স্ট্রিম সংবাদদাতা

সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় প্রধান আসামি সাইফুর রহমানের মৃত্যুদণ্ড ও তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এই রায় ঘোষণা করেন।
সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবুল হোসেন জানান, রায়ে মামলার প্রধান আসামি সাইফুর রহমানকে (২৮) মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে মাহবুবুর রহমান রনি (২৫), তারেকুল ইসলাম তারেক (২৮) ও অর্জুন লস্করকে (২৬)। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত তিনজনকে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন রবিউল ইসলাম (২৫), মাহফুজুর রহমান মাসুম (২৫), আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল (২৬) ও মিজবাউল ইসলাম রাজন (২৭)। দণ্ড ও খালাসপ্রাপ্ত সবাই নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক কর্মী।
রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসামিপক্ষের আইনজীবী শাহ মোশাহিদ আলী বলেন, ‘এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে কেউ সাক্ষ্য দেয়নি। ভিকটিমও আসামিদের শনাক্ত করেনি। অপরাধ প্রমাণ না হওয়া সত্ত্বেও কয়েকজনকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। আমরা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাব।’
এর আগে সকালে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে আট আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় তারা সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, তারা ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত নন, রাজনৈতিক কারণে তাদের আসামি করা হয়েছে। তাদের দাবি, ভুক্তভোগীও তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনেননি।
মামলার নথিপত্র থেকে জানা যায়, ২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে স্বামীর সঙ্গে সিলেটের এমসি কলেজে বেড়াতে গিয়েছিলেন এক গৃহবধূ। তাকে ক্যাম্পাস থেকে তুলে ছাত্রাবাসে নিয়ে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বামী শাহপরান থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং দুজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।
ঘটনাটি দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে। প্রতিবাদে সরব হয় বিভিন্ন সামাজিক, স্বেচ্ছাসেবী ও অধিকার সংগঠন। ঘটনার পর আসামিরা পালিয়ে গেলেও তিন দিনের মধ্যে পুলিশ ও র্যাব অভিযান চালিয়ে ছয় আসামি ও সন্দেহভাজন দুজনকে গ্রেপ্তার করে।
মামলার নথি থেকে আরও জানা যায়, ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার আট আসামিকে পাঁচ দিন করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। পরে তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। প্রধান আসামি সাইফুর রহমান, তারেকুল ইসলাম তারেক, শাহ মাহবুবুর রহমান রনি এবং অর্জুন লস্কর ধর্ষণের বিষয়টি স্বীকার করেন।
এ ছাড়া রবিউল ও মাহফুজুর ধর্ষণে সহায়তার কথা স্বীকার করেন। সন্দেহভাজন দুই আসামিও জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে আসামিদের ডিএনএ নমুনা পরীক্ষায় আটজন আসামির মধ্যে ছয়জনের ডিএনএর মিল পাওয়া যায়।
ঘটনার মাত্র দুই মাস আট দিন পর ২০২০ সালের ৩ ডিসেম্বর আটজনের বিরুদ্ধে ১৭ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মহানগর পুলিশের শাহপরাণ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য। পরে মামলাটি নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনাল থেকে গত বছরের মে মাসে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর হয়ে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়।
মামলায় ২৪ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাদের মধ্যে গৃহবধূ, তার স্বামী, আসামিদের স্বীকারোক্তি নেওয়া ম্যাজিস্ট্রেট, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, এমসি কলেজের অধ্যাপক ও ওসমানী হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক রয়েছেন।
এ ছাড়া ঘটনার রাতে ছাত্রাবাসে সাইফুর রহমানের কক্ষ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে আলাদা মামলা হয়। পরে শাহ মো. মাহবুবুর রহমান রনিকে ওই মামলায় আসামি করা হয়। আর ভুক্তভোগী নারীর স্বামীর কাছে চাঁদা দাবি ও গাড়ি ছিনতাইয়ের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে আরেকটি মামলা করে।
২০২১ সালের ১৭ জানুয়ারি অপহরণ ও ধর্ষণ মামলায় অভিযোগ গঠন করে আসামিদের বিচার শুরুর আদেশ দেয় সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। পরে দুটি মামলার বিচারকাজ একই আদালতে করার নির্দেশনা চেয়ে উচ্চ আদালতে আবেদন করে বাদীপক্ষ।

সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় প্রধান আসামি সাইফুর রহমানের মৃত্যুদণ্ড ও তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এই রায় ঘোষণা করেন।
সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবুল হোসেন জানান, রায়ে মামলার প্রধান আসামি সাইফুর রহমানকে (২৮) মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে মাহবুবুর রহমান রনি (২৫), তারেকুল ইসলাম তারেক (২৮) ও অর্জুন লস্করকে (২৬)। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত তিনজনকে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন রবিউল ইসলাম (২৫), মাহফুজুর রহমান মাসুম (২৫), আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল (২৬) ও মিজবাউল ইসলাম রাজন (২৭)। দণ্ড ও খালাসপ্রাপ্ত সবাই নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক কর্মী।
রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসামিপক্ষের আইনজীবী শাহ মোশাহিদ আলী বলেন, ‘এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে কেউ সাক্ষ্য দেয়নি। ভিকটিমও আসামিদের শনাক্ত করেনি। অপরাধ প্রমাণ না হওয়া সত্ত্বেও কয়েকজনকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। আমরা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাব।’
এর আগে সকালে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে আট আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় তারা সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, তারা ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত নন, রাজনৈতিক কারণে তাদের আসামি করা হয়েছে। তাদের দাবি, ভুক্তভোগীও তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনেননি।
মামলার নথিপত্র থেকে জানা যায়, ২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে স্বামীর সঙ্গে সিলেটের এমসি কলেজে বেড়াতে গিয়েছিলেন এক গৃহবধূ। তাকে ক্যাম্পাস থেকে তুলে ছাত্রাবাসে নিয়ে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বামী শাহপরান থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং দুজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।
ঘটনাটি দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে। প্রতিবাদে সরব হয় বিভিন্ন সামাজিক, স্বেচ্ছাসেবী ও অধিকার সংগঠন। ঘটনার পর আসামিরা পালিয়ে গেলেও তিন দিনের মধ্যে পুলিশ ও র্যাব অভিযান চালিয়ে ছয় আসামি ও সন্দেহভাজন দুজনকে গ্রেপ্তার করে।
মামলার নথি থেকে আরও জানা যায়, ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার আট আসামিকে পাঁচ দিন করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। পরে তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। প্রধান আসামি সাইফুর রহমান, তারেকুল ইসলাম তারেক, শাহ মাহবুবুর রহমান রনি এবং অর্জুন লস্কর ধর্ষণের বিষয়টি স্বীকার করেন।
এ ছাড়া রবিউল ও মাহফুজুর ধর্ষণে সহায়তার কথা স্বীকার করেন। সন্দেহভাজন দুই আসামিও জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে আসামিদের ডিএনএ নমুনা পরীক্ষায় আটজন আসামির মধ্যে ছয়জনের ডিএনএর মিল পাওয়া যায়।
ঘটনার মাত্র দুই মাস আট দিন পর ২০২০ সালের ৩ ডিসেম্বর আটজনের বিরুদ্ধে ১৭ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মহানগর পুলিশের শাহপরাণ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য। পরে মামলাটি নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনাল থেকে গত বছরের মে মাসে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর হয়ে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়।
মামলায় ২৪ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাদের মধ্যে গৃহবধূ, তার স্বামী, আসামিদের স্বীকারোক্তি নেওয়া ম্যাজিস্ট্রেট, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, এমসি কলেজের অধ্যাপক ও ওসমানী হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক রয়েছেন।
এ ছাড়া ঘটনার রাতে ছাত্রাবাসে সাইফুর রহমানের কক্ষ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে আলাদা মামলা হয়। পরে শাহ মো. মাহবুবুর রহমান রনিকে ওই মামলায় আসামি করা হয়। আর ভুক্তভোগী নারীর স্বামীর কাছে চাঁদা দাবি ও গাড়ি ছিনতাইয়ের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে আরেকটি মামলা করে।
২০২১ সালের ১৭ জানুয়ারি অপহরণ ও ধর্ষণ মামলায় অভিযোগ গঠন করে আসামিদের বিচার শুরুর আদেশ দেয় সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। পরে দুটি মামলার বিচারকাজ একই আদালতে করার নির্দেশনা চেয়ে উচ্চ আদালতে আবেদন করে বাদীপক্ষ।
.png)

সিলেটের বিয়ানীবাজারের নৌকাবাইচ অবশেষে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার লাউতা ইউনিয়নের সোনাই নদীর এই প্রতিযোগিতায় স্মরণকালের সবচেয়ে বেশি মানুষ উপস্থিত হয়েছেন, দাবি আয়োজকদের। এর আগে ‘তৌহিদী জনতার’ ব্যানারে আপত্তি জানালে সোনাই নদীর ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।
২৮ মিনিট আগে
সুনামগঞ্জে যাদুকাটা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু তোলা থামছেই না। রাত নামলেই নদীর তীরে এবং পার্শ্ববর্তী ভিটেয় ড্রেজার বসিয়ে যত্রতত্র তোলা হচ্ছে বালু। এতে নদী ভাঙন বেড়ে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি, ঘর থেকে শুরু করে সড়কও। সম্প্রতি জেলার তাহিরপুর উপজেলার কয়েকটি গ্রামে যাদুকাটার ভাঙন তীব্র হয়েছে।
১ ঘণ্টা আগে
ঢাবিসহ দেশের সাতটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষে ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে।
১ ঘণ্টা আগে
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশিদের জন্য খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। শুরুতে ১০ হাজার কর্মীকে সম্পূর্ণ বিনা খরচে নেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সম্মতি দিয়েছে দেশটি। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিককর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
১ ঘণ্টা আগে