চ্যাটবটের প্রেমে পড়া মানুষের কথা ভাবলে আপনার হয়তো প্রথমেই মনে হবে, যারা চ্যাটবটের প্রেমে পড়েন তারা হয়তো সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন, একাকী বা বিষণ্ণতায় ভুগছেন। গবেষণা ও গণমাধ্যমগুলোতেও প্রায়ই এমন ধারণা দেখা যায় যে, একাকীত্বই মানুষকে চ্যাটবটের দিকে ঠেলে দেয়। ২০১৩ সালের ‘হার’ সিনেমাতেও এমন একাকীত্বই দেখানো হয়েছিল।
লেখা:

২০১৩ সালে মুক্তি পেয়েছিল স্পাইক জোন্সের অস্কারজয়ী সায়েন্স ফিকশন সিনেমা ‘হার’। এই ছবিতে বিবাহবিচ্ছেদ হওয়া এক নিঃসঙ্গ পুরুষের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন জোয়াকিন ফিনিক্স। গল্পের সময়কাল ভবিষ্যৎ। তবে ঠিক কত বছর পরের পৃথিবী, তা বলা হয়নি। সেখানে তিনি তার এআই সহকারী সামান্থার প্রেমে পড়ে যান। সামান্থার ছিল কেবল মিষ্টি কণ্ঠস্বর।
সিনেমাটি দেখে থিয়েটার থেকে বের হওয়ার সময় মনে হয়েছিল, ভবিষ্যতে মানুষের সম্পর্কগুলোকে প্রযুক্তি কীভাবে বদলে দেবে, এই ছবি হয়তো তারই আভাস। তখন মনে হয়েছিল, এমন অদ্ভুত ঘটনা হয়তো বাস্তব হতে আরও ৫০ বা ১০০ বছর সময় লাগবে।
আইএমডিবিতে সিনেমাটি এখনো সায়েন্স ফিকশন হিসেবেই তালিকাভুক্ত। কিন্তু আজকের দিনে এসে এটি অনেকটাই বাস্তব অভিজ্ঞতার গল্প হয়ে উঠেছে। এখন এমন অনেক এআই চ্যাটবট আছে, যেগুলো মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্ব বা প্রেমের সম্পর্ক তৈরির জন্যই বানানো হয়েছে। এর মধ্যে জনপ্রিয় একটি হলো ‘Replika’ (রেপ্লিকা)। প্রতিষ্ঠানটির দাবি অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে তাদের ব্যবহারকারীর সংখ্যা ইতিমধ্যে ৪ কোটি ছাড়িয়ে গেছে।
আমাদের অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে, মানুষ কেন এআই চ্যাটবটের প্রেমে পড়বে? জার্মানির ডুইসবুর্গ-এসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই গবেষক পলা এবনার ও জেসিকা শুজুকা এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই গবেষণা শুরু করেছেন। অথচ কিছুদিন আগেও এই ধরনের সম্পর্ক ছিল কেবলই বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর বিষয়।
চ্যাটবটের প্রেমে পড়া মানুষের কথা ভাবলে আপনার হয়তো প্রথমেই মনে হবে, যারা চ্যাটবটের প্রেমে পড়েন তারা হয়তো সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন, একাকী বা বিষণ্ণতায় ভুগছেন। গবেষণা ও গণমাধ্যমগুলোতেও প্রায়ই এমন ধারণা দেখা যায় যে, একাকীত্বই মানুষকে চ্যাটবটের দিকে ঠেলে দেয়। ২০১৩ সালের ‘হার’ সিনেমাতেও এমন একাকীত্বই দেখানো হয়েছিল।
কিন্তু গবেষকেরা বলছেন, বাস্তবতা এত সহজ নয়। একাকীত্ব হয়তো একটি কারণ হতে পারে, তবে এটিই একমাত্র কারণ নয়। মানুষ ও এআইয়ের সম্পর্ক নিয়ে গণমাধ্যমে যে উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে, তার কিছু অংশকে তাঁরা ‘মোরাল প্যানিক’-এর সঙ্গেও তুলনা করেছেন। অর্থাৎ নতুন কোনো বিষয়কে ঘিরে সমাজে অতিরিক্ত ভয় বা আতঙ্ক তৈরি হওয়া।
একাকীত্বের বাইরেও মানুষ কেন এআইয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়াতে পারে, তার আরও কিছু কারণ আছে। হতে পারে, কেউ হয়তো যৌন কল্পনা উপভোগ করতে চান, যেখানে তাকে কেউ বিচার করবে না। নিজের কল্পনা নিয়ে অস্বস্তিতেও পড়তে হবে না। আবার কিছু মানুষ যেকোনো জড় বস্তুর মধ্যেও মানুষের বৈশিষ্ট্য খুঁজে পেতে ভালোবাসেন। এ ধরনের মানুষেরা চ্যাটবটের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের দিকে তুলনামূলক বেশি আকৃষ্ট হতে পারেন।
গবেষকেরা আরও ধারণা করেছিলেন, যাদের সম্পর্ক নিয়ে নিরাপত্তাহীনতা বেশি, তাঁরা এআই চ্যাটবটের সঙ্গে প্রেমে বেশি আগ্রহী হতে পারেন। যেমন, যারা সবসময় ভয় পান যে তাঁদের সঙ্গী একদিন ছেড়ে চলে যাবেন, তাঁদের কাছে এমন একজন এআই সঙ্গী আকর্ষণীয় হতে পারে। আবার অন্যদিকে, যারা সম্পর্কে খুব বেশি জড়িয়ে পড়তে চান না, তাঁরা এমন সঙ্গী পছন্দ করেন যার মেসেজের উত্তর কয়েকদিন পর দিলেও কোনো মান-অভিমান তৈরি হবে না।
এবনার ও শুজুকার গবেষণায় ৯২ জন অংশ নেন। তাঁরা সবাই এরই মধ্যে কোনো না কোনো চ্যাটবটের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে ছিলেন বা আছেন। গবেষকেরা তাঁদের প্রেম ও যৌন কল্পনা, প্রেমের ক্ষেত্রে একাকীত্ব, সম্পর্কের ধরন এবং চ্যাটবটকে কতটা মানুষের মতো মনে করেন, এসব বিষয় পরীক্ষা করেন।
এরপর চ্যাটবটের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক কতটা গভীর, সেটিও মাপা হয়। এজন্য বিশেষ কিছু প্রশ্ন করা হয়। গবেষণায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো, যারা এআইয়ের সঙ্গে প্রেমের কল্পনা করতে বেশি পছন্দ করেন, তাঁদের চ্যাটবটের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক তৈরির সম্ভাবনাও বেশি। আরেকটি গবেষণাতেও একই ধরনের ফল পাওয়া গেছে। সেখানে ১৫ জন মানুষের সঙ্গে তাঁদের এআইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে কথা বলা হয়। কেউ কেউ এমন কল্পনার কথা বলেছেন, যা এখনো সায়েন্স ফিকশনের মতো।
তবে বেশির ভাগ মানুষ চেয়েছেন, তাঁদের এআইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক যেন বাস্তব জীবনের মতো হয়। কেউ কেউ তাঁদের চ্যাটবটকে বাস্তব জীবনের কোনো মানুষের মতো করে তৈরি করেছেন। এমনকি প্রিয় কোনো তারকার মতোও বানিয়েছেন। বিষয়টির নৈতিক দিক অবশ্যই গুরুত্ব দিয়ে ভাবা দরকার।
অংশগ্রহণকারীরা অবাক হয়েছেন, এআই সঙ্গীরা তাঁদের কল্পনা কতটা ভালোভাবে পূরণ করতে পারে দেখে। ১৫ জনের মধ্যে ৯ জন মনে করেছেন, তাঁদের চ্যাটবট সেটি পুরোপুরি পেরেছে। মাত্র দুজন বলেছেন, তাঁদের আসল সঙ্গী দরকার। তবে চ্যাটবট নিয়ে হতাশার কথাও কেউ কেউ বলেছেন।
গবেষণাতে আরও দেখা গেছে, যারা এআইকে মানুষের মতো ভাবতে শুরু করেছেন, তাঁদের চ্যাটবটের সঙ্গে সম্পর্কও তুলনামূলকভাবে গভীর হয়েছে। এ ছাড়া, যারা সম্পর্কে খুব বেশি ঘনিষ্ঠ হতে চান না, তাঁদের সম্পর্কের গভীরতার সঙ্গেও একটি যোগ পাওয়া গেছে। তবে এখানে গবেষকদের ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। তাঁরা ভেবেছিলেন, এ ধরনের মানুষ এআইয়ের সঙ্গে আরও গভীর সম্পর্কে জড়াবেন। কিন্তু দেখা গেছে, তাঁদের এমন গভীর সম্পর্ক হওয়ার সম্ভাবনা বরং কম।
তবে সাধারণ মানুষের ধারণার বিপরীতে, গবেষকেরা একাকীত্বের সঙ্গে এআইয়ের সঙ্গে সম্পর্কের গভীরতার সরাসরি কোনো যোগ খুঁজে পাননি। তবে গবেষকেরা নিজেরাই বলেছেন, তাঁদের গবেষণার কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। তাঁরা শুধু প্রেমের ক্ষেত্রে একাকীত্বের বিষয়টি দেখেছেন। একজন মানুষ সামাজিকভাবে কতটা বিচ্ছিন্ন বা সাধারণভাবে কতটা একাকী, তা তাঁরা মাপেননি।
আরেকটি বিষয়ও হতে পারে। কেউ হয়তো একাকীত্বের কারণে চ্যাটবটের সঙ্গে সম্পর্ক শুরু করেছেন। পরে সেই সম্পর্কই তাঁর একাকীত্ব কমিয়ে দিতে পারে। সাম্প্রতিক আরেকটি গবেষণায়ও দেখা গেছে, এআই সঙ্গী মানুষের একাকীত্ব কমাতে পারে। তাই একাকীত্বই মানুষকে চ্যাটবটের সঙ্গে প্রেম করতে আগ্রহী করছে, এমন সিদ্ধান্ত এখনই দেওয়া যাচ্ছে না। এ বিষয়ে আরও গবেষণা দরকার।
গবেষকরা মনে করেন, মানুষে-মানুষে সম্পর্ক আর মানুষ-এআই সম্পর্কের মধ্যে বড় পার্থক্য আছে। মানুষে-মানুষে সম্পর্কে দুজনেরই নিজের ইচ্ছা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থাকে। কিন্তু ভবিষ্যতে যদি এমন উন্নত এআই তৈরি হয়, যার নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা হুবহু মানুষের মতোই মনে হয়, তখন কী হবে? তখন যদি মানুষ ও এআই-এর সম্পর্ককে আমরা বৈষম্যের চোখে দেখি, তবে সেই বিরোধিতা কি এক ধরণের পক্ষপাতিত্ব হয়ে দাঁড়াবে না? বিষয়টি হয়তো এখনও অনেকের কাছে কাল্পনিক মনে হতে পারে। কিন্তু আজ থেকে ১৩ বছর আগে ‘হার’ সিনেমাটি প্রথম দেখার সময় যে সম্পর্ককে দূর ভবিষ্যতের বিষয় মনে হয়েছিল, সেই ভবিষ্যৎ এখন আমার ধারণার চেয়েও দ্রুত আমাদের সামনে চলে এসেছে।
• সাইকোলজি টুডে থেকে অনূদিত

২০১৩ সালে মুক্তি পেয়েছিল স্পাইক জোন্সের অস্কারজয়ী সায়েন্স ফিকশন সিনেমা ‘হার’। এই ছবিতে বিবাহবিচ্ছেদ হওয়া এক নিঃসঙ্গ পুরুষের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন জোয়াকিন ফিনিক্স। গল্পের সময়কাল ভবিষ্যৎ। তবে ঠিক কত বছর পরের পৃথিবী, তা বলা হয়নি। সেখানে তিনি তার এআই সহকারী সামান্থার প্রেমে পড়ে যান। সামান্থার ছিল কেবল মিষ্টি কণ্ঠস্বর।
সিনেমাটি দেখে থিয়েটার থেকে বের হওয়ার সময় মনে হয়েছিল, ভবিষ্যতে মানুষের সম্পর্কগুলোকে প্রযুক্তি কীভাবে বদলে দেবে, এই ছবি হয়তো তারই আভাস। তখন মনে হয়েছিল, এমন অদ্ভুত ঘটনা হয়তো বাস্তব হতে আরও ৫০ বা ১০০ বছর সময় লাগবে।
আইএমডিবিতে সিনেমাটি এখনো সায়েন্স ফিকশন হিসেবেই তালিকাভুক্ত। কিন্তু আজকের দিনে এসে এটি অনেকটাই বাস্তব অভিজ্ঞতার গল্প হয়ে উঠেছে। এখন এমন অনেক এআই চ্যাটবট আছে, যেগুলো মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্ব বা প্রেমের সম্পর্ক তৈরির জন্যই বানানো হয়েছে। এর মধ্যে জনপ্রিয় একটি হলো ‘Replika’ (রেপ্লিকা)। প্রতিষ্ঠানটির দাবি অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে তাদের ব্যবহারকারীর সংখ্যা ইতিমধ্যে ৪ কোটি ছাড়িয়ে গেছে।
আমাদের অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে, মানুষ কেন এআই চ্যাটবটের প্রেমে পড়বে? জার্মানির ডুইসবুর্গ-এসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই গবেষক পলা এবনার ও জেসিকা শুজুকা এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই গবেষণা শুরু করেছেন। অথচ কিছুদিন আগেও এই ধরনের সম্পর্ক ছিল কেবলই বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর বিষয়।
চ্যাটবটের প্রেমে পড়া মানুষের কথা ভাবলে আপনার হয়তো প্রথমেই মনে হবে, যারা চ্যাটবটের প্রেমে পড়েন তারা হয়তো সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন, একাকী বা বিষণ্ণতায় ভুগছেন। গবেষণা ও গণমাধ্যমগুলোতেও প্রায়ই এমন ধারণা দেখা যায় যে, একাকীত্বই মানুষকে চ্যাটবটের দিকে ঠেলে দেয়। ২০১৩ সালের ‘হার’ সিনেমাতেও এমন একাকীত্বই দেখানো হয়েছিল।
কিন্তু গবেষকেরা বলছেন, বাস্তবতা এত সহজ নয়। একাকীত্ব হয়তো একটি কারণ হতে পারে, তবে এটিই একমাত্র কারণ নয়। মানুষ ও এআইয়ের সম্পর্ক নিয়ে গণমাধ্যমে যে উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে, তার কিছু অংশকে তাঁরা ‘মোরাল প্যানিক’-এর সঙ্গেও তুলনা করেছেন। অর্থাৎ নতুন কোনো বিষয়কে ঘিরে সমাজে অতিরিক্ত ভয় বা আতঙ্ক তৈরি হওয়া।
একাকীত্বের বাইরেও মানুষ কেন এআইয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়াতে পারে, তার আরও কিছু কারণ আছে। হতে পারে, কেউ হয়তো যৌন কল্পনা উপভোগ করতে চান, যেখানে তাকে কেউ বিচার করবে না। নিজের কল্পনা নিয়ে অস্বস্তিতেও পড়তে হবে না। আবার কিছু মানুষ যেকোনো জড় বস্তুর মধ্যেও মানুষের বৈশিষ্ট্য খুঁজে পেতে ভালোবাসেন। এ ধরনের মানুষেরা চ্যাটবটের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের দিকে তুলনামূলক বেশি আকৃষ্ট হতে পারেন।
গবেষকেরা আরও ধারণা করেছিলেন, যাদের সম্পর্ক নিয়ে নিরাপত্তাহীনতা বেশি, তাঁরা এআই চ্যাটবটের সঙ্গে প্রেমে বেশি আগ্রহী হতে পারেন। যেমন, যারা সবসময় ভয় পান যে তাঁদের সঙ্গী একদিন ছেড়ে চলে যাবেন, তাঁদের কাছে এমন একজন এআই সঙ্গী আকর্ষণীয় হতে পারে। আবার অন্যদিকে, যারা সম্পর্কে খুব বেশি জড়িয়ে পড়তে চান না, তাঁরা এমন সঙ্গী পছন্দ করেন যার মেসেজের উত্তর কয়েকদিন পর দিলেও কোনো মান-অভিমান তৈরি হবে না।
এবনার ও শুজুকার গবেষণায় ৯২ জন অংশ নেন। তাঁরা সবাই এরই মধ্যে কোনো না কোনো চ্যাটবটের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে ছিলেন বা আছেন। গবেষকেরা তাঁদের প্রেম ও যৌন কল্পনা, প্রেমের ক্ষেত্রে একাকীত্ব, সম্পর্কের ধরন এবং চ্যাটবটকে কতটা মানুষের মতো মনে করেন, এসব বিষয় পরীক্ষা করেন।
এরপর চ্যাটবটের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক কতটা গভীর, সেটিও মাপা হয়। এজন্য বিশেষ কিছু প্রশ্ন করা হয়। গবেষণায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো, যারা এআইয়ের সঙ্গে প্রেমের কল্পনা করতে বেশি পছন্দ করেন, তাঁদের চ্যাটবটের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক তৈরির সম্ভাবনাও বেশি। আরেকটি গবেষণাতেও একই ধরনের ফল পাওয়া গেছে। সেখানে ১৫ জন মানুষের সঙ্গে তাঁদের এআইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে কথা বলা হয়। কেউ কেউ এমন কল্পনার কথা বলেছেন, যা এখনো সায়েন্স ফিকশনের মতো।
তবে বেশির ভাগ মানুষ চেয়েছেন, তাঁদের এআইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক যেন বাস্তব জীবনের মতো হয়। কেউ কেউ তাঁদের চ্যাটবটকে বাস্তব জীবনের কোনো মানুষের মতো করে তৈরি করেছেন। এমনকি প্রিয় কোনো তারকার মতোও বানিয়েছেন। বিষয়টির নৈতিক দিক অবশ্যই গুরুত্ব দিয়ে ভাবা দরকার।
অংশগ্রহণকারীরা অবাক হয়েছেন, এআই সঙ্গীরা তাঁদের কল্পনা কতটা ভালোভাবে পূরণ করতে পারে দেখে। ১৫ জনের মধ্যে ৯ জন মনে করেছেন, তাঁদের চ্যাটবট সেটি পুরোপুরি পেরেছে। মাত্র দুজন বলেছেন, তাঁদের আসল সঙ্গী দরকার। তবে চ্যাটবট নিয়ে হতাশার কথাও কেউ কেউ বলেছেন।
গবেষণাতে আরও দেখা গেছে, যারা এআইকে মানুষের মতো ভাবতে শুরু করেছেন, তাঁদের চ্যাটবটের সঙ্গে সম্পর্কও তুলনামূলকভাবে গভীর হয়েছে। এ ছাড়া, যারা সম্পর্কে খুব বেশি ঘনিষ্ঠ হতে চান না, তাঁদের সম্পর্কের গভীরতার সঙ্গেও একটি যোগ পাওয়া গেছে। তবে এখানে গবেষকদের ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। তাঁরা ভেবেছিলেন, এ ধরনের মানুষ এআইয়ের সঙ্গে আরও গভীর সম্পর্কে জড়াবেন। কিন্তু দেখা গেছে, তাঁদের এমন গভীর সম্পর্ক হওয়ার সম্ভাবনা বরং কম।
তবে সাধারণ মানুষের ধারণার বিপরীতে, গবেষকেরা একাকীত্বের সঙ্গে এআইয়ের সঙ্গে সম্পর্কের গভীরতার সরাসরি কোনো যোগ খুঁজে পাননি। তবে গবেষকেরা নিজেরাই বলেছেন, তাঁদের গবেষণার কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। তাঁরা শুধু প্রেমের ক্ষেত্রে একাকীত্বের বিষয়টি দেখেছেন। একজন মানুষ সামাজিকভাবে কতটা বিচ্ছিন্ন বা সাধারণভাবে কতটা একাকী, তা তাঁরা মাপেননি।
আরেকটি বিষয়ও হতে পারে। কেউ হয়তো একাকীত্বের কারণে চ্যাটবটের সঙ্গে সম্পর্ক শুরু করেছেন। পরে সেই সম্পর্কই তাঁর একাকীত্ব কমিয়ে দিতে পারে। সাম্প্রতিক আরেকটি গবেষণায়ও দেখা গেছে, এআই সঙ্গী মানুষের একাকীত্ব কমাতে পারে। তাই একাকীত্বই মানুষকে চ্যাটবটের সঙ্গে প্রেম করতে আগ্রহী করছে, এমন সিদ্ধান্ত এখনই দেওয়া যাচ্ছে না। এ বিষয়ে আরও গবেষণা দরকার।
গবেষকরা মনে করেন, মানুষে-মানুষে সম্পর্ক আর মানুষ-এআই সম্পর্কের মধ্যে বড় পার্থক্য আছে। মানুষে-মানুষে সম্পর্কে দুজনেরই নিজের ইচ্ছা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থাকে। কিন্তু ভবিষ্যতে যদি এমন উন্নত এআই তৈরি হয়, যার নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা হুবহু মানুষের মতোই মনে হয়, তখন কী হবে? তখন যদি মানুষ ও এআই-এর সম্পর্ককে আমরা বৈষম্যের চোখে দেখি, তবে সেই বিরোধিতা কি এক ধরণের পক্ষপাতিত্ব হয়ে দাঁড়াবে না? বিষয়টি হয়তো এখনও অনেকের কাছে কাল্পনিক মনে হতে পারে। কিন্তু আজ থেকে ১৩ বছর আগে ‘হার’ সিনেমাটি প্রথম দেখার সময় যে সম্পর্ককে দূর ভবিষ্যতের বিষয় মনে হয়েছিল, সেই ভবিষ্যৎ এখন আমার ধারণার চেয়েও দ্রুত আমাদের সামনে চলে এসেছে।
• সাইকোলজি টুডে থেকে অনূদিত
.png)

২০২৬ সালের মে মাসেই প্রায় ৮ হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছিল মেটা। গত দুই বছরে গুগলও ছাঁটাই করেছে প্রায় ১২ হাজার কর্মী। তাহলে কী এমন বদলে গেল যে এখন মেটা, গুগল, ব্ল্যাকরকের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোই ২৬৫ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে শুধু টেকনিশিয়ান আর দক্ষ শ্রমিক তৈরির জন্য?
০৫ আগস্ট ২০২৬
পৃথিবীতে এমনও একটি দেশ আছে, যেখানে ট্রেনের দেরি মিনিটে নয়, সেকেন্ডে মাপা হয়। আর সামান্য দেরি হলেও যাত্রীদের কাছে ক্ষমা চায় রেল কর্তৃপক্ষ। কীভাবে এমন রেলব্যবস্থা গড়ে তুলেছে জাপান?
২২ জুলাই ২০২৬
ফেসবুকে কেউ যদি কোন থ্রিলার বই-এর খোঁজ করেন এর পর থেকে ফেসবুক তাঁকে থ্রিলার বই-এর খবর পাঠাতে থাকবে। এবং তিনি শুধু এ ধরনের বই-ই পড়তে থাকবেন। ভয়টা এখানেই। তিনি হয়তো জানতেও পারবেন না যে থ্রিলারের বাইরেও রোমান্টিক ও অ্যাডভেঞ্চার ধরনের বই রয়ে গেছে।
৩০ জুন ২০২৬
১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী ব্যবহারকারীদের জন্য ‘টিন অ্যাকাউন্ট’ বা কিশোর অ্যাকাউন্ট চালুর মাধ্যমে একটি আলাদা সুরক্ষাবলয় তৈরির কাজ শুরু করেছে মেটা। আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়াতে ইতিমধ্যে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং তারা কঠোরভাবে নজর দিচ্ছে যাতে ১৩ বছরের কম বয়সী কেউ ভুল তথ্য দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলতে না পারে।