বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে কোথায় দাঁড়িয়ে দুই দেশ

প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০২৬, ১৭: ২৬
স্ট্রিম গ্রাফিক

বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের ভিত গড়ে উঠেছে ভাষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি, সীমান্তবর্তী মানুষের জীবনযাত্রা এবং পারস্পরিক নির্ভরতার ওপর। সেই কারণেই দুই দেশের সম্পর্কে যখন টানাপোড়েন দেখা দেয়, তখন অনেক সময় আনুষ্ঠানিক আলোচনার পাশাপাশি প্রতীকী কিছু পদক্ষেপও বিশেষ গুরুত্ব পায়। ‘আম-কূটনীতি’ বা ‘ইলিশ-কূটনীতি’ তারই উদাহরণ।

সম্প্রতি বাংলাদেশ থেকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১০০ কেজি হাঁড়িভাঙা আম পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটেছে, যখন দুই দেশের সম্পর্ক নানা কারণে চাপের মুখে। সীমান্তে অনুপ্রবেশ, ‘পুশ-ইন’ বিতর্ক, সীমান্ত নিরাপত্তা, রাজনৈতিক বক্তব্য এবং শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের দাবি—দিল্লি ও ঢাকার সম্পর্কে অস্বস্তির আবহ তৈরি হয়েছে। তাই এই আম পাঠানোকে অনেক আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক শুধুই সৌজন্য বিনিময় হিসেবে নয়, বরং একটি কূটনৈতিক বার্তা হিসেবেও দেখছেন।

দক্ষিণ এশিয়ার কূটনীতিতে খাদ্যকে সম্পর্কের সেতুবন্ধন হিসেবে ব্যবহার করার ইতিহাস নতুন নয়। ভারত, বাংলাদেশ, নেপাল, শ্রীলঙ্কা কিংবা পাকিস্তান—প্রতিটি দেশই বিভিন্ন সময়ে নিজেদের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা খাদ্যসামগ্রীকে কূটনৈতিক যোগাযোগের অংশ করেছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে শেখ হাসিনার আমলে ‘আম-কূটনীতি’ এবং ‘ইলিশ-কূটনীতি’ বিশেষভাবে পরিচিতি পায়। প্রতিবছর গ্রীষ্মকালে ভারতের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের কাছে বাংলাদেশের বিখ্যাত আম পাঠানো হতো। আবার দুর্গাপূজার আগে ভারতে ইলিশ রপ্তানির সিদ্ধান্তও বহুবার রাজনৈতিক সম্পর্কের ইতিবাচক বার্তা হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

কূটনীতির ভাষায় এই ধরনের উদ্যোগকে বলা হয় ‘সফট ডিপ্লোমেসি’ বা ‘সফট পাওয়ার’-এর ব্যবহার। এর উদ্দেশ্য সংস্কৃতি, খাদ্য, সাহিত্য, খেলাধুলা এবং মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের মাধ্যমে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও আলোচনার দরজা খোলা থাকে। বড় সমস্যার সমাধান এই ধরনের পদক্ষেপে হয় না, কিন্তু আলোচনার অনুকূল পরিবেশ তৈরি হতে পারে।

এই প্রেক্ষাপটে পশ্চিমবঙ্গে আম পাঠানোর বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এটি এমন সময়ে ঘটছে, যখন পশ্চিমবঙ্গে সরকার পরিবর্তনের পর বাংলাদেশকে ঘিরে একাধিক রাজনৈতিক মন্তব্য নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দ্রুত সম্পূর্ণ করা, অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে নতুন সরকারের অবস্থান ঢাকার নজরে রয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, তারা কাঁটাতারের ভয় দেখিয়ে নয়, আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানে বিশ্বাসী। ফলে আম পাঠানোর ঘটনাকে অনেকেই সম্পর্কের উত্তেজনা কিছুটা কমানোর একটি প্রতীকী প্রচেষ্টা হিসেবেই দেখছেন।

এই সময়েই ভারতের সংসদের পররাষ্ট্রবিষয়ক স্থায়ী কমিটির সাম্প্রতিক প্রতিবেদন দুই দেশের বর্তমান সম্পর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে নিয়ে এসেছে। কংগ্রেস নেতা শশী থারুরের নেতৃত্বাধীন কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য বাংলাদেশের অনুরোধটি ভারত সরকার বিদ্যমান আইন এবং দুই দেশের প্রত্যর্পণ চুক্তির আলোকে বিবেচনা করছে। অর্থাৎ ভারত বিষয়টি সরাসরি প্রত্যাখ্যানও করছে না, আবার কোনো তড়িঘড়ি সিদ্ধান্তও নিচ্ছে না। কূটনৈতিক মহলের মতে, এই অবস্থান দিল্লির সতর্ক ও ভারসাম্যপূর্ণ নীতিরই প্রতিফলন।

একই প্রতিবেদনে ভারত সরকার জানিয়েছে, শেখ হাসিনাকে মানবিক কারণে ভারতে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। তবে তাঁকে ভারতে বসে রাজনৈতিক কার্যকলাপ পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়নি। এই বক্তব্যের মাধ্যমে ভারত একদিকে আন্তর্জাতিক মানবিক অবস্থান বজায় রাখতে চাইছে, অন্যদিকে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে চায় না—এমন বার্তাও দিতে চাইছে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত বর্তমানে বাংলাদেশকে নিয়ে একটি বাস্তববাদী নীতি অনুসরণ করছে। কারণ বাংলাদেশের গুরুত্ব শুধু প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে নয়। উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ, বঙ্গোপসাগরে কৌশলগত অবস্থান, বিদ্যুৎ বাণিজ্য, জ্বালানি সহযোগিতা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং সংযোগ প্রকল্প—সব ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে রাজনৈতিক পরিবর্তন হলেও সম্পর্ক পুরোপুরি ভেঙে যাওয়া ভারতের স্বার্থে নয়।

ভারতের দিক থেকেও সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখার কিছু উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নিয়মিত বৈঠক চলছে। সীমান্তে উত্তেজনা, অনুপ্রবেশ এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। নতুন ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীও দায়িত্ব নেওয়ার পর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার কথা বলেছেন। একই সঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও বারবার বলছে, বাংলাদেশ ভারতের ‘অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রতিবেশী’।

অর্থনৈতিক সম্পর্কও এই সমীকরণের বড় ভিত্তি। বাংলাদেশ ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদার। বিদ্যুৎ আমদানি, রেল ও সড়ক যোগাযোগ, জলপথ ব্যবহার, সীমান্ত হাট এবং জ্বালানি সহযোগিতার একাধিক প্রকল্প দুই দেশের পারস্পরিক নির্ভরশীলতাকে আরও গভীর করেছে। ফলে রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও সম্পর্ক পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা বাস্তবসম্মত নয়।

অন্যদিকে ভারতও সম্প্রতি ত্রিপুরা থেকে বাংলাদেশে আনারস পাঠিয়েছে। এই ধরনের উদ্যোগকে ভারত তার ‘নেইবারহুড ফার্স্ট’ নীতির অংশ হিসেবেই তুলে ধরে। অর্থাৎ উভয় দেশই খাদ্যকে শুধু বাণিজ্যিক পণ্য হিসেবে নয়, কূটনৈতিক যোগাযোগের প্রতীক হিসেবেও ব্যবহার করছে। তবে প্রশ্ন থেকেই যায়, এই সফট ডিপ্লোম্যাসি কি সত্যিই বর্তমান সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবে?

এই প্রশ্নের উত্তরে কলকাতার সেন্ট পলস ক্যাথেড্রাল মিশন কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কুশল চক্রবর্তী মনে করেন, বর্তমান আন্তর্জাতিক রাজনীতিকে বোঝার জন্য ‘স্মার্ট পাওয়ার’-এর ধারণাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতে, বিদেশনীতির নির্ণায়ক হয়ে দাঁড়িয়েছে স্মার্ট পাওয়ার। স্মার্ট পাওয়ার হলো হার্ড পাওয়ার এবং সফট পাওয়ারের একটা সংমিশ্রণ, এই শব্দগুলো রচনা করেছেন অধ্যাপক জোসেফ নাই। হার্ড পাওয়ার বলতে সামরিক ক্ষমতা, অর্থনৈতিক ক্ষমতা, আর সফট পাওয়ার হলো সামরিক শক্তিকে বাদ দিয়ে অন্যভাবে সমস্যার সমাধানে চেষ্টা করা। সফট পাওয়ারের মধ্যে আলাপ আলোচনা, সাংস্কৃতিক বিনিময়, খেলাধুলা এবং আম আনারস, ইলিশ প্রভৃতিকে বোঝায়। ভারত বহু যুগ ধরেই এই সফট পাওয়ারের রাজনীতি শুরু করেছে। বাংলাদেশ সম্প্রতি সেই পথে হাঁটছে। এতে অনেক সময় সাফল্য আসে, অনেক সময় সাফল্য আসে না। যেমন করোনা যুগে ভারতের ভ্যাকসিন মৈত্রী অর্থাৎ করোনার টিকা বিভিন্ন দেশকে পাঠানো অত্যন্ত কার্যকরী হয়েছিল।’

কুশল চক্রবর্তীর কথায়, এখন প্রশ্ন হচ্ছে এই সফট পাওয়ারের রাজনীতি ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কেই কার্যকরী হবে কিনা? এক কথায় না কিংবা হ্যাঁ বলা যায় না, শুধু এইটুকু বলা যায়, এই পদ্ধতি ভারত-বাংলাদেশ সমস্যা সমাধানে সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে পারে। ২০২৪ সালের বাংলাদেশে জুলাই আন্দোলনের পরে ইউনূস সরকারের আমলে ভারত বাংলাদেশ সম্পর্ক একেবারে তলানিতে এসে দাঁড়ায়। অজুহাত হিসেবে যদিও হাসিনাকে আশ্রয়দান, সীমান্ত বিরোধ, নদীর পানি প্রভৃতিকে দেখানো হয়। আসলে তা নয়। কারণ দলাই লামা ভারতে প্রায় অর্ধশতক ধরে আছেন। তাতে চীন-ভারত সম্পর্ক খুব একটা হেরফের হয়নি। তাই হাসিনা এখানে খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। অবশ্যই এটা একটা ইস্যু, কিন্তু নির্ণায়ক ইস্যু নয়।

কুশল চক্রবর্তী বলেন, আমার মনে হয়, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক মূলত নির্ভর করছে ভারত-বাংলাদেশ এই দুটি দেশকে বাদ দিয়ে অন্য দেশের ওপর, যার মধ্যে রয়েছে আমেরিকা, চীন এবং পাকিস্তান—মূলত আমেরিকা।

তিনি আরও বলেন, উভয় দেশের রাজনীতি, সংস্কৃতি, দলীয় চরিত্র, ধর্ম, প্রকৃতি দীর্ঘকালীন বিশ্লেষণের পরেই আমার মনে হয়েছে আমেরিকা চাইলে উভয় দেশের সম্পর্ক আবার স্বাভাবিক হবে, না চাইলে হবে না। যদিও এটা চীন এবং পাকিস্তানের ওপর কিছুটা নির্ভর করে, কিন্তু খুব বেশি নয়। আর এটা তো জানা কথা চীন কিংবা পাকিস্তান কখনোই চাইবে না ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ভালো হোক বা স্বাভাবিক হোক। আমেরিকা চাইতে পারে, তার কারণ আমেরিকার বৈদেশিক নীতি বড় চঞ্চল, তার কোনো কিছুতেই স্থিরতা থাকে না। তা ছাড়া তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, ভারতের ১৪০ কোটি মানুষের বাজার এবং ভারতীয় গণতন্ত্রের ঐতিহ্য। আমার ধারণার সবচেয়ে বড় প্রমাণ সম্প্রতি ঘটে গেল। ৩১ জুলাই, ঢাকা সফরে এলেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত সার্জিও গোর। তিনি ঢাকায় বিএনপি সরকারের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি ভারতের রাষ্ট্রদূত দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে বৈঠক করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবে আমার মনে হচ্ছে, এবার হয়তো ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক কিছুটা হলেও স্বাভাবিক হবে। জল্পনা শুরু হয়েছে, তাহলে হাসিনা কি সত্যিই ডিসেম্বরে ঢাকায় ফিরে যাবেন? আপাতত অপেক্ষা করা ছাড়া কিছু করার নেই, তবে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক ইতিবাচক দিকেই এগোচ্ছে বলে মনে হয়। আর এই ব্যাপারে ভারতকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে জাতীয় স্বার্থের ওপর। একই সঙ্গে আলোচনার পথ খোলা রাখতে হবে। উভয় দেশকেই।

তবে সব বিশ্লেষকই এই ঘটনাকে এত বড় কূটনৈতিক মোড় হিসেবে দেখতে রাজি নন। বিশিষ্ট তথ্যচিত্র পরিচালক ও বাংলাদেশ গবেষক সৌমিত্র দস্তিদারের মতে, আম বা ইলিশ পাঠানোর ঘটনাকে আলাদা করে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত করে দেখার সুযোগ খুব বেশি নেই।

সৌমিত্র দস্তিদার বলেন, হাসিনা ফিরবেন কিনা এটি অত্যন্ত জটিল এবং ঝুঁকির বিষয়। দুই দেশের পলিসি আছে। আর আম ইলিশ আগাগোড়াই দেওয়া নেওয়া হতো, এটি আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই।

তবে দুজনেই মনে করেন, সফট ডিপ্লোম্যাসি সম্পর্কের পরিবেশ তৈরি করতে পারে, কিন্তু একে কখনও সীমান্ত বিরোধ, পানিবণ্টন, প্রত্যর্পণ, নিরাপত্তা বা ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার বিকল্প হিসেবে দেখা যায় না।

ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কের ইতিহাসও সেই কথাই বলে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে স্থলসীমান্ত চুক্তি, ছিটমহল বিনিময়, বিদ্যুৎ সহযোগিতা কিংবা সংযোগ প্রকল্প—প্রতিটি বড় সাফল্যের পেছনে ছিল দীর্ঘ আলোচনার প্রক্রিয়া, পারস্পরিক রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং বাস্তবসম্মত সমঝোতা। প্রতীকী সৌজন্য সেই পথকে সহজ করতে পারে, কিন্তু সেই পথের বিকল্প হতে পারে না। তাই আজকের প্রশ্ন শুধু এই নয় যে, দুই দেশের সম্পর্কের বরফ গলাতে পারে কিনা? বরং বড় প্রশ্ন, এই সৌজন্যের বার্তাকে কি দিল্লি ও ঢাকা বাস্তব কূটনৈতিক অগ্রগতির ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে?

উত্তর এখনও নিশ্চিত নয়। কারণ সীমান্ত নিরাপত্তা, অনুপ্রবেশ, শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের প্রশ্ন, তিস্তার পানিবণ্টন, আঞ্চলিক কৌশলগত প্রতিযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক শক্তির প্রভাবে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এখনও বহুস্তরীয় জটিলতার মধ্যে রয়েছে। তবে ইতিহাস বলছে, দুই দেশ যখনই আলোচনার পথ খোলা রেখেছে, তখনই কঠিন সমস্যারও সমাধান সম্ভব হয়েছে।

এই প্রসঙ্গেই বাংলাদেশ রিসার্চ অ্যানালিসিস অ্যান্ড ইনফরমেশন নেটওয়ার্ক-এর নির্বাহী পরিচালক ও রাজনৈতিক অর্থনীতিবিদ শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, ফল বিনিময়ভিত্তিক কূটনীতি দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষতি করে না, বরং তা উন্নত করতেই সাহায্য করে। এই ধরনের কূটনৈতিক উদ্যোগ আন্তর্জাতিক সম্পর্কে মানবিক দিকটিকে সামনে নিয়ে আসে, যা সব সময়ই ইতিবাচক। আমরা জানি, দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং রাজনৈতিক বক্তব্যের প্রভাব থাকে। কিন্তু এই ধরনের সৌহার্দ্যপূর্ণ বিনিময় দেখিয়ে দেয়, দুই দেশের সম্পর্ক শুধু রাজনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর বাইরেও প্রতিবেশীসুলভ একটি সম্পর্ক রয়েছে।

তাঁর কথায়, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ, জোর করে সীমান্ত পেরিয়ে পাঠানোর অভিযোগ (ফোর্সড পুশ-ইন) এবং সংখ্যাগরিষ্ঠতাবাদী উগ্রবাদের উত্থান—এই সবই ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। এগুলোর সহজ বা দ্রুত কোনো সমাধান নেই, কারণ এই বিষয়গুলোর সঙ্গে দুই দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি জড়িয়ে রয়েছে। তবে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি রায় দিয়েছে, গ্রহণকারী দেশের সম্মতি ছাড়া কোনো মানুষকে ফেরত পাঠানো যাবে না। এটি খুবই উৎসাহজনক। আমার মনে হয়, ভারত ও বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে ভালো হবে নিয়মিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ও সফর চালিয়ে যাওয়া। দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সংলাপের পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে এবং নীতিনির্ধারক ও সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের মধ্যেও ব্যক্তিগত আস্থার সম্পর্ক তৈরি করা দরকার।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত