ঈদযাত্রা

দুপুরের পর গাবতলীতে ঘরমুখো মানুষের ভিড়

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ২৪ মে ২০২৬, ১৬: ২৩
ঈদে বাড়ি যেতে গাবতলী টার্মিনালে এসে অনেকেই টিকিট কাটতে ভিড় করছেন। স্ট্রিম ছবি

পদ্মাসেতু হওয়ার পর অনেকটাই জৌলুস হারিয়েছে রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনাল। তবে ঈদের মতো উপলক্ষে এখনও অনেকে এই টার্মিনাল হয়ে বাড়ি ফেরেন। সেই হিসাবে রোববার (২৪ মে) দুপুরের পর গাবতলীতে দেখা গেছে যাত্রীদের ভিড়।

পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানান, ঈদুল আজহার ছুটি শুরু হচ্ছে আগামীকাল সোমবার। অনেকেই রোববার আধাবেলা অফিস করে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। তারা দুপুরের পর টার্মিনালে আসা শুরু করেছেন। সন্ধ্যা হতে হতে চাপ আরও বাড়বে।

তারা আরও জানান, পদ্মাসেতুর কারণে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যাত্রী কমলেও উত্তরবঙ্গের অনেক গাড়ি গাবতলী থেকে ছাড়ে। এ কারণে আশানুরূপ যাত্রীর আশায় করছেন তারা।

সরেজমিন দুপুর আড়াইটার দিকে দেখা যায়, অনেকেই টিকিট নিতে বাস কাউন্টারে ভিড় করছেন। কেউ আসছেন আগেই কাটা টিকিটে যাত্রা করতে।

ঝিনাইদহের যাত্রী রফিকুল ইসলাম স্ট্রিমকে বলেন, ‘সকালে বাড়ি যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে অফিসে গিয়েছি৷ আধা বেলা অফিস করে সরাসরি গাবতলী এলাম৷ এখন বাস পেলেই বাড়ির উদ্দেশে রওনা হবো।’

বাসের জন্য যাত্রীদের অপেক্ষা। স্ট্রিম ছবি
বাসের জন্য যাত্রীদের অপেক্ষা। স্ট্রিম ছবি

গৃহিণী রাবেয়া আক্তার যাবেন মাগুরা৷ তিনি জানান, স্বামীর অফিসের কারণে আজ যাচ্ছেন৷ নইলে আরও আগেই ঘরমুখো হতে তিনি৷

রাবেয়া বলেন, ‘গত রাত থেকে বাড়ি যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছি৷ বাড়িতে সবাই অপেক্ষা করে আছে৷ আজ বাসা থেকে আমি একাই বাস টার্মিনালে এসেছি৷ স্বামী অফিস শেষ করে এলেই রওনা হবো।’

চুয়াডাঙ্গা ডিলাক্সের কাউন্টার মাস্টার মোহাম্মদ রনি স্ট্রিমকে বলেন, সকালে ভিড় ছিল না৷ দুপুরের পরপর ভিড় বাড়তে শুরু করেছে৷ সন্ধ্যার পর্যন্ত এই চাপ আরও বাড়বে, থাকবে ঈদের আগের রাত পর্যন্ত।

সোহাগ পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার শাহনেওয়াজ স্ট্রিমকে বলেন, ঈদের টিকিট আগেই অনলাইনে ছাড়া হয়েছে। সব টিকিট বিক্রি শেষ৷ অনেকে পরিবারের সদস্যদের আগেই বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছেন। ওই হিসাবে গত বৃহস্পতিবার থেকেই ঈদযাত্রা শুরু হয়েছে।

এদিকে, বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ করেছেন কিছু যাত্রী৷ তারা বলেন, প্রতি ঈদের মতো এবারও বেশি ভাড়া নিচ্ছে কিছু পরিবহন৷

শিশির পরিবহনে নাটোর যাবেন রুদ্র ইসলাম৷ তিনি বলেন, এমনিতে নাটোরের ভাড়া নেয় ৬১০ টাকা৷ তবে ঈদ উপলক্ষে ৭০০ নিচ্ছে৷ তিনি আরও বলেন, এটা রাজশাহীর গাড়ি৷ রাজশাহীর ভাড়া ৭০০৷ তাদের কথা, যেখানেই যাই, ভাড়া রাজশাহীরই দিতে হবে৷

ঢাকা থেকে রাজবাড়ি হয়ে কুষ্টিয়াতে চলাচল করা সুবর্ণ পরিবহনও বেশি ভাড়া নিচ্ছে বলে অভিযোগ যাত্রীদের৷ এই বাসের যাত্রী মাহিদ হাসান স্ট্রিমকে বলেন, আমি রাজবাড়ি নামব৷ অন্যান্য সময় এই বাসে ৪০০ টাকায় যাই৷ আজ নিচ্ছে ৫২০ টাকা৷

তিনি আরও বলেন, ঈদের এলেই কিছু পরিবহন ভাড়া বাড়িয়ে দেয়, এটা শক্ত হাতে দমন করা দরকার৷ নইলে আমাদের মতো যাত্রীদের ভোগান্তি কখনও শেষ হবে না৷

সম্পর্কিত