লেখা:

পারস্য উপসাগরজুড়ে যুদ্ধের দামামার সঙ্গে সঙ্গেই প্রথম ধাক্কা এসে লেগেছে তেলের বাজারে। তবে এর সুদূরপ্রসারী ধাক্কা হয়তো বিশ্বের আর্থিক ব্যবস্থার মূলে আঘাত হানবে। গত প্রায় পাঁচ দশক ধরে আন্তর্জাতিক আর্থিক শৃঙ্খলা বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যে মার্কিন ডলারের একচ্ছত্র আধিপত্যের অলিখিত চুক্তির ওপর টিকে আছে। ৭০-এর দশকের ভূ-রাজনৈতিক উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা এই ‘পেট্রোডলার’ ব্যবস্থা মার্কিন আর্থিক আধিপত্যকে বিশ্ব অর্থনীতির স্তম্ভে পরিণত করেছে।
তবে ইরানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত এই ব্যবস্থার ওপর অপ্রত্যাশিত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এর অর্থ এই নয় যে ডলারের পতন আসন্ন, বরং এই সংঘাত পতনের প্রক্রিয়াকে তরান্বিত করবে এ ব্যাপারে সন্দেহ নেই।
পেট্রোডলার-ব্যবস্থার উদ্ভব
১৯৭১ সালে যখন ‘ব্রেটন উডস’-ব্যবস্থা ভেঙে যায়, তখন থেকেই মূলত পেট্রোডলার-ব্যবস্থার সূত্রপাত ঘটে। ব্রেটন উডস ব্যবস্থায় মার্কিন ডলারের মান সরাসরি সোনার পরিমাণের ওপর নির্ভর করত—অর্থাৎ ডলার জমা দিলে বিনিময়ে সোনা পাওয়া যেত। কিন্তু ১৯৭১ সালে আমেরিকা ঘোষণা দেয়, তারা ডলারের বিনিময়ে আর সোনা দেবে না। ১৯৭৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র এবং সৌদি আরবের মধ্যে হওয়া যুগান্তকারী চুক্তিতে ঠিক করা হয়, সৌদি আরব তাদের উৎপাদিত সব তেল কেবল মার্কিন ডলারের বিনিময়েই বিক্রি করবে। যেহেতু তেল বিশ্বের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় জ্বালানি এবং সৌদি আরব ছিল তেলের বড় উৎস, তাই যেকোনো দেশকে তেল কিনতে হলে বাধ্যতামূলকভাবে ডলার সংগ্রহ করতে হতো। বিনিময়ে আমেরিকা সৌদি আরবকে সামরিক সুরক্ষা এবং আধুনিক মারণাস্ত্র দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। এই ব্যবস্থার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়।
চুক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল তেলের মুনাফা বা সারপ্লাস রেভিনিউ পুনরায় আমেরিকার বাজারেই বিনিয়োগ করা। সৌদি আরব তেল বিক্রি করে যে বিপুল পরিমাণ বাড়তি টাকা আয় করত, তা তারা আমেরিকার সরকারি বন্ড বা ‘ট্রেজারি সিকিউরিটিজ’-এ বিনিয়োগ করতে শুরু করে। এর ফলে সৌদি আরবের তেলের টাকা আবার আমেরিকার আর্থিক ব্যবস্থার মধ্যেই ফিরে আসত, যা মার্কিন ডলারকে আরও শক্তিশালী ভিত প্রদান করে। অন্যান্য তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোও দ্রুত এই পথ অনুসরণ করে।
এই ব্যবস্থা শক্তিশালী আর্থিক চক্র বা ‘ফিডব্যাক লুপ’ তৈরি করেছিল। বিশ্বের সবচেয়ে অপরিহার্য পণ্য তেল কাঠামোগতভাবে ডলারের সাথে জড়িয়ে পড়ে। জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলোর জন্য ডলারের রিজার্ভ রাখা অপরিহার্য হয়ে ওঠে, যা বিশ্ববাজারে ডলারের নিরবচ্ছিন্ন চাহিদা নিশ্চিত করে। অন্যদিকে, তেল রপ্তানিকারক দেশগুলো বিশাল ডলার উদ্বৃত্ত জমা করে যা পুনরায় মার্কিন ব্যাংক ও মূলধন বাজারে ফিরে আসে।
এর ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) মতে, আজও বৈশ্বিক বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের প্রায় ৫৮ শতাংশ ডলারের দখলে এবং বৈশ্বিক তেল লেনদেনের সিংহভাগই মার্কিন মুদ্রায় সম্পন্ন হয়। অর্থনৈতিক ইতিহাসবিদ ব্যারি আইচেনগ্রিনের মতে, ডলারের এই আধিপত্য কেবল মার্কিন অর্থনৈতিক শক্তির ওপর নয়, বরং মার্কিন আর্থিক বাজারের গভীর তারল্য (লিকুইডিটি) এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিশ্বাসযোগ্যতার ওপরও নির্ভরশীল।
ভূ-রাজনীতি ও মুদ্রার আধিপত্য
আর্থিক ব্যবস্থা কেবল অর্থনীতির জোরে টিকে থাকে না। রাজনৈতিক অর্থনীতিবিদ রবার্ট গিলপিনের মতে, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা শেষ পর্যন্ত ক্ষমতার অন্তর্নিহিত কাঠামোরই প্রতিফলন। মুদ্রার আধিপত্য সাধারণত ভূ-রাজনৈতিক নেতৃত্বের পথ অনুসরণ করে। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের স্বর্ণযুগে ব্রিটিশ পাউন্ড বৈশ্বিক অর্থব্যবস্থাকে নোঙর করে রেখেছিল; দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যখন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের প্রধান অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়, তখন ডলার সেই স্থান দখল করে।
পেট্রোডলার-ব্যবস্থা তাই তিনটি আন্তঃসংযুক্ত স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে আছে: উপসাগরীয় অঞ্চলে স্থিতিশীল জ্বালানি উৎপাদন, ডলার-ভিত্তিক তেল বাণিজ্যের একচ্ছত্র আধিপত্য এবং পুরো অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা কাঠামো। ইরান সংঘাত এই তিন স্তম্ভকেই হুমকির মুখে ফেলছে।
কৌশলগত ঝুঁকি ও হরমুজ প্রণালি
বিশ্ব অর্থনীতিতে মধ্যপ্রাচ্য এখনো অন্যতম কৌশলগত সংবেদনশীল অঞ্চল। এই অঞ্চলে রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেলের সরু পথ (চোকপয়েন্ট) হরমুজ প্রণালি। মার্কিন এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্যমতে, বিশ্বের খনিজ তেলের প্রায় ২০ শতাংশ (দৈনিক প্রায় ২ কোটি ব্যারেল) এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। একইসঙ্গে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসও (এলএনজি) এখান দিয়ে যায়।
হরমুজ প্রণালিতে সামান্য উত্তেজনাও তেলের দাম নাটকীয়ভাবে বাড়িয়ে দেয়। ফলে দীর্ঘস্থায়ী সামরিক সংঘাত কেবল জাহাজ চলাচলকেই বিঘ্নিত করবে না, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি ব্যবস্থার স্থিতিশীল নোঙর হিসেবে উপসাগরীয় অঞ্চলের আস্থা কমিয়ে দিতে পারে। আর এই ‘আস্থা’ হলো বৈশ্বিক অর্থব্যবস্থার অদৃশ্য অবকাঠামো।
বিনিয়োগকারী, সার্বভৌম সম্পদ তহবিল এবং বহুজাতিক কর্পোরেশনগুলো স্থিতিশীলতার ওপর ভিত্তি করে কাজ করে। একবার সেই স্থিতিশীলতা দুর্বল হতে শুরু করলে, পুঁজি ধীরে ধীরে বিকল্প স্থিতিশীল কেন্দ্রের সন্ধানে ছোটে।
ইতিহাসও এমন সাক্ষ্য দেয়। সপ্তদশ শতাব্দীতে ডাচ বাণিজ্যিক উত্থানের সময় বৈশ্বিক অর্থব্যবস্থা আমস্টারডামকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হতো, যা পরে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের যুগে লন্ডনে স্থানান্তরিত হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই আর্থিক গুরুত্ব আটলান্টিক পেরিয়ে নিউইয়র্কে চলে আসে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র আধুনিক আর্থিক ব্যবস্থার প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে তোলে। প্রতিটি রূপান্তরই ভূ-রাজনৈতিক ক্ষমতার বৃহত্তর পুনর্বণ্টনের প্রতিফলন ছিল।
জ্বালানি চাহিদা ও মুদ্রার রূপান্তর
বিংশ শতাব্দীর বেশিরভাগ সময়ই পশ্চিমা দেশগুলো তেল ব্যবহারে শীর্ষে ছিল। বর্তমানে এই জায়গা এশিয়ায় স্থানান্তরিত হয়েছে। চীন এখন বিশ্বের বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল আমদানিকারক, যারা দৈনিক ১ কোটি ১০ লাখ ব্যারেলের বেশি তেল কেনে। ভারত দ্রুত বর্ধনশীল জ্বালানি ভোক্তাদের অন্যতম এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার শিল্পোন্নত অর্থনীতিগুলোও তাদের চাহিদা বাড়িয়ে চলেছে।
এই পরিবর্তনের আর্থিক প্রভাব রয়েছে। যদি মধ্যপ্রাচ্যের তেলের বড় ক্রেতারা আটলান্টিক বিশ্বের পরিবর্তে এশিয়ায় অবস্থান করে, তবে লেনদেনের মুদ্রার যুক্তিতেও ধীরে ধীরে বিবর্তন আসতে পারে। এই সম্ভাবনার প্রাথমিক লক্ষণগুলো ইতিমধ্যেই স্পষ্ট। চীন তাদের মুদ্রার (ইউয়ান) আন্তর্জাতিকীকরণে জোর দিচ্ছে, যার অংশ হিসেবে ২০১৮ সালে সাংহাই ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এক্সচেঞ্জে ইউয়ান-ভিত্তিক তেল লেনদেন শুরু হয়েছে। কিছু উদীয়মান অর্থনীতির দেশ স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্যের পথ খুঁজছে এবং উপসাগরীয় দেশগুলোও মাঝেমধ্যে ডলার ছাড়া অন্য মুদ্রায় লেনদেনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
নিষেধাজ্ঞা ও বিকল্প ব্যবস্থার সন্ধান
বর্তমান দুনিয়ার কৌশলগত প্রতিযোগিতায় সামরিক শক্তির পাশাপাশি আর্থিক হাতিয়ারের মাধ্যমেও পরিচালিত হয়। নিষেধাজ্ঞা, ব্যাংকিং বিধিনিষেধ এবং বৈশ্বিক পেমেন্ট সিস্টেম (যেমন সুইফট) থেকে বিচ্ছিন্ন করার বিষয়টি এখন রাষ্ট্র পরিচালনার শক্তিশালী মাধ্যম। ইরান বারবার এই চাপের সম্মুখীন হয়েছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তাদের তেল রপ্তানি, ব্যাংকিং খাত এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক অবকাঠামোকে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
তবে আর্থিক জবরদস্তির অন্য ফলাফলও রয়েছে: চাপে থাকা দেশগুলো অনিবার্যভাবেই বর্তমান ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা কমানোর উপায় খোঁজে।
ইরান ইতোমধ্যেই পণ্য বিনিময় প্রথা, স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেন এবং চীন ও রাশিয়ার মতো অংশীদারদের সঙ্গে আর্থিক সংহতির পরীক্ষা চালিয়েছে। সহজ করে বললে, বর্তমান বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলো (যেমন ভারত, চীন বা ব্রাজিল) এখন আর টাকা-পয়সার লেনদেনের জন্য পুরোপুরি আমেরিকার ওপর নির্ভর করতে চাইছে না। তারা নিজেদের মধ্যে সরাসরি ব্যবসা করার জন্য নতুন প্রযুক্তি ও নিয়ম তৈরি করছে। যেমন, এক দেশ অন্য দেশের সাথে ইন্টারনেটের মাধ্যমে সরাসরি ডিজিটাল মুদ্রায় লেনদেন করার চেষ্টা চালাচ্ছে। অর্থনীতিবিদ জোল্টান পোজসারের মতে, এই পরিবর্তনের কারণে সারা বিশ্বের অর্থব্যবস্থা ধীরে ধীরে ছোট ছোট ভাগে বিভক্ত হয়ে যাচ্ছে। আগে যেমন পুরো পৃথিবী শুধু ডলারের ওপর ভিত্তি করে চলত এবং আমেরিকাই সব নিয়ন্ত্রণ করত, এখন আর পরিস্থিতি তেমন থাকবে না। একেকটি দেশ বা অঞ্চল হয়তো তাদের নিজেদের মুদ্রায় লেনদেনের আলাদা ব্যবস্থা তৈরি করবে। এর ফলে ডলারের যে একচ্ছত্র আধিপত্য বা একক মোড়লগিরি ছিল, তা দুর্বল হয়ে পড়বে।
একটি বহুমেরুভিত্তিক ভবিষ্যৎ
তবুও ডলারের দ্রুত পতনের ভবিষ্যদ্বাণী করাটা বাড়াবাড়ি হবে। যুক্তরাষ্ট্রের এখনো এমন কিছু সুবিধা রয়েছে যা কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী ব্যবস্থার পক্ষে সহজে নকল করা সম্ভব নয়। মার্কিন আর্থিক বাজার বিশ্বের সবচেয়ে স্থিতিশীল, এবং মার্কিন ট্রেজারি সিকিউরিটিজ এখনো বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের কাছে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে বিবেচিত। এ ছাড়া নেটওয়ার্ক প্রভাবের কারণে ডলারের আধিপত্য বজায় থাকে; যেহেতু বেশিরভাগ আন্তর্জাতিক লেনদেন ডলারে হয়, তাই বর্তমান ব্যবস্থা থেকে সরে যাওয়ার খরচ অনেক বেশি।
আকস্মিক পতনের চেয়ে ক্রমান্বয় বিবর্তনই এখানে বেশি যুক্তিযুক্ত। একক আধিপত্যশীল মুদ্রার পরিবর্তে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা ধীরে ধীরে একটি বহুমেরুভিত্তিক আর্থিক ভূ-চিত্রের দিকে এগিয়ে যেতে পারে।
মুসলিম বিশ্বের ওপর প্রভাব
মুসলিম প্রধান দেশগুলোর জন্য এর প্রভাব তাৎপর্যপূর্ণ। দীর্ঘকাল ধরে উপসাগরীয় অঞ্চল ছিল মুসলিম বিশ্বের অর্থনৈতিক হৃৎপিণ্ড। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার কারণে দুবাই, দোহা বা রিয়াদের মতো শহরগুলো বৈশ্বিক আর্থিক মিলনস্থলে পরিণত হয়েছিল। দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত যদি সেই স্থিতিশীলতার ধারণাকে নষ্ট করে দেয়, তবে এর প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও ছড়িয়ে পড়বে।
একইসঙ্গে, বৈচিত্র্যময় আর্থিক ব্যবস্থা এশিয়া, আফ্রিকা এবং বৃহত্তর ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। অনেক দেশের জন্য চ্যালেঞ্জ কেবল ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা মোকাবিলা করা নয়, বরং এই বিবর্তনশীল আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার মধ্যে নিজেদের কৌশলগত অবস্থান নিশ্চিত করা।
বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থা রাতারাতি ভেঙে পড়ে না। অর্থনৈতিক গুরুত্ব এবং ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব যখন এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে স্থানান্তরিত হয়, তখন এই ব্যবস্থাগুলোও ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হয়। ইসলামি বুদ্ধিবৃত্তিক ঐতিহ্য আমাদের ভারসাম্য ও ন্যায়ের গুরুত্ব মনে করিয়ে দেয়। ক্ষমতা অতিরিক্ত কেন্দ্রীভূত বা একক নিয়ন্ত্রণে চলে গেলে কোনো ব্যবস্থাই দীর্ঘস্থায়ী হয় না। ইতিহাস দেখায়, বিশ্বব্যবস্থা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাস্তবতার নিরিখে নিজেকে মানিয়ে নেয়।
মিডিল ইস্ট মনিটর থেকে অনূদিত

পারস্য উপসাগরজুড়ে যুদ্ধের দামামার সঙ্গে সঙ্গেই প্রথম ধাক্কা এসে লেগেছে তেলের বাজারে। তবে এর সুদূরপ্রসারী ধাক্কা হয়তো বিশ্বের আর্থিক ব্যবস্থার মূলে আঘাত হানবে। গত প্রায় পাঁচ দশক ধরে আন্তর্জাতিক আর্থিক শৃঙ্খলা বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যে মার্কিন ডলারের একচ্ছত্র আধিপত্যের অলিখিত চুক্তির ওপর টিকে আছে। ৭০-এর দশকের ভূ-রাজনৈতিক উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা এই ‘পেট্রোডলার’ ব্যবস্থা মার্কিন আর্থিক আধিপত্যকে বিশ্ব অর্থনীতির স্তম্ভে পরিণত করেছে।
তবে ইরানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত এই ব্যবস্থার ওপর অপ্রত্যাশিত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এর অর্থ এই নয় যে ডলারের পতন আসন্ন, বরং এই সংঘাত পতনের প্রক্রিয়াকে তরান্বিত করবে এ ব্যাপারে সন্দেহ নেই।
পেট্রোডলার-ব্যবস্থার উদ্ভব
১৯৭১ সালে যখন ‘ব্রেটন উডস’-ব্যবস্থা ভেঙে যায়, তখন থেকেই মূলত পেট্রোডলার-ব্যবস্থার সূত্রপাত ঘটে। ব্রেটন উডস ব্যবস্থায় মার্কিন ডলারের মান সরাসরি সোনার পরিমাণের ওপর নির্ভর করত—অর্থাৎ ডলার জমা দিলে বিনিময়ে সোনা পাওয়া যেত। কিন্তু ১৯৭১ সালে আমেরিকা ঘোষণা দেয়, তারা ডলারের বিনিময়ে আর সোনা দেবে না। ১৯৭৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র এবং সৌদি আরবের মধ্যে হওয়া যুগান্তকারী চুক্তিতে ঠিক করা হয়, সৌদি আরব তাদের উৎপাদিত সব তেল কেবল মার্কিন ডলারের বিনিময়েই বিক্রি করবে। যেহেতু তেল বিশ্বের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় জ্বালানি এবং সৌদি আরব ছিল তেলের বড় উৎস, তাই যেকোনো দেশকে তেল কিনতে হলে বাধ্যতামূলকভাবে ডলার সংগ্রহ করতে হতো। বিনিময়ে আমেরিকা সৌদি আরবকে সামরিক সুরক্ষা এবং আধুনিক মারণাস্ত্র দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। এই ব্যবস্থার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়।
চুক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল তেলের মুনাফা বা সারপ্লাস রেভিনিউ পুনরায় আমেরিকার বাজারেই বিনিয়োগ করা। সৌদি আরব তেল বিক্রি করে যে বিপুল পরিমাণ বাড়তি টাকা আয় করত, তা তারা আমেরিকার সরকারি বন্ড বা ‘ট্রেজারি সিকিউরিটিজ’-এ বিনিয়োগ করতে শুরু করে। এর ফলে সৌদি আরবের তেলের টাকা আবার আমেরিকার আর্থিক ব্যবস্থার মধ্যেই ফিরে আসত, যা মার্কিন ডলারকে আরও শক্তিশালী ভিত প্রদান করে। অন্যান্য তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোও দ্রুত এই পথ অনুসরণ করে।
এই ব্যবস্থা শক্তিশালী আর্থিক চক্র বা ‘ফিডব্যাক লুপ’ তৈরি করেছিল। বিশ্বের সবচেয়ে অপরিহার্য পণ্য তেল কাঠামোগতভাবে ডলারের সাথে জড়িয়ে পড়ে। জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলোর জন্য ডলারের রিজার্ভ রাখা অপরিহার্য হয়ে ওঠে, যা বিশ্ববাজারে ডলারের নিরবচ্ছিন্ন চাহিদা নিশ্চিত করে। অন্যদিকে, তেল রপ্তানিকারক দেশগুলো বিশাল ডলার উদ্বৃত্ত জমা করে যা পুনরায় মার্কিন ব্যাংক ও মূলধন বাজারে ফিরে আসে।
এর ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) মতে, আজও বৈশ্বিক বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের প্রায় ৫৮ শতাংশ ডলারের দখলে এবং বৈশ্বিক তেল লেনদেনের সিংহভাগই মার্কিন মুদ্রায় সম্পন্ন হয়। অর্থনৈতিক ইতিহাসবিদ ব্যারি আইচেনগ্রিনের মতে, ডলারের এই আধিপত্য কেবল মার্কিন অর্থনৈতিক শক্তির ওপর নয়, বরং মার্কিন আর্থিক বাজারের গভীর তারল্য (লিকুইডিটি) এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিশ্বাসযোগ্যতার ওপরও নির্ভরশীল।
ভূ-রাজনীতি ও মুদ্রার আধিপত্য
আর্থিক ব্যবস্থা কেবল অর্থনীতির জোরে টিকে থাকে না। রাজনৈতিক অর্থনীতিবিদ রবার্ট গিলপিনের মতে, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা শেষ পর্যন্ত ক্ষমতার অন্তর্নিহিত কাঠামোরই প্রতিফলন। মুদ্রার আধিপত্য সাধারণত ভূ-রাজনৈতিক নেতৃত্বের পথ অনুসরণ করে। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের স্বর্ণযুগে ব্রিটিশ পাউন্ড বৈশ্বিক অর্থব্যবস্থাকে নোঙর করে রেখেছিল; দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যখন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের প্রধান অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়, তখন ডলার সেই স্থান দখল করে।
পেট্রোডলার-ব্যবস্থা তাই তিনটি আন্তঃসংযুক্ত স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে আছে: উপসাগরীয় অঞ্চলে স্থিতিশীল জ্বালানি উৎপাদন, ডলার-ভিত্তিক তেল বাণিজ্যের একচ্ছত্র আধিপত্য এবং পুরো অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা কাঠামো। ইরান সংঘাত এই তিন স্তম্ভকেই হুমকির মুখে ফেলছে।
কৌশলগত ঝুঁকি ও হরমুজ প্রণালি
বিশ্ব অর্থনীতিতে মধ্যপ্রাচ্য এখনো অন্যতম কৌশলগত সংবেদনশীল অঞ্চল। এই অঞ্চলে রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেলের সরু পথ (চোকপয়েন্ট) হরমুজ প্রণালি। মার্কিন এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্যমতে, বিশ্বের খনিজ তেলের প্রায় ২০ শতাংশ (দৈনিক প্রায় ২ কোটি ব্যারেল) এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। একইসঙ্গে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসও (এলএনজি) এখান দিয়ে যায়।
হরমুজ প্রণালিতে সামান্য উত্তেজনাও তেলের দাম নাটকীয়ভাবে বাড়িয়ে দেয়। ফলে দীর্ঘস্থায়ী সামরিক সংঘাত কেবল জাহাজ চলাচলকেই বিঘ্নিত করবে না, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি ব্যবস্থার স্থিতিশীল নোঙর হিসেবে উপসাগরীয় অঞ্চলের আস্থা কমিয়ে দিতে পারে। আর এই ‘আস্থা’ হলো বৈশ্বিক অর্থব্যবস্থার অদৃশ্য অবকাঠামো।
বিনিয়োগকারী, সার্বভৌম সম্পদ তহবিল এবং বহুজাতিক কর্পোরেশনগুলো স্থিতিশীলতার ওপর ভিত্তি করে কাজ করে। একবার সেই স্থিতিশীলতা দুর্বল হতে শুরু করলে, পুঁজি ধীরে ধীরে বিকল্প স্থিতিশীল কেন্দ্রের সন্ধানে ছোটে।
ইতিহাসও এমন সাক্ষ্য দেয়। সপ্তদশ শতাব্দীতে ডাচ বাণিজ্যিক উত্থানের সময় বৈশ্বিক অর্থব্যবস্থা আমস্টারডামকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হতো, যা পরে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের যুগে লন্ডনে স্থানান্তরিত হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই আর্থিক গুরুত্ব আটলান্টিক পেরিয়ে নিউইয়র্কে চলে আসে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র আধুনিক আর্থিক ব্যবস্থার প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে তোলে। প্রতিটি রূপান্তরই ভূ-রাজনৈতিক ক্ষমতার বৃহত্তর পুনর্বণ্টনের প্রতিফলন ছিল।
জ্বালানি চাহিদা ও মুদ্রার রূপান্তর
বিংশ শতাব্দীর বেশিরভাগ সময়ই পশ্চিমা দেশগুলো তেল ব্যবহারে শীর্ষে ছিল। বর্তমানে এই জায়গা এশিয়ায় স্থানান্তরিত হয়েছে। চীন এখন বিশ্বের বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল আমদানিকারক, যারা দৈনিক ১ কোটি ১০ লাখ ব্যারেলের বেশি তেল কেনে। ভারত দ্রুত বর্ধনশীল জ্বালানি ভোক্তাদের অন্যতম এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার শিল্পোন্নত অর্থনীতিগুলোও তাদের চাহিদা বাড়িয়ে চলেছে।
এই পরিবর্তনের আর্থিক প্রভাব রয়েছে। যদি মধ্যপ্রাচ্যের তেলের বড় ক্রেতারা আটলান্টিক বিশ্বের পরিবর্তে এশিয়ায় অবস্থান করে, তবে লেনদেনের মুদ্রার যুক্তিতেও ধীরে ধীরে বিবর্তন আসতে পারে। এই সম্ভাবনার প্রাথমিক লক্ষণগুলো ইতিমধ্যেই স্পষ্ট। চীন তাদের মুদ্রার (ইউয়ান) আন্তর্জাতিকীকরণে জোর দিচ্ছে, যার অংশ হিসেবে ২০১৮ সালে সাংহাই ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এক্সচেঞ্জে ইউয়ান-ভিত্তিক তেল লেনদেন শুরু হয়েছে। কিছু উদীয়মান অর্থনীতির দেশ স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্যের পথ খুঁজছে এবং উপসাগরীয় দেশগুলোও মাঝেমধ্যে ডলার ছাড়া অন্য মুদ্রায় লেনদেনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
নিষেধাজ্ঞা ও বিকল্প ব্যবস্থার সন্ধান
বর্তমান দুনিয়ার কৌশলগত প্রতিযোগিতায় সামরিক শক্তির পাশাপাশি আর্থিক হাতিয়ারের মাধ্যমেও পরিচালিত হয়। নিষেধাজ্ঞা, ব্যাংকিং বিধিনিষেধ এবং বৈশ্বিক পেমেন্ট সিস্টেম (যেমন সুইফট) থেকে বিচ্ছিন্ন করার বিষয়টি এখন রাষ্ট্র পরিচালনার শক্তিশালী মাধ্যম। ইরান বারবার এই চাপের সম্মুখীন হয়েছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তাদের তেল রপ্তানি, ব্যাংকিং খাত এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক অবকাঠামোকে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
তবে আর্থিক জবরদস্তির অন্য ফলাফলও রয়েছে: চাপে থাকা দেশগুলো অনিবার্যভাবেই বর্তমান ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা কমানোর উপায় খোঁজে।
ইরান ইতোমধ্যেই পণ্য বিনিময় প্রথা, স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেন এবং চীন ও রাশিয়ার মতো অংশীদারদের সঙ্গে আর্থিক সংহতির পরীক্ষা চালিয়েছে। সহজ করে বললে, বর্তমান বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলো (যেমন ভারত, চীন বা ব্রাজিল) এখন আর টাকা-পয়সার লেনদেনের জন্য পুরোপুরি আমেরিকার ওপর নির্ভর করতে চাইছে না। তারা নিজেদের মধ্যে সরাসরি ব্যবসা করার জন্য নতুন প্রযুক্তি ও নিয়ম তৈরি করছে। যেমন, এক দেশ অন্য দেশের সাথে ইন্টারনেটের মাধ্যমে সরাসরি ডিজিটাল মুদ্রায় লেনদেন করার চেষ্টা চালাচ্ছে। অর্থনীতিবিদ জোল্টান পোজসারের মতে, এই পরিবর্তনের কারণে সারা বিশ্বের অর্থব্যবস্থা ধীরে ধীরে ছোট ছোট ভাগে বিভক্ত হয়ে যাচ্ছে। আগে যেমন পুরো পৃথিবী শুধু ডলারের ওপর ভিত্তি করে চলত এবং আমেরিকাই সব নিয়ন্ত্রণ করত, এখন আর পরিস্থিতি তেমন থাকবে না। একেকটি দেশ বা অঞ্চল হয়তো তাদের নিজেদের মুদ্রায় লেনদেনের আলাদা ব্যবস্থা তৈরি করবে। এর ফলে ডলারের যে একচ্ছত্র আধিপত্য বা একক মোড়লগিরি ছিল, তা দুর্বল হয়ে পড়বে।
একটি বহুমেরুভিত্তিক ভবিষ্যৎ
তবুও ডলারের দ্রুত পতনের ভবিষ্যদ্বাণী করাটা বাড়াবাড়ি হবে। যুক্তরাষ্ট্রের এখনো এমন কিছু সুবিধা রয়েছে যা কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী ব্যবস্থার পক্ষে সহজে নকল করা সম্ভব নয়। মার্কিন আর্থিক বাজার বিশ্বের সবচেয়ে স্থিতিশীল, এবং মার্কিন ট্রেজারি সিকিউরিটিজ এখনো বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের কাছে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে বিবেচিত। এ ছাড়া নেটওয়ার্ক প্রভাবের কারণে ডলারের আধিপত্য বজায় থাকে; যেহেতু বেশিরভাগ আন্তর্জাতিক লেনদেন ডলারে হয়, তাই বর্তমান ব্যবস্থা থেকে সরে যাওয়ার খরচ অনেক বেশি।
আকস্মিক পতনের চেয়ে ক্রমান্বয় বিবর্তনই এখানে বেশি যুক্তিযুক্ত। একক আধিপত্যশীল মুদ্রার পরিবর্তে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা ধীরে ধীরে একটি বহুমেরুভিত্তিক আর্থিক ভূ-চিত্রের দিকে এগিয়ে যেতে পারে।
মুসলিম বিশ্বের ওপর প্রভাব
মুসলিম প্রধান দেশগুলোর জন্য এর প্রভাব তাৎপর্যপূর্ণ। দীর্ঘকাল ধরে উপসাগরীয় অঞ্চল ছিল মুসলিম বিশ্বের অর্থনৈতিক হৃৎপিণ্ড। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার কারণে দুবাই, দোহা বা রিয়াদের মতো শহরগুলো বৈশ্বিক আর্থিক মিলনস্থলে পরিণত হয়েছিল। দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত যদি সেই স্থিতিশীলতার ধারণাকে নষ্ট করে দেয়, তবে এর প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও ছড়িয়ে পড়বে।
একইসঙ্গে, বৈচিত্র্যময় আর্থিক ব্যবস্থা এশিয়া, আফ্রিকা এবং বৃহত্তর ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। অনেক দেশের জন্য চ্যালেঞ্জ কেবল ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা মোকাবিলা করা নয়, বরং এই বিবর্তনশীল আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার মধ্যে নিজেদের কৌশলগত অবস্থান নিশ্চিত করা।
বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থা রাতারাতি ভেঙে পড়ে না। অর্থনৈতিক গুরুত্ব এবং ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব যখন এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে স্থানান্তরিত হয়, তখন এই ব্যবস্থাগুলোও ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হয়। ইসলামি বুদ্ধিবৃত্তিক ঐতিহ্য আমাদের ভারসাম্য ও ন্যায়ের গুরুত্ব মনে করিয়ে দেয়। ক্ষমতা অতিরিক্ত কেন্দ্রীভূত বা একক নিয়ন্ত্রণে চলে গেলে কোনো ব্যবস্থাই দীর্ঘস্থায়ী হয় না। ইতিহাস দেখায়, বিশ্বব্যবস্থা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাস্তবতার নিরিখে নিজেকে মানিয়ে নেয়।
মিডিল ইস্ট মনিটর থেকে অনূদিত

খাল খনন কর্মসূচির এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানানোর পাশাপাশি এর বাস্তবায়নে চরম পেশাদারত্বের পরিচয় দিতে হবে। খাল খননের পূর্বশর্ত হিসেবে হাইড্রোলজিক্যাল সার্ভে ও সারফেস ওয়াটার ডিস্ট্রিবিউশনের ওপর ভিত্তি করে একটি পূর্ণাঙ্গ 'মাস্টার প্ল্যান' প্রণয়ন করতে হবে।
১ দিন আগে
বাংলাদেশে ডিজিটাল শাসনের পথচলা এক সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছে। আর এর অন্যতম ভিত্তি ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা অধ্যাদেশ (পিডিপিও) ২০২৫ এবং পরবর্তী ২০২৬ সালের সংশোধনী অধ্যাদেশ জারি।
১ দিন আগে
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে হামলার প্রথম দুই সপ্তাহে বিপুল খবর, প্রচার আর জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছে। সব পক্ষের রাজনীতিক ও বিশ্লেষকেরা একে অন্যের বিপরীত কথা বলেছেন। ফলে যুদ্ধের ময়দানের বাস্তবতা অনেকটাই আড়ালে থেকে গেছে। বিশ্বজুড়ে মানুষও তথ্যের চাপে বিভ্রান্ত হয়েছে।
১ দিন আগে
বাংলাদেশ নদী, খাল ও জলাভূমির দেশ। একসময় দেশের গ্রামীণ জীবন, কৃষি উৎপাদন এবং স্থানীয় বাণিজ্যের বড় অংশই পরিচালিত হতো এই প্রাকৃতিক জলপথকে কেন্দ্র করে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অব্যবস্থাপনা, দখল এবং অপরিকল্পিত উন্নয়নের কারণে অসংখ্য খাল হারিয়ে গেছে ও নাব্যতা হারিয়েছে।
১ দিন আগে