ইন্টারভিউ ছাড়াই রেড ক্রিসেন্টের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল এহছানে এলাহী

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১: ১১
স্ট্রিম গ্রাফিক
স্ট্রিম গ্রাফিক

বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল পদে সাক্ষাৎকার (ইন্টারভিউ) ছাড়াই ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ আমলাকে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অবসরপ্রাপ্ত সচিব এহছানে এলাহী নিয়োগ পান গত ১৩ আগস্ট। তবে অভিযোগ উঠেছে, নীতিমালা উপেক্ষা করে ইন্টারভিউ ছাড়াই গোপনে তাঁকে নেওয়া হয়েছে।

অথচ ওই নিয়োগের জন্য দুবার বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। পরে সাক্ষাৎকারে অংশ নেন রেড ক্রিসেন্টের সাবেক পরিচালক, সাবেক আমলাসহ অন্তত ১০ জন। তবে সাক্ষাৎকারে না থেকেই নিয়োগ পান আওয়ামী লীগ সরকারের মেয়াদে বিআরটিসি, বিসিআইসি এবং সবশেষ শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এহছানে এলাহী।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রেড ক্রিসেন্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানবিক সংস্থায় নিয়োগে যে ধরনের স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা উচিত, এক্ষেত্রে তা করা হয়নি।

এদিকে, গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের উচ্চপর্যায়ে ঘনিষ্ঠতার জন্য পরিচিতি আছে সাবেক এই আমলার। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে তাঁকে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর ২০২১ সালের জানুয়ারিতে অন্যতম বৃহৎ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) চেয়ারম্যান হন তিনি।

একই বছরের জুনে সচিব হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান হন তিনি। এর দুই মাসের মাথায় আগস্টে তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে পদায়ন করা হয়। পোশাক খাতসহ বিভিন্ন শ্রম অসন্তোষ থামাতে এবং শ্রমনীতি বাস্তবায়নে তিনি তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের অন্যতম আস্থাভাজন ছিলেন বলে আলোচনা আছে।

তাঁর অবসর নিয়েও রয়েছে বিতর্ক। স্বাভাবিক চাকরির মেয়াদ অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ২৫ নভেম্বর তাঁর অবসরে (পিআরএল) যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তৎকালীন সরকার এর দুই দিন আগে ২৩ নভেম্বর তাঁকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়েই আরও ছয় মাসের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়। যদিও মেয়াদ শেষের আগেই তাঁর আবেদন পেয়ে ২০২৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ওই নিয়োগ বাতিল করে সরকার। এরপর অবসরে যান এহছানে এলাহী।

এমন একজনকে আনুষ্ঠানিক বাছাই প্রক্রিয়া ছাড়াই রেড ক্রিসেন্টের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ নিয়ে সংস্থাটির ভেতরে-বাইরে প্রশ্ন তৈরি করেছে। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হয় ১৩ আগস্ট এহছানে এলাহীর নিয়োগের দিনই পদত্যাগ করা সেক্রেটারি জেনারেল ডা. কবীর এম আশরাফ আলমের সঙ্গে।

ডা. কবীর স্ট্রিমকে বলেন, যিনি (ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল) অ্যাপয়েন্টেড হয়েছেন, তার জন্য নতুন করে কোনো ইন্টারভিউ হয়নি। তিনি জানান, রেড ক্রিসেন্টের প্রেসিডেন্টস অর্ডার (পিও) ২৬-এ জরুরি প্রয়োজনে চেয়ারম্যানকে সাময়িকভাবে নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে ম্যানেজিং বোর্ডের অনুমোদন না পেলে তা চূড়ান্ত ও বৈধ হবে না।

এহছানে এলাহীর নিয়োগ এই নিয়মেও পড়ে না। কারণ, তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে স্থায়ীভাবে। চেয়ারম্যান শুধু অস্থায়ীভাবেই নিয়োগ দিতে পারেন।

এ বিষয়ে ডা. কবীর বলেন, চেয়ারম্যান চাইলে নিয়মিত প্রক্রিয়ায় সাক্ষাৎকারসহ অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে স্থায়ী নিয়োগ দিতে পারতেন। সেখানে কোনো সমস্যা ছিল না। কিন্তু, কেন করেননি তা বলতে পারছি না।

পরে সোসাইটির বর্তমান চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আব্দুস সালামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে একাধিকবার মোবাইল নম্বরে কল করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত