লেখা:

সম্প্রতি ‘মডার্না’ ও ‘মার্ক’-এর তৈরি একটি ব্যক্তিকেন্দ্রিক এমআরএনএ ক্যানসার ভ্যাকসিন নিয়ে নতুন খবর সামনে এসেছে। খবরটি পড়ার পর প্রথম যে কথাটি মনে হয়েছে, সেটি হলো—এখনই একে ‘ক্যানসারের টিকা আবিষ্কার’ বলে ফেললে হয়তো আমরা বিজ্ঞানের আসল গল্পটাকেই ছোট করে ফেলব। কিন্তু একই সঙ্গে এটাও সত্যি, ক্যানসারের চিকিৎসা যে ধীরে ধীরে নতুন এক দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, এই গবেষণা তার খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ইঙ্গিত।
গবেষণাটি মূলত ‘মেলানোমা’ বা ত্বকের এক ধরনের গুরুতর ক্যানসার নিয়ে। যেসব রোগীর অস্ত্রোপচার করে ক্যানসার সরিয়ে ফেলা হয়েছে, কিন্তু ভবিষ্যতে রোগটি আবার ফিরে আসতে পারে বা শরীরের অন্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে, তাঁদের নিয়ে এই গবেষণা করা হয়েছে।
বড় পরিসরের তৃতীয় ধাপের পরীক্ষায় ১,১৩৭ জন রোগী অংশ নিয়েছেন। তাঁদের একদলকে প্রচলিত রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা সক্রিয়কারী ওষুধ পেমব্রোলিজুমাব-এর সঙ্গে ব্যক্তিকেন্দ্রিক এমআরএনএ ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। আর অন্যদলকে দেওয়া হয়েছে পেমব্রোলিজুমাব একাই। ১৯ আগস্ট ২০২৬ ‘মডার্না’ ও ‘মার্ক’ যে প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা গেছে ভ্যাকসিনের সঙ্গে ওষুধটি ব্যবহার করা রোগীদের ক্ষেত্রে ক্যানসার আবার ফিরে আসা এবং শরীরের অন্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়ার বিরুদ্ধে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে।
এই জায়গাটিই সবচেয়ে বেশি আগ্রহ তৈরি করে।
এটি এমন কোনো টিকা নয়, যা আমরা ছোটোবেলায় নেওয়া হাম বা অন্য সংক্রামক রোগের টিকার মতো সবাইকে দিয়ে দেব এবং ভবিষ্যতে ক্যানসার হবে না। বরং ক্যানসার হয়ে যাওয়ার পর একজন নির্দিষ্ট রোগীর ক্যানসারকে দেখে তাঁর জন্য আলাদা করে চিকিৎসা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।
একজন রোগীর ক্যানসার অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সরিয়ে ফেলার পরও শরীরে খুব অল্পসংখ্যক ক্যানসার কোষ থেকে যেতে পারে। সেগুলো তখন কোনো পরীক্ষায় সহজে ধরা নাও পড়তে পারে। কয়েক মাস বা কয়েক বছর পর সেই কোষ থেকেই আবার রোগ ফিরে আসতে পারে বা শরীরের অন্য জায়গায় ছড়িয়ে যেতে পারে। এই নতুন পদ্ধতির মূল চিন্তাটি হলো—রোগীর নিজের ক্যানসারের বিশেষ বৈশিষ্ট্যগুলো আগে শনাক্ত করা হবে। তারপর সেই তথ্য ব্যবহার করে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাকে এমনভাবে প্রস্তুত করা হবে, যাতে ওই ক্যানসার কোষগুলো আবার দেখা দিলে শরীর সেগুলো চিনতে পারে এবং আক্রমণ করতে পারে।
সহজ করে বললে, ক্যানসার কোষের নিজের একটি ‘পরিচয়পত্র’ তৈরি করে সেটি শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে চিনিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এখানে এমআরএনএ প্রযুক্তির ব্যবহার হচ্ছে। রোগীর ক্যানসারের জিনগত পরিবর্তন পরীক্ষা করে কিছু নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য খুঁজে বের করা হয়, যেগুলো ক্যানসার কোষকে স্বাভাবিক কোষ থেকে আলাদা করে। এরপর সেই তথ্যের ভিত্তিতে রোগীর জন্য ব্যক্তিকেন্দ্রিক ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়। তাই একই ক্যানসারে আক্রান্ত দুইজন মানুষের ভ্যাকসিনও একই রকম নাও হতে পারে। এই পদ্ধতিকে ব্যক্তিকেন্দ্রিক বা নির্দিষ্ট রোগীর উপযোগী ক্যানসার চিকিৎসার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আমার কাছে ক্যানসার গবেষণার সবচেয়ে সুন্দর পরিবর্তনগুলোর একটি এখানেই। একসময় ক্যানসার চিকিৎসায় অনেকটাই এমন ধারণা ছিল—এই অঙ্গে ক্যানসার হয়েছে, তাই এই চিকিৎসা দিতে হবে। এখন ধীরে ধীরে প্রশ্নটি বদলাচ্ছে। শুধু কোথায় ক্যানসার হয়েছে সেটিই নয়, কেন এই ক্যানসারটি এই রোগীর শরীরে তৈরি হয়েছে, এর ভেতরের বৈশিষ্ট্য কী, আর সেই বৈশিষ্ট্যকে কীভাবে লক্ষ্য করা যায়—সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
এই পরিবর্তনকে বলা হয় ব্যক্তিকেন্দ্রিক ক্যানসার চিকিৎসা। ভবিষ্যতের ক্যানসার চিকিৎসা হয়তো আরও বেশি এই পথেই এগোবে।
তবে আশার জায়গার পাশাপাশি একটু থামাও দরকার। কারণ এখন পর্যন্ত যে তথ্য সামনে এসেছে, সেটি মূলত কোম্পানিগুলোর প্রকাশিত প্রাথমিক (ফেজ-৩) ফলাফল। পূর্ণাঙ্গ গবেষণার তথ্য, দীর্ঘমেয়াদে রোগীরা কতদিন বেশি বেঁচে থাকছেন, এবং বিস্তারিত ফলাফল প্রকাশের পরই চিকিৎসাটির প্রকৃত উপকারিতা আরও ভালোভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে। এখনো পূর্ণাঙ্গ গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়নি। তাই এটিকে ক্যানসারের নিরাময় বা সব ক্যানসারের জন্য কার্যকর টিকা বলা ঠিক হবে না। কিন্তু তাই বলে খবরটির গুরুত্বও কম নয়।
কারণ ক্যানসারের সবচেয়ে কঠিন জায়গাগুলোর একটি হলো—রোগটি একবার চলে যাওয়ার পরও আবার ফিরে আসা। একজন রোগী অস্ত্রোপচারের পর যখন জানতে পারেন তাঁর শরীরে আর ক্যানসার নেই, তখন তাঁর এবং পরিবারের জন্য সেটি নিঃসন্দেহে সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্ত। কিন্তু একই সঙ্গে মনে একটি ভয় থেকে যায়—আবার কি ফিরে আসবে?
এই নতুন গবেষণার লক্ষ্য ঠিক সেই ভয়টির জায়গায় আঘাত করা।
অস্ট্রেলিয়ার জন্যও এই গবেষণার আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। মেলানোমা নিয়ে গবেষণায় অস্ট্রেলিয়া পৃথিবীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দেশ। অস্ট্রেলিয়ার গবেষক ও চিকিৎসকেরা বহু বছর ধরে মেলানোমা, রোগপ্রতিরোধভিত্তিক চিকিৎসা এবং নতুন ধরনের ক্যানসার চিকিৎসা নিয়ে কাজ করে আসছেন। মেলানোমা ইনস্টিটিউট অস্ট্রেলিয়া-তেও ভি৯৪০ এবং পেমব্রোলিজুমাব নিয়ে মেলানোমা-সংক্রান্ত ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চলমান রয়েছে।
বাংলাদেশের দিক থেকেও এই খবরটি ভাবার মতো। কারণ নতুন কোনো ক্যানসার চিকিৎসা আবিষ্কার হলেই আমাদের রোগীরা সঙ্গে সঙ্গে সেটি পেয়ে যাবেন—বিষয়টি এত সহজ নয়। এর জন্য প্রয়োজন উন্নত রোগ নির্ণয় ব্যবস্থা, ক্যানসারের জিনগত বৈশিষ্ট্য পরীক্ষা করার সুযোগ, দক্ষ চিকিৎসক ও গবেষক, ক্লিনিক্যাল রিসার্চ-এর পরিবেশ এবং সবচেয়ে বড় কথা—সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা।
একদিন হয়তো ক্যানসারের চিকিৎসা আরও বেশি ব্যক্তিকেন্দ্রিক হবে। একই অঙ্গে ক্যানসার হলেও দুজন রোগীর চিকিৎসা আলাদা হতে পারে, কারণ তাঁদের ক্যানসারের ভেতরের বৈশিষ্ট্য আলাদা। আজ যে গবেষণাটি খবরের শিরোনাম হচ্ছে, সেটি হয়তো সেই ভবিষ্যতেরই একটি ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
তাই এই খবর নিয়ে আনন্দ করার কারণ আছে, আশাবাদী হওয়ারও কারণ আছে। কিন্তু ক্যানসারের রোগী ও তাঁদের পরিবারের সামনে এমন আশা তৈরি করার সময় আমাদের ভাষাটাও দায়িত্বশীল হওয়া দরকার।
এখনো ক্যানসারের চূড়ান্ত সমাধান পাওয়া যায়নি। কিন্তু ক্যানসারকে আরও ভালোভাবে বুঝে, প্রতিটি রোগীর ক্যানসারকে আলাদাভাবে চিনে, তার বিরুদ্ধে শরীরের নিজের প্রতিরোধ ক্ষমতাকে কাজে লাগানোর যে চেষ্টা শুরু হয়েছে—সেটিই হয়তো ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় পরিবর্তনগুলোর একটি হয়ে উঠতে পারে।
আর ক্যানসার নিয়ে কাজ করার কারণে হয়তো এই ধরনের খবর আমার কাছে একটু অন্যরকম। গবেষণার ফলাফল পড়তে গিয়ে সংখ্যাগুলোর পাশাপাশি বারবার মনে হয়—ওই সংখ্যাগুলোর প্রতিটির পেছনে একজন মানুষ আছেন, একটি পরিবার আছে, কারও বাবা-মা, কারও সন্তান, কারও খুব কাছের একজন মানুষ আছেন। সেই মানুষগুলোর জন্যই ক্যানসার গবেষণার প্রতিটি ছোট অগ্রগতিরও আলাদা মূল্য আছে।
ক্যানসার আমার পরিবার এবং খুব কাছের কিছু মানুষকেও ছুঁয়ে গেছে। তাই ক্যানসার নিয়ে কোনো নতুন খবর আমার কাছে শুধু একটি বৈজ্ঞানিক খবর হয়ে থাকে না; এর সঙ্গে মানুষের আশা, ভয়, অপেক্ষা আর বেঁচে থাকার গল্পও জড়িয়ে থাকে।
হয়তো এ কারণেই পৃথিবীর কোথাও ক্যানসার নিয়ে নতুন কোনো আবিষ্কারের খবর এলেই, একজন গবেষক হিসেবে শুধু জানতে ইচ্ছে করে না—ভাবতেও ইচ্ছে করে, এই আবিষ্কারটি একদিন কতজন মানুষের জীবনে একটু বেশি সময়, একটু বেশি আশা আর একটু কম ভয় এনে দিতে পারবে।

সম্প্রতি ‘মডার্না’ ও ‘মার্ক’-এর তৈরি একটি ব্যক্তিকেন্দ্রিক এমআরএনএ ক্যানসার ভ্যাকসিন নিয়ে নতুন খবর সামনে এসেছে। খবরটি পড়ার পর প্রথম যে কথাটি মনে হয়েছে, সেটি হলো—এখনই একে ‘ক্যানসারের টিকা আবিষ্কার’ বলে ফেললে হয়তো আমরা বিজ্ঞানের আসল গল্পটাকেই ছোট করে ফেলব। কিন্তু একই সঙ্গে এটাও সত্যি, ক্যানসারের চিকিৎসা যে ধীরে ধীরে নতুন এক দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, এই গবেষণা তার খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ইঙ্গিত।
গবেষণাটি মূলত ‘মেলানোমা’ বা ত্বকের এক ধরনের গুরুতর ক্যানসার নিয়ে। যেসব রোগীর অস্ত্রোপচার করে ক্যানসার সরিয়ে ফেলা হয়েছে, কিন্তু ভবিষ্যতে রোগটি আবার ফিরে আসতে পারে বা শরীরের অন্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে, তাঁদের নিয়ে এই গবেষণা করা হয়েছে।
বড় পরিসরের তৃতীয় ধাপের পরীক্ষায় ১,১৩৭ জন রোগী অংশ নিয়েছেন। তাঁদের একদলকে প্রচলিত রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা সক্রিয়কারী ওষুধ পেমব্রোলিজুমাব-এর সঙ্গে ব্যক্তিকেন্দ্রিক এমআরএনএ ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। আর অন্যদলকে দেওয়া হয়েছে পেমব্রোলিজুমাব একাই। ১৯ আগস্ট ২০২৬ ‘মডার্না’ ও ‘মার্ক’ যে প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা গেছে ভ্যাকসিনের সঙ্গে ওষুধটি ব্যবহার করা রোগীদের ক্ষেত্রে ক্যানসার আবার ফিরে আসা এবং শরীরের অন্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়ার বিরুদ্ধে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে।
এই জায়গাটিই সবচেয়ে বেশি আগ্রহ তৈরি করে।
এটি এমন কোনো টিকা নয়, যা আমরা ছোটোবেলায় নেওয়া হাম বা অন্য সংক্রামক রোগের টিকার মতো সবাইকে দিয়ে দেব এবং ভবিষ্যতে ক্যানসার হবে না। বরং ক্যানসার হয়ে যাওয়ার পর একজন নির্দিষ্ট রোগীর ক্যানসারকে দেখে তাঁর জন্য আলাদা করে চিকিৎসা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।
একজন রোগীর ক্যানসার অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সরিয়ে ফেলার পরও শরীরে খুব অল্পসংখ্যক ক্যানসার কোষ থেকে যেতে পারে। সেগুলো তখন কোনো পরীক্ষায় সহজে ধরা নাও পড়তে পারে। কয়েক মাস বা কয়েক বছর পর সেই কোষ থেকেই আবার রোগ ফিরে আসতে পারে বা শরীরের অন্য জায়গায় ছড়িয়ে যেতে পারে। এই নতুন পদ্ধতির মূল চিন্তাটি হলো—রোগীর নিজের ক্যানসারের বিশেষ বৈশিষ্ট্যগুলো আগে শনাক্ত করা হবে। তারপর সেই তথ্য ব্যবহার করে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাকে এমনভাবে প্রস্তুত করা হবে, যাতে ওই ক্যানসার কোষগুলো আবার দেখা দিলে শরীর সেগুলো চিনতে পারে এবং আক্রমণ করতে পারে।
সহজ করে বললে, ক্যানসার কোষের নিজের একটি ‘পরিচয়পত্র’ তৈরি করে সেটি শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে চিনিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এখানে এমআরএনএ প্রযুক্তির ব্যবহার হচ্ছে। রোগীর ক্যানসারের জিনগত পরিবর্তন পরীক্ষা করে কিছু নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য খুঁজে বের করা হয়, যেগুলো ক্যানসার কোষকে স্বাভাবিক কোষ থেকে আলাদা করে। এরপর সেই তথ্যের ভিত্তিতে রোগীর জন্য ব্যক্তিকেন্দ্রিক ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়। তাই একই ক্যানসারে আক্রান্ত দুইজন মানুষের ভ্যাকসিনও একই রকম নাও হতে পারে। এই পদ্ধতিকে ব্যক্তিকেন্দ্রিক বা নির্দিষ্ট রোগীর উপযোগী ক্যানসার চিকিৎসার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আমার কাছে ক্যানসার গবেষণার সবচেয়ে সুন্দর পরিবর্তনগুলোর একটি এখানেই। একসময় ক্যানসার চিকিৎসায় অনেকটাই এমন ধারণা ছিল—এই অঙ্গে ক্যানসার হয়েছে, তাই এই চিকিৎসা দিতে হবে। এখন ধীরে ধীরে প্রশ্নটি বদলাচ্ছে। শুধু কোথায় ক্যানসার হয়েছে সেটিই নয়, কেন এই ক্যানসারটি এই রোগীর শরীরে তৈরি হয়েছে, এর ভেতরের বৈশিষ্ট্য কী, আর সেই বৈশিষ্ট্যকে কীভাবে লক্ষ্য করা যায়—সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
এই পরিবর্তনকে বলা হয় ব্যক্তিকেন্দ্রিক ক্যানসার চিকিৎসা। ভবিষ্যতের ক্যানসার চিকিৎসা হয়তো আরও বেশি এই পথেই এগোবে।
তবে আশার জায়গার পাশাপাশি একটু থামাও দরকার। কারণ এখন পর্যন্ত যে তথ্য সামনে এসেছে, সেটি মূলত কোম্পানিগুলোর প্রকাশিত প্রাথমিক (ফেজ-৩) ফলাফল। পূর্ণাঙ্গ গবেষণার তথ্য, দীর্ঘমেয়াদে রোগীরা কতদিন বেশি বেঁচে থাকছেন, এবং বিস্তারিত ফলাফল প্রকাশের পরই চিকিৎসাটির প্রকৃত উপকারিতা আরও ভালোভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে। এখনো পূর্ণাঙ্গ গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়নি। তাই এটিকে ক্যানসারের নিরাময় বা সব ক্যানসারের জন্য কার্যকর টিকা বলা ঠিক হবে না। কিন্তু তাই বলে খবরটির গুরুত্বও কম নয়।
কারণ ক্যানসারের সবচেয়ে কঠিন জায়গাগুলোর একটি হলো—রোগটি একবার চলে যাওয়ার পরও আবার ফিরে আসা। একজন রোগী অস্ত্রোপচারের পর যখন জানতে পারেন তাঁর শরীরে আর ক্যানসার নেই, তখন তাঁর এবং পরিবারের জন্য সেটি নিঃসন্দেহে সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্ত। কিন্তু একই সঙ্গে মনে একটি ভয় থেকে যায়—আবার কি ফিরে আসবে?
এই নতুন গবেষণার লক্ষ্য ঠিক সেই ভয়টির জায়গায় আঘাত করা।
অস্ট্রেলিয়ার জন্যও এই গবেষণার আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। মেলানোমা নিয়ে গবেষণায় অস্ট্রেলিয়া পৃথিবীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দেশ। অস্ট্রেলিয়ার গবেষক ও চিকিৎসকেরা বহু বছর ধরে মেলানোমা, রোগপ্রতিরোধভিত্তিক চিকিৎসা এবং নতুন ধরনের ক্যানসার চিকিৎসা নিয়ে কাজ করে আসছেন। মেলানোমা ইনস্টিটিউট অস্ট্রেলিয়া-তেও ভি৯৪০ এবং পেমব্রোলিজুমাব নিয়ে মেলানোমা-সংক্রান্ত ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চলমান রয়েছে।
বাংলাদেশের দিক থেকেও এই খবরটি ভাবার মতো। কারণ নতুন কোনো ক্যানসার চিকিৎসা আবিষ্কার হলেই আমাদের রোগীরা সঙ্গে সঙ্গে সেটি পেয়ে যাবেন—বিষয়টি এত সহজ নয়। এর জন্য প্রয়োজন উন্নত রোগ নির্ণয় ব্যবস্থা, ক্যানসারের জিনগত বৈশিষ্ট্য পরীক্ষা করার সুযোগ, দক্ষ চিকিৎসক ও গবেষক, ক্লিনিক্যাল রিসার্চ-এর পরিবেশ এবং সবচেয়ে বড় কথা—সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা।
একদিন হয়তো ক্যানসারের চিকিৎসা আরও বেশি ব্যক্তিকেন্দ্রিক হবে। একই অঙ্গে ক্যানসার হলেও দুজন রোগীর চিকিৎসা আলাদা হতে পারে, কারণ তাঁদের ক্যানসারের ভেতরের বৈশিষ্ট্য আলাদা। আজ যে গবেষণাটি খবরের শিরোনাম হচ্ছে, সেটি হয়তো সেই ভবিষ্যতেরই একটি ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
তাই এই খবর নিয়ে আনন্দ করার কারণ আছে, আশাবাদী হওয়ারও কারণ আছে। কিন্তু ক্যানসারের রোগী ও তাঁদের পরিবারের সামনে এমন আশা তৈরি করার সময় আমাদের ভাষাটাও দায়িত্বশীল হওয়া দরকার।
এখনো ক্যানসারের চূড়ান্ত সমাধান পাওয়া যায়নি। কিন্তু ক্যানসারকে আরও ভালোভাবে বুঝে, প্রতিটি রোগীর ক্যানসারকে আলাদাভাবে চিনে, তার বিরুদ্ধে শরীরের নিজের প্রতিরোধ ক্ষমতাকে কাজে লাগানোর যে চেষ্টা শুরু হয়েছে—সেটিই হয়তো ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় পরিবর্তনগুলোর একটি হয়ে উঠতে পারে।
আর ক্যানসার নিয়ে কাজ করার কারণে হয়তো এই ধরনের খবর আমার কাছে একটু অন্যরকম। গবেষণার ফলাফল পড়তে গিয়ে সংখ্যাগুলোর পাশাপাশি বারবার মনে হয়—ওই সংখ্যাগুলোর প্রতিটির পেছনে একজন মানুষ আছেন, একটি পরিবার আছে, কারও বাবা-মা, কারও সন্তান, কারও খুব কাছের একজন মানুষ আছেন। সেই মানুষগুলোর জন্যই ক্যানসার গবেষণার প্রতিটি ছোট অগ্রগতিরও আলাদা মূল্য আছে।
ক্যানসার আমার পরিবার এবং খুব কাছের কিছু মানুষকেও ছুঁয়ে গেছে। তাই ক্যানসার নিয়ে কোনো নতুন খবর আমার কাছে শুধু একটি বৈজ্ঞানিক খবর হয়ে থাকে না; এর সঙ্গে মানুষের আশা, ভয়, অপেক্ষা আর বেঁচে থাকার গল্পও জড়িয়ে থাকে।
হয়তো এ কারণেই পৃথিবীর কোথাও ক্যানসার নিয়ে নতুন কোনো আবিষ্কারের খবর এলেই, একজন গবেষক হিসেবে শুধু জানতে ইচ্ছে করে না—ভাবতেও ইচ্ছে করে, এই আবিষ্কারটি একদিন কতজন মানুষের জীবনে একটু বেশি সময়, একটু বেশি আশা আর একটু কম ভয় এনে দিতে পারবে।
.png)

শিল্পকারখানা একবার বন্ধ হয়ে গেলে তা আবার চালু করা কতটা কঠিন, তা বোঝা যায় বিকেএমইএর সদস্যভুক্ত কারখানার সংখ্যার দিকে তাকালেই। দুই হাজারের বেশি কারখানা থেকে কমে সেই সংখ্যা এখন আটশোর ঘরে নেমে এসেছে।
৪ ঘণ্টা আগে
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মন্ত্রিপরিষদ সচিব দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান হিসেবে মাননীয় (অব.) বিচারপতি এ.কে.এম. আসাদুজ্জামানের নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই এ নিয়োগের পক্ষে-বিপক্ষে মতামত দিচ্ছেন এবং প্রশ্ন উঠেছে, নিয়োগ আইনসিদ্ধ হলো কিনা। বাংলাদেশে সংবিধানই রা
১৯ ঘণ্টা আগে
নতুন রাষ্ট্রপতি শপথ গ্রহণের পর মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ছয়জন যুক্ত হওয়ার ঘটনাও সবার নজর কাড়বে। বলা হচ্ছিল, সরকারের ছয় মাসের মাথায় মন্ত্রিসভায় কিছু রদবদল আনা হবে। বড় রদবদল হয়েছে, তা অবশ্য বলা যাবে না। প্রকৃতপক্ষে নতুন চারজন মন্ত্রিসভায় যুক্ত হয়েছেন।
১৯ ঘণ্টা আগে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশের অবস্থান জানানোর পর দুই দেশের সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছে। দিল্লি সফরের সম্ভাব্য সময় নিয়ে যখন আলোচনা চলছিল, তখন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করেছে–প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের ‘অনুকূল পরিবেশ’ প্রয়
২০ ঘণ্টা আগে