স্ট্রিম সম্পাদকীয়
নতুন রাষ্ট্রপতি শপথ গ্রহণের পর মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ছয়জন যুক্ত হওয়ার ঘটনাও সবার নজর কাড়বে। বলা হচ্ছিল, সরকারের ছয় মাসের মাথায় মন্ত্রিসভায় কিছু রদবদল আনা হবে। বড় রদবদল হয়েছে, তা অবশ্য বলা যাবে না। প্রকৃতপক্ষে নতুন চারজন মন্ত্রিসভায় যুক্ত হয়েছেন। বাকি দু’জনের একজন উপদেষ্টা থেকে প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন; অপরজন প্রতিমন্ত্রী থেকে মন্ত্রী। তাদের মধ্যে দায়িত্বও বণ্টিত হয়েছে।
মন্ত্রিসভার রদবদলে কেউ সরাসরি বাদ পড়েছেন, বলা যাবে না। তবে দপ্তর বণ্টন-পুনর্বণ্টনে কেউ কেউ পেয়েছেন নতুন দায়িত্ব। তথ্যমন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা করে সেই মন্ত্রণালয়ে নতুন একজনকে মন্ত্রী করা হয়েছে। তাঁকে আবার নেওয়া হয়েছে জোটসঙ্গী দল থেকে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি রাষ্ট্রপতি হওয়ায় সেখানে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিএনপির অন্যতম সিনিয়র নেতা ড. আবদুল মঈন খানকে। রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাঁর নামও আলোচিত হচ্ছিল। তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে বসানোর ঘটনাও নজর কাড়বে। রশিদুজ্জামান মিল্লাত প্রতিমন্ত্রী থেকে মন্ত্রী হয়ে একই মন্ত্রণালয়ে রইলেন। সেই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীকে দেওয়া হয়েছে অন্য মন্ত্রণালয়ে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী কিছুদিন আগে পদত্যাগ করায় সেখানে দেওয়া হয়েছে সাচিং প্রু জেরীকে। প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা প্রতিমন্ত্রী হয়ে একই মন্ত্রণালয়ে যুক্ত হওয়ায় সেখানে এখন দু’জন প্রতিমন্ত্রী। এই ঘটনাও মানুষের নজর কাড়বে।
মন্ত্রিসভায় রদবদল আনা প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। তিনি যে কোনো সময় এটা করতে পারেন। প্রধানমন্ত্রী বাদে মন্ত্রিসভায় কারও দায়িত্বই স্থায়ী নয়। প্রধানমন্ত্রীর আস্থা হারালে কিংবা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ বা বিতর্কিত হলে মন্ত্রিত্ব হারানোর ঘটনা ঘটেই থাকে। তবে তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় এখনো তেমন কিছু ঘটেনি বলা যায়। অপ্রীতিকর কিছু না ঘটাই কাম্য। কেউ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে নিজে থেকে সরে যাওয়াটাও জরুরি। তবে দেশে এই সংস্কৃতি প্রায় অনুপস্থিত।
গত ছয় মাসে খুব কম মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর কাজই প্রশংসা অর্জন করেছে। কারও কার্যক্রম মূল্যায়নে এটা যথেষ্ট সময় নয় বলে অবশ্য মনে করা হয়। তবে আশাবাদ জাগিয়ে তোলার জন্য সময়টা কম দীর্ঘও নয়। প্রধানমন্ত্রী যেমন এই সময়ের মধ্যেই তাঁর কাজ দিয়ে নজর কেড়েছেন। সাম্প্রতিক এক জরিপেও সেটা প্রতিফলিত।
শুরুতে যে মন্ত্রিসভা গঠন হয়েছিল, তা কম বড় ছিল না। সেটাকে অপেক্ষাকৃত কম বয়সীদের মন্ত্রিসভা বলে বর্ণনা করা হয়। তাদের কাছে প্রত্যাশাও ছিল বেশি। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের কাছে জনপ্রত্যাশা স্বভাবতই বেশি। দীর্ঘ সময় পর বিএনপি ক্ষমতায় আসাতেও তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার কাছে প্রত্যাশা বেশি। এর কলেবর বাড়ানো যেতেই পারে; তবে মন্ত্রীদের কাছে জনগণ দেখতে চাইবে পারফরম্যান্স। সব মন্ত্রণালয় সমান গুরুত্বপূর্ণ নয় বটে; তবে সব মন্ত্রীরই ভালো কাজ করার সুযোগ রয়েছে। মন্ত্রীদের বড় কাজ জনপ্রশাসনকে সরকারের কর্মসূচি বাস্তবায়নে নিয়োজিত করা। সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির কারণেও তাদের কাছ থেকে আরও ভালো সেবা আশা করবে জনগণ। তৃণমূল পর্যন্ত মানুষ যেন মন্ত্রীদের ভূমিকার সুফল দেখতে পায়। সংসদেও তাদের কাজের জবাবদিহি নিশ্চিত হতে হবে। সেজন্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিগুলো গঠনের কাজ যেন দ্রুত শেষ হয়।
মন্ত্রিসভার আকার ছোট রেখে তাকে বেশি সক্রিয় করার ওপর সাধারণত জোর দেওয়া হয়। সেটা করার সুযোগ প্রধানমন্ত্রীর থাকছে বৈকি। মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টায় কোনো মন্ত্রণালয়ে অচলাবস্থা তৈরি হলে সেটাও তাঁকে দেখতে হবে। চলমান ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর হাতে ক্ষমতা যেমন বেশি; তেমনি মন্ত্রীদের ব্যর্থতার দায়ও এসে বর্তায় তাঁর ওপর। সেজন্য সঠিকভাবে মন্ত্রিসভার সদস্য নির্বাচন এবং তাদেরকে উপযুক্ত ক্ষেত্রে নিয়োজিত করাটা জরুরি। আমরা আশা করব, মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ ও সীমিত রদবদলের পর সরকার আরও সক্রিয় হয়ে উঠবে।

নতুন রাষ্ট্রপতি শপথ গ্রহণের পর মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ছয়জন যুক্ত হওয়ার ঘটনাও সবার নজর কাড়বে। বলা হচ্ছিল, সরকারের ছয় মাসের মাথায় মন্ত্রিসভায় কিছু রদবদল আনা হবে। বড় রদবদল হয়েছে, তা অবশ্য বলা যাবে না। প্রকৃতপক্ষে নতুন চারজন মন্ত্রিসভায় যুক্ত হয়েছেন। বাকি দু’জনের একজন উপদেষ্টা থেকে প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন; অপরজন প্রতিমন্ত্রী থেকে মন্ত্রী। তাদের মধ্যে দায়িত্বও বণ্টিত হয়েছে।
মন্ত্রিসভার রদবদলে কেউ সরাসরি বাদ পড়েছেন, বলা যাবে না। তবে দপ্তর বণ্টন-পুনর্বণ্টনে কেউ কেউ পেয়েছেন নতুন দায়িত্ব। তথ্যমন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা করে সেই মন্ত্রণালয়ে নতুন একজনকে মন্ত্রী করা হয়েছে। তাঁকে আবার নেওয়া হয়েছে জোটসঙ্গী দল থেকে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি রাষ্ট্রপতি হওয়ায় সেখানে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিএনপির অন্যতম সিনিয়র নেতা ড. আবদুল মঈন খানকে। রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাঁর নামও আলোচিত হচ্ছিল। তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে বসানোর ঘটনাও নজর কাড়বে। রশিদুজ্জামান মিল্লাত প্রতিমন্ত্রী থেকে মন্ত্রী হয়ে একই মন্ত্রণালয়ে রইলেন। সেই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীকে দেওয়া হয়েছে অন্য মন্ত্রণালয়ে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী কিছুদিন আগে পদত্যাগ করায় সেখানে দেওয়া হয়েছে সাচিং প্রু জেরীকে। প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা প্রতিমন্ত্রী হয়ে একই মন্ত্রণালয়ে যুক্ত হওয়ায় সেখানে এখন দু’জন প্রতিমন্ত্রী। এই ঘটনাও মানুষের নজর কাড়বে।
মন্ত্রিসভায় রদবদল আনা প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। তিনি যে কোনো সময় এটা করতে পারেন। প্রধানমন্ত্রী বাদে মন্ত্রিসভায় কারও দায়িত্বই স্থায়ী নয়। প্রধানমন্ত্রীর আস্থা হারালে কিংবা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ বা বিতর্কিত হলে মন্ত্রিত্ব হারানোর ঘটনা ঘটেই থাকে। তবে তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় এখনো তেমন কিছু ঘটেনি বলা যায়। অপ্রীতিকর কিছু না ঘটাই কাম্য। কেউ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে নিজে থেকে সরে যাওয়াটাও জরুরি। তবে দেশে এই সংস্কৃতি প্রায় অনুপস্থিত।
গত ছয় মাসে খুব কম মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর কাজই প্রশংসা অর্জন করেছে। কারও কার্যক্রম মূল্যায়নে এটা যথেষ্ট সময় নয় বলে অবশ্য মনে করা হয়। তবে আশাবাদ জাগিয়ে তোলার জন্য সময়টা কম দীর্ঘও নয়। প্রধানমন্ত্রী যেমন এই সময়ের মধ্যেই তাঁর কাজ দিয়ে নজর কেড়েছেন। সাম্প্রতিক এক জরিপেও সেটা প্রতিফলিত।
শুরুতে যে মন্ত্রিসভা গঠন হয়েছিল, তা কম বড় ছিল না। সেটাকে অপেক্ষাকৃত কম বয়সীদের মন্ত্রিসভা বলে বর্ণনা করা হয়। তাদের কাছে প্রত্যাশাও ছিল বেশি। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের কাছে জনপ্রত্যাশা স্বভাবতই বেশি। দীর্ঘ সময় পর বিএনপি ক্ষমতায় আসাতেও তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার কাছে প্রত্যাশা বেশি। এর কলেবর বাড়ানো যেতেই পারে; তবে মন্ত্রীদের কাছে জনগণ দেখতে চাইবে পারফরম্যান্স। সব মন্ত্রণালয় সমান গুরুত্বপূর্ণ নয় বটে; তবে সব মন্ত্রীরই ভালো কাজ করার সুযোগ রয়েছে। মন্ত্রীদের বড় কাজ জনপ্রশাসনকে সরকারের কর্মসূচি বাস্তবায়নে নিয়োজিত করা। সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির কারণেও তাদের কাছ থেকে আরও ভালো সেবা আশা করবে জনগণ। তৃণমূল পর্যন্ত মানুষ যেন মন্ত্রীদের ভূমিকার সুফল দেখতে পায়। সংসদেও তাদের কাজের জবাবদিহি নিশ্চিত হতে হবে। সেজন্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিগুলো গঠনের কাজ যেন দ্রুত শেষ হয়।
মন্ত্রিসভার আকার ছোট রেখে তাকে বেশি সক্রিয় করার ওপর সাধারণত জোর দেওয়া হয়। সেটা করার সুযোগ প্রধানমন্ত্রীর থাকছে বৈকি। মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টায় কোনো মন্ত্রণালয়ে অচলাবস্থা তৈরি হলে সেটাও তাঁকে দেখতে হবে। চলমান ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর হাতে ক্ষমতা যেমন বেশি; তেমনি মন্ত্রীদের ব্যর্থতার দায়ও এসে বর্তায় তাঁর ওপর। সেজন্য সঠিকভাবে মন্ত্রিসভার সদস্য নির্বাচন এবং তাদেরকে উপযুক্ত ক্ষেত্রে নিয়োজিত করাটা জরুরি। আমরা আশা করব, মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ ও সীমিত রদবদলের পর সরকার আরও সক্রিয় হয়ে উঠবে।
.png)

নির্বাচনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে আমরা রাষ্ট্রপতি হিসেবে পেতে যাচ্ছি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে। জাতীয় সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ আসন নিয়ে সরকার গঠনকারী বিএনপি থেকে মনোনয়ন লাভের পর তাঁর রাষ্ট্রপতি হওয়াটা অবশ্য ছিল সময়ের ব্যাপার। সেই পর্ব অতিক্রান্ত হয়েছে। অচিরেই বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে শপথ
২০ আগস্ট ২০২৬
সার বিতরণ ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই অনিয়মে জড়িয়ে আছে। এতে রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে বলেও অভিযোগ জোরালো। সরকার-নির্ধারিত মূল্যে জোগানোর কথা থাকলেও স্তরে স্তরে মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে কৃষক প্রায়ই বাড়তি দামে সার কিনতে বাধ্য হন। এমন পরিস্থিতির অবসান ঘটানোর কথা বলেই সরকার নতুন সার বিতরণ নীতিমালা এনেছে।
১৯ আগস্ট ২০২৬
নারীদের জন্য ‘পিংক বাস’ চালু করেছে বিআরটিসি। নারী চালক ও নারী কন্ডাক্টর পরিচালিত এই বাসে শুধু নারী যাত্রী থাকবেন। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বগুড়ার ১৩টি পথে ১৪টি বাস দিয়ে শুরু হয়েছে সেবা।
১৮ আগস্ট ২০২৬
সরকারের ছয় মাস তার কাজ মূল্যায়নের যথেষ্ট সময় নয়। তবে নজিরবিহীন গণঅভ্যুত্থানের পর নির্বাচিত হয়ে আসা একটি সরকারের এক-দশমাংশ সময় সামান্যও নয়। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকার দেড় বছরের মতো সময় দেশ পরিচালনা করেছে। সাড়ে ১৫ বছরের আওয়ামী অপশাসনের পর তাদের কাজের ভালো-মন্দেও পরিস্থিতি বিশেষ রূপ নেয়।