চট্টগ্রাম বন্দরের পিসিটি

মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানি, কাস্টমসের কায়িক পরীক্ষায় ধরা

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
চট্টগ্রাম

প্রকাশ : ০৪ আগস্ট ২০২৬, ২১: ২৬
চট্টগ্রাম কাস্টমস। সংগৃহীত ছবি

মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করা হচ্ছিল বিপুল পরিমাণ পণ্য। পণ্যের বিবরণে ভিন্নতা তো ছিলই, লুকানো হয়েছিল ওজনও। তবে চট্টগ্রাম বন্দরের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালের (পিসিটি) শেডে চালানটির কায়িক পরীক্ষা চালিয়ে বিষয়টি ধরতে পেরেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর চট্টগ্রাম।

কাস্টমস গোয়েন্দা সূত্র জানায়, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান সুলতানা করপোরেশন গত ৮ জুলাই চালানটি খালাসের জন্য আবেদন করে। এলসিএল পদ্ধতিতে (কনটেইনার লোডের চেয়ে কম পরিমাণের) চালানটি আমদানি করা হয়েছিল। কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়া নথিতে চালানের ওজন ২ হাজার ৮২৭ কেজি এবং পণ্যের বিবরণ হিসেবে ‘শো-পিস’ উল্লেখ করা হয়েছিল।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের একটি দল চট্টগ্রাম বন্দরের পিসিটি শেডে চালানটির কায়িক পরীক্ষা চালায়। এতে আমদানিকারকের ঘোষিত ওজন ও বিবরণ অনুযায়ী পণ্য পাওয়া যায়নি। এর পরিবর্তে সেখানে বিপুল পরিমাণ ঘোষণা-বহির্ভূত পণ্য উদ্ধার করা হয়।

কায়িক পরীক্ষায় দেখা যায়, উদ্ধার করা ঘোষণা-বহির্ভূত পণ্যগুলোর মধ্যে আছে গ্লাস মার্বেল (৪ হাজার ৭০০ কেজি), হটপট (২৯৫ কেজি), পায়ের মোজা (১৩০ কেজি), বোতল (৩৭২ কেজি), চামচ (২৮ কেজি), ফিডিং ভেস্ট (১৭ কেজি) ও মোবাইল স্ক্রিন (৫৮৮ কেজি)। এ ছাড়া চালানটিতে আমদানিকারকের ঘোষিত ওজনের চেয়ে ৩ হাজার ৩০৩ কেজি বা ১১৬ দশমিক ৮৩ শতাংশ বেশি পণ্য পাওয়া গেছে।

ঘোষণা-বহির্ভূত পণ্য আমদানির মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা করায় চালানটির বিষয়ে এরই মধ্যে বিচারাদেশ জারি করা হয়েছে। এতে অতিরিক্ত শুল্ককর বাবদ ২৩ লাখ ৭২ হাজার ৬০৬ টাকা, অর্থদণ্ড বাবদ ৪০ লাখ টাকা এবং বিমোচন জরিমানা বাবদ ৮ লাখ টাকাসহ সর্বমোট ৭১ লাখ ৭২ হাজার ৬০৬ টাকা অতিরিক্ত প্রদেয় ধার্য করা হয়েছে।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর চট্টগ্রাম জানিয়েছে, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানটি এখন পর্যন্ত তাদের ওপর আরোপিত শুল্ক ও জরিমানার অর্থ পরিশোধ করেনি।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত