেল ৫টায় এই সংবাদ সম্মেলন হবে।
৩০ মিনিট আগে
হামের উপসর্গে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে নিশ্চিত ও সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১৩৭ শিশু।
৪১ মিনিট আগে
রাজশাহীর ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ‘ম্যাংগো লাভার’-এর কার্যালয়ে এক তরুণীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পবা থানায় গত ২১ জুলাই ম্যাংগো লাভারের কর্ণধার মুরাদ পারভেজ (৩২) ও তাঁর বন্ধু শের আলী দুলালের (৩৬) বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
১ ঘণ্টা আগে