এম এ আজিজ

এশীয় হাতি নিয়ে বাংলাদেশে নানা দূর্ঘটনা ঘটে চলেছে। একের পর এক হাতি হত্যাকান্ড কিংবা অপঘাতে মৃর্ত্যু। কিছুদিন আগে ছিল পালা হাতির চাঁদাবাজি ও হাতির ওপর মাহুতের নির্মম অত্যাচার নিয়ে তুমুল আলোচনা। তারপর ঘটল চুনতিতে ট্রেনের ধাক্কায় হাতির মৃত্যু। চট্রগ্রামে বনের গভীরে হাতি শাবকের মৃহদেহ পাওয়া গেল। চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত কেইপিজেড এলাকা থেকে হাতি সরাতে দেওয়া হলো লিগাল নোটিশ। এমন লিগাল নোটিশ সম্ভবত পৃথিবীতে এটিই প্রথম। প্রায় মাস খানেক আগে হাতি হত্যা করে মাটিচাপা দিয়ে তার ওপর ঘর তুলে ধামাচাপা দেওয়ার এক নির্মম উদাহরণ সৃষ্টি করলাম আমরা।
বুনো পরিবেশে হাতি টিকে থাকা এশীয় ১৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ একটি। এ সকল দেশের বনাঞ্চলে মোট হাতির সংখ্যা প্রায় ৫০ হাজার। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক হাতি আছে ভারতে। আমাদের দেশে হাতির সংখ্যা মাত্র ২৫০ এর কাছাকাছি। বাংলাদেশের অর্ধেকের চেয়েও কম আয়তনের দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলংকায় বুনো হাতি আছে ৪ হাজার। হাতির সংখ্যা বিবেচনায় বাংলাদেশ অবস্থান প্রায় তলানিতে। অথচ এই কয়টা হাতি রক্ষায়ও আমাদের কোনো অগ্রগতি নেই। কোনো ঘটনা বা দূঘটনা ঘটলে কর্তৃপক্ষের একটু নড়াচড়া চোখে পড়ে। তারপর আবার গভীর নিস্তব্ধতা।
হাতি নিয়ে আজ থেকে দুই দশক আগে গবেষণা করতে গিয়ে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের নানা অঞ্চল চষে বেড়িয়েছি। এশীয় হাতি বিষেশজ্ঞ কমিটির সদস্য হিসেবেও পরবর্তীতে দেশের হাতি নিয়ে গবেষণা কাজ করেছি এবং করছি। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক হাতি বিশেষজ্ঞরা আমাদের সরকারকে নানা সময়ে নানা পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছু হয়নি। পরামর্শ বাস্তবায়নের কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। গত আড়াই দশকে বাংলাদেশে হাতির অবস্থার কোনো উন্নতি তো হয়ই নি বরং দিন দিন খারাপ হচ্ছে। প্রাকৃতিক পরিবেশ তথা হাতির রক্ষায় আমাদের অবহেলা এ জন্য দায়ী।
হাতির এই দূরবস্থা দেখে মর্মাহত হই। প্রচার মাধ্যমের নানা লেখালেখি পড়ি। কয়েক দিন আলোচনা চলে, সভা হয় কিন্তু মাঠ পর্যায়ে কোনো কাজ হয় না। চুনতিতে ট্রেনের ধাক্কায় হাতির মৃত্যু নিয়ে আমরা উহু-আহা করেছি কয়েক দিন। তারপর আরেকটি হাতি শাবকের মৃতদেহ পাওয়া গেলে ঈদগাঁও বনাঞ্চলে। গায়ে বুলেটের চিহ্ন। এ মাসের ২৫ তারিখ রাঙামাটির ভাসান্যাদাম এলাকার একটি দলের প্রধান পুরুষ হাতিটি মারা গেল। গত বছর এই একই হাতি দূষ্কৃতিকারী দ্বারা পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়। তা থেকে পায়ে পচন ধরে। হাতিটি চলাচলে অক্ষম হয়ে পড়ে। বন বিভাগের মাঠকর্মীরা হাতিটির চিকিৎসা দিতে সফল হলেও শেষ রক্ষা হলো না।
গতকাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভেসে এল, দলের একটি সঙ্গী হাতি মৃত হাতির প্রতি শোক প্রকাশ করছে – কখনো ধুলো ছুড়ছে কিংবা আলতো করে মৃতদেহ স্পর্শ করছে। সে কোনোভাবেই মৃত সাথীকে ত্যাগ করতে রাজি নয়। পরিতাপের বিষয়, সেই সাথে যোগ হয়েছে স্থানীয় একদল মানুষের উৎপাত – তারা শোকে কাতর হাতিটিকে ঢিল ছুড়ছে, নানাভাবে বিরক্ত করছে। মানুষের বিকৃত উল্লাসের কী লজ্জ্বাকর বহিঃপ্রকাশ! স্থানীয় মাধ্যমে আজ (২৭ এপ্রিল) খবর পেলাম, রাতের বেলায় মৃত হাতির শুঁড়, পা ও শরীরের নানা অংশ কেটে নিয়ে গেছে। কী বিভৎস ব্যাপার ! অথচ পাশেই রাঙ্গিপাড়া বন অফিস। তাদের নাকের ডগায় এমন ঘটনা ঘটতে পারল!
বাংলাদেশের যে কয়েকটি বনাঞ্চলে হাতি টিকে আছে তার মধ্যে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার কিছু রক্ষিত ও সংরক্ষিত বনভূমি অন্যতম। কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের অধীন টেকনাফ অঞ্চলের হাতিগুলো রোহিঙ্গা ও স্থানীয় মানুষের আগ্রাসনে চিড়েচ্যাপ্টা হচ্ছে। সে সাথে যোগ হয়েছে বিস্তৃত এলাকাজুড়ে সেনাবাহিনীর ক্যাম্প ও নানা সরকারী -বেসরকারী স্থাপনা। এর মধ্যে ঘুনধুম ও উখিয়া দিয়ে দুটি হাতি চলাচলের কড়িডর ধ্বংস করা হয়েছে। ফলে দেশের প্রায় ২৫ শতাংশ বুনো হাতি এখন টেকনাফের বনে গৃহবন্দী। এতে দীর্ঘ মেয়াদে এই হাতিগুলোর টিকে থাকার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে আসছে। কয়েক বছরে এই অঞ্চলে এক ডজনেরও বেশি হাতি মানুষের হাতে প্রাণ হারিয়েছে। আমাদের জীবদ্দশায় বাকী হাতিগুলোর বিলুপ্তি ঘটবে।
চট্টগ্রামের চুনতি, বাঁশখালী, ফ্যাসিয়াখালী, মেধাকচ্ছপিয়া রক্ষিত এলাকার হাতিগুলো কিছুটা ভালো অবস্থায় ছিল। এ ছাড়া লামা, আলীকদম, ঈদগাঁও ও চকরিয়া বনাঞ্চলে হাতির বিচরণ ও যাতায়াত ছিল কিছুটা অবাধ। এই সকল এলাকায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ধরে আছে হাতি চলাচলের অসংখ্য কড়িডোর ও রাস্তা। এই মহাসড়ক পাড় হতে হাতিকে কিছুটা বেগ পেতে হলেও তা ছিল সহনীয়। গাড়ী চালকেরা হাতি দেখলে গতি কমিয়ে হাতিকে পাড় হতে দিতেন। চালকদের সচেতন করতে কাজও করেছি আমরা। কিন্তু বিগত কয়েক বছরে উন্নয়নের নামে এই এলাকার হাতির বিচরণকৃত বনাঞ্চল খন্ড-বিখন্ড করা হয়েছে। বিশেষ করে সম্প্রতি নির্মিত চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সংযোগকারী রেললাইন এই এলাকার বনাঞ্চল চৌচির করে ফেলেছে। হাতির কড়িডোর ও রাস্তা ধ্বংস করা হয়েছে নির্বিচারে। হাতির চলাচলের জন্য যে কয়েকটি আন্ডারপাস ও একটি ওভারপাস তৈরি করা হয়েছে তা বিশালদেহী হাতির চলাচলের জন্য কোনো বিচারেই উপযোগী নয়। ফলে ভবিষ্যতে ওই এলাকায় হাতি খুনের ঘটনা আরও ঘটবে।
বাঘ সংরক্ষণের পথ ধরে ভারতের পরিবেশ, বন ও জলাবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় ১৯৯১ সালে ‘প্রজেক্ট এলিফ্যান্ট’ শুরু করে। এ পর্যন্ত তারা ৩৩টি বনাঞ্চল হাতির জন্য রক্ষিত এলাকা ঘোষণা করে তা বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার আওতায় নানা সংরক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। আর বাংলাদেশ গত ৫০ বছরে হাতি সংরক্ষণের জন্য কতটুকু উদ্যোগ গ্রহন করেছে ?
আমরা হাতি নিয়ে পড়েছি উভয় সংকটে। ২০১৮ সালে টেকনাফে হাতি কর্তৃক একজন রোহিঙ্গা মারা যায়। ওই সময় কক্সবাজারে অবস্থিত শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবসান কমিশনারের কার্যালয়ে একটি সভায় প্রধান কমিশনার রাগতস্বরে বললেন, ‘আপনারা তো বিশেষজ্ঞ, বলেন তো হাতি আমাদের কী উপকার করে? হাতি আমার একজন রোহিঙ্গা মেরে ফেলেছে। প্রয়োজন হলে আমি টেকনাফের সব হাতি গুলি করে মেরে ফেলব।’ সরকারের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার কথা শুনে তাজ্জব বনে যাই। সভায় বেশিক্ষণ থাকতে পারিনি।
দেশের বনাঞ্চল আমাদের থাবায় আজ ক্ষত-বিক্ষত। যেটুকু বন টিকে আছে, তাতে হাতির খাবার নেই। বনের ভেতর চলে ফসলের চাষ। উন্নয়নের নামে বলি হচ্ছে বনাঞ্চল। এভাবে হাতির ঘর-বাড়ি বেহাত হচ্ছে আমাদের লোভের কাছে। ফলে খাবারের খোঁজে বনের হাতি হানা দেয় মানুষের ঘর-বাড়ি, ফসলের জমিতে। তৈরি হয় সংঘাত, খুন হয় হাতি, প্রাণ যায় মানুষের। আমাদের উদাসীনতা না কাটলে এমনটি চলতেই থাকবে। দেশ থেকে হাতির বিলুপ্তিই এ থেকে আমাদের পরিত্রাণ দিতে পারে।

এশীয় হাতি নিয়ে বাংলাদেশে নানা দূর্ঘটনা ঘটে চলেছে। একের পর এক হাতি হত্যাকান্ড কিংবা অপঘাতে মৃর্ত্যু। কিছুদিন আগে ছিল পালা হাতির চাঁদাবাজি ও হাতির ওপর মাহুতের নির্মম অত্যাচার নিয়ে তুমুল আলোচনা। তারপর ঘটল চুনতিতে ট্রেনের ধাক্কায় হাতির মৃত্যু। চট্রগ্রামে বনের গভীরে হাতি শাবকের মৃহদেহ পাওয়া গেল। চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত কেইপিজেড এলাকা থেকে হাতি সরাতে দেওয়া হলো লিগাল নোটিশ। এমন লিগাল নোটিশ সম্ভবত পৃথিবীতে এটিই প্রথম। প্রায় মাস খানেক আগে হাতি হত্যা করে মাটিচাপা দিয়ে তার ওপর ঘর তুলে ধামাচাপা দেওয়ার এক নির্মম উদাহরণ সৃষ্টি করলাম আমরা।
বুনো পরিবেশে হাতি টিকে থাকা এশীয় ১৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ একটি। এ সকল দেশের বনাঞ্চলে মোট হাতির সংখ্যা প্রায় ৫০ হাজার। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক হাতি আছে ভারতে। আমাদের দেশে হাতির সংখ্যা মাত্র ২৫০ এর কাছাকাছি। বাংলাদেশের অর্ধেকের চেয়েও কম আয়তনের দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলংকায় বুনো হাতি আছে ৪ হাজার। হাতির সংখ্যা বিবেচনায় বাংলাদেশ অবস্থান প্রায় তলানিতে। অথচ এই কয়টা হাতি রক্ষায়ও আমাদের কোনো অগ্রগতি নেই। কোনো ঘটনা বা দূঘটনা ঘটলে কর্তৃপক্ষের একটু নড়াচড়া চোখে পড়ে। তারপর আবার গভীর নিস্তব্ধতা।
হাতি নিয়ে আজ থেকে দুই দশক আগে গবেষণা করতে গিয়ে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের নানা অঞ্চল চষে বেড়িয়েছি। এশীয় হাতি বিষেশজ্ঞ কমিটির সদস্য হিসেবেও পরবর্তীতে দেশের হাতি নিয়ে গবেষণা কাজ করেছি এবং করছি। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক হাতি বিশেষজ্ঞরা আমাদের সরকারকে নানা সময়ে নানা পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছু হয়নি। পরামর্শ বাস্তবায়নের কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। গত আড়াই দশকে বাংলাদেশে হাতির অবস্থার কোনো উন্নতি তো হয়ই নি বরং দিন দিন খারাপ হচ্ছে। প্রাকৃতিক পরিবেশ তথা হাতির রক্ষায় আমাদের অবহেলা এ জন্য দায়ী।
হাতির এই দূরবস্থা দেখে মর্মাহত হই। প্রচার মাধ্যমের নানা লেখালেখি পড়ি। কয়েক দিন আলোচনা চলে, সভা হয় কিন্তু মাঠ পর্যায়ে কোনো কাজ হয় না। চুনতিতে ট্রেনের ধাক্কায় হাতির মৃত্যু নিয়ে আমরা উহু-আহা করেছি কয়েক দিন। তারপর আরেকটি হাতি শাবকের মৃতদেহ পাওয়া গেলে ঈদগাঁও বনাঞ্চলে। গায়ে বুলেটের চিহ্ন। এ মাসের ২৫ তারিখ রাঙামাটির ভাসান্যাদাম এলাকার একটি দলের প্রধান পুরুষ হাতিটি মারা গেল। গত বছর এই একই হাতি দূষ্কৃতিকারী দ্বারা পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়। তা থেকে পায়ে পচন ধরে। হাতিটি চলাচলে অক্ষম হয়ে পড়ে। বন বিভাগের মাঠকর্মীরা হাতিটির চিকিৎসা দিতে সফল হলেও শেষ রক্ষা হলো না।
গতকাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভেসে এল, দলের একটি সঙ্গী হাতি মৃত হাতির প্রতি শোক প্রকাশ করছে – কখনো ধুলো ছুড়ছে কিংবা আলতো করে মৃতদেহ স্পর্শ করছে। সে কোনোভাবেই মৃত সাথীকে ত্যাগ করতে রাজি নয়। পরিতাপের বিষয়, সেই সাথে যোগ হয়েছে স্থানীয় একদল মানুষের উৎপাত – তারা শোকে কাতর হাতিটিকে ঢিল ছুড়ছে, নানাভাবে বিরক্ত করছে। মানুষের বিকৃত উল্লাসের কী লজ্জ্বাকর বহিঃপ্রকাশ! স্থানীয় মাধ্যমে আজ (২৭ এপ্রিল) খবর পেলাম, রাতের বেলায় মৃত হাতির শুঁড়, পা ও শরীরের নানা অংশ কেটে নিয়ে গেছে। কী বিভৎস ব্যাপার ! অথচ পাশেই রাঙ্গিপাড়া বন অফিস। তাদের নাকের ডগায় এমন ঘটনা ঘটতে পারল!
বাংলাদেশের যে কয়েকটি বনাঞ্চলে হাতি টিকে আছে তার মধ্যে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার কিছু রক্ষিত ও সংরক্ষিত বনভূমি অন্যতম। কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের অধীন টেকনাফ অঞ্চলের হাতিগুলো রোহিঙ্গা ও স্থানীয় মানুষের আগ্রাসনে চিড়েচ্যাপ্টা হচ্ছে। সে সাথে যোগ হয়েছে বিস্তৃত এলাকাজুড়ে সেনাবাহিনীর ক্যাম্প ও নানা সরকারী -বেসরকারী স্থাপনা। এর মধ্যে ঘুনধুম ও উখিয়া দিয়ে দুটি হাতি চলাচলের কড়িডর ধ্বংস করা হয়েছে। ফলে দেশের প্রায় ২৫ শতাংশ বুনো হাতি এখন টেকনাফের বনে গৃহবন্দী। এতে দীর্ঘ মেয়াদে এই হাতিগুলোর টিকে থাকার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে আসছে। কয়েক বছরে এই অঞ্চলে এক ডজনেরও বেশি হাতি মানুষের হাতে প্রাণ হারিয়েছে। আমাদের জীবদ্দশায় বাকী হাতিগুলোর বিলুপ্তি ঘটবে।
চট্টগ্রামের চুনতি, বাঁশখালী, ফ্যাসিয়াখালী, মেধাকচ্ছপিয়া রক্ষিত এলাকার হাতিগুলো কিছুটা ভালো অবস্থায় ছিল। এ ছাড়া লামা, আলীকদম, ঈদগাঁও ও চকরিয়া বনাঞ্চলে হাতির বিচরণ ও যাতায়াত ছিল কিছুটা অবাধ। এই সকল এলাকায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ধরে আছে হাতি চলাচলের অসংখ্য কড়িডোর ও রাস্তা। এই মহাসড়ক পাড় হতে হাতিকে কিছুটা বেগ পেতে হলেও তা ছিল সহনীয়। গাড়ী চালকেরা হাতি দেখলে গতি কমিয়ে হাতিকে পাড় হতে দিতেন। চালকদের সচেতন করতে কাজও করেছি আমরা। কিন্তু বিগত কয়েক বছরে উন্নয়নের নামে এই এলাকার হাতির বিচরণকৃত বনাঞ্চল খন্ড-বিখন্ড করা হয়েছে। বিশেষ করে সম্প্রতি নির্মিত চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সংযোগকারী রেললাইন এই এলাকার বনাঞ্চল চৌচির করে ফেলেছে। হাতির কড়িডোর ও রাস্তা ধ্বংস করা হয়েছে নির্বিচারে। হাতির চলাচলের জন্য যে কয়েকটি আন্ডারপাস ও একটি ওভারপাস তৈরি করা হয়েছে তা বিশালদেহী হাতির চলাচলের জন্য কোনো বিচারেই উপযোগী নয়। ফলে ভবিষ্যতে ওই এলাকায় হাতি খুনের ঘটনা আরও ঘটবে।
বাঘ সংরক্ষণের পথ ধরে ভারতের পরিবেশ, বন ও জলাবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় ১৯৯১ সালে ‘প্রজেক্ট এলিফ্যান্ট’ শুরু করে। এ পর্যন্ত তারা ৩৩টি বনাঞ্চল হাতির জন্য রক্ষিত এলাকা ঘোষণা করে তা বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার আওতায় নানা সংরক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। আর বাংলাদেশ গত ৫০ বছরে হাতি সংরক্ষণের জন্য কতটুকু উদ্যোগ গ্রহন করেছে ?
আমরা হাতি নিয়ে পড়েছি উভয় সংকটে। ২০১৮ সালে টেকনাফে হাতি কর্তৃক একজন রোহিঙ্গা মারা যায়। ওই সময় কক্সবাজারে অবস্থিত শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবসান কমিশনারের কার্যালয়ে একটি সভায় প্রধান কমিশনার রাগতস্বরে বললেন, ‘আপনারা তো বিশেষজ্ঞ, বলেন তো হাতি আমাদের কী উপকার করে? হাতি আমার একজন রোহিঙ্গা মেরে ফেলেছে। প্রয়োজন হলে আমি টেকনাফের সব হাতি গুলি করে মেরে ফেলব।’ সরকারের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার কথা শুনে তাজ্জব বনে যাই। সভায় বেশিক্ষণ থাকতে পারিনি।
দেশের বনাঞ্চল আমাদের থাবায় আজ ক্ষত-বিক্ষত। যেটুকু বন টিকে আছে, তাতে হাতির খাবার নেই। বনের ভেতর চলে ফসলের চাষ। উন্নয়নের নামে বলি হচ্ছে বনাঞ্চল। এভাবে হাতির ঘর-বাড়ি বেহাত হচ্ছে আমাদের লোভের কাছে। ফলে খাবারের খোঁজে বনের হাতি হানা দেয় মানুষের ঘর-বাড়ি, ফসলের জমিতে। তৈরি হয় সংঘাত, খুন হয় হাতি, প্রাণ যায় মানুষের। আমাদের উদাসীনতা না কাটলে এমনটি চলতেই থাকবে। দেশ থেকে হাতির বিলুপ্তিই এ থেকে আমাদের পরিত্রাণ দিতে পারে।

নদীমাতৃক বাংলাদেশের অর্থনীতি, কৃষি, বাস্তুসংস্থান ও গ্রামীণ জীবনযাত্রা দেশটির নদীগুলোর টেকসই ব্যবস্থাপনার সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত। দেশের প্রধান আন্তঃসীমান্ত নদীগুলোর মধ্যে তিস্তা বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এ কারণে নদীটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে।
১১ ঘণ্টা আগে
রেহান আসিফ আসাদ, প্রকৌশলী ও প্রযুক্তি পেশাদার। প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টার দায়িত্বে আছেন। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের আগে বুধবার (১০ জুন) স্ট্রিমের সঙ্গে আলাপে তিনি তুলে ধরেছেন সিম ট্যাক্স, স্টার্টআপ তহবিল, ডেটা সেন্টারসহ ডিজিটাল অবকাঠামো ঘিরে সরকারের পরিকল্পনা।
১৫ ঘণ্টা আগে
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ‘পুশ-ইন’ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও মানবিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) বাংলাদেশে মানুষ ঠেলে পাঠানোর প্রচেষ্টা জোরদার করেছে। এই তথ্য জানাচ্ছে খোদ বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি)।
১৬ ঘণ্টা আগে
ঢালাওভাবে কর্মী না পাঠিয়ে, প্রথমে ৫০ বা ১০০ জন কর্মী পাঠিয়ে তাদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে হবে। তারা সেখানে নিরাপদে আছেন কি না এবং চুক্তিমতো কাজ পাচ্ছেন কি না, তার ওপর ভিত্তি করেই ধাপে ধাপে আরও কর্মী পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
১৭ ঘণ্টা আগে