বাধা পেরিয়ে সোনাই নদীতে নৌকাবাইচ, দর্শনার্থীর ঢল

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
সিলেট

প্রকাশ : ২৮ আগস্ট ২০২৬, ২২: ২১
সিলেট বিয়ানীবাজারের সোনাই নদীর নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা দেখতে ভিড় করেন দর্শনার্থীরা। ছবি: সংগৃহীত
সিলেট বিয়ানীবাজারের সোনাই নদীর নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা দেখতে ভিড় করেন দর্শনার্থীরা। ছবি: সংগৃহীত

সিলেটের বিয়ানীবাজারের নৌকাবাইচ অবশেষে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার লাউতা ইউনিয়নের সোনাই নদীর এই প্রতিযোগিতায় স্মরণকালের সবচেয়ে বেশি মানুষ উপস্থিত হয়েছেন, দাবি আয়োজকদের।

এর আগে ‘তৌহিদী জনতার’ ব্যানারে আপত্তি জানালে সোনাই নদীর ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। তবে আলোচনা-সমালোচনার মুখে স্থানীয় প্রশাসন শর্ত মেনে আয়োজনের অনুমতি দেয়।

নৌকাবাইচ ঘিরে শুক্রবার দুপুরের পর থেকে নদীর দুই তীরে জড়ো হতে থাকে মানুষ। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে ভিড়। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বিয়ানীবাজার থানা পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নদীর তীরবর্তী এলাকায় মোতায়েন করা হয়।

বিকেলে নানা রঙে সাজানো নৌকা নিয়ে শুরু হয় প্রতিযোগিতা। এতে ‘স্বাধীন বাংলা’, ‘বাঘ’ ও ‘পাগলা নাও’সহ বিভিন্ন নামের নৌকা অংশ নেয়। মাঝিমাল্লাদের গাওয়া ‘কোন মেস্তরি নাও বানাইছে’, ‘নাও ছাড়িয়া দে, পাল উড়াইয়া দে’সহ নানা গান এবং স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে নদীর পাড়।

নৌকাবাইচ আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বলেন, নানা বাধা-বিপত্তি সত্ত্বেও বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা হয়েছে। তাঁর দাবি, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার সবচেয়ে বেশি মানুষ প্রতিযোগিতা দেখতে এসেছেন।

আগামী বছর নৌকাবাইচ হবে কিনা– প্রশ্নে আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘পরের বছরের কথা পরে জানা যাবে। স্থানীয় জনগণই এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।’

প্রতিযোগিতা শেষে সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী সন্ধ্যায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, নৌকাবাইচ গ্রামবাংলার ঐতিহ্য। এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে হবে। এই ধরনের নৌকাবাইচ ধর্মবিরোধী কোনো কাজ নয়। প্রতিবছর ঐক্যবদ্ধভাবে নৌকাবাইচ আয়োজন ও উপভোগ করা হবে।

এমরান আহমদ আরও বলেন, শুকনা মৌসুমে এলাকার ভাঙা রাস্তাগুলোর কাজ করা হবে। নদীভাঙন ঠেকাতেও একটি প্রকল্প জমা দেওয়া হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, এই বছর সেটির কাজ শুরু হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাবিবা মজুমদার। বক্তব‌্য দেন উপজেলা বিএন‌পির সভাপ‌তি আহমেদ রেজা।

নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা ঘোষণার পর ‘তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে একটি পক্ষ ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে এটি বাতিলের দাবি জানায়। পরে বারিগ্রাম বাজার মসজিদে ‘তৌহিদী জনতা লাউতা ইউনিয়ন’ ব্যানারে সভা করেও একই দাবি জানানো হয়।

এ নিয়ে গত ২২ আগস্ট স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে দুই পক্ষকে নিয়ে বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে লাউতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলওয়ার হোসেন বলেন, এবার নির্ধারিত সময়ে নৌকাবাইচ হবে। তবে পরবর্তী বছর থেকে সোনাই নদীতে আর এই আয়োজন না করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

আয়োজক কমিটি সূত্র জানায়, তিনটি নৌকা নিয়ে তিন ধাপে প্রতিযোগিতার পরিকল্পনা ছিল। লটারির মাধ্যমে প্রথমে দুটি নৌকা প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার কথা। প্রথম রাউন্ডের বিজয়ী সরাসরি ফাইনালে যাওয়ার কথা। এরপর দ্বিতীয় রাউন্ডে লটারিতে নির্বাচিত নৌকা ও প্রথম রাউন্ডে হেরে যাওয়া নৌকার মধ্যে প্রতিযোগিতা হওয়ার কথা। ওই রাউন্ডের বিজয়ী ফাইনালে অংশ নেবে।

নৌকাবাইচের শেষ পর্বে গোলাপগঞ্জের কালীজুরির ‘পাগলা নাও’ ও হাকালুকির ‘বাঘ নাও’ অংশ নেয়। অন্ধকার নেমে এলে ফাইনালের বাইচ হয়নি।

আয়োজক কমিটির সঙ্গে থাকা বিয়ানীবাজারের মোল্লাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমএ মান্নান বলেন, ফাইনালের সিদ্ধান্ত এখনো মীমাংসা হয়নি। পরে বৈঠক করে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত