অনেকেই মনে করেন, ব্যবসার শুরুটা করতেও লাখ লাখ টাকা লাগবে। এখন একটি স্মার্টফোন, ইন্টারনেট সংযোগ এবং ১০ হাজার টাকার মতো ছোট বাজেট দিয়েও নিজের ব্যবসা শুরু করা সম্ভব। তবে ব্যবসা শুরু করার আগে কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হবে।
তামান্না আনজুম

বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজজীবন নতুন কিছু শেখার, নিজের দক্ষতা গড়ে তোলার এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার সময়। অনেক শিক্ষার্থীই পড়াশোনার পাশাপাশি এমন কিছু করতে চান, যাতে নিজের হাতখরচ চালানো যায়, পরিবারের ওপর চাপ কমে এবং একই সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতাও তৈরি হয়। এখানেই শুরু হতে পারে অনলাইনে ছোট পরিসরে ব্যবসার পথচলা।
আপনার হাতে যদি ১০ হাজার টাকা থাকে, সেই টাকা দিয়েও একটি ছোট ব্যবসা শুরু করা সম্ভব। তবে এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রথম দিন থেকেই বড় লাভের পেছনে না ছুটে শেখা, কয়েকদিন সময় নিয়ে ব্যবসার ফলাফল পরীক্ষা করা এবং সেই ফল অনুযায়ী ধীরে ধীরে এগিয়ে যাওয়া।
ফেসবুকে পোশাক বিক্রি, ঘরে তৈরি খাবার, থ্রিফট স্টোর কিংবা হাতের কাজের পণ্য নিয়ে ছোট পরিসরে ব্যবসা শুরু করা সম্ভব। এর পাশাপাশি ডিজিটাল পণ্য বিক্রিও শিক্ষার্থীদের জন্য আকর্ষণীয় একটি সুযোগ। সিভি টেমপ্লেট, ডিজিটাল প্ল্যানার, প্রেজেন্টেশন ডিজাইন বা সোশ্যাল মিডিয়া টেমপ্লেট তৈরি করে অনলাইনে বিক্রি করা যায়।
একবার তৈরি করা পণ্য বারবার বিক্রি করার সুযোগ থাকায় এতে অতিরিক্ত উৎপাদন খরচও তুলনামূলক কম। যাদের লেখালেখি, ভিডিও এডিটিং বা সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্টে দক্ষতা রয়েছে, তারা এসব দক্ষতাকে সেবায় পরিণত করতে পারেন। ফেসবুক পেজ মনিটরিং, ক্যাপশন লেখা, ভিডিও এডিটিং কিংবা কনটেন্ট তৈরির কাজ দিয়ে শুরু করা যায়।
বর্তমানে এআই-ভিত্তিক ডিজিটাল সেবারও সুযোগ তৈরি হয়েছে। কনটেন্ট লেখা, প্রেজেন্টেশন বানানো, ডিজাইন বা কনটেন্ট তৈরিতে এআই ব্যবহার করে সেবা দেওয়া সম্ভব। তবে এআইয়ের ফলাফল যাচাই ও এডিট করা জরুরি।
সব ক্ষেত্রেই মূল কথা হলো শুরুতেই বড় লাভের আশা না করে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের দিকে মনোযোগ দেওয়া। পুঁজি কম থাকলে হয়ত কিছু জায়গায় সীমাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে। তবে ছোট ব্যবসায় কয়েকটি বিষয় লক্ষ রাখলে সেখান থেকে লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
ব্যবসার প্রথম কয়েক মাসকে বরং শেখার সময় হিসেবে দেখা উচিত। এই সময়ে কোন পণ্য মানুষ বেশি পছন্দ করছে, কোন দামে বিক্রি করলে ক্রেতা আগ্রহী হচ্ছে, কীভাবে পণ্য উপস্থাপন করলে ভালো সাড়া পাওয়া যায় এসব বোঝা জরুরি। অনেকে আছেন ভুল হতে পারে ভেবে কোনো কিছু শুরু করতে ভয় পান। মনে রাখবেন, ভুল না করলে ব্যবসায় ভালো করা কঠিন। আবার অতি উৎসাহী হয়ে প্রথমেই বড় কোনো ঝুঁকি নেওয়াও উচিত না।
তবে যা-ই করুন না কেন প্রথম নির্দিষ্ট বিষয়ের দিকে খেয়াল রাখা উচিত। ধরুন আপনি ১০ হাজার টাকা দিয়ে ঘরে তৈরি মশলা বিক্রি শুরু করলেন। শুরুতেই ১০ ধরনের মশলা তৈরি না করে দুই-তিনটি জনপ্রিয় পণ্য দিয়ে শুরু করতে পারেন। পরিচিত মানুষ, প্রতিবেশী কিংবা অনলাইনের ছোট একটি গ্রুপের মাধ্যমে বিক্রি করে বুঝতে পারেন কোন পণ্যটির চাহিদা বেশি। পরে সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ব্যবসা বড় করা যাবে।
শুরুতে একটি নির্দিষ্ট পণ্য বা সেবায় মনোযোগ দেওয়াও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। ১০ হাজার টাকায় একসঙ্গে আপনার ব্যবসার আলাদা পরিচয় তৈরি করা কঠিন হতে পারে। বরং আপনি যদি শুধু গয়না নিয়ে কাজ করেন, তাহলে ধীরে ধীরে মানুষ আপনাকে সেই পণ্যের জন্য চিনতে শুরু করবে।
একইভাবে কেউ যদি ঘরে তৈরি কেক বিক্রি করেন, তাহলে শুরুতে নির্দিষ্ট কয়েক ধরনের কেকের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মান ভালো করার চেষ্টা করতে পারেন। ফল ভালো হলে ব্যবসার পরিধি পরে বাড়ানো সম্ভব। অনেকে বেশি লাভের আশায় একসঙ্গে অনেক পণ্য নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। কিন্তু এতে হীতে বিপরীত হওয়ার আশংকা থাকে। দেখা গেল, অনেক ধরনের পণ্য বিক্রি করতে গিয়ে কোনো পণ্যই ঠিকঠাক বিক্রি হলো না।
অনলাইন ব্যবসায় পণ্যের পাশাপাশি গ্রাহকের সঙ্গে আচরণও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন ক্রেতা হয়তো প্রথমবার আপনার কাছ থেকে ৫০০ টাকার পণ্য কিনেছেন। কিন্তু ভালো ব্যবহার, সঠিক তথ্য এবং সময়মতো রিপ্লাই পেলে তিনিই ভবিষ্যতে আরও কয়েকবার আপনার কাছ থেকে কিনতে পারেন। আবার আচরণ আন্তরিক না হলে ভবিষ্যতের অনেক সম্ভাব্য ক্রেতা হারাতে পারেন।
তাই ইনবক্সের প্রশ্নের উত্তর যত দ্রুত সম্ভব দেওয়া, পণ্যের দাম ও ডেলিভারি সম্পর্কে পরিষ্কার তথ্য দেওয়া এবং কোনো সমস্যা হলে ভদ্রভাবে সমাধানের চেষ্টা করা উচিত। অনেক সময় ক্রেতা রেগে যেতে পারেন বা অনেক প্রশ্ন করে আপনাকে বিব্রত করতে পারেন। এমন পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধরে নিজের মেজাজ নিয়ন্ত্রণ করাই বুদ্ধিমানের কাজ। অনলাইন ব্যবসায় একটি ভালো অভিজ্ঞতা শুধু একজন ক্রেতাকে ধরে রাখে না, তাঁর কাছ থেকে নতুন ক্রেতাও এনে দিতে পারে।
অনলাইন ব্যবসায় ক্রেতার বিশ্বাস তৈরি করা খুব জরুরি। ক্রেতা যখন পণ্যটি হাতে নিয়ে দেখার সুযোগ পাচ্ছেন না, তখন ছবি, ভিডিও, পণ্যের বর্ণনা এবং আপনার আচরণের ওপরই অনেকটা নির্ভর করতে হয়। তাই পণ্যের ভালো ও বাস্তব ছবি ব্যবহার করুন। সম্ভব হলে বিভিন্ন অ্যাঙ্গেল থেকে ছবি তুলুন এবং ছোট ভিডিও তৈরি করুন।
যেমন, আপনি যদি হাতে তৈরি খাবার বিক্রি করেন, তাহলে শুধু খাবারের ছবি না দিয়ে কীভাবে সেটি তৈরি হচ্ছে, কী ধরনের উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে কিংবা কীভাবে প্যাকেট করা হচ্ছে, সেটিও দেখাতে পারেন। এতে ক্রেতার কাছে পণ্যটি আরও বিশ্বাসযোগ্য মনে হতে পারে।
ধরুন, আপনি কাপড়ের ব্যাগ বিক্রি করেন। শুধু ব্যাগের ছবি পোস্ট না করে দেখাতে পারেন—একটি ব্যাগ কীভাবে তৈরি হচ্ছে, এতে কী কী জিনিস রাখা যায় কিংবা দৈনন্দিন জীবনে এটি কীভাবে ব্যবহার করা যায়। এতে শুধু পণ্য নয়, পণ্যকে ঘিরে একটি গল্পও তৈরি হবে। আর সেই গল্পই ক্রেতাকে পণ্যটির সঙ্গে আরও সহজে যুক্ত করতে পারে।
ব্যবসা মানেই শুধু বেচাকেনা নয়; হিসাব রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ১০ হাজার টাকা দিয়ে ব্যবসা শুরু করলে প্রতিটি টাকা কোথায় খরচ হচ্ছে, কত টাকা বিক্রি হলো, লাভ কত, এসব লিখে রাখা উচিত। বিক্রি ১৫ হাজার টাকা হয়েছে মানেই ৫ হাজার টাকা লাভ হয়েছে, এমন নয়। পণ্যের ক্রয়মূল্য, প্যাকেজিং, ডেলিভারি, বিজ্ঞাপনসহ অন্যান্য খরচ বাদ দেওয়ার পর প্রকৃত লাভ হিসাব করতে হবে।
ব্যবসা থেকে লাভ হলে পুরোটা ব্যক্তিগত খরচে ব্যবহার না করে একটি অংশ আবার ব্যবসায় বিনিয়োগ করা যেতে পারে। বিশেষ করে অনলাইন ব্যবসায় যারা লাভের মুখ দেখেছেন, তাঁরা এভাবেই ধীরে ধীরে ব্যবসার পরিধি বাড়াতে পারেন। যেমন, প্রথম মাসে ২ হাজার টাকা লাভ হলে তার একটি অংশ দিয়ে উন্নত প্যাকেজিং করা, ভালো ছবি তোলা বা সীমিত পরিসরে প্রচারণা চালানো যেতে পারে। পরের ধাপে পণ্যের পরিমাণ বাড়ানো যায়। এভাবেই ছোট ব্যবসা ধীরে ধীরে বড় হতে পারে।
সবচেয়ে বড় কথা, ব্যবসা শুরু করার জন্য শুধু টাকা থাকলেই হয় না। প্রয়োজন শেখার আগ্রহ, ধৈর্য এবং নিয়মিত কাজ করার মানসিকতা। প্রথম দিকে বিক্রি কম হতে পারে, ভুলও হতে পারে। আবার অনেক শ্রম দেওয়ার পরও পণ্য প্রত্যাশামতো বিক্রি নাও হতে পারে। এগুলোকে ব্যর্থতা হিসেবে না দেখে শেখার সুযোগ হিসেবে দেখাই ভালো। কারণ ছোট ব্যবসার সবচেয়ে বড় লাভ শুধু টাকা নয়, বাস্তব অভিজ্ঞতাও।

বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজজীবন নতুন কিছু শেখার, নিজের দক্ষতা গড়ে তোলার এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার সময়। অনেক শিক্ষার্থীই পড়াশোনার পাশাপাশি এমন কিছু করতে চান, যাতে নিজের হাতখরচ চালানো যায়, পরিবারের ওপর চাপ কমে এবং একই সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতাও তৈরি হয়। এখানেই শুরু হতে পারে অনলাইনে ছোট পরিসরে ব্যবসার পথচলা।
আপনার হাতে যদি ১০ হাজার টাকা থাকে, সেই টাকা দিয়েও একটি ছোট ব্যবসা শুরু করা সম্ভব। তবে এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রথম দিন থেকেই বড় লাভের পেছনে না ছুটে শেখা, কয়েকদিন সময় নিয়ে ব্যবসার ফলাফল পরীক্ষা করা এবং সেই ফল অনুযায়ী ধীরে ধীরে এগিয়ে যাওয়া।
ফেসবুকে পোশাক বিক্রি, ঘরে তৈরি খাবার, থ্রিফট স্টোর কিংবা হাতের কাজের পণ্য নিয়ে ছোট পরিসরে ব্যবসা শুরু করা সম্ভব। এর পাশাপাশি ডিজিটাল পণ্য বিক্রিও শিক্ষার্থীদের জন্য আকর্ষণীয় একটি সুযোগ। সিভি টেমপ্লেট, ডিজিটাল প্ল্যানার, প্রেজেন্টেশন ডিজাইন বা সোশ্যাল মিডিয়া টেমপ্লেট তৈরি করে অনলাইনে বিক্রি করা যায়।
একবার তৈরি করা পণ্য বারবার বিক্রি করার সুযোগ থাকায় এতে অতিরিক্ত উৎপাদন খরচও তুলনামূলক কম। যাদের লেখালেখি, ভিডিও এডিটিং বা সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্টে দক্ষতা রয়েছে, তারা এসব দক্ষতাকে সেবায় পরিণত করতে পারেন। ফেসবুক পেজ মনিটরিং, ক্যাপশন লেখা, ভিডিও এডিটিং কিংবা কনটেন্ট তৈরির কাজ দিয়ে শুরু করা যায়।
বর্তমানে এআই-ভিত্তিক ডিজিটাল সেবারও সুযোগ তৈরি হয়েছে। কনটেন্ট লেখা, প্রেজেন্টেশন বানানো, ডিজাইন বা কনটেন্ট তৈরিতে এআই ব্যবহার করে সেবা দেওয়া সম্ভব। তবে এআইয়ের ফলাফল যাচাই ও এডিট করা জরুরি।
সব ক্ষেত্রেই মূল কথা হলো শুরুতেই বড় লাভের আশা না করে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের দিকে মনোযোগ দেওয়া। পুঁজি কম থাকলে হয়ত কিছু জায়গায় সীমাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে। তবে ছোট ব্যবসায় কয়েকটি বিষয় লক্ষ রাখলে সেখান থেকে লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
ব্যবসার প্রথম কয়েক মাসকে বরং শেখার সময় হিসেবে দেখা উচিত। এই সময়ে কোন পণ্য মানুষ বেশি পছন্দ করছে, কোন দামে বিক্রি করলে ক্রেতা আগ্রহী হচ্ছে, কীভাবে পণ্য উপস্থাপন করলে ভালো সাড়া পাওয়া যায় এসব বোঝা জরুরি। অনেকে আছেন ভুল হতে পারে ভেবে কোনো কিছু শুরু করতে ভয় পান। মনে রাখবেন, ভুল না করলে ব্যবসায় ভালো করা কঠিন। আবার অতি উৎসাহী হয়ে প্রথমেই বড় কোনো ঝুঁকি নেওয়াও উচিত না।
তবে যা-ই করুন না কেন প্রথম নির্দিষ্ট বিষয়ের দিকে খেয়াল রাখা উচিত। ধরুন আপনি ১০ হাজার টাকা দিয়ে ঘরে তৈরি মশলা বিক্রি শুরু করলেন। শুরুতেই ১০ ধরনের মশলা তৈরি না করে দুই-তিনটি জনপ্রিয় পণ্য দিয়ে শুরু করতে পারেন। পরিচিত মানুষ, প্রতিবেশী কিংবা অনলাইনের ছোট একটি গ্রুপের মাধ্যমে বিক্রি করে বুঝতে পারেন কোন পণ্যটির চাহিদা বেশি। পরে সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ব্যবসা বড় করা যাবে।
শুরুতে একটি নির্দিষ্ট পণ্য বা সেবায় মনোযোগ দেওয়াও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। ১০ হাজার টাকায় একসঙ্গে আপনার ব্যবসার আলাদা পরিচয় তৈরি করা কঠিন হতে পারে। বরং আপনি যদি শুধু গয়না নিয়ে কাজ করেন, তাহলে ধীরে ধীরে মানুষ আপনাকে সেই পণ্যের জন্য চিনতে শুরু করবে।
একইভাবে কেউ যদি ঘরে তৈরি কেক বিক্রি করেন, তাহলে শুরুতে নির্দিষ্ট কয়েক ধরনের কেকের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মান ভালো করার চেষ্টা করতে পারেন। ফল ভালো হলে ব্যবসার পরিধি পরে বাড়ানো সম্ভব। অনেকে বেশি লাভের আশায় একসঙ্গে অনেক পণ্য নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। কিন্তু এতে হীতে বিপরীত হওয়ার আশংকা থাকে। দেখা গেল, অনেক ধরনের পণ্য বিক্রি করতে গিয়ে কোনো পণ্যই ঠিকঠাক বিক্রি হলো না।
অনলাইন ব্যবসায় পণ্যের পাশাপাশি গ্রাহকের সঙ্গে আচরণও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন ক্রেতা হয়তো প্রথমবার আপনার কাছ থেকে ৫০০ টাকার পণ্য কিনেছেন। কিন্তু ভালো ব্যবহার, সঠিক তথ্য এবং সময়মতো রিপ্লাই পেলে তিনিই ভবিষ্যতে আরও কয়েকবার আপনার কাছ থেকে কিনতে পারেন। আবার আচরণ আন্তরিক না হলে ভবিষ্যতের অনেক সম্ভাব্য ক্রেতা হারাতে পারেন।
তাই ইনবক্সের প্রশ্নের উত্তর যত দ্রুত সম্ভব দেওয়া, পণ্যের দাম ও ডেলিভারি সম্পর্কে পরিষ্কার তথ্য দেওয়া এবং কোনো সমস্যা হলে ভদ্রভাবে সমাধানের চেষ্টা করা উচিত। অনেক সময় ক্রেতা রেগে যেতে পারেন বা অনেক প্রশ্ন করে আপনাকে বিব্রত করতে পারেন। এমন পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধরে নিজের মেজাজ নিয়ন্ত্রণ করাই বুদ্ধিমানের কাজ। অনলাইন ব্যবসায় একটি ভালো অভিজ্ঞতা শুধু একজন ক্রেতাকে ধরে রাখে না, তাঁর কাছ থেকে নতুন ক্রেতাও এনে দিতে পারে।
অনলাইন ব্যবসায় ক্রেতার বিশ্বাস তৈরি করা খুব জরুরি। ক্রেতা যখন পণ্যটি হাতে নিয়ে দেখার সুযোগ পাচ্ছেন না, তখন ছবি, ভিডিও, পণ্যের বর্ণনা এবং আপনার আচরণের ওপরই অনেকটা নির্ভর করতে হয়। তাই পণ্যের ভালো ও বাস্তব ছবি ব্যবহার করুন। সম্ভব হলে বিভিন্ন অ্যাঙ্গেল থেকে ছবি তুলুন এবং ছোট ভিডিও তৈরি করুন।
যেমন, আপনি যদি হাতে তৈরি খাবার বিক্রি করেন, তাহলে শুধু খাবারের ছবি না দিয়ে কীভাবে সেটি তৈরি হচ্ছে, কী ধরনের উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে কিংবা কীভাবে প্যাকেট করা হচ্ছে, সেটিও দেখাতে পারেন। এতে ক্রেতার কাছে পণ্যটি আরও বিশ্বাসযোগ্য মনে হতে পারে।
ধরুন, আপনি কাপড়ের ব্যাগ বিক্রি করেন। শুধু ব্যাগের ছবি পোস্ট না করে দেখাতে পারেন—একটি ব্যাগ কীভাবে তৈরি হচ্ছে, এতে কী কী জিনিস রাখা যায় কিংবা দৈনন্দিন জীবনে এটি কীভাবে ব্যবহার করা যায়। এতে শুধু পণ্য নয়, পণ্যকে ঘিরে একটি গল্পও তৈরি হবে। আর সেই গল্পই ক্রেতাকে পণ্যটির সঙ্গে আরও সহজে যুক্ত করতে পারে।
ব্যবসা মানেই শুধু বেচাকেনা নয়; হিসাব রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ১০ হাজার টাকা দিয়ে ব্যবসা শুরু করলে প্রতিটি টাকা কোথায় খরচ হচ্ছে, কত টাকা বিক্রি হলো, লাভ কত, এসব লিখে রাখা উচিত। বিক্রি ১৫ হাজার টাকা হয়েছে মানেই ৫ হাজার টাকা লাভ হয়েছে, এমন নয়। পণ্যের ক্রয়মূল্য, প্যাকেজিং, ডেলিভারি, বিজ্ঞাপনসহ অন্যান্য খরচ বাদ দেওয়ার পর প্রকৃত লাভ হিসাব করতে হবে।
ব্যবসা থেকে লাভ হলে পুরোটা ব্যক্তিগত খরচে ব্যবহার না করে একটি অংশ আবার ব্যবসায় বিনিয়োগ করা যেতে পারে। বিশেষ করে অনলাইন ব্যবসায় যারা লাভের মুখ দেখেছেন, তাঁরা এভাবেই ধীরে ধীরে ব্যবসার পরিধি বাড়াতে পারেন। যেমন, প্রথম মাসে ২ হাজার টাকা লাভ হলে তার একটি অংশ দিয়ে উন্নত প্যাকেজিং করা, ভালো ছবি তোলা বা সীমিত পরিসরে প্রচারণা চালানো যেতে পারে। পরের ধাপে পণ্যের পরিমাণ বাড়ানো যায়। এভাবেই ছোট ব্যবসা ধীরে ধীরে বড় হতে পারে।
সবচেয়ে বড় কথা, ব্যবসা শুরু করার জন্য শুধু টাকা থাকলেই হয় না। প্রয়োজন শেখার আগ্রহ, ধৈর্য এবং নিয়মিত কাজ করার মানসিকতা। প্রথম দিকে বিক্রি কম হতে পারে, ভুলও হতে পারে। আবার অনেক শ্রম দেওয়ার পরও পণ্য প্রত্যাশামতো বিক্রি নাও হতে পারে। এগুলোকে ব্যর্থতা হিসেবে না দেখে শেখার সুযোগ হিসেবে দেখাই ভালো। কারণ ছোট ব্যবসার সবচেয়ে বড় লাভ শুধু টাকা নয়, বাস্তব অভিজ্ঞতাও।
.png)

হঠাৎ একদিন অফিস থেকে জানানো হলো, আপনার চাকরি আর নেই। এমন পরিস্থিতিতে রাগ, দুশ্চিন্তা বা হতাশা কাজ করা স্বাভাবিক। তবে চাকরি হারানো মানেই আপনার যোগ্যতা নেই, এমন নয়। অনেক সময় কর্মীর কাজের মানের সঙ্গে চাকরি হারানোর সরাসরি সম্পর্কও থাকে না। চাকরি হারানোর পর প্রথম কয়েক ঘণ্টা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই সময় আব
১৭ আগস্ট ২০২৬
‘থমসন ফাউন্ডেশন ইয়াং জার্নালিস্ট অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’-এর জন্য আবেদন আহ্বান করা হয়েছে। তরুণ সাংবাদিকদের অনুসন্ধানী ও জনস্বার্থভিত্তিক সাংবাদিকতার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দিতে এই পুরস্কার আয়োজন করা হয়।
০৭ আগস্ট ২০২৬
৫০তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ হয়েছে। এতে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬ হাজার ১৬৫ জন প্রার্থী। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।