leadT1ad

সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ ধরা জঘন্য অপরাধ: বন প্রতিমন্ত্রী

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১৭ জুন ২০২৬, ২০: ৩৬
সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ ধরা হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

এক সময় সুন্দরবনের প্রধান সংকট ছিল নির্বিচারে গাছ নিধন। এখন বেড়েছে খালে বিষ দিয়ে মাছ ধরার ধ্বংসাত্মক প্রবণতা। এটি জঘন্য অপরাধ বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।

বুধবার (১৭ জুন) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বন ভবনের হৈমন্তী অডিটোরিয়ামে ‘সুন্দরবন সমন্বিত সম্পদ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা (২০২৬–২০৩৫)’ চূড়ান্তকরণবিষয়ক জাতীয় কর্মশালায় এসব কথা বলেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় এত বিষ কীভাবে বিক্রি হচ্ছে, এগুলো কী কাজে ব্যবহার হচ্ছে; তা নিয়ে ইতোমধ্যে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

মাঠপর্যায়ে বনরক্ষী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের ধরন নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, অনেক সময় সস্তা বাহবা নেওয়ার জন্য বনরক্ষী বা পুলিশ সাধারণ ও গরিব জেলেদের কয়েকটা মাছসহ ধরে জরিমানা করেন। কিন্তু এর পেছনে যারা হোতা বা গডফাদার, তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। সাধারণ জেলেদের হয়রানি না করে ওই গডফাদারদের আইনের আওতায় আনতে হবে।

তবে বিষ প্রয়োগকারীদের ধরতে লজিস্টিক সাপোর্টের ঘাটতির কথাও স্বীকার করেন শেখ ফরিদুল। তিনি জানান, হঠাৎ করে কোনো পয়েন্টে বিষ প্রয়োগের খবর পেলে সেখানে দ্রুত পৌঁছানোর জন্য বন বিভাগ, নৌ পুলিশ ও কোস্টগার্ডের পর্যাপ্ত স্পিডবোট বা জলযান নেই। দ্রুত এই সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি লজিস্টিক সাপোর্ট বাড়ানোর আশ্বাস দেন তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে প্রধান বনসংরক্ষক আমীর হোসাইন চৌধুরী বলেন, সুন্দরবনে এখন গাছ চুরির ঘটনা নেই বললেই চলে। কিন্তু নতুন হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে বিষ দিয়ে মাছ ধরা, হরিণ শিকার ও মিঠাপানির অভাব। এর মধ্যে বিষ দিয়ে মাছ ধরার কারণে সুন্দরবনের জলজ ইকোসিস্টেম সবচেয়ে বড় হুমকির মুখে পড়েছে।

তিনি বলেন, সাধারণ জেলেরা স্বেচ্ছায় এই কাজ করেন না। সুন্দরবনের বাইরের বিভিন্ন উপজেলার ‘ডিপো মালিকরা’ জেলেদের দাদন বা ঋণ দিয়ে থাকেন। অল্প সময়ে বেশি মাছ ধরে এই ঋণ পরিশোধের জন্য ডিপো মালিকরাই জেলেদের বিষ প্রয়োগে বাধ্য করেন। এই গডফাদারদের চক্র ভাঙতে না পারলে বিষ প্রয়োগ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব নয়।

কর্মশালায় বন অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি ও গবেষকরা উপস্থিত ছিলেন।

Ad 300x250

সম্পর্কিত