কোকাকোলা-নেসলের আপত্তি উপেক্ষা

প্রক্রিয়াজাত খাদ্য-পানীয়র মোড়কে ‘রেড লেবেল’ দিচ্ছে ভারত

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২৮ আগস্ট ২০২৬, ২১: ৩০
কোলাজ ছবিটির বামে ভারতের মুম্বাইয়ের একটি 'ম্যাগি মাসালা ২-মিনিট নুডলস'-এর একটি প্যাকেট এবং ডানে লন্ডনের একটি অফিসে নেওয়া নেসলের 'ম্যাগি মসলা ২-মিনিট নুডলস'-এর আরেকটি প্যাকেট। লন্ডনের ম্যাগির প্যাকেটের সামনে উচ্চমাত্রার লবণের ব্যাপারে সতর্কবার্তা আছে। ছবি: সংগৃহীত।
কোলাজ ছবিটির বামে ভারতের মুম্বাইয়ের একটি 'ম্যাগি মাসালা ২-মিনিট নুডলস'-এর একটি প্যাকেট এবং ডানে লন্ডনের একটি অফিসে নেওয়া নেসলের 'ম্যাগি মসলা ২-মিনিট নুডলস'-এর আরেকটি প্যাকেট। লন্ডনের ম্যাগির প্যাকেটের সামনে উচ্চমাত্রার লবণের ব্যাপারে সতর্কবার্তা আছে। ছবি: সংগৃহীত।

অবশেষে প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যের মোড়ক ও পানীয়র বোতলের সামনের অংশে স্বাস্থ্যসতর্কতার লেবেল রাখার প্রস্তাব দিতে বাধ্য হলো ভারতের ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি (এফএসএসএআই)।

অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবার-পানীয়র স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে নাগরিক উদ্বেগ চরমে পৌঁছানোর পর ভারতের সুপ্রিম কোর্টের কাছে এই প্রস্তাব তুলে ধরেছে এফএসএসএআই। আদালতে জমা হওয়া নথি দেখে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যেসব খাদ্য ও পানীয়তে চর্বি (ফ্যাট), চিনি, লবণের মতো উপাদান বেশি উচ্চমাত্রায় থাকে সেসব খাদ্যপণ্যের প্যাকেটে লাল রঙের ষড়ভুজাকৃতি (হেক্সাগন) সতর্কতামূলক চিহ্ন ব্যবহারের প্রস্তাব করেছে ভারতের খাদ্যমান নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

ভারতে স্থূলতা, টাইপ-২ ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগের মতো অসংক্রামক ব্যাধি আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। দেশটির স্বাস্থখাতের বিশেষজ্ঞরা প্যাকেটজাত খাবারে মাত্রাতিরিক্ত লবন (সোডিয়াম), চিনি এবং স্যাচুরেটেড ফ্যাটের ব্যবহারই এই সংকটের অন্যতম কারণ।

ভারতে দীর্ঘদিনের অভিযোগ ম্যাগি, কোকাকোলা, পেপসির মতো জনপ্রিয় খাদ্য ও পানীয়তে অতিরিক্ত লবণ, চিনি রয়েছে।

ভারতের শীর্ষস্থানীয় ভোক্তা অধিকার সংস্থা কনজিউমার ভয়েস এবং বিভিন্ন পাবলিক হেলথ অ্যালায়েন্স দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানাচ্ছিল, এমন পণ্যগুলোর মোড়কে ইউরোপ এবং চিলি, মেক্সিকোর মতো ‘ওয়ার্নিং লেবেল’ বা স্পষ্ট লাল রঙের সতর্কতামূলক চিহ্ন দিতে হবে। যাতে সাধারণ মানুষ দেখলেই বোঝেন পণ্যটিতে অতিরিক্ত চিনি, ফ্যাট কিংবা লবণ আছে।

এসব দাবি বিবেচনায় ভারতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার কয়েক বছর ধরেই প্যাকেটজাত খাবারে একধরনের সতর্কতামূলক লেবেল চালুর চেষ্টা করছিল। কিন্তু চলতি বছরের মার্চ মাসে কোকা-কোলা, নেসলে, পেপসিকোর মতো বহুজাতিক খাদ্য প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ও তাদের ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো কঠোর আপত্তি জানালে সরকার সেই প্রস্তাব বাতিল করতে বাধ্য হয়।

এ নিয়ে গত সপ্তাহে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে রয়টার্স। এরপর ভারতের সাধারণ নাগরিক, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রবল সমালোচনা শুরু হয়।

বিষয়টি সর্বোচ্চ আদালতের নজরে আনে কেরালাভিত্তিক বেসরকারি সংস্থা থ্রিসি অ্যান্ড আওয়ার হেলথ সোসাইটি। তাদের করা জনস্বার্থ মামলায় এফএসএসএআইকে ডাকে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত।

শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট বিষয়টিকে নাগরিকদের ‘জীবনের অধিকার’-এর অংশ হিসেবে দেখেন। আদালত এফএসএসএআইকে তীব্র ভর্ৎসনা করে জানতে চান- বহুজাতিক সংস্থাগুলোর স্বার্থ না দেখে কেন জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অবিলম্বে সতর্কতামূলক লেবেল বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে না?

ফলে তীব্র অসন্তোষ ও সমালোচনার মুখে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি অবশেষে সতর্কতামূলক লেবেলিং করতে প্রস্তাব জমা দিতে বাধ্য হলো।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত