লেখা:

‘আমি যদি মহৎ হই, তবে যেন আমাকে পুণ্যবানদের দলে গণ্য করা হয়; আর যদি খারাপ হই, তবে তাঁদের খাতিরে যেন আমাকে ক্ষমা করা হয়।’
কথাগুলো চতুর্দশ শতাব্দীর বিখ্যাত সুফি সাধক নিজামুদ্দিন আউলিয়ার। তাঁর আধ্যাত্মিক জীবন, কথোপকথন ও দর্শনের নানা দিক সংকলিত হয়েছে ‘ফাওয়াইদ উল ফুয়াদ’ বইয়ে। এতে উঠে এসেছে সেই সময়ের সুফি সাধকদের জীবনবোধ, নৈতিকতা ও আত্মশুদ্ধির নানা কথা।
সে যুগে এমন কিছু মানুষ ছিলেন, যাঁদের অন্তর স্রষ্টা ও তাঁর সৃষ্টির প্রতি গভীর ভালোবাসায় পূর্ণ। নিজামুদ্দিন আউলিয়া বলতেন, দরবেশরা (সুফি সাধকরা) নিজেদের যুক্তি এত সুন্দর ও ভদ্রভাবে উপস্থাপন করেন যে, মানুষ অবাক হয়ে ভাবে, পরস্পরকে ভালোবাসা প্রকাশের সময় তাঁরা না জানি আরও কত মধুর ভাষা ব্যবহার করেন!
নিজামুদ্দিন আউলিয়া ও তাঁর অনুসারীদের কথোপকথনের বিভিন্ন অংশ নিয়ে আলোচনা করব এ লেখায়। এসব কথোপকথনে সুফিবাদে নৈতিক আচরণ ও আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণের গুরুত্ব স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।
নিজামুদ্দিন আউলিয়া একবার জমায়েতে বসে অতীত ও ভবিষ্যতের কথা বলছিলেন। তিনি শোনালেন নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর একটি ভবিষ্যদ্বাণী। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, নবীর ইন্তেকালের পর চল্লিশ বছর করে মোট পাঁচটি প্রজন্ম আসবে। আর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের নৈতিকতার পতন ঘটতে থাকবে।
প্রথম প্রজন্ম ছিল নবীর সাহাবিদের। তাঁরা ছিলেন আধ্যাত্মিক জ্ঞানে সমৃদ্ধ এবং সৃষ্টিকর্তার ধ্যানে মগ্ন। দ্বিতীয় প্রজন্ম ছিল সাহাবিদের অনুসারী, অর্থাৎ তাবেয়িন। তাঁরা সৎকর্ম ও খোদাভীরুতার জন্য পরিচিত ছিলেন। তৃতীয় প্রজন্মের মানুষরা জাগতিক আকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করে আল্লাহর প্রেমে নিজেদের সম্পদ ও সামর্থ্য অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নিতেন। মানুষের প্রতি সহানুভূতি ও সহমর্মিতাই ছিল তাঁদের বৈশিষ্ট্য।
কিন্তু এরপর পরিস্থিতি খারাপ হতে থাকে। চতুর্থ প্রজন্মের মানুষেরা একে অপরের প্রতি শত্রুভাবাপন্ন হয়ে উঠবে। সবকিছু নিজের দখলে নেওয়ার জন্য তাঁরা তীব্র প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হবে। মানুষের কল্যাণ ভুলে সম্পদ কুক্ষিগত করাই হয়ে উঠবে তাঁদের লক্ষ্য। আর পঞ্চম প্রজন্মের মানুষেরা বসবাস করবে চরম নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলার মধ্যে। নিজেদের স্বার্থে তাঁরা বন্য পশুর মতো একে অপরকে হত্যা করবে।
‘ফাওয়াইদ উল ফুয়াদ’ বইয়ে আছে, চতুর্দশ শতাব্দীতে সুফি সাধকদের সঙ্গে যোগীদের আধ্যাত্মিক ক্ষমতা প্রদর্শনের এক ধরনের প্রতিযোগিতার কথাও পাওয়া যায়। সুফিরা মনে করতেন যে, তাঁরা যোগীদের (সনাতন ধর্মের সাধক) চেয়ে আরও শক্তিশালী অলৌকিক ক্ষমতা দেখাতে সক্ষম।
যোগীদেরকে সেসময় কিছুটা নিম্ন স্তরের সাধক মনে করা হতো। কিছু সুফি যোগীদের থেকে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখতেন, আবার কেউ কেউ তাঁদের সাথে আলোচনায় বসতেন এবং একসঙ্গে অলৌকিক ক্ষমতাও প্রদর্শন করতেন। আধ্যাত্মিক জগতে এই ধরনের প্রতিযোগিতা কেমন ছিল, তা একটি গল্পের মাধ্যমে বোঝা যায়।
সুফিরা বিশ্বাস করতেন, তাঁরা চাইলে বাতাসে উড়তে পারেন। সিন্ধু প্রদেশের উচে শেখ সফিউদ্দিন গাজেরুনি এবং এক যোগীর মধ্যকার এমন একটি প্রচলিত ঘটনা বেশ চমকপ্রদ। সেই যোগী এসে শেখকে বাতাসে ভাসার প্রতিযোগিতার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন। শেখ বিনীতভাবে বললেন, ‘যেহেতু দাবিটি তুমি করেছ, তাই শুরুটাও তোমারই করা উচিত।’ যোগী শূন্যে ভেসে একদম ছাদ পর্যন্ত উঠে গেলেন। এরপর নিচে নেমে এসে তিনি শেখকে অলৌকিক কিছু করে দেখাতে বললেন।
শেখ সফিউদ্দিন আকাশের দিকে তাকিয়ে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করলেন। এরপর তিনি শুধু ওপরেই উঠলেন না, পশ্চিম, উত্তর, দক্ষিণ—চারদিকে বাতাসে উড়ে বেড়িয়ে আবার নিজের জায়গায় এসে বসলেন! যোগী অবাক হয়ে স্বীকার করলেন যে, তাঁর ক্ষমতা শুধু সোজাসুজি ওপরে ওঠা পর্যন্তই, ডানে-বাঁয়ে ঘোরার সামর্থ্য তাঁর নেই। মাথা নত করে তিনি মেনে নিলেন সুফিদের শ্রেষ্ঠত্ব।
সুফিদের জীবন ছিল স্রষ্টার প্রেমে মশগুল। দিল্লির অত্যন্ত সম্মানিত সুফি নারী বিবি ফাতিমা সাম একবার নিজামুদ্দিন আউলিয়াকে তাঁর পরিচিত একজনকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। ফাতিমা সামকে সবাই খুব সম্মান করতেন, তাই তাঁকে সরাসরি ‘না’ বলাটা বেশ অস্বস্তিকর ছিল। তখন নিজামুদ্দিন তাঁকে তাঁর পীর শেখ ফরিদউদ্দিনের একটি গল্প শোনান।
গল্পটির মূল কথা ছিল, সুফিদের এসব জাগতিক বিষয়ে সময় নষ্ট করার সুযোগ নেই। ফাতিমা সাম ইশারাটা ঠিকই বুঝতে পারেন। ইসলাম ধর্মে বিয়েকে পবিত্র বন্ধন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু অনেক সুফি মনে করতেন সংসারের দায়িত্ব তাঁরা ঠিকমতো পালন করতে পারবেন না। তাই নিজেদের পুরোটা সময় মানুষের সেবা, সৃষ্টিকর্তার প্রার্থনা আর ধ্যান করেই কাটিয়ে দিতেন। জাগতিক প্রেমের চেয়ে স্রষ্টার প্রেমই ছিল তাঁদের কাছে বড়।
সেই যুগে মানুষ সুফিদের কতটা সম্মান করত, তা তাঁদের দরবারে গেলেই বোঝা যেত। ভক্তরা দোয়া পাওয়ার আশায় সুফিদের হাত চুম্বন করতেন। কিন্তু নিজামুদ্দিন আউলিয়ার ভাবনা ছিল অন্যরকম। তিনি বলতেন, দরবেশরা যখন হাত বাড়িয়ে দেন, তখন তাঁরা মনে মনে ভাবেন—হয়তো কোনো পুণ্যবান মানুষের হাত স্পর্শ করার সৌভাগ্য তাঁদের হচ্ছে!
এত সম্মানের মাঝেও সুফিরা পা মাটিতে রাখতেন। তাঁরা জানতেন, কেউ কেউ তাঁদের দিকে পাথরও ছুঁড়তে পারে। এই বৈপরীত্যকেও তাঁরা আল্লাহর এক ধরনের শিক্ষা হিসেবে দেখতেন। কারণ মানুষের প্রশংসায় যেন তাঁদের মনে অহংকার না জন্মায়, সেটিই ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
সেই যুগে সুফিদের প্রতি মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসও ছিল গভীর। বিভিন্ন মানসিক বা শারীরিক অসুস্থতা থেকে মুক্তি পাওয়ার আশায় মানুষ তাঁদের কাছে তাবিজ নিতে আসত। শেখ ফরিদউদ্দিন নিজামুদ্দিনকে উপদেশ দিয়েছিলেন, যেন কেউ তাঁদের কাছ থেকে খালি হাতে ফিরে না যায়।
অসুস্থতা নিরাময়ের এই তাবিজগুলোতে খুব সহজ কিছু বাক্য লেখা থাকত—যেমন ‘আল্লাহ-ও শাফি’ (আল্লাহই নিরাময়কারী), ‘আল্লাহ-ও কাফি’ (আল্লাহই যথেষ্ট), ‘আল্লাহ-ও মা’আফি’ (আল্লাহই ক্ষমাকারী)। সুফিদের বিশ্বাস ছিল, যদি তাবিজে কাজ হয়, তবে সুফিরা এর কৃতিত্ব পাবেন; আর যদি কাজ না হয়, তবে ধরে নিতে হবে এটাই আল্লাহর ইচ্ছা। মূলত, আল্লাহর ইচ্ছার কাছে নিজেকে সম্পূর্ণ সমর্পণ করাই ছিল সুফিবাদের মূল আদর্শ।
শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে সুফিবাদ মানুষকে সহনশীলতা ও শান্তির শিক্ষা দিয়ে আসছে। সব ধরনের কষ্ট সহ্য করে, নিজেকে সব ধরনের মন্দ কাজ থেকে দূরে রেখে নিজেকে সুফির কাতারে নিয়ে গেছেন তাঁরা। হজরত নিজামুদ্দিন আউলিয়া প্রার্থনা করতেন, বৃহত্তর মুসলিম বিশ্বের পুণ্যবান সাধকদের কাতারে যেন তাঁকে গণ্য করা হয়। স্রষ্টার প্রতি নিখাদ প্রেম আর মানুষের সেবাই ছিল এই সুফি-সাধকদের জীবনের মূল মন্ত্র।
• স্ক্রল ডট ইন থেকে অনূদিত। অনুবাদ করেছেন ফাবিহা বিনতে হক

‘আমি যদি মহৎ হই, তবে যেন আমাকে পুণ্যবানদের দলে গণ্য করা হয়; আর যদি খারাপ হই, তবে তাঁদের খাতিরে যেন আমাকে ক্ষমা করা হয়।’
কথাগুলো চতুর্দশ শতাব্দীর বিখ্যাত সুফি সাধক নিজামুদ্দিন আউলিয়ার। তাঁর আধ্যাত্মিক জীবন, কথোপকথন ও দর্শনের নানা দিক সংকলিত হয়েছে ‘ফাওয়াইদ উল ফুয়াদ’ বইয়ে। এতে উঠে এসেছে সেই সময়ের সুফি সাধকদের জীবনবোধ, নৈতিকতা ও আত্মশুদ্ধির নানা কথা।
সে যুগে এমন কিছু মানুষ ছিলেন, যাঁদের অন্তর স্রষ্টা ও তাঁর সৃষ্টির প্রতি গভীর ভালোবাসায় পূর্ণ। নিজামুদ্দিন আউলিয়া বলতেন, দরবেশরা (সুফি সাধকরা) নিজেদের যুক্তি এত সুন্দর ও ভদ্রভাবে উপস্থাপন করেন যে, মানুষ অবাক হয়ে ভাবে, পরস্পরকে ভালোবাসা প্রকাশের সময় তাঁরা না জানি আরও কত মধুর ভাষা ব্যবহার করেন!
নিজামুদ্দিন আউলিয়া ও তাঁর অনুসারীদের কথোপকথনের বিভিন্ন অংশ নিয়ে আলোচনা করব এ লেখায়। এসব কথোপকথনে সুফিবাদে নৈতিক আচরণ ও আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণের গুরুত্ব স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।
নিজামুদ্দিন আউলিয়া একবার জমায়েতে বসে অতীত ও ভবিষ্যতের কথা বলছিলেন। তিনি শোনালেন নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর একটি ভবিষ্যদ্বাণী। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, নবীর ইন্তেকালের পর চল্লিশ বছর করে মোট পাঁচটি প্রজন্ম আসবে। আর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের নৈতিকতার পতন ঘটতে থাকবে।
প্রথম প্রজন্ম ছিল নবীর সাহাবিদের। তাঁরা ছিলেন আধ্যাত্মিক জ্ঞানে সমৃদ্ধ এবং সৃষ্টিকর্তার ধ্যানে মগ্ন। দ্বিতীয় প্রজন্ম ছিল সাহাবিদের অনুসারী, অর্থাৎ তাবেয়িন। তাঁরা সৎকর্ম ও খোদাভীরুতার জন্য পরিচিত ছিলেন। তৃতীয় প্রজন্মের মানুষরা জাগতিক আকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করে আল্লাহর প্রেমে নিজেদের সম্পদ ও সামর্থ্য অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নিতেন। মানুষের প্রতি সহানুভূতি ও সহমর্মিতাই ছিল তাঁদের বৈশিষ্ট্য।
কিন্তু এরপর পরিস্থিতি খারাপ হতে থাকে। চতুর্থ প্রজন্মের মানুষেরা একে অপরের প্রতি শত্রুভাবাপন্ন হয়ে উঠবে। সবকিছু নিজের দখলে নেওয়ার জন্য তাঁরা তীব্র প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হবে। মানুষের কল্যাণ ভুলে সম্পদ কুক্ষিগত করাই হয়ে উঠবে তাঁদের লক্ষ্য। আর পঞ্চম প্রজন্মের মানুষেরা বসবাস করবে চরম নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলার মধ্যে। নিজেদের স্বার্থে তাঁরা বন্য পশুর মতো একে অপরকে হত্যা করবে।
‘ফাওয়াইদ উল ফুয়াদ’ বইয়ে আছে, চতুর্দশ শতাব্দীতে সুফি সাধকদের সঙ্গে যোগীদের আধ্যাত্মিক ক্ষমতা প্রদর্শনের এক ধরনের প্রতিযোগিতার কথাও পাওয়া যায়। সুফিরা মনে করতেন যে, তাঁরা যোগীদের (সনাতন ধর্মের সাধক) চেয়ে আরও শক্তিশালী অলৌকিক ক্ষমতা দেখাতে সক্ষম।
যোগীদেরকে সেসময় কিছুটা নিম্ন স্তরের সাধক মনে করা হতো। কিছু সুফি যোগীদের থেকে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখতেন, আবার কেউ কেউ তাঁদের সাথে আলোচনায় বসতেন এবং একসঙ্গে অলৌকিক ক্ষমতাও প্রদর্শন করতেন। আধ্যাত্মিক জগতে এই ধরনের প্রতিযোগিতা কেমন ছিল, তা একটি গল্পের মাধ্যমে বোঝা যায়।
সুফিরা বিশ্বাস করতেন, তাঁরা চাইলে বাতাসে উড়তে পারেন। সিন্ধু প্রদেশের উচে শেখ সফিউদ্দিন গাজেরুনি এবং এক যোগীর মধ্যকার এমন একটি প্রচলিত ঘটনা বেশ চমকপ্রদ। সেই যোগী এসে শেখকে বাতাসে ভাসার প্রতিযোগিতার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন। শেখ বিনীতভাবে বললেন, ‘যেহেতু দাবিটি তুমি করেছ, তাই শুরুটাও তোমারই করা উচিত।’ যোগী শূন্যে ভেসে একদম ছাদ পর্যন্ত উঠে গেলেন। এরপর নিচে নেমে এসে তিনি শেখকে অলৌকিক কিছু করে দেখাতে বললেন।
শেখ সফিউদ্দিন আকাশের দিকে তাকিয়ে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করলেন। এরপর তিনি শুধু ওপরেই উঠলেন না, পশ্চিম, উত্তর, দক্ষিণ—চারদিকে বাতাসে উড়ে বেড়িয়ে আবার নিজের জায়গায় এসে বসলেন! যোগী অবাক হয়ে স্বীকার করলেন যে, তাঁর ক্ষমতা শুধু সোজাসুজি ওপরে ওঠা পর্যন্তই, ডানে-বাঁয়ে ঘোরার সামর্থ্য তাঁর নেই। মাথা নত করে তিনি মেনে নিলেন সুফিদের শ্রেষ্ঠত্ব।
সুফিদের জীবন ছিল স্রষ্টার প্রেমে মশগুল। দিল্লির অত্যন্ত সম্মানিত সুফি নারী বিবি ফাতিমা সাম একবার নিজামুদ্দিন আউলিয়াকে তাঁর পরিচিত একজনকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। ফাতিমা সামকে সবাই খুব সম্মান করতেন, তাই তাঁকে সরাসরি ‘না’ বলাটা বেশ অস্বস্তিকর ছিল। তখন নিজামুদ্দিন তাঁকে তাঁর পীর শেখ ফরিদউদ্দিনের একটি গল্প শোনান।
গল্পটির মূল কথা ছিল, সুফিদের এসব জাগতিক বিষয়ে সময় নষ্ট করার সুযোগ নেই। ফাতিমা সাম ইশারাটা ঠিকই বুঝতে পারেন। ইসলাম ধর্মে বিয়েকে পবিত্র বন্ধন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু অনেক সুফি মনে করতেন সংসারের দায়িত্ব তাঁরা ঠিকমতো পালন করতে পারবেন না। তাই নিজেদের পুরোটা সময় মানুষের সেবা, সৃষ্টিকর্তার প্রার্থনা আর ধ্যান করেই কাটিয়ে দিতেন। জাগতিক প্রেমের চেয়ে স্রষ্টার প্রেমই ছিল তাঁদের কাছে বড়।
সেই যুগে মানুষ সুফিদের কতটা সম্মান করত, তা তাঁদের দরবারে গেলেই বোঝা যেত। ভক্তরা দোয়া পাওয়ার আশায় সুফিদের হাত চুম্বন করতেন। কিন্তু নিজামুদ্দিন আউলিয়ার ভাবনা ছিল অন্যরকম। তিনি বলতেন, দরবেশরা যখন হাত বাড়িয়ে দেন, তখন তাঁরা মনে মনে ভাবেন—হয়তো কোনো পুণ্যবান মানুষের হাত স্পর্শ করার সৌভাগ্য তাঁদের হচ্ছে!
এত সম্মানের মাঝেও সুফিরা পা মাটিতে রাখতেন। তাঁরা জানতেন, কেউ কেউ তাঁদের দিকে পাথরও ছুঁড়তে পারে। এই বৈপরীত্যকেও তাঁরা আল্লাহর এক ধরনের শিক্ষা হিসেবে দেখতেন। কারণ মানুষের প্রশংসায় যেন তাঁদের মনে অহংকার না জন্মায়, সেটিই ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
সেই যুগে সুফিদের প্রতি মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসও ছিল গভীর। বিভিন্ন মানসিক বা শারীরিক অসুস্থতা থেকে মুক্তি পাওয়ার আশায় মানুষ তাঁদের কাছে তাবিজ নিতে আসত। শেখ ফরিদউদ্দিন নিজামুদ্দিনকে উপদেশ দিয়েছিলেন, যেন কেউ তাঁদের কাছ থেকে খালি হাতে ফিরে না যায়।
অসুস্থতা নিরাময়ের এই তাবিজগুলোতে খুব সহজ কিছু বাক্য লেখা থাকত—যেমন ‘আল্লাহ-ও শাফি’ (আল্লাহই নিরাময়কারী), ‘আল্লাহ-ও কাফি’ (আল্লাহই যথেষ্ট), ‘আল্লাহ-ও মা’আফি’ (আল্লাহই ক্ষমাকারী)। সুফিদের বিশ্বাস ছিল, যদি তাবিজে কাজ হয়, তবে সুফিরা এর কৃতিত্ব পাবেন; আর যদি কাজ না হয়, তবে ধরে নিতে হবে এটাই আল্লাহর ইচ্ছা। মূলত, আল্লাহর ইচ্ছার কাছে নিজেকে সম্পূর্ণ সমর্পণ করাই ছিল সুফিবাদের মূল আদর্শ।
শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে সুফিবাদ মানুষকে সহনশীলতা ও শান্তির শিক্ষা দিয়ে আসছে। সব ধরনের কষ্ট সহ্য করে, নিজেকে সব ধরনের মন্দ কাজ থেকে দূরে রেখে নিজেকে সুফির কাতারে নিয়ে গেছেন তাঁরা। হজরত নিজামুদ্দিন আউলিয়া প্রার্থনা করতেন, বৃহত্তর মুসলিম বিশ্বের পুণ্যবান সাধকদের কাতারে যেন তাঁকে গণ্য করা হয়। স্রষ্টার প্রতি নিখাদ প্রেম আর মানুষের সেবাই ছিল এই সুফি-সাধকদের জীবনের মূল মন্ত্র।
• স্ক্রল ডট ইন থেকে অনূদিত। অনুবাদ করেছেন ফাবিহা বিনতে হক
.png)

বুধবার সন্ধ্যা ৬টা। নীলক্ষেত বইয়ের বাজারে হন্তদন্ত হয়ে হাঁটছেন রবিউল ইসলাম। অফিস ছুটির পর ভিড়-বাসে চেপে বই কিনতে এসেছেন সদ্য স্কুলে ভর্তি হওয়া সন্তান আহনাফের জন্য। প্রথমে একটি দোকানে ঢুকে শিশুদের বই দেখতে চাইলেন। দোকানি একগাদা রূপকথার বই সামনে এনে রাখলেন। বইগুলো উল্টেপাল্টে দেখতে দেখতে রবিউলের ন
২১ আগস্ট ২০২৬
দেশজুড়ে আড়ংয়ের বর্তমানে ৩৪টি আউটলেট রয়েছে। ২০২৩–২৪ সালে আড়ংয়ের মোট বিক্রির পরিমাণ ছিল প্রায় ১,৬৪১ কোটি টাকা, যা আগের বছরের ১,৫৩৫ কোটি টাকার তুলনায় প্রায় ৬ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। আড়ংয়ের হিসাবভুক্ত মোট সম্পদের পরিমাণও প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকা। সারাদেশে রয়েছে ৮৩৫টির বেশি প্রোডাকশন ও সাব-সেন্টার।