জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর
ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পর এখন একটি স্বাভাবিক তর্ক-বিতর্ক বা আলোচনা প্রায়ই চোখে পড়ে—এই আন্দোলন কি সফল নাকি ব্যর্থ? নিশ্চিতভাবেই আমি মনে করি আমরা সফল। কারণ, এই আন্দোলনের প্রাথমিক চাওয়া ছিল ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নিপীড়ন বন্ধ করা, যা পরে এক দফা অর্থাৎ সরকারের পতনের দাবিতে পরিণত হয়। যে উদ্দেশ্যে মানুষ রাস্তায় নেমেছিল, ৫ই আগস্টের পর সেই স্বৈরাচার থেকে মুক্তি অর্জনই আমাদের প্রথম ও প্রধান সফলতা।
আন্দোলনের এই বিশাল জনসম্পৃক্ততার মূল কারণ ছিল ১৬-১৭ বছরের দমন-নিপীড়ন। সমাজের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষ কোথাও না কোথাও চরমভাবে বঞ্চিত হচ্ছিল। সেই বঞ্চনা যখন চরম আকার ধারণ করে, তখনই ছাত্রদের ন্যায্য দাবির পেছনে গোটা দেশ এসে দাঁড়ায়। এই গণঅভ্যুত্থানকে ঘিরে প্রতিটি মানুষেরই কিছু আকাঙ্ক্ষা ছিল। অনেক কিছু অর্জিত হয়েছে, আবার অনেক কিছু হয়নি। অর্জনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—আমাদের বাকস্বাধীনতা ফিরেছে, একটি নির্বাচিত সরকার এসেছে এবং পার্লামেন্টে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে সরকারি ও বিরোধী দল বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করছে, কথা বলছে।
কিন্তু হতাশার জায়গাও আছে। এত বড় একটি রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পর আমার সবচেয়ে বড় হতাশার কারণ হলো বিভাজন। আমরা দেখেছি বিগত ১৬-১৭ বছরে কীভাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে পুঁজি করে আমাদের মাঝে বিভাজন সৃষ্টি করা হয়েছিল। জুলাইয়ের এই গণঅভ্যুত্থানে রিকশাওয়ালা, প্রবাসী, শ্রমিক, মা-বোন থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষের সম্পৃক্ততা ছিল ছাত্রদের নেতৃত্বে। কিন্তু যখন এই অভ্যুত্থানের একক নেতৃত্ব দাবি করা হয় বা ‘জুলাইয়ের চেতনা’ নিয়েও নতুন করে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়, তখন তা সত্যিই হতাশাজনক। তবে আশার কথা হলো, দীর্ঘ বঞ্চনার পর আমরা যে এক হতে পেরেছিলাম, তার রেশ ধরে এখনো সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী ছাড়া দলমত নির্বিশেষে পুরো বাংলাদেশ কিন্তু এক কাতারেই দাঁড়াচ্ছে।
আমার হতাশার আরেকটি বড় জায়গা হলো বিচারহীনতা। আমি আইনের মানুষ নই, তাই বুঝি সুষ্ঠু বিচার প্রক্রিয়ায় হয়তো কিছুটা সময় লাগবে। কিন্তু এই মুহূর্তে অন্তত কিছু দৃশ্যমান বিচার আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম। একইসঙ্গে, আহতদের যথাযোগ্য মর্যাদায় পুনর্বাসন এবং শহীদদের প্রতি পরিপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক সম্মান প্রদর্শন করা উচিত ছিল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বা বর্তমান সরকার যতটুকু করেছে, তাদের প্রাপ্য তার চেয়েও অনেক বেশি।
অবশ্য এখনই পুরোপুরি হতাশ হওয়ার সময় আসেনি, হয়তো মূল্যায়ন করাটা একটু দ্রুতই হয়ে যায়। তবে সাধারণ মানুষ যে বঞ্চনার শিকার হয়েছিল, তা কিন্তু একদিনের কোনো সিদ্ধান্তে আসেনি। টেবিলে ঘুষ না দিলে ফাইল না নড়া, চাঁদাবাজি এবং ধর্ম, বর্ণ, গোত্র বা নারী-পুরুষের বৈষম্যের মতো ছোট ছোট বিষয়গুলোই একসময় ক্ষোভের জন্ম দেয়। প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি বা বৈষম্যগুলো এখনো অনেকটা রয়েই গেছে। ছয় মাস বা আড়াই বছর হয়তো পরিবর্তনের জন্য খুব বেশি সময় নয়, তবে দলমত নির্বিশেষে এসব দূর করার কোনো সম্মিলিত উদ্যোগ যদি দৃশ্যমান হতো, তাহলে ভালো লাগতো।
আমি যেহেতু শিক্ষকতা করি, তাই মোটা দাগে আমার কাছে মনে হয় আমাদের সবচেয়ে বেশি ধ্বংস হয়েছে শিক্ষাব্যবস্থা। আমি অনেক আশা নিয়ে আছি যে সরকার এখন শিক্ষানীতি নিয়ে কাজ করবে। শিক্ষানীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোকে অনুধাবন করতে হবে যে, শিক্ষা জাতীয় মূল্যবোধ তৈরিতে কতটা জরুরি। পাহাড় থেকে সমতল, সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষের কথা মাথায় রেখে যদি আমরা একটি সুন্দর, গণতান্ত্রিক আদর্শে অনুপ্রাণিত ও দর্শনভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারি, তবেই আমার মনে হয় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সত্যিকারের উত্তরণ শুরু হবে। একদম শেকড় থেকে।
আগামী দিনের বাংলাদেশের কাছে আমার প্রত্যাশা খুব স্পষ্ট। বর্তমানে আমাদের মধ্যে যে অস্থিরতা ও অসহিষ্ণুতা কাজ করছে, তা দূর করতে হবে। একটা সময় আমাদের তর্ক-বিতর্কের মধ্যেও একধরনের শালীনতা ও সৌন্দর্য ছিল, যা প্রাতিষ্ঠানিক ও রাজনৈতিক উভয় ক্ষেত্রেই দেখা যেত। আমার একটাই চাওয়া, বাংলাদেশের প্রশ্নে আমরা সবাই এক কাতারে দাঁড়াবো। আমরা কথা বলবো, তর্ক করবো, বিতর্ক করবো; কিন্তু কাউকে অসম্মান বা মিথ্যাচার করে নয়। অন্যকে ছোট করার যে প্রবণতা, সেটিই কিন্তু বিগত স্বৈরাচারী সরকারের পতনের অন্যতম কারণ ছিল। তাই নতুন এই বাংলাদেশে আমরা যেন পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্মান ও ভালোবাসা বজায় রেখে যেকোনো সমস্যা সমাধানে ঐক্যবদ্ধ হতে পারি।
পরিশেষে একটি কথাই বলবো, সাধারণ মানুষের চাওয়া খুব সামান্য। একটু নিশ্চিন্তে ঘুমানো এবং দুবেলা দুমুঠো খাবারের নিশ্চয়তা। রাজনৈতিক দল বা প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তিদের কাছে এর চেয়ে বেশি কিছু আর চাওয়ার নেই।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পর এখন একটি স্বাভাবিক তর্ক-বিতর্ক বা আলোচনা প্রায়ই চোখে পড়ে—এই আন্দোলন কি সফল নাকি ব্যর্থ? নিশ্চিতভাবেই আমি মনে করি আমরা সফল। কারণ, এই আন্দোলনের প্রাথমিক চাওয়া ছিল ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নিপীড়ন বন্ধ করা, যা পরে এক দফা অর্থাৎ সরকারের পতনের দাবিতে পরিণত হয়। যে উদ্দেশ্যে মানুষ রাস্তায় নেমেছিল, ৫ই আগস্টের পর সেই স্বৈরাচার থেকে মুক্তি অর্জনই আমাদের প্রথম ও প্রধান সফলতা।
আন্দোলনের এই বিশাল জনসম্পৃক্ততার মূল কারণ ছিল ১৬-১৭ বছরের দমন-নিপীড়ন। সমাজের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষ কোথাও না কোথাও চরমভাবে বঞ্চিত হচ্ছিল। সেই বঞ্চনা যখন চরম আকার ধারণ করে, তখনই ছাত্রদের ন্যায্য দাবির পেছনে গোটা দেশ এসে দাঁড়ায়। এই গণঅভ্যুত্থানকে ঘিরে প্রতিটি মানুষেরই কিছু আকাঙ্ক্ষা ছিল। অনেক কিছু অর্জিত হয়েছে, আবার অনেক কিছু হয়নি। অর্জনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—আমাদের বাকস্বাধীনতা ফিরেছে, একটি নির্বাচিত সরকার এসেছে এবং পার্লামেন্টে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে সরকারি ও বিরোধী দল বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করছে, কথা বলছে।
কিন্তু হতাশার জায়গাও আছে। এত বড় একটি রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পর আমার সবচেয়ে বড় হতাশার কারণ হলো বিভাজন। আমরা দেখেছি বিগত ১৬-১৭ বছরে কীভাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে পুঁজি করে আমাদের মাঝে বিভাজন সৃষ্টি করা হয়েছিল। জুলাইয়ের এই গণঅভ্যুত্থানে রিকশাওয়ালা, প্রবাসী, শ্রমিক, মা-বোন থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষের সম্পৃক্ততা ছিল ছাত্রদের নেতৃত্বে। কিন্তু যখন এই অভ্যুত্থানের একক নেতৃত্ব দাবি করা হয় বা ‘জুলাইয়ের চেতনা’ নিয়েও নতুন করে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়, তখন তা সত্যিই হতাশাজনক। তবে আশার কথা হলো, দীর্ঘ বঞ্চনার পর আমরা যে এক হতে পেরেছিলাম, তার রেশ ধরে এখনো সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী ছাড়া দলমত নির্বিশেষে পুরো বাংলাদেশ কিন্তু এক কাতারেই দাঁড়াচ্ছে।
আমার হতাশার আরেকটি বড় জায়গা হলো বিচারহীনতা। আমি আইনের মানুষ নই, তাই বুঝি সুষ্ঠু বিচার প্রক্রিয়ায় হয়তো কিছুটা সময় লাগবে। কিন্তু এই মুহূর্তে অন্তত কিছু দৃশ্যমান বিচার আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম। একইসঙ্গে, আহতদের যথাযোগ্য মর্যাদায় পুনর্বাসন এবং শহীদদের প্রতি পরিপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক সম্মান প্রদর্শন করা উচিত ছিল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বা বর্তমান সরকার যতটুকু করেছে, তাদের প্রাপ্য তার চেয়েও অনেক বেশি।
অবশ্য এখনই পুরোপুরি হতাশ হওয়ার সময় আসেনি, হয়তো মূল্যায়ন করাটা একটু দ্রুতই হয়ে যায়। তবে সাধারণ মানুষ যে বঞ্চনার শিকার হয়েছিল, তা কিন্তু একদিনের কোনো সিদ্ধান্তে আসেনি। টেবিলে ঘুষ না দিলে ফাইল না নড়া, চাঁদাবাজি এবং ধর্ম, বর্ণ, গোত্র বা নারী-পুরুষের বৈষম্যের মতো ছোট ছোট বিষয়গুলোই একসময় ক্ষোভের জন্ম দেয়। প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি বা বৈষম্যগুলো এখনো অনেকটা রয়েই গেছে। ছয় মাস বা আড়াই বছর হয়তো পরিবর্তনের জন্য খুব বেশি সময় নয়, তবে দলমত নির্বিশেষে এসব দূর করার কোনো সম্মিলিত উদ্যোগ যদি দৃশ্যমান হতো, তাহলে ভালো লাগতো।
আমি যেহেতু শিক্ষকতা করি, তাই মোটা দাগে আমার কাছে মনে হয় আমাদের সবচেয়ে বেশি ধ্বংস হয়েছে শিক্ষাব্যবস্থা। আমি অনেক আশা নিয়ে আছি যে সরকার এখন শিক্ষানীতি নিয়ে কাজ করবে। শিক্ষানীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোকে অনুধাবন করতে হবে যে, শিক্ষা জাতীয় মূল্যবোধ তৈরিতে কতটা জরুরি। পাহাড় থেকে সমতল, সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষের কথা মাথায় রেখে যদি আমরা একটি সুন্দর, গণতান্ত্রিক আদর্শে অনুপ্রাণিত ও দর্শনভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারি, তবেই আমার মনে হয় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সত্যিকারের উত্তরণ শুরু হবে। একদম শেকড় থেকে।
আগামী দিনের বাংলাদেশের কাছে আমার প্রত্যাশা খুব স্পষ্ট। বর্তমানে আমাদের মধ্যে যে অস্থিরতা ও অসহিষ্ণুতা কাজ করছে, তা দূর করতে হবে। একটা সময় আমাদের তর্ক-বিতর্কের মধ্যেও একধরনের শালীনতা ও সৌন্দর্য ছিল, যা প্রাতিষ্ঠানিক ও রাজনৈতিক উভয় ক্ষেত্রেই দেখা যেত। আমার একটাই চাওয়া, বাংলাদেশের প্রশ্নে আমরা সবাই এক কাতারে দাঁড়াবো। আমরা কথা বলবো, তর্ক করবো, বিতর্ক করবো; কিন্তু কাউকে অসম্মান বা মিথ্যাচার করে নয়। অন্যকে ছোট করার যে প্রবণতা, সেটিই কিন্তু বিগত স্বৈরাচারী সরকারের পতনের অন্যতম কারণ ছিল। তাই নতুন এই বাংলাদেশে আমরা যেন পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্মান ও ভালোবাসা বজায় রেখে যেকোনো সমস্যা সমাধানে ঐক্যবদ্ধ হতে পারি।
পরিশেষে একটি কথাই বলবো, সাধারণ মানুষের চাওয়া খুব সামান্য। একটু নিশ্চিন্তে ঘুমানো এবং দুবেলা দুমুঠো খাবারের নিশ্চয়তা। রাজনৈতিক দল বা প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তিদের কাছে এর চেয়ে বেশি কিছু আর চাওয়ার নেই।
.png)

নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের যে গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা ছিল, তা আজও পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থান যেন নব্বইয়ের সেই আকাঙ্ক্ষারই এক নতুন পুনরাবৃত্তি, যেখানে জনগণ আবারও একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের দাবি তুলেছে।
২৯ মিনিট আগে
বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের ভিত গড়ে উঠেছে ভাষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি, সীমান্তবর্তী মানুষের জীবনযাত্রা এবং পারস্পরিক নির্ভরতার ওপর। সেই কারণেই দুই দেশের সম্পর্কে যখন টানাপোড়েন দেখা দেয়, তখন অনেক সময় আনুষ্ঠানিক আলোচনার পাশাপাশি প্রতীকী কিছু পদক্ষেপও বিশেষ গুরুত্ব পায়।
১ ঘণ্টা আগে
এ দেশের মানুষের চূড়ান্ত লক্ষ্য বা আকাঙ্ক্ষাগুলো পুরোপুরি অর্জিত হয়নি। সর্বস্তরের শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ ছাড়া তো কোনো গণঅভ্যুত্থান সফল হয় না। যারা এই অভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছিলেন বা সমর্থন জুগিয়েছিলেন, সেই আপামর জনসাধারণের প্রত্যাশা ছিল অর্থনৈতিক মুক্তি এবং সব ধরনের বৈষম্য ও নিপীড়ন থেকে মুক্তি।
৪ ঘণ্টা আগে
জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা কতটুকু পূরণ হলো, তা ১০০ নম্বরের মধ্যে কোনো নির্দিষ্ট নম্বর দিয়ে মূল্যায়ন করা সম্ভব নয়। তবে পরিবর্তনের একটি মজবুত ভিত্তি যেহেতু তৈরি হয়েছে এবং জনগণ নির্বিঘ্নে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা উপভোগ করতে শুরু করেছে, তাই এই পথ থেকে পিছিয়ে আসার আর কোনো সুযোগ নেই।
৬ ঘণ্টা আগে