স্ট্রিম প্রতিবেদক

রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে ঘরমুখো মানুষের ঢল নেমেছে। তবে অনলাইনে টিকিট সংগ্রহে ভোগান্তি, আসন সংকট এবং কালোবাজারির অভিযোগ তুলেছেন অনেক যাত্রী। যদিও কেউ কেউ নির্বিঘ্ন যাত্রার কথাও জানিয়েছেন।
সোমবার (২৫ মে) থেকে শুরু হয়েছে কোরবানির ঈদের ছুটি। দূরপাল্লার বিভিন্ন ট্রেনে যাত্রীরা রাজধানী ঢাকা থেকে নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে ফিরতে স্টেশনে ভিড় করছেন।
কমলাপুর রেলস্টেশন ঘুরে দেখা যায়, পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকেই নির্ধারিত সময়ের কয়েক ঘণ্টা আগেই স্টেশনে এসে অপেক্ষা করছেন। প্ল্যাটফর্ম ও অপেক্ষমাণ কক্ষে ছিল উপচে পড়া ভিড়। দুপুরে বৃষ্টির সময়ও অনেক যাত্রী আসছিলেন।
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পোশাককর্মী হানজালা রাজশাহী কমিউটার ট্রেনে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় যাচ্ছিলেন। তিনি বলেন, 'স্টেশনে এসেই টিকিট কেটেছি, কোনো সমস্যা হয়নি। আনন্দের সঙ্গেই বাড়ি যাচ্ছি, যাত্রা ভালো লাগছে।' তবে আসন সংকট থাকায় তিনি বসে যাওয়ার টিকিট পাননি। তাঁকে যেতে হচ্ছে দাঁড়িয়ে।

ঢাকার একটি হাইস্কুলের শিক্ষক ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের যাত্রী শামীমা ইসলাম মৌ বলেন, 'কয়েক দিন আগে তিনি নিজে অনলাইনে টিকিট কাটতে গিয়ে টিকিট পাননি। প্রতিদিন অনলাইনে টিকিট ছাড়া মাত্রই কয়েক মিনিটের মধ্যেই শেষ হয়ে যায়। পরে পরিচিত একজনকে দিয়ে টিকিট সংগ্রহ করিয়েছেন।' তিনি বনলতা এক্সপ্রেসে বাড়ি যাচ্ছিলেন।
ডুয়েটের শিক্ষার্থী তুহিন চিত্রা এক্সপ্রেসে ঈশ্বরদী যাচ্ছিলেন। অনলাইনে টিকিট পেতে বিড়ম্বনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, 'বারবার শুধু "নট অ্যাভেইলেবল" দেখায়। বহুবার চেষ্টা করার পর টিকিট পেয়েছি।'
তবে অভিযোগ আরও গুরুতর করেছেন গুলশানের একটি মসজিদের খাদেম ও কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক কামরুল ইসলাম। তিনি বলেন, 'ঈদের ১০ দিন আগে থেকেও চেষ্টা করে সিল্কসিটি এক্সপ্রেসের টিকিট পাইনি। পরে পরিচিত একজনের টিকিটে যাচ্ছি। ওই পরিচিত ব্যক্তি আজ ২৫ মে যাওয়ার জন্য টিকিট কেটেছিলেন। কিন্তু তাঁর আগে অফিস ছুটি হয়ে যাওয়ায় তিনি গতকাল চলে গেছেন। আমি আজ যাচ্ছি।'
তিনি আরও বলেন, পুরো পথে বসে যাওয়ার টিকিট তিনি পাননি। উল্লাপাড়া পর্যন্ত যাবেন দাঁড়িয়ে। কমলাপুরে এসে দাঁড়িয়ে যাওয়ার টিকিট কেটেছেন। এরপর ওই পরিচিত ব্যক্তির টিকিট দিয়ে উল্লাপাড়া থেকে বসে যেতে পারবেন। পরিচিত জন উল্লাপাড়া থেকে বসে যাওয়ার টিকিট পেয়েছিলেন অনলাইনে। তিনিও এভাবেই অর্ধেক পথ দাঁড়িয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু ২৪ তারিখ তিনি বসে যাওয়ার কোনো টিকিট পাননি; পুরো পথ দাঁড়িয়ে যেতে হয়েছে তাঁকে।

কামরুল ইসলামের অভিযোগ, ফেসবুকে কালোবাজারে টিকিট বিক্রি হচ্ছে। এর সঙ্গে স্টেশনমাস্টাররাও জড়িত। ঢাকার বাইরের এক স্টেশনমাস্টার অতিরিক্ত টাকার বিনিময়ে তাঁকে টিকিট দেওয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু তিনি আর সেই টিকিট নেননি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, কাউন্টারেও টিকিট বিক্রিতে বৈষম্য করা হয়। অতিরিক্ত টাকার বিনিময়ে বা পরিচিতজনদের দিয়ে যোগাযোগের মাধ্যমে বসে যাওয়ার টিকিট দেওয়া হয়। কিন্তু যারা কাউন্টারে এসে লাইন ধরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে টিকিট কাটেন, তাঁরা সবাই বসে যাওয়ার টিকিট পান না।
ব্রহ্মণবাড়িয়ার এক প্রবীণ যাত্রী আবুল কাশেম অভিযোগ করেন, কাউন্টার থেকে তাঁকে বসার টিকিটের কথা বলে দাঁড়ানোর টিকিট দেওয়া হয়েছে। তবে সাধারণ বগিতে দাঁড়ানো বা বসার টিকিটের দাম একই। তিনি চট্টলা এক্সপ্রেসে ব্রাহ্মণবাড়িয়া যাচ্ছেন।
একই জেলার সরকারি চাকরিজীবী নাদিম বলেন, 'অনলাইনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার টিকিট পাওয়া কঠিন। পরে অতিরিক্ত বগির টিকিট ছাড়ার পর টিকিট পেয়েছি। তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার টিকিট পাইনি। তাই চট্টগ্রাম পর্যন্ত পুরো পথের টিকিট কাটতে হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ভাড়া ১৪৫ টাকা। কিন্তু চট্টগ্রাম পর্যন্ত টিকিট কাটতে বাধ্য হওয়ায় পুরো পথের ভাড়া ৪৫০ টাকা করে দিতে হয়েছে।'
তিনি জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জন্য টিকিট বরাদ্দ কম থাকায় যাত্রীরা বাধ্য হয়ে দূরের গন্তব্যের টিকিট কাটছেন। তিনি বলেন, প্রতিটি ট্রেনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জন্য ৩০ থেকে ৩৫টি টিকিট বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু বাস্তবে অন্তত ২০০-২৫০টি টিকিটের চাহিদা থাকে। তাঁর আরও অভিযোগ, বসে যাওয়ার টিকিট পেলেও ভিড় বেশি হওয়ায় গাদাগাদি করেই যেতে হয়।
ভৈরবের সরকারি চাকরিজীবী মোকারামিন হোসাইন বলেন, 'আমিও ভৈরবের টিকিট পাইনি। তাই চট্টগ্রাম পর্যন্ত ৪৮৫ টাকার টিকিট কেটেছি। অথচ ভৈরবের ভাড়া ১০৫ টাকা।' তিনি অতিরিক্ত বগির টিকিট কেটেছেন। তিনি জানান, একটি ট্রেন ছাড়ার ১৪ ঘণ্টা আগে সেই ট্রেনের অতিরিক্ত বগির টিকিট ছাড়া হয়। অতিরিক্ত বগির টিকিটের জন্য অতিরিক্ত ২০ শতাংশ ভ্যাট দিতে হয়। তবুও অতিরিক্ত বগি সংযুক্ত করার উদ্যোগকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।

তাঁর ভাষ্য, 'সাধারণ টিকিট সহজে পাওয়া যায় না। দালালরা আগে নিয়ে নেয়। অতিরিক্ত বগির টিকিট কিছুটা সহজে পাওয়া যায়। এতে সরকারও রাজস্ব পায়, যাত্রীরাও উপকৃত হয়।' তিনি আরও বলেন, অনলাইনে একটি জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে চারটি টিকিট কেনা যায়। কিন্তু দালালরা একাধিক জাতীয় পরিচয়পত্র দেখিয়ে অনেক টিকিট কিনে মজুত করে ঈদের দু-এক দিন আগে দ্বিগুণ-তিন গুণ দামে বিক্রি করে। অনেক ক্ষেত্রে একই টিকিট একাধিক ব্যক্তির কাছেও বিক্রি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে রেলওয়ের পক্ষ থেকে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে অতিরিক্ত বগি সংযোজন ও বিশেষ ব্যবস্থার কথা বলা হলেও যাত্রীদের বড় একটি অংশ এখনো টিকিট সংগ্রহ ও যাত্রা নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। আর এই সুযোগটাই নিচ্ছেন কালোবাজারিরা।
তবে রেলওয়ে পুলিশের কমলাপুর কন্ট্রোল রুমের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জয়নাল আবেদিন বলেন, 'আমার স্টেশনে টিকিট কালোবাজারির কোনো সুযোগ নেই। আমরা কঠোরভাবে নজরদারি করছি। ইতিমধ্যেই আমরা চারজন কালোবাজারিকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছি। টহল জোরদার করা হয়েছে।'
তিনি আরও বলেন, 'কাউন্টার থেকে বসে যাওয়ার টিকিট নিয়ে স্বজনপ্রীতি বা দুর্নীতির অভিযোগটিও মনে হয় ঠিক নয়। কারণ বসে যাওয়ার টিকিট শেষ হলেই কেবল ট্রেন ছাড়ার দুই ঘণ্টা আগে দাঁড়িয়ে যাওয়ার টিকিট ছাড়া হয়। এ ছাড়া অনলাইনে কালোবাজারির বিষয়টি আমার এখতিয়ারের বাইরে। এই বিষয়গুলো নিয়ে আরও ভালো বলতে পারবেন বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (ডিসিও) এবং প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক (সিসিএম)।'
বাংলাদেশ রেলওয়ের ঢাকা বিভাগের বর্তমান বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (ডিসিও) মো. মহববতজান চৌধুরীকে দুপুরের পর তাঁর অফিসে গিয়ে পাওয়া যায়নি। এবং তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। আর বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের বর্তমান প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক (সিসিএম-পূর্ব) মো. আসাদুল হক এবং পশ্চিমাঞ্চলের বর্তমান প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক (সিসিএম-পশ্চিম) মো. হাবিবুর রহমানকেও তাঁদের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হয়। কিন্তু তাঁরাও কল রিসিভ করেননি। এ ছাড়া বাংলাদেশ রেলওয়ের ঢাকা বিভাগের বর্তমান বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) এ বি এম কামরুজ্জামানকেও ফোন করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি।

রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে ঘরমুখো মানুষের ঢল নেমেছে। তবে অনলাইনে টিকিট সংগ্রহে ভোগান্তি, আসন সংকট এবং কালোবাজারির অভিযোগ তুলেছেন অনেক যাত্রী। যদিও কেউ কেউ নির্বিঘ্ন যাত্রার কথাও জানিয়েছেন।
সোমবার (২৫ মে) থেকে শুরু হয়েছে কোরবানির ঈদের ছুটি। দূরপাল্লার বিভিন্ন ট্রেনে যাত্রীরা রাজধানী ঢাকা থেকে নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে ফিরতে স্টেশনে ভিড় করছেন।
কমলাপুর রেলস্টেশন ঘুরে দেখা যায়, পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকেই নির্ধারিত সময়ের কয়েক ঘণ্টা আগেই স্টেশনে এসে অপেক্ষা করছেন। প্ল্যাটফর্ম ও অপেক্ষমাণ কক্ষে ছিল উপচে পড়া ভিড়। দুপুরে বৃষ্টির সময়ও অনেক যাত্রী আসছিলেন।
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পোশাককর্মী হানজালা রাজশাহী কমিউটার ট্রেনে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় যাচ্ছিলেন। তিনি বলেন, 'স্টেশনে এসেই টিকিট কেটেছি, কোনো সমস্যা হয়নি। আনন্দের সঙ্গেই বাড়ি যাচ্ছি, যাত্রা ভালো লাগছে।' তবে আসন সংকট থাকায় তিনি বসে যাওয়ার টিকিট পাননি। তাঁকে যেতে হচ্ছে দাঁড়িয়ে।

ঢাকার একটি হাইস্কুলের শিক্ষক ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের যাত্রী শামীমা ইসলাম মৌ বলেন, 'কয়েক দিন আগে তিনি নিজে অনলাইনে টিকিট কাটতে গিয়ে টিকিট পাননি। প্রতিদিন অনলাইনে টিকিট ছাড়া মাত্রই কয়েক মিনিটের মধ্যেই শেষ হয়ে যায়। পরে পরিচিত একজনকে দিয়ে টিকিট সংগ্রহ করিয়েছেন।' তিনি বনলতা এক্সপ্রেসে বাড়ি যাচ্ছিলেন।
ডুয়েটের শিক্ষার্থী তুহিন চিত্রা এক্সপ্রেসে ঈশ্বরদী যাচ্ছিলেন। অনলাইনে টিকিট পেতে বিড়ম্বনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, 'বারবার শুধু "নট অ্যাভেইলেবল" দেখায়। বহুবার চেষ্টা করার পর টিকিট পেয়েছি।'
তবে অভিযোগ আরও গুরুতর করেছেন গুলশানের একটি মসজিদের খাদেম ও কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক কামরুল ইসলাম। তিনি বলেন, 'ঈদের ১০ দিন আগে থেকেও চেষ্টা করে সিল্কসিটি এক্সপ্রেসের টিকিট পাইনি। পরে পরিচিত একজনের টিকিটে যাচ্ছি। ওই পরিচিত ব্যক্তি আজ ২৫ মে যাওয়ার জন্য টিকিট কেটেছিলেন। কিন্তু তাঁর আগে অফিস ছুটি হয়ে যাওয়ায় তিনি গতকাল চলে গেছেন। আমি আজ যাচ্ছি।'
তিনি আরও বলেন, পুরো পথে বসে যাওয়ার টিকিট তিনি পাননি। উল্লাপাড়া পর্যন্ত যাবেন দাঁড়িয়ে। কমলাপুরে এসে দাঁড়িয়ে যাওয়ার টিকিট কেটেছেন। এরপর ওই পরিচিত ব্যক্তির টিকিট দিয়ে উল্লাপাড়া থেকে বসে যেতে পারবেন। পরিচিত জন উল্লাপাড়া থেকে বসে যাওয়ার টিকিট পেয়েছিলেন অনলাইনে। তিনিও এভাবেই অর্ধেক পথ দাঁড়িয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু ২৪ তারিখ তিনি বসে যাওয়ার কোনো টিকিট পাননি; পুরো পথ দাঁড়িয়ে যেতে হয়েছে তাঁকে।

কামরুল ইসলামের অভিযোগ, ফেসবুকে কালোবাজারে টিকিট বিক্রি হচ্ছে। এর সঙ্গে স্টেশনমাস্টাররাও জড়িত। ঢাকার বাইরের এক স্টেশনমাস্টার অতিরিক্ত টাকার বিনিময়ে তাঁকে টিকিট দেওয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু তিনি আর সেই টিকিট নেননি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, কাউন্টারেও টিকিট বিক্রিতে বৈষম্য করা হয়। অতিরিক্ত টাকার বিনিময়ে বা পরিচিতজনদের দিয়ে যোগাযোগের মাধ্যমে বসে যাওয়ার টিকিট দেওয়া হয়। কিন্তু যারা কাউন্টারে এসে লাইন ধরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে টিকিট কাটেন, তাঁরা সবাই বসে যাওয়ার টিকিট পান না।
ব্রহ্মণবাড়িয়ার এক প্রবীণ যাত্রী আবুল কাশেম অভিযোগ করেন, কাউন্টার থেকে তাঁকে বসার টিকিটের কথা বলে দাঁড়ানোর টিকিট দেওয়া হয়েছে। তবে সাধারণ বগিতে দাঁড়ানো বা বসার টিকিটের দাম একই। তিনি চট্টলা এক্সপ্রেসে ব্রাহ্মণবাড়িয়া যাচ্ছেন।
একই জেলার সরকারি চাকরিজীবী নাদিম বলেন, 'অনলাইনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার টিকিট পাওয়া কঠিন। পরে অতিরিক্ত বগির টিকিট ছাড়ার পর টিকিট পেয়েছি। তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার টিকিট পাইনি। তাই চট্টগ্রাম পর্যন্ত পুরো পথের টিকিট কাটতে হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ভাড়া ১৪৫ টাকা। কিন্তু চট্টগ্রাম পর্যন্ত টিকিট কাটতে বাধ্য হওয়ায় পুরো পথের ভাড়া ৪৫০ টাকা করে দিতে হয়েছে।'
তিনি জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জন্য টিকিট বরাদ্দ কম থাকায় যাত্রীরা বাধ্য হয়ে দূরের গন্তব্যের টিকিট কাটছেন। তিনি বলেন, প্রতিটি ট্রেনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জন্য ৩০ থেকে ৩৫টি টিকিট বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু বাস্তবে অন্তত ২০০-২৫০টি টিকিটের চাহিদা থাকে। তাঁর আরও অভিযোগ, বসে যাওয়ার টিকিট পেলেও ভিড় বেশি হওয়ায় গাদাগাদি করেই যেতে হয়।
ভৈরবের সরকারি চাকরিজীবী মোকারামিন হোসাইন বলেন, 'আমিও ভৈরবের টিকিট পাইনি। তাই চট্টগ্রাম পর্যন্ত ৪৮৫ টাকার টিকিট কেটেছি। অথচ ভৈরবের ভাড়া ১০৫ টাকা।' তিনি অতিরিক্ত বগির টিকিট কেটেছেন। তিনি জানান, একটি ট্রেন ছাড়ার ১৪ ঘণ্টা আগে সেই ট্রেনের অতিরিক্ত বগির টিকিট ছাড়া হয়। অতিরিক্ত বগির টিকিটের জন্য অতিরিক্ত ২০ শতাংশ ভ্যাট দিতে হয়। তবুও অতিরিক্ত বগি সংযুক্ত করার উদ্যোগকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।

তাঁর ভাষ্য, 'সাধারণ টিকিট সহজে পাওয়া যায় না। দালালরা আগে নিয়ে নেয়। অতিরিক্ত বগির টিকিট কিছুটা সহজে পাওয়া যায়। এতে সরকারও রাজস্ব পায়, যাত্রীরাও উপকৃত হয়।' তিনি আরও বলেন, অনলাইনে একটি জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে চারটি টিকিট কেনা যায়। কিন্তু দালালরা একাধিক জাতীয় পরিচয়পত্র দেখিয়ে অনেক টিকিট কিনে মজুত করে ঈদের দু-এক দিন আগে দ্বিগুণ-তিন গুণ দামে বিক্রি করে। অনেক ক্ষেত্রে একই টিকিট একাধিক ব্যক্তির কাছেও বিক্রি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে রেলওয়ের পক্ষ থেকে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে অতিরিক্ত বগি সংযোজন ও বিশেষ ব্যবস্থার কথা বলা হলেও যাত্রীদের বড় একটি অংশ এখনো টিকিট সংগ্রহ ও যাত্রা নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। আর এই সুযোগটাই নিচ্ছেন কালোবাজারিরা।
তবে রেলওয়ে পুলিশের কমলাপুর কন্ট্রোল রুমের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জয়নাল আবেদিন বলেন, 'আমার স্টেশনে টিকিট কালোবাজারির কোনো সুযোগ নেই। আমরা কঠোরভাবে নজরদারি করছি। ইতিমধ্যেই আমরা চারজন কালোবাজারিকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছি। টহল জোরদার করা হয়েছে।'
তিনি আরও বলেন, 'কাউন্টার থেকে বসে যাওয়ার টিকিট নিয়ে স্বজনপ্রীতি বা দুর্নীতির অভিযোগটিও মনে হয় ঠিক নয়। কারণ বসে যাওয়ার টিকিট শেষ হলেই কেবল ট্রেন ছাড়ার দুই ঘণ্টা আগে দাঁড়িয়ে যাওয়ার টিকিট ছাড়া হয়। এ ছাড়া অনলাইনে কালোবাজারির বিষয়টি আমার এখতিয়ারের বাইরে। এই বিষয়গুলো নিয়ে আরও ভালো বলতে পারবেন বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (ডিসিও) এবং প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক (সিসিএম)।'
বাংলাদেশ রেলওয়ের ঢাকা বিভাগের বর্তমান বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (ডিসিও) মো. মহববতজান চৌধুরীকে দুপুরের পর তাঁর অফিসে গিয়ে পাওয়া যায়নি। এবং তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। আর বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের বর্তমান প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক (সিসিএম-পূর্ব) মো. আসাদুল হক এবং পশ্চিমাঞ্চলের বর্তমান প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক (সিসিএম-পশ্চিম) মো. হাবিবুর রহমানকেও তাঁদের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হয়। কিন্তু তাঁরাও কল রিসিভ করেননি। এ ছাড়া বাংলাদেশ রেলওয়ের ঢাকা বিভাগের বর্তমান বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) এ বি এম কামরুজ্জামানকেও ফোন করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি।

অস্থায়ী ১০ ও একটি স্থায়ী হাটের আটটিই পেয়েছেন দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। বাকি তিনটির ইজারা ব্যবসায়ীদের নামে থাকলেও, নেপথ্যে থেকে নিয়ন্ত্রণ করছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারাই।
৯ মিনিট আগে
রাজধানীর মিরপুরের কালশি বস্তিতে ভয়াবহ আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১৩টি ইউনিট কাজ করছে। তবে পানির তীব্র সংকটে আগুন নেভাতে চরম বেগ পেতে হচ্ছে কর্মীদের।
১ ঘণ্টা আগে
রাজধানীর বাড্ডায় একটি চিপস কারখানা থেকে দুই শ্রমিকের দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (২৫ মে) ভোরে কারখানাটির ভেতর থেকে তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। আগুনে পুড়ে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
২ ঘণ্টা আগে
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় মা-মেয়েসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। সোমবার (২৫ মে) ঢাকা-পাবনা মহাসড়কে এই দুই দুর্ঘটনা ঘটে।
২ ঘণ্টা আগে